📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আত্মা সম্পর্কে কয়েকটি আয়াতের বিরোধ প্রসঙ্গে আলোচনা

📄 আত্মা সম্পর্কে কয়েকটি আয়াতের বিরোধ প্রসঙ্গে আলোচনা


আল্লাহ তা'আলার তিনটি বাণী: [৩২: ফাতের] ﴿فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ...﴾ “তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী...” ﴿وَمَن يَعْمَلْ سُوَءًا أَوْ يَظْلِمْ﴾ [১১০: নিসা] ﴿نَفْسَهُ...﴾ “আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে...” এবং : ﴿وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ...﴾ [يوسف﴿ [০২ “আর আমি আমার নাফসকে পবিত্র মনে করি না...” সম্পর্কে আলোচনা।
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ، وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ﴾
[فاطر: ٣٢] "অতঃপর আমি এ কিতাবটির উত্তরাধীকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী এবং কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩২] আবার তাদের কেউ কেউ আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। এটাই হলো মহাঅনুগ্রহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾ [النساء : ١١٠]
"আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা নিসা, আয়াত: ১১০] আল্লাহ তা'আলা সূরা ইউসুফে আযীযে মিসরের স্ত্রী ভাষায় ﴿وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ﴾ [يوسف: ٥২]
"আর আমি আমার নাফসকে পবিত্র মনে করি না, নিশ্চয় নাফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, আমার রব যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। নিশ্চয় আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا﴾ [النساء : ৭৯]
"তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।” [সূরা নিসা, আয়াত: ৭৯]
প্রথম দু'টি আয়াত প্রমাণ করে যে, মানুষ নিজেই তার নিজের ওপর অত্যাচারী। কারণ, সে নিজেই আল্লাহর আদেশসমূহ অমান্য করে। আর পরবর্তী আয়াত দু'টি বর্ণনা দেয়া হয় যে, মানবাত্মাই মানুষের জন্য অন্যায়কারী। কারণ, প্রবৃত্তি মানুষকে অন্যায় কাজের আদেশ দেয়, অশ্লীল কর্মের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। উভয় প্রকার আয়াতসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্যতা কীভাবে সাধন করা হবে। আমি এ কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, কুরআনের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসঙ্গতি নেই। তবে আমি শুধু আয়াতসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান ও বিরোধ নিরসন চাচ্ছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
উত্তর: প্রশ্নকারী যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এবং পরবর্তী আয়াতসমূহের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ, প্রথম আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে আল্লাহর আযাবের সামনে নিজেকে পেশ করে মানুষ তার নিজের ওপর যুলম অত্যাচার করে। আর পরবর্তী আয়াতসমূহে বলা হয়েছে নিশ্চয় প্রবৃত্তি মানুষকে অন্যায় কর্মের আদেশ দেয়। নিষিদ্ধ প্রবৃত্তির টানে মানবাত্মা খারাপ কর্মের দিকে টেনে নেয়। ফলে মানুষ চাহিদা স্বত্বেও যখন তা ছেড়ে দেয় এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ গ্রহণ করার সুযোগ থাকা স্বত্বেও তা গ্রহণ না করে তখন সে তার ওপর যুলুম করে।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর পাহারাদারি করে তার লাগাম টেনে ধরার, সংরক্ষণ করার এবং তা ছেড়ে না দেয়ার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّنَهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَهَا قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّنَهَا وَقَدْ خَابَ مَن ﴿ فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ﴾ [الشمس: ٧-١٠] “কসম নফসের এবং যিনি তা সুসম করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে অবহিত করেছেন তার পাপসমূহ ও তার তাকওয়া সম্পর্কে। নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা (নফ্স)-কে কলুষিত করেছে।” [সূরা আশ-শাম্স, আয়াত: ৭-১০]

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহর দিকে ভুলে যাওয়ার সম্বোধন বিষয়ক দু‘টি কুরআনের আয়াত নিয়ে আলোচনা

📄 আল্লাহর দিকে ভুলে যাওয়ার সম্বোধন বিষয়ক দু‘টি কুরআনের আয়াত নিয়ে আলোচনা


প্রশ্ন: আল্লাহর তা'আলার বাণী: وَقِيلَ الْيَوْمَ نَنسَكُمْ كَمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا﴿ [الجاثية : ٣٤] ﴾ "আর বলা হবে, 'আজ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে যাব যেমন তোমরা তোমাদের এ দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি ছেড়ে গিয়েছিলে।” [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩৪] আল্লাহ তা'আলার বাণী: قَالَ عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى ) [طه: ٥২] "এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না"। [সূরা তা-হা, আয়াত: ৫২]
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামী কাফিরদের সম্বোধন করে বলবেন, وَقِيلَ الْيَوْمَ نَنسَكُمْ كَمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا ﴾ [الجاثية : ٣٤] "আর বলা হবে, 'আজ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে যাব যেমন তোমরা তোমাদের এ দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি ছেড়ে গিয়েছিলে।" [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩৪]
আর আল্লাহ তা'আলা অপর একটি আয়াতে বলেন, قَالَ عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى ) [طه: ٥২] "এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না।” [সূরা তা-হা, আয়াত: ৫২] উভয় আয়াতের মাঝে কিভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে?
উত্তর: উভয় আয়াতের মধ্যে ভুলে যাওয়ার অর্থ ভিন্ন। আয়াতে যে ভুলে যাওয়াকে আল্লাহ তা'আলা না করেছেন সে ভুলে যাওয়ার অর্থ অলসতা ও অন্যমনস্ক হওয়া। আর আল্লাহ তা'আলা এ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। কারণ, এটি দুর্বলতা ও দোষ। যা আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আর আল্লাহর এ- نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَتَهُمْ أَنفُسَهُمْ ﴾ [الحشر: ১৯] "যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছিলেন;” [সূরা আল-হাসর, আয়াত: ১৯] -বাণীতে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত কৃত ভুলে যাওয়ার অর্থ হলো, তাদের গোমরাহীতে ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এ শব্দটি এখানে 'মোকাবেলা ও রূপক' অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা যখন তার আদেশসমূহ ছেড়ে দেয় এবং আল্লাহর দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আল্লাহও তাদের ছেড়ে দেন এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ভুলে যাওয়া শব্দটি একাধিক অর্থ সম্বলিত শব্দ। প্রতিটি স্থানে তার ব্যবহার অনুযায়ী এবং অভিধান অনুযায়ী অর্থ হবে। এ শব্দটি আল্লাহ ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের বিদ্রূপকারীদের বিদ্রূপের এবং ঠাট্টা-কারীদের ঠাট্টার জাওয়াব দেওয়ার মতো। এ গুলো সবই বদলা ও রূপক অর্থের অধ্যায়ের শব্দ। আর তাদের এ ধরনের শাস্তি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ইনসাফ ও পরিপূর্ণতা। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দেওয়ার একমাত্র অভিভাবক।
শাইখ সালেহ আল-ফাওযান

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কীয় দু‘টি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা

📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কীয় দু‘টি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা


আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ ﴾ [آل عمران: ١٠٤]
আল্লাহ তা'আলার অপর বাণী: ﴿لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ﴾ [المائدة: ١٠٥]
[১০০ যদি তোমরা সঠিক পথে থাক তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১০৫]
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [آل عمران: ١০৪] “তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪] এর মধ্যে এবং আল্লাহ তা'আলার অপর বাণী: ﴿لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ﴾ [المائدة: ١٠٥] “যদি তোমরা সঠিক পথে থাক তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।” [সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ১০৫] ও হাদীস- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ ﴾ : هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ “ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন তোমরা ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে মানুষকে বাধা প্রদান করবে অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তার নিজের পক্ষ থেকে অচিরেই তোমাদের ওপর আযাব প্রেরণ করবে। অতঃপর তোমরা তাকে ডাকবে তখন তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না।”¹⁰ এবং অপর হাদীস- ﴿مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ ﴾ “মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা-বার্তা ছেড়ে দেওয়া”¹¹—এর মধ্যে বিরোধ নিরসন কীভাবে? আপনার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আমি জানি আয়াতের অর্থের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে বিশুদ্ধ সুন্নাতের মধ্যেও কোন বিরোধ নেই। এ কারণে আমি এ কথা বিশ্বাস করি যে, জ্ঞানের অভাব ও অক্ষম হওয়ার কারণে ভুল আমারই হয়ে থাকে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। এর উত্তর কি?
উত্তর- আয়াতে কোথাও শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাঁধা দেওয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা নেই। আয়াতের বর্ণনা দ্বারা একজন বান্দাকে আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলা হয়েছে এবং ভালো কর্ম করার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। আর নিজেকে সংশোধন করা ও ভালো করার মধ্যে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাধা দেওয়াও রয়েছে। যখন কোন বান্দা তার ওপর যা ওয়াজিব তা আদায় করবে তখন সে যদি আল্লাহ তাকে যা নির্দেশ দিয়েছে তা পালন করার পর যে গোমরাহ হবে সে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ইমাম আহমদ বিশুদ্ধ সনদে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন— قَالَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ } وَإِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الْمُنْكَرَ فَلَمْ يُنْكِرُوهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ “আবু বকর দাঁড়ালেন অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলেন। তারপর বললেন, হে মানুষ! তোমরা অবশ্যই এ আয়াত তিলাওয়াত কর। আর তোমরা আয়াতটিকে এমন ক্ষেত্রে প্রয়োগ কর যেটি তার প্রয়োগের স্থান নয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মানুষ যখন কোন অপকর্ম সংঘটিত হতে দেখে তা পরিবর্তন না করে, আল্লাহর শাস্তি তাদের গ্রাস করতে পারে¹²।" মনে রাখবে একজন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব-সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাঁধা দেওয়া সাধ্য অনুযায়ী আদায় না করবে সে পরিপূর্ণ হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারবে না। আল্লাহই একমাত্র তাওফীক দানকারী। ফতওয়া ও ইলমী গবেষণা বিষয়ক স্থায়ী সংস্থা।

টিকাঃ
¹⁰ তিরমিযি হাদীস নং ২১৬৯
¹¹ তিরমিযি, হাদীস নং ২৩১৮
¹² ইবনু মাযা, হাদীস নং ৪০৫

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 তাওবা কবুল করা বিষয়ক দু‘টি আয়াত

📄 তাওবা কবুল করা বিষয়ক দু‘টি আয়াত


আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴾إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ﴿ "নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ঈমান আনার পর...।" আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى﴾ “বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ...।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা সূরা আলে ইমরানে বলেছেন- ﴾إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّن تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الضَّالُّونَ ﴿ [آل عمران: ৯০] "নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ঈমান আনার পর, তারপর তারা কুফরীতে বেড়ে গিয়েছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই পথভ্রষ্ট।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯০] অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴾قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴿ [الزمر: ৫২] "বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]
আয়াত দু'টির অর্থ কি? কীভাবে আয়াত দু'টির বিরোধ নিষ্পত্তি করব? প্রথম আয়াতের অর্থ কি এই যে, কতক গুনাহ এমন রয়েছে যখনই কোন ব্যক্তি এ ধরনের গুনাহ করবে তার তাওবা কবুল করা হবে না, নাকি একটি আয়াত অপরটির জন্য রহিত কারী অথবা কি নিষ্পত্তি?
উত্তর: আয়াত দু'টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ, প্রথম আয়াত মুরতাদ সম্পর্কে যে তাওবা করা ছাড়া মুরতাদ অবস্থায় মারা গেছে। মৃত্যুর সময় যদি সে তাওবা করে তার তাওবা কবুল করা হবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَلَيۡسَتِ ٱلتَّوۡبَةُ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ إِنِّي تُبۡتُ ٱلۡـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمۡ كُفَّارٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا﴾ [النساء: ١٨]
"আর তাওবা নাই তাদের, যারা অন্যায় কাজ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন বলে, আমি এখন তাওবা করলাম, আর তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা কাফির অবস্থায় মারা যায়; আমি এদের জন্যই তৈরী করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।” [সূরা নিসা, আয়াত: ১৮] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ﴾ [البقرة: ٢١٧]
"আর যে তোমাদের মধ্য থেকে তাঁর দীন থেকে ফিরে যাবে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে, বস্তুত এদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২১৭]
মোট কথা প্রথম আয়াত যারা দীন থেকে মুরতাদ হয়ে গেছে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুরতাদ অবস্থায় ছিল তাওবা করেনি। কিন্তু যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয় তখন সে তাওবা করে। তখন তার তাওবা কবুল করা হবে না। যেমন, হাদীসে إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ মৃত্যু গড়গড়া আসার আগ পর্যন্ত কবুল করা হবে।"¹³
কোন কোন আলেম বলেন, প্রথম আয়াতটি ঐ সব মুরতাদ সম্পর্কে যারা বার বার মুরতাদ হয়। তাদের তাওবা কবুল করা হবে না। বরং তাদের ওপর সর্বাবস্থায় মুরতাদের যে শাস্তি তা বাস্তবায়ন করা হবে।
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ [الزمر: ٥٢] "বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]
ঐ সব লোকদের সম্পর্কে যারা তাদের মৃত্যু যন্ত্রণা আসার পূর্বে তাওবা করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের তাওবা অবশ্যই কবুল করবেন। এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, আয়াত দু'টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
শাই সালেহ আল-ফাওযান

টিকাঃ
¹³ মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬১৬০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00