📄 জ্ঞান ও সাক্ষরতা অর্জনের নির্দেশ
قُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا - (طه : ١١٤) "বলো: প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।" [সূরা তোয়াহা: ১১৪]
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - (العلق : ١) "পড়, তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" [সূরা আল আলাক: ১]
فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ - (المزمل : ۲۰) "যতোটা কুরআন সহজে পাঠ করতে পারো, পাঠ করো।" [মুজ্জাম্মিলঃ ২০]
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا - (المزمل : ٤) "আল কুরআন পাঠ করো তরতিলের সাথে।" [সূরা মুজ্জাম্মিল: ৪]
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (النمل : ٩٨) "যখন কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করে পাঠ শুরু করবে।" [সূরা আন নামল: ৯৮]
فَاسْتَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (النحل "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।" [সূরা আন নহল: ৪৩]
📄 শিক্ষার উদ্দেশ্য
فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةً لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ "তাদের অধিবাসীদের প্রত্যেক অংশ থেকেই যেনো কিছু লোক দীনের জ্ঞান লাভের জন্যে বেরিয়ে পড়ে, অতপর ফিরে গিয়ে যেনো নিজ নিজ এলাকার লোকদেরকে সতর্ক করে, যাতে করে তারা ইসলাম বিরোধী কাজ থেকে] বিরত থাকতে পারে।" [সূরা আত তাওবা: ১২২]
مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ
ثُمَّ يَقُولُ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ - (ال عمران : ۷۹)
“কোনো মানুষের এ অধিকার নেই যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, জ্ঞান এবং নবুয়্যত দান করবেন আর এগুলো লাভ করে সে মানুষকে বলবে: তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আমার দাস হয়ে যাও। বরং সেতো বলবে: তোমরা আল্লাহর দাস হয়ে যাও।” [সূরা আলে ইমরান: ৭৯]
فَوَجَدَا عَبْدًا مِنْ عِبَادِنَا آتَيْنَهُ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا - قَالَ لَهُ مُوسَى : هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا - (الكهف : ٦٦-٦٥)
“সেখানে তারা আমার এমন এক দাসকে পেলো, যাকে আমি আপন রহমতে ধন্য করেছি আর নিজের পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছি। মূসা তাকে বললো: আমি কি আপনার সংগে থাকতে পারি, যাতে করে আপনাকে যে সত্যের জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়েছে আপনি তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেন?” [সূরা আল কাহাফ: ৬৫-৬৬]
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الله (محمد : (۱۹)
“এই জ্ঞান লাভ করো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।” [সূরা মুহাম্মদ: ১৯]
وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ - (البقرة : ٢٠٣)
“এই জ্ঞান লাভ করো যে, তোমাদেরকে অবশ্যি আল্লাহর নিকট একত্রিত করা হবে।” [সূরা আল বাকারা: ২০৩]
وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلْقُوهُ - (البقرة : (۲۲۳)
“জেনে নাও যে, তোমরা অবশ্যি আল্লাহর সাথে মিলিত হবে।” [সূরা বাকারা: ২২৩]
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ - (البقرة : (۲۳۳)
"এই জ্ঞানার্জন করো যে, তোমরা যা করো আল্লাহ্ অবশ্যি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।" [সূরা বাকারা: ২৩৩]
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَوْلَادُكُمْ وَأَمْوَالُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ (الانفال : ۲۸)
"এই জ্ঞান লাভ করো যে, তোমাদের সন্তান ও সম্পদ পরিক্ষার বস্তু আর আল্লাহ্র কাছে রয়েছে অবশ্যি বড় পুরস্কার।" [সূরা আনকাল: ২৮]
فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ نِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ
"জেনে নাও যে, কেবল আল্লাহ্ই তোমাদের অভিভাবক। উত্তম অভিভাবক তিনি আর উত্তম সাহায্যকারী।" [সূরা আনফালঃ ৪০]
فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُو وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ..... وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ - الحديد : (٢٠
"এই জ্ঞানার্জন করো যে, দুনিয়ার জীবনটা একটা খেল তামাশা ও চাকচিক্য মাত্র আর পরস্পরে গৌরব করা এবং সম্পদ ও সন্তানের দিক দিয়ে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা মাত্র।....... বিপরীত পক্ষে রয়েছে পরকাল। সেখানে আছে কঠিন আযাব আর আছে আল্লাহ্ ক্ষমা ও সন্তোষ।" [সূরা আল হাদীদ : ২০]
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ (فاطر : ۲۸)
"আল্লাহ্র দাসদের মধ্যে জ্ঞানীরা তাঁকে ভয় করে।" [সূরা ফাতির: ২৮]
وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ أَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ
هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الميعاد - (ال عمران : (۹-۷)
"জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী লোকেরা বলে: আমরা এ কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছি। এর সবটুকুই আমাদের প্রভুর নিকট থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। শিক্ষাতো কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই গ্রহণ করে। তারা প্রার্থনা করে : প্রভু! তুমিই যখন আমাদের সঠিক পথে এনে দিয়েছো, তখন তুমি আমাদের মনে কোনো প্রকার কুটিলতা আর বক্রতা সৃষ্টি করে দিওনা। তোমার রহমতের ভান্ডার থেকে আমাদের দান করো। কারণ প্রকৃত দাতা তো তুমিই। আমাদের প্রভু। নিশ্চয়ই তুমি একদিন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবে, যে দিনের আগমনে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো ভঙ্গ করেননা অংগীকার।” [সূরা আলে ইমরান: ৭-৯]
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ (الجمعة : (٢)
"তিনি নিরক্ষরদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদেরকে আল্লাহ্র আয়াত শুনায়, তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ বিকশিত করে আর তাদেরকে আল কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেয়।" [সূরা আল জুময়া: ২]
'হিকমাহ' মানে-জ্ঞানবিজ্ঞান, কর্মকৌশল, কর্মপ্রক্রিয়া, প্রযুক্তি, প্রজ্ঞা ইত্যাদি।
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَانْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ (الحديد : ٢٥)
"আমি আমার রসূলদেরকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি দিয়ে পাঠিয়েছি। সেই সাথে তাঁদের কাছে অবতীর্ণ করেছি কিতাব এবং মানদন্ড, যাতে করে মানুষ সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।" [আল হাদীদ: ২৫]
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا العِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا - (القصص : ۸۰)
"কিন্তু জ্ঞানবান লোকেরা বললো: তোমাদের জন্যে দুঃখ হয়, ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের জন্যে তো আল্লাহ্ পুরস্কারই উত্তম।" [সূরা কাসাস : ৮০]
আল কুরআনে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা এখানে যে আয়াতগুলো উল্লেখ করলাম, সেগুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো:
১. মানুষকে তার স্রষ্টা তথা মহান আল্লাহ্র দাস হিসেবে তৈরি করা।
২. দীন তথা আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান ও উপলব্ধি हासिल করা।
৩. সত্যকে জানা ও সঠিক পথের সন্ধান লাভ করা।
৪. তাওহীদের জ্ঞানার্জন করা।
৫. পরকালকে জানা এবং পরকালে আল্লাহ্র কাছে জবাবদিহি করা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
৬. দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ এবং আল্লাহ্ পুরস্কারের আকাংখী হওয়া।
৭. আল্লাহকে অভিভাবক বানাবার যোগ্যতা অর্জন।
৮. আল্লাহ্ ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনকে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা।
৯. আল্লাহ্র ভয় অর্জন।
১০. সঠিক পথের সন্ধান লাভ করা।
১১. আল কুরআনের মর্ম উপলব্ধি।
১২. কর্মকৌশল ও কর্মদক্ষতা লাভ করা।
১৩. মানসিক, আত্মিক ও নৈতিক উৎকর্ষতা লাভ।
১৪. মানব সমাজকে সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত করবার যোগ্যতা অর্জন।
১৫. ঈমানের ভিত্তিতে সৎকর্ম অনুশীলনের যোগ্যতা অর্জন এবং এরি মাধ্যমে আল্লাহর পুরস্কার লাভের যোগ্য হওয়া।
১৬. সূরা আল বাকারার ২৪৭ নম্বর আয়াতে শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের যোগ্যতা অর্জনের কথাও বলা হয়েছে।
১৭. একই আয়াতে মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের যোগ্যতা অর্জনের কথাও বলা হয়েছে।
📄 শিক্ষাদান পদ্ধতি
خَلَقَ الْإِنْسَانَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ - (الرحمن : ٤-٣)
"তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলতে শিখিয়েছেন।" [সূরা আর রাহমান: ৩-৪]
وَقُرْآنَا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلاً - (اسراء : ١٠٦)
"এই কুরআনকে আমরা অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করেছি, যেনো বিরতি দিয়ে দিয়ে তুমি তা লোকদের পড়ে শুনাও। আর এ উদ্দেশ্যে এ গ্রন্থকে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।" [সূরা বনি ইসরাঈল: ১০৬]
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (القيامه : ۱۸)
"আমরা যখন এই কিতাব তোমার প্রতি পাঠ করি, তখন তুমি মনোযোগ সহকারে এর পাঠ অনুসরণ করো।" [সূরা কিয়ামাহ: ১৮]
كَمَا اَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ ايَتِنَا وَيُزَكِّيكُمُ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تعلمون - البقرة : (١٥١)
"যেমন আমি তোমাদের থেকেই তোমাদের মাঝে একজন রসূল পাঠিয়েছি। সে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শুনায়, তোমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও বিকশিত করে তোলে; তোমাদেরকে আল কিতাব ও
হিকমাহ্ শিক্ষা দেয় আর তোমরা যা কিছু জাননা, সেগুলোও তোমাদের শিখায়।" [সূরা আল বাকারা: ১৫১]
এ যাবত যে আয়াতগুলো পেশ করা হলো, সেগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম:
১. ছাত্রদের বলতে শিখাতে হবে। ২. অল্প অল্প করে পড়া দিতে হবে। ৩. পাঠাভ্যাস করাতে হবে। ৪. শিক্ষককেও পাঠ করতে হবে। ৫. সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে দিতে হবে। ৬. চিন্তা ও চরিত্র সংশোধন করতে হবে। ৭. জ্ঞান ও কর্মপ্রক্রিয়া শিক্ষা দিতে হবে। ৮. অজানাকে জানাতে হবে। ৯. আল কুরআন শিক্ষা দিতে হবে। ১০. সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে হবে:
وَنُيَسِرُكَ لِلْيُسْرَى (الاعلى : (۸)
"আমি তোমাকে সহজ পদ্ধতির সুবিধা দিচ্ছি।" [সূরা আল আ'লা: ৮]
১১. জড়তামুক্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে শিখাতে হবে:
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي - (طه : ۲۸)
"প্রভু! আমার ভাষার জড়তা খুলে দাও, যাতে তারা আমার কথা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে।" [সূরা তোয়াহা: ২৮)
১২. প্রামান্য ও দর্শনীয় উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। ১৩. সুসংবাদ দিতে হবে। ১৪. সতর্ক করতে হবে। ১৫. আল্লাহ্ দিকে আহ্বান জানাতে হবে এবং ১৬. প্রদীপ যেমন আলো বিতরণ করে, তেমনি শিক্ষককে অবিরত জ্ঞান বিতরণ করতে হবে:
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيَا إِلَى اللَّهِ
بإذنه وسراجا منيرا - (الاحزاب : ٤٥-٤٦)
“আমি তোমাকে পাঠিয়েছি প্রমাণ হিসেবে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং প্রদীপ হিসেবে।” [সূরা আল আহযাব: ৪৫-৪৬]
১৭. অন্যমনষ্ক ও বিরক্তির সময় শিক্ষা দেয়া ঠিক নয়। দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিতে হবে। মনোযোগী হলেই কেবল শিক্ষা দেয়া উচিত:
فذكر إن نفعت الذكرى - الاعلى : (۹)
“শিক্ষা ও উপদেশ দান করতে থাকো, যতক্ষণ তা উপকারী হয়।” [সূরা আল আ'লা: ৯]
১৮. ছাত্রদেরকে প্রশ্ন করতে হবে, জিজ্ঞাসা করতে হবে:
قل هل يستوى الأعمى والبصير - (الانعام : ٥٠)
“ওদের জিজ্ঞেস করো: অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি কখনো এক হতে পারে? [সূরা আল আনআ'ম : ৫০]
قل أأنتم أعلم أم الله - (البقره : ١٤٠)
“ওদের জিজ্ঞাসা করো: আচ্ছা, তোমরা বেশি জানো নাকি আল্লাহ্ বেশি জানেন?” [সূরা আল বাকারা : ১৪০]
১৯. শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সঠিক ও সন্তোষজনক জবাব দেয়া:
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتُ
“তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তাদের জন্যে কি কি হালাল করা হয়েছে? তুমি জবাব দাও যে, তোমাদের জন্যে সমস্ত পবিত্র জিনিস হালাল করা হয়েছে।” [সূরা আল মায়িদা: ৪]
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُم مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا - (اسراء : ٨٥)
"তোমাকে ওরা জিজ্ঞাসা করছে, জীবন (Life) কি? তুমি জবাব দাও যে, 'জীবন' হলো আল্লাহ্র একটি নির্দেশ। এ ব্যাপারে তোমাদের খুব কমই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।" [সূরা বনি ইসরাঈল: ৮৫]
২০. শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা,
২১. শিক্ষার্থীদের পরম কল্যাণকামী হওয়া,
২২. শিক্ষার্থীদের প্রতি পরম স্নেহশীল, কোমল ও দয়ালু হওয়া: لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُفٌ رَحِيمٌ - (التوبه : ۱۲۸)
"তোমাদের থেকেই তোমাদের মাঝে একজন রসূল এসেছে। তোমাদের ক্ষতি করে এমন প্রতিটি জিনিস তার জন্যে কষ্টদায়ক। সে তোমাদের পরম কল্যাণকামী। মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়া পরবশ।” [তাওবা: ১২৮]
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نَفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ - (ال عمران : ١٥٩)
"এটা আল্লাহ্র বড় অনুগ্রহ যে, তুমি তাদের প্রতি বড় কোমল। তুমি যদি কর্কশভাষী কিংবা কঠিন হৃদয়ের হতে, তবে এরা তোমার চারপাশ থেকে সরে পড়তো।" [সূরা আলে ইমরান: ১৫৯]
২৩. শিক্ষককে নিজের খেয়াল খুশিমতো যা ইচ্ছে তাই শিক্ষা দিলে হবেনা। তাকে শিক্ষা দিতে হবে চিরন্তন সত্য ও সঠিক তথ্যঃ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (النجم : ۲-۳)
"তোমাদের এই সাথি না কখনো সত্য থেকে বিভ্রান্ত হয়েছে আর না সঠিক চিন্তা ভ্রষ্ট হয়েছে আর না সে নিজের খেয়াল খুশিমতো কথা বলে।" [সূরা আন নাজম: ২-৩]
📄 শিক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি
১. প্রথমে আউযুবিল্লাহ পড়ে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে নিতে হবে:
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، (النمل : ۹۸)
"যখন কুরআন পড়বে, অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করে পাঠ শুরু করবে।" [সূরা আন নামল : ৯৮]
২. অতপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে শুরু করতে হবে :
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (العلق : ١)
"তোমার প্রভুর নামে পাঠারম্ভ করো, যিনি সৃষ্টি করেছেন।" [সূরা আল আলাক : ১]
৩. মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে, ৪. ক্লাসে নিরবতা অবলম্বন করতে হবে :
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (الاعراف : ٢٠٤)
"যখন কুরআন পঠিত হবে, তখন তা মনোযোগ সহকারে শুনবে এবং নিরবতা অবলম্বন করবে। সম্ভবত এতে করে তোমরা রহমত লাভ করবে।" [সূরা আল আ'রাফ : ২০৪]
৫. না জানলে প্রশ্ন করতে হবে :
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
"জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো।" [আন নাহল : ৪৩]
৬. পড়ার সাথে সাথে লিখতেও হবে :
اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (العلق : ٤-٣)
"পড়ো, তোমার রব বড়ই সম্মানিত। তিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।" [সূরা আল আলাক : ৩-৪]
৭. নিজের মধ্যে পূর্ণ বুঝ ও উপলব্ধি সৃষ্টি করতে হবে :
لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّين (التوبه : (۱۲۲)
"তারা যেনো দীনের পূর্ণ বুঝ ও উপলব্ধি অর্জন করে।” [তাওবা: ১২২]
৮. মুখের জড়তা দূর করতে হবে :
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي-(طٰه: ۲۸)
"আর আমার মুখের জড়তা দূর করে দাও, যেনো লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে।" [সূরা তোয়াহা : ২৮]
৯. চিন্তা ভাবনা ও গবেষণা করে পড়তে হবে :
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُواْ الأَلْبَابِ - (ص : ٢٩)
"এ এক বরকতময় কিতাব, যা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেনো লোকেরা এর আয়াত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে আর বুদ্ধি বিবেকসম্পন্ন লোকেরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। [সূরা সোয়াদ : ২৯]
১০. দ্রুত নয়, ধীরে ধীরে বুঝে বুঝে থেমে থেমে পড়া :
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلاً - (المزمل : ٤)
"আল কুরআন পড়ো ধীরে বুঝে থেমে থেমে।" [সূরা আল মুজ্জাম্মিল : ৪]
১১. শ্রবণ, দর্শন ও অনুধাবন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে :
لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا أُوْلَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُوْلَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ - (الاعراف : ۱۷۹)
"তাদের অন্তর আছে বটে, কিন্তু তা দিয়ে তারা চিন্তা ও উপলব্ধি করেনা। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখেনা। তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শুনেনা। এদের অবস্থা পশুর মতো, বরং তার চাইতে বিভ্রান্ত। এরা আসলে একেবারে অচেতন হয়ে আছে।" [আ'রাফ : ১৭৯]
১২. শিক্ষকের পাঠ অনুসরণ করতে হবে :
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعُ قُرْآنَهُ - (القيامه : ۱۸)
"আমরা যখনই এ গ্রন্থকে তোমার প্রতি পাঠ করি, তখন তুমি সে পাঠ অনুসরণ করবে।" [সূরা আল কিয়ামাহ্: ১৮]
১৩. সঠিক জ্ঞানের অধিকারী শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে:
قَالَ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رشدا - (الكهف : ٦٦)
"মূসা বললো: আমি কি আপনার সাথে যেতে পারি, যাতে করে আপনাকে যে সত্য জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়েছে, আপনি তা থেকে আমাকে শিখাতে পারেন?" [সূরা আল কাহাফ: ৬৬]
১৪. শিক্ষা গ্রহণে ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হওয়া:
قَالَ سَتَجِدُونِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ امرا - (الكهف : ٦٩)
"মূসা বললো: আল্লাহ্ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। আর কোনো ব্যাপারে আমি আপনার হুকুম অমান্য করবোনা।" [সূরা আল কাহাফ: ৬৯]
১৫. অধিক অধিক জ্ঞান লাভের জন্যে মহান প্রভু আল্লাহর কাছে অবিরত প্রার্থনা করতে হবে:
وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا - (طه : ١١٤)
"আর বলো: প্রভু, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও।" [সূরা তোয়াহা: ১১৪]