📘 কুরআন ও হাদীসের আলোকে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা > 📄 শিক্ষা দানের গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা

📄 শিক্ষা দানের গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা


بَلِّغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً (رواه البخاري)
"আমার পক্ষ থেকে একটি কথা হলেও মানুষকে পৌঁছে দাও।" [বুখারি]
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةِ : إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَد صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.
"মানুষ যখন মরে যায়, তখন তার আমলের ধারাবাহিকতা ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল [তার আমল নামায়] যোগ হতে থাকে। সেগুলো হলো ১. সাদাকায়ে জারিয়া ২. এমন জ্ঞান [প্রচার ও শিক্ষাদান করে যাওয়া] যাতে মানুষ উপকৃত হতে থাকে ৩. এবং এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া যারা তার জন্যে দোয়া করতে থাকে।" [সহীহ মুসলিম]
শিক্ষা এমন একটি জিনিস, যা বিতরণে কমেনা, বরং বাড়ে, বাড়তে থাকে। জ্ঞান যতোদিন বিতরণ হতে থাকবে, যতোদিন এক প্রজন্ম অন্য প্রজন্মের কাছে জ্ঞান হস্তান্তর করতে থাকবে, ততোদিন পূর্ববর্তী জ্ঞান বিতরণকারীরা মরে গিয়েও
এর ফায়দা লাভ করতে থাকবেন। কারণ এ জ্ঞান তাদের মাধ্যমেই প্রচারিত হয়ে এসেছে।
لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ، رَجُلٌ أَتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا - (বুখারী, মুসলিম)
"দু'ব্যক্তি ছাড়া অপর কেউ ঈর্ষার পাত্র নয়। তাদের একজন হলো ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ অর্থ সম্পদ দান করেছেন এবং তা সত্য পথে খরচ করবার মনোবৃত্তিও তাকে দান করেছেন। আর অপরজন হলো ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ জ্ঞান প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে তারই ভিত্তিতে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় আর মানুষকেও তা শিক্ষা দেয়।" [বুখারি, মুসলিম]
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَهُوَ كَفَاعِلِهِ - (مسلم) "যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখায়, সে উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য।" [মুসলিম]
نَضَّرَ اللهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَافَظَهَا وَوَعَاهَا وَادَّاهَا - فَرُبَّ حَامِلٍ فِقْهِ غَيْرِ فَقِيهِ وَرُبَّ حَامِلٍ فِقْهِ إِلَى مَنْ أَفْقَهُ مِنْهُ- (তিরমিযী, আবু দাউদ)
"আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার বাণী শ্রবণ করেছে, তা স্মরণ ও সংরক্ষণ করেছে এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। জ্ঞানের অনেক বাহক নিজে জ্ঞানী নয়। আবার জ্ঞানের অনেক বাহক নিজের চাইতে অধিক জ্ঞানীর কাছে তা পৌঁছে দেয়।" [তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারমি, বায়হাকি]
عَنِ الْحَسَنِ البَصْرِيِّ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ عَنْ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ - أَحَدُهُمَا كَانَ عَالِمًا يُصَلِّي المَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ وَالْآخَرُ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
فَضْلُ هُذَا الْعَالِمِ الَّذِي يُصَلِّي المَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ عَلَى الْعَابِدِ الَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ (دارمی)
"হাসান বসরি [র] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বনি ইসরাঈলের দুই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তাদের একজন হলেন জ্ঞানী। তিনি ফরয নামায পড়ে মানুষকে সুশিক্ষা দানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। আর অপর ব্যক্তি দিনে রোযা রাখেন এবং রাত্রে নামাযে নিরত থাকেন, এদের মধ্যে কে অধিক উত্তম ও মর্যাদাবান? জবাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: এই জ্ঞানী ব্যক্তিটি যে ফরয নামায পড়ে মানুষকে সুশিক্ষা দানে আত্মনিয়োগ করে, সে রাত দিন নামায রোযায় নিরত ইবাদতগুজার ব্যক্তির তুলনায় এতোটা উত্তম ও মর্যাদাবান, যেমন তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির তুলনায় আমার [অর্থাৎ আল্লাহর নবীর] মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অনেক বেশি।"
إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ المُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَ حَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ علْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدَا صَالِحاً تَرَكَهُ اَو وَرَثَةَ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ مُصْحَفًا أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَتِهِ وَحَيَاتِهِ تُلْحِقُهُ مِنْ بَعْدِ موته - ابن ماجه، بيهقي)
"মৃত্যুর পরও মুমিন ব্যক্তির যেসব সৎকর্ম ও অবদান তার আমল নামায় যোগ হতে থাকবে, সেগুলো হলো: ১. কল্যাণকর জ্ঞান যা সে শিক্ষা করেছে এবং মানুষের মাঝে প্রচার প্রসার ও বিস্তার করে গেছে, ২. সৎ সন্তানের [দোয়া ও সৎ কাজ] যাকে সে পৃথিবীতে রেখে গেছে, ৩. কোনো গ্রন্থ রচনা করে তাকে নিজের শিক্ষাদান কাজের উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে গেছে, ৪. নির্মাণ করে গেছে কোনো মসজিদ, ৫. বানিয়ে গেছে কোনো সাধারণ পান্থনীড়, ৬. ব্যবস্থা করে গেছে মানুষের জন্যে পানির, ৭. অথবা সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় করে গেছে কোনো দান, এসবগুলোর সওয়াবই পৌঁছতে থাকবে তার কাছে মৃত্যুর পরেও।" [ইবনে মাজাহ, বায়হাকি]

📘 কুরআন ও হাদীসের আলোকে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা > 📄 শিক্ষার উদ্দেশ্য

📄 শিক্ষার উদ্দেশ্য


قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةِ فِي حُجْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتِ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ -
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতারা, আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা, গর্তের পিপিলিকা এবং পানির মৎস পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করে, যে মানুষকে কল্যাণকর শিক্ষা দান করে।” [তিরমিযি]
إِنَّ رِجَالًا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ، فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا - (ترمذی)
"বিশ্বের দিক দিগন্ত থেকে মানুষ তোমাদের কাছে ছুটে আসবে দীনের মর্ম জ্ঞান উপলব্ধি করবার উদ্দেশ্যে। তারা যখন তোমাদের কাছে আসবে, তোমরা তাদের কল্যাণকর উপদেশ [শিক্ষা] দান করবে।" [তিরমিযি]
مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ غَرْضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ القِيَامَةِ (مسند احمد - ابو داؤد ابن ماجه : ابو هريره
"যে শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তোষ অন্বেষণ করা হয়ে থাকে, কেউ যদি তা পার্থিব স্বার্থে অর্জন করে, কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের গন্ধও লাভ করবেনা।” [মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ]
يَحْمِلُ هُذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ
"প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ লোকেরাই [কুরআন সুন্নাহর] এই জ্ঞানকে বহন করবে। তারা এ থেকে সীমা লংঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যারোপ এবং অজ্ঞ লোকদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা বিদূরিত করবে।" [বায়হাকি]
مَنْ جَاءَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ يَطْلُبُ الْعِلْمَ لِيُحْيِيَ بِهِ الْإِسْلَامَ فَبَيِّنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ دَرَجَةٌ وَاحِدَةً فِي الْجَنَّةِ (دارمی)
"ইসলামকে পূনরুজ্জীবিত করবার উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণে লিপ্ত থাকা অবস্থায় যে লোক মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে, বেহেশতে তার ও নবীদের মাঝে পার্থক্য হবে মর্যাদার একটি মাত্র স্তর।" [দারমি: হাসান বসরি থেকে]
تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ وَعَلِمُوهُ النَّاسَ، تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوهَا النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْقُرآنَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ - (دارمی و دار قطنی : عبد الله بن مسعود
"তোমরা যাবতীয় জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা করো এবং তা মানুষকে শিক্ষা দাও। তোমরা দীনের বিধি বিধান ও দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করো এবং তা মানুষকে শিক্ষা দান করো। তোমরা কুরআন শিখো এবং তা মানুষকে শিক্ষা দান করো।" [দারমি]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসগুলো থেকে আমরা শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করলাম। হাদীসগুলোর আলোকে আমরা জানতে পারলাম, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো:
১. মানব কল্যাণ।
২. সুশিক্ষা বিস্তার।
৩. আল্লাহকে জানা ও আল্লাহ্র সন্তোষ অর্জন।
৪. আল্লাহ্র সন্তোষ লাভের উপায় জানা।
৫. কুশিক্ষা নির্মূল করা ও শিক্ষা সংস্কার করা।
৬. ইসলামকে পূনরুজ্জীবিত করা।
৭. কর্তব্য পরায়ণ হওয়া।
৮. কুরআনের আলো বিস্তার।

📘 কুরআন ও হাদীসের আলোকে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা > 📄 শিক্ষার কুউদ্দেশ্য/ সংকীর্ণ উদ্দেশ্য

📄 শিক্ষার কুউদ্দেশ্য/ সংকীর্ণ উদ্দেশ্য


শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তো হলো, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তা'আলার সঠিক পরিচয় অবগত হওয়া, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উপায় জানা, পরকালীন মুক্তির পথ খুঁজে নেয়া এবং মানবতার উন্নতি ও কল্যাণ সাধন। এটা শিক্ষার উদার উদ্দেশ্য। কিন্তু শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ উদ্দেশ্যও থাকে। এটাকে কুউদ্দেশ্যও বলা যেতে পারে। এ কুউদ্দেশ্য বা সংকীর্ণ উদ্দেশ্যের পরিচয় দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَالِمٌ لَا يَنْتَفِعُ بِعِلْمِهِ - (دارمی)
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র নিকট নিকৃষ্টতম মর্যাদার অধিকারী হবে সেই জ্ঞানী, যে তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি।" [দারমি]
مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسَ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ - (ترمذی، ابن ماجه)
"যে ব্যক্তি জ্ঞানীদের সাথে কুতর্কে লিপ্ত হবার জন্যে, কিংবা মূর্খদের বিভ্রান্ত করার জন্যে, অথবা জনগণকে নিজের ব্যক্তি সত্তার প্রতি আকৃষ্ট করবার জন্যে জ্ঞান শিক্ষা করে, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" [তিরমিযি, ইবনে মাজাহ]
مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا لِيُصِبَ بِهِ غَرْضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ - (مسند احمد، ابو داؤد)
"যে ব্যক্তি পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে জ্ঞান শিক্ষা করবে, কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের গন্ধও লাভ করতে পারবেনা।" [মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ]
مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ الْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
بِلِجَامِ مِنَ النَّارِ - (احمد- ترمذی- ابو داؤদ - ابن ماجه)
"যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জ্ঞান রাখলো, কিন্তু জিজ্ঞাসিত হবার পর তা গোপন করলো, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।” [আহমদ, তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ]
وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا ؟ قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ إِنَّكَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ إِنَّكَ قَارِئُ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ - (مسلم)
"কিয়ামতের দিন অতপর বিচারের জন্যে এমন ব্যক্তিকে আল্লাহর দরবারে হাযির করা হবে, যে জ্ঞান শিক্ষা করেছে এবং মানুষকে শিক্ষা দান করেছে তাছাড়া কুরআনও পড়েছে। আল্লাহ্ পৃথিবীতে যেসব অনুগ্রহ তার প্রতি করেছিলেন সেগুলো তাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন। সে সেগুলো স্মরণ করবে। আল্লাহ্ বলবেন: এসব নি'আমত পেয়ে তুমি কি কাজ করেছিলে? সে বলবেঃ আমি জ্ঞানার্জন করেছি, মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমাকে খুশি করবার জন্যে কুরআন পড়েছি। আল্লাহ্ বলবেন: তুমি মিথ্যে বলছো। তুমিতো জ্ঞান চর্চা করেছো এ জন্যে, যেনো মানুষ তোমাকে জ্ঞানী বলে। আর কুরআন পড়েছো এজন্যে, যেনো লোকেরা তোমাকে কুরআনের পন্ডিত বলে। এসব কথা মানুষ তোমাকে বলেছে [এবং তোমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে]। অতপর তাকে নিয়ে যাবার জন্যে আদেশ করা হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” [মুসলিম]
এই হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম শিক্ষার সংকীর্ণ ও কুউদ্দেশ্য কি কি? হাদীসের আলোকে শিক্ষার সংকীর্ণ উদ্দেশ্য হলো :
১. উদ্দেশ্যহীন নিষ্ফল শিক্ষা অর্জন করা।
২. মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
৩. শিক্ষার সঠিক ধারাকে ব্যাহত করা।
৪. নিজের ব্যক্তিত্ব প্রচার করা।
৫. পার্থিব স্বার্থ অর্জন করা।
৬. খ্যাতি লাভের প্রবণতা।
৭. শিক্ষা বিস্তারে কার্পণ্য করা।

📘 কুরআন ও হাদীসের আলোকে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা > 📄 ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট

📄 ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট


لَن يَشْبَعَ الْمُؤْمِنُ مِنْ خَيْرٍ يَسْمَعُهُ حَتَّى يَكُونَ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةَ - (ترمذي : ابو سعيد الخدري)
"মুমিন জ্ঞান ও কল্যাণের কথা যতোই শুনে তৃপ্ত হয়না। এই অতৃপ্ত অবস্থাতেই সে জান্নাতবাসী হয়।" [তিরমিযি: আবু সায়ীদ খুদরি]
مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ : مَنْهُومُ فِي الْعِلْمِ لَا يَشْبَعُ مِنْهُ وَمَنْهُومُ فِي الدُّنْيَا لَا يَشْبَعُ مِنْهَا - (بيهقي : انس)
"দুই পিপাসু কখনো তৃপ্তি লাভ করেনা। একজন হলো জ্ঞান পিপাসু, সে যতোই জ্ঞান লাভ করুক, তৃপ্ত হয়না। আরেকজন হলো সম্পদ পিপাসু, সেও যতোই লাভ করে তৃপ্ত হয়না।" [বায়হাকি: আনাস]
قَالَ أَيُّ عِبَادِكَ أَعْلَمُ قَالَ الَّذِي لَا يَشْبَعُ مِنَ الْعِلْمِ يَجْتَمِعُ عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ
"দাউদ জানতে চাইলেন, হে আল্লাহ্! তোমার কোন্ বান্দাহ সর্বাধিক জ্ঞানী। তিনি বললেন: সর্বাধিক জ্ঞানী হলো সে, যার জ্ঞান পিপাসা মেটেনা, যে সব মানুষের জ্ঞান সংগ্রহ করে এনে নিজ জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করে।" (যাদে রাহ)
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ حَبْلُ اللَّهِ وَالنُّورُ الْمُبِينُ وَالشَّفَاءُ النَّافِعُ عِصْمَةً لِمَنْ تَمَسَّكَ بِهِ وَنَجَاةٌ لِمَنْ تَبِعَهُ (حاکم)
"কুরআন হলো আল্লাহ্র রজ্জু, অনাবিল আলো, নিরাময় দানকারী এবং উপকারী বন্ধু। যে তাকে শক্ত করে ধরবে তাকে সে রক্ষা করবে। যে তাকে মেনে চলবে, তাকে সে মুক্তি দেবে।" [হাকিম: ইবনে মাসউদ]
এ হাদীসগুলো থেকে জানা গেলো যে, তারাই হলো উত্তম ছাত্র যারা:
১. জ্ঞানের কথা যতোই শুনে অতৃপ্ত থেকে যায়। যতোই শিক্ষা লাভ করে, ততোই তাদের আরো শিখবার উদগ্র কামনা জাগ্রত হয়।
২. মধু মাছি যেমন ফুলে ফুলে বসে মধু আহরণ করে, তারাও তেমনি জ্ঞানীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শিক্ষা লাভ করে।
৩. প্রকৃত জ্ঞানের উৎস কুরআনকে অনুধাবন করে, আঁকড়ে ধরে এবং অনুসরণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00