📄 মৃতাকীদের ইমাম হওয়ার জন্য দোয়া করা
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার বাণী-﴿ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴾ [الفرقان: 74] “আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন”। [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪] তে দো'য়া করা এবং রাসূলের অপর বাণী: اللهم اجعلني عبدا خفيا غنيا تقيا “হে আল্লাহ তুমি আমাকে গোপন বান্দা বানিয়ে দাও” 'তে যে দো'য়া রয়েছে উভয়ের মধ্যে কোন বিরোধ ও অসঙ্গতি রয়েছে কিনা'?।
উত্তর: বিসমিল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ। আয়াত ও হাদীস উভয়ের মাঝে কোন বিরোধ ও অসঙ্গতি নেই। কারণ, আল্লাহ তা'আলা এমন বান্দাদের পছন্দ করেন যিনি মুত্তাকী, ধনী ও বিনয়ী। আল্লাহ তা'আলা লৌকিকতা ও স্ব-প্রসংশাকে পছন্দ করেন না। যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর জন্য আমল করে থাকে, আমল যাতে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় সে জন্য চেষ্টা করে এবং সে যদি মুত্তাকীদের ইমাম হয় তাহলে সে পরিপূর্ণ ঈমানদার হলো এবং সে মানুষের জন্য অধিক উপকারকারী হলো। সুতরাং, আল্লাহর নিকট মুত্তাকীদের ইমাম হওয়া কামনা করা, আল্লাহর কাছে দো'য়া করা এবং মুহসীনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্যে এবং আল্লাহ তা'আলা মুত্তাকী, ধনী ও গোপনীয় ব্যক্তিকে ভালোবাসেন এ দুইয়োর মধ্যে কোন বিরোধ বা অসঙ্গতি নেই। গোপনীয় ব্যক্তি মানে হলো যার মধ্যে লৌকিকতা নেই। আর যে ব্যক্তি মুত্তাকীদের ইমাম হওয়া এ উদ্দেশ্যে কামনা করে, সে তাদের উপকার করার উদ্দেশ্যে এ দো'আ করেন, লোক দেখানো উদ্দেশ্য নয়। সে ব্যক্তি অবশ্যই আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং মুহসীন। আল্লাহই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব গ্রহণ করা ও ক্ষুধা, দরিদ্রতা ও অভাব অনটন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা
প্রশ্ন: একজন প্রশ্নকারী বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ ﴿ ٦:هود﴾ ﴿إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا ﴾ "আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিষ্কের দায়িত্ব আল্লাহরই” [সূরা হূদ, আয়াত: ৬] অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা নিজেই তার নিজের ওপর বাধ্য করেছেন যে, জমিনের ওপর যা কিছু বিচরণ করে মানুষ, জীব-জন্তু ও পোকা-মাকড় সবকিছুর রিযিক ও খাওয়ানোর দায়িত্ব তার। তাহলে দুর্ভিক্ষ ও অভাব আফ্রিকা মহাদেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তার ব্যাখ্যা কি?
উত্তর: আয়াতটি তার বাহ্যিক অর্থে সঠিক। আল্লাহ তা'আলা যে সব বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ জমিনে দিয়ে থাকেন তা কারো কোন ক্ষতি করতে পারে না। তবে যার সময় শেষ হয়ে গেছে এবং রিযিক বন্ধ হয়ে গেছে তার বিষয়টি ভিন্ন। আর যার হায়াত ও রিযিক বাকী আছে আল্লাহ তা'আলা তাকে অবশ্যই বিভিন্ন উপায়ে রিযিক পৌঁছাবে কখনো সে তা জানতে পারবে আবার কখনো সে তা জানতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ [الطلاق : ٢، ٣] “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।” [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ২,৩]
وَكَأَيِّن مِن دَابَّةٍ لَّا تَحْمِلُ رِزْقَهَا اللَّهُ يَرْزُقُهَا وَإِيَّاكُمْ [العنكبوت: ٦০] “আর এমন কত জীব-জন্তু রয়েছে, যারা নিজদের রিযিক নিজেরা সঞ্চয় করে না, আল্লাহই তাদের রিযিক দেন এবং তোমাদেরও।" [সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬০] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لا تموت نفس حتى تستكمل رزقها وأجلها "কোন প্রাণী তার রিযিক ও সময় পূর্ণ করা ছাড়া মৃত্যু বরণ করবে না'।"⁷ মানুষ তার স্বীয় কর্ম- অলসতা, যার ওপর তার ভাগ্য নির্ধারিত এ ধরনের কর্ম থেকে বিমুখ হওয়া, বেকার থাকা, আল্লাহর নিষিদ্ধ কর্ম গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া-ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মানুষ অভাব-অনটনের শাস্তি ভোগ করে এবং রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولاً وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا [النساء : ٧٩] "তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।” [সূরা নিসা, আয়াত: ৭৯] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, وَمَا أَصَبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا ﴿ كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ ﴾ [الشورى: ٣٠] “আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৩০] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, إِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ وَلَا يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلَّا الدُّعَاءُ وَلَا يَزِيدُ فِي الْعُمُرِ إِلَّا الْبِرُّ “বান্দা তার গুনাহের কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়” দো'য়া ছাড়া আর কোন কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না এবং মানুষের সৎ কর্ম ছাড়া আর কোন কিছু আয়ু বাড়াতে পারে না।”⁸ আবার কোন সময় বান্দা তার শুকর ও সবরের পরীক্ষার কারণে দরিদ্রতা, রোগ-ব্যাধি সহ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের মুসিবতে আক্রান্ত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّبِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴾ [البقرة: ١٥٥، ١٥٦] “আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫৫, ১৫৬]
وَبَلَوْنَهُم بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ 1 (আয়াতে) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, [الاعراف: ١٦٧] “এবং আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দ দ্বারা, হয়তো তারা ফিরে আসবে।” [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৬৭] এ আয়াতে হাসানাত দ্বারা উদ্দেশ্য নে'আমতসমূহ। আর খারাপ কর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য বিপদসমূহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ وليس ذالك لأحد إلا للمؤمن ». صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ “মু'মিনের কর্মসমূহ কতই সুন্দর ও আশ্চর্যজনক। তার সব কর্মই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে কোন মুসিবতে পড়ে ধৈর্য ধারণ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয় আর যদি তার কোন খুশির সংবাদ হয় এবং শোনে সে শুকর আদায় করে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। এটি একমাত্র মু'মিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়।”⁹ এ বিষয়ের ওপর কুরআন ও হাদীস অঢেল। আল্লাহই একমাত্র তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
⁷ ইবনু মাযাহ, হাদীস নং ২১৪৪
⁸ বর্ণনায় আহমাদ, হাদীস নং ২২৩৮৬; ইবনু মাযাহ, হাদীস নং ৪০২২।
⁹ বর্ণনায় ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে হাদীস নং ৭৬৯২
📄 আল্লাহকে ভয় করা বিষয়ক দু‘টি আয়াত
প্রশ্ন: নিম্ন বর্ণিত দু'টি আয়াতের দ্বিতীয়টি প্রথমটির জন্য রহিতকারী কিনা জানতে চাই?
প্রথম আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَّأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴾ [آل عمران: ١٠٢] “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১০২]
﴿فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنفِقُوا خَيْرًا لِّأَنفُسِكُمْ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ، فَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [التغابن : ١٦] “অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম।” [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬]
উত্তর: সাহাবীগণ ও অন্যান্য তাফসীর-বিদগণ প্রথম আয়াতটি রহিত নাকি অকাট্য এ বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তার অনুসারীরা বলেন, আয়াতটি অকাট্য রহিত নয়। আর তারা حَقَّ تُقَاتِهِ এর ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহর রাস্তায় সত্যিকার জিহাদ করবেন আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা তাদের প্রভাবিত করতে পারবে না। তারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন যদিও তা তাদের নিজেদের, সন্তানদের এবং পিতা-মাতার বিপক্ষে যায়।
সা'ঈদ ইবন জুবাইর, আবুল আলিয়াহ, রাবি' ইবন আনাস, ক্বাতাদাহ, মুকাতিল ইবন হাইয়ান, যায়েদ ইবন আসলাম, সুদ্দী রহ. এবং অন্যান্যরা বলেন, আয়াতটি فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ “অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর” দ্বারা রহিত। আয়াতের মধ্যে কোন রহিত-করণ নেই। উপরের আয়াতে ভয় করার মতো ভয় দ্বারা উদ্দেশ্য এটাই যেটা পরের আয়াতে فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ "অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর” বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। আল্লাহই তাওফীক দাতা。
ফতওয়া ও ইলমী গবেষণ বিষয়ক স্থায়ী সংস্থা
📄 আত্মা সম্পর্কে কয়েকটি আয়াতের বিরোধ প্রসঙ্গে আলোচনা
আল্লাহ তা'আলার তিনটি বাণী: [৩২: ফাতের] ﴿فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ...﴾ “তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী...” ﴿وَمَن يَعْمَلْ سُوَءًا أَوْ يَظْلِمْ﴾ [১১০: নিসা] ﴿نَفْسَهُ...﴾ “আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে...” এবং : ﴿وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ...﴾ [يوسف﴿ [০২ “আর আমি আমার নাফসকে পবিত্র মনে করি না...” সম্পর্কে আলোচনা।
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ، وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ﴾
[فاطر: ٣٢] "অতঃপর আমি এ কিতাবটির উত্তরাধীকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী এবং কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩২] আবার তাদের কেউ কেউ আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। এটাই হলো মহাঅনুগ্রহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾ [النساء : ١١٠]
"আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা নিসা, আয়াত: ১১০] আল্লাহ তা'আলা সূরা ইউসুফে আযীযে মিসরের স্ত্রী ভাষায় ﴿وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ﴾ [يوسف: ٥২]
"আর আমি আমার নাফসকে পবিত্র মনে করি না, নিশ্চয় নাফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, আমার রব যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। নিশ্চয় আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا﴾ [النساء : ৭৯]
"তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।” [সূরা নিসা, আয়াত: ৭৯]
প্রথম দু'টি আয়াত প্রমাণ করে যে, মানুষ নিজেই তার নিজের ওপর অত্যাচারী। কারণ, সে নিজেই আল্লাহর আদেশসমূহ অমান্য করে। আর পরবর্তী আয়াত দু'টি বর্ণনা দেয়া হয় যে, মানবাত্মাই মানুষের জন্য অন্যায়কারী। কারণ, প্রবৃত্তি মানুষকে অন্যায় কাজের আদেশ দেয়, অশ্লীল কর্মের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। উভয় প্রকার আয়াতসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্যতা কীভাবে সাধন করা হবে। আমি এ কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, কুরআনের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসঙ্গতি নেই। তবে আমি শুধু আয়াতসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান ও বিরোধ নিরসন চাচ্ছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
উত্তর: প্রশ্নকারী যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এবং পরবর্তী আয়াতসমূহের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ, প্রথম আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে আল্লাহর আযাবের সামনে নিজেকে পেশ করে মানুষ তার নিজের ওপর যুলম অত্যাচার করে। আর পরবর্তী আয়াতসমূহে বলা হয়েছে নিশ্চয় প্রবৃত্তি মানুষকে অন্যায় কর্মের আদেশ দেয়। নিষিদ্ধ প্রবৃত্তির টানে মানবাত্মা খারাপ কর্মের দিকে টেনে নেয়। ফলে মানুষ চাহিদা স্বত্বেও যখন তা ছেড়ে দেয় এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ গ্রহণ করার সুযোগ থাকা স্বত্বেও তা গ্রহণ না করে তখন সে তার ওপর যুলুম করে।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর পাহারাদারি করে তার লাগাম টেনে ধরার, সংরক্ষণ করার এবং তা ছেড়ে না দেয়ার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّنَهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَهَا قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّنَهَا وَقَدْ خَابَ مَن ﴿ فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ﴾ [الشمس: ٧-١٠] “কসম নফসের এবং যিনি তা সুসম করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে অবহিত করেছেন তার পাপসমূহ ও তার তাকওয়া সম্পর্কে। নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা (নফ্স)-কে কলুষিত করেছে।” [সূরা আশ-শাম্স, আয়াত: ৭-১০]