📄 বিভিন্ন প্রকার কর্মকাণ্ড শাফা‘আতের উপলক্ষসমূহের অন্তর্ভুক্ত
৮৫. বনী মাখযুমের আযাদকৃত গোলাম যিয়াদ ইবন আবি যিয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম কোনো পুরুষ অথবা নারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদেমকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: «أَلَكَ حَاجَةً؟ قَالَ: حَتَّى كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَاجَتِي أَنْ تَشْفَعَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، قَالَ: وَمَنْ دَلَّكَ عَلَى هَذَا ؟ قَالَ: رَبِّي عز وجل، قَالَ: أما لا فَأَعِنِّى بِكَثْرَةِ السجود»।
তোমার কি কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে? তিনি বলেন: শেষ পর্যন্ত সে কোনো একদিন বলে বসলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রয়োজন হলো আপনি কিয়ামতের দিনে আমার জন্য সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: এই ব্যাপারে তোমাকে কে নির্দেশনা দিয়েছে? সে বলল: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা; তিনি বললেন: কেন সুপারিশ করব না, তবে তুমি (আল্লাহকে) বেশি বেশি সাজদাহ করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।
৮৬. মুস'আব আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: انطلق غلام منا، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم ، فقال: أسألك أن تجعلني ممن تشفع له يوم القيامة ، قال: من أمرك أو علمك، أو دلك؟ قال : ما أمرني بها إلا نفسي، قال: إني أشفع لك، ثم رده فقال: أعني على نفسك بكثرة السجود»।
"আমাদের কাছ থেকে কোনো এক গোলাম চলে গেল; তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল, অতঃপর সে বলল: আমি আপনার নিকট চাই যে, আপনি আমাকে সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন, যার জন্য কিয়ামতের দিনে আপনি সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে অথবা কে তোমাকে শিখিয়ে দিয়েছে অথবা কে তোমাকে নির্দেশনা দিয়েছে? জবাবে সে বলল: আমার মনই আমাকে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বললেন: আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব, অতঃপর তিনি তার কথা প্রত্যাহার করে নিলেন এবং বললেন: তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে (আল্লাহকে) বেশি বেশি সাজদাহ করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।"
টিকাঃ
১৪৫. আহমদ (৩/৫০০); হাইছামী তার 'মাজমা'উয যাওয়ায়েদ' (مجمع الزوائد)-এর ২য় খণ্ডের ২৪৯ পৃষ্ঠায় বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদীসের বর্ণনাকারী।
১৪৬. তাবারানী, বাগবী ও আল-বাযার; হাইছামী বলেন, তাবারানী বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদীসের বর্ণনাকারী। পূর্ববর্তী হাদীসটি তার সমর্থক এবং ফাতিমা বিনতে হোসাইনের বর্ণিত মুরসাল হাদীসটিও তার সমর্থক; ইবনুল মুবারক, আয-যুহুদ (الزهد), পৃ. ৪৫৫।
📄 যে মুসলিম ব্যক্তির সুপারিশ (শাফা‘আত) গ্রহণ করা হবে না
৮৭. উম্মু দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «إِنَّ اللَّعَانِينَ لَا يَكُونُونَ شُهَدَاءَ وَلَا شُفَعَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»।
“নিশ্চয় কিয়ামতের দিন অভিশাপ দানকারীগণ সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবে না।”
টিকাঃ
১৪৭. সহীহ মুসলিম (৪/২০০৬)।
📄 দুনিয়াবী শাফা‘আত
দুনিয়াবী শাফা'আতসমূহ থেকে কিছু শরী'আতসম্মত এবং কিছু শরী'আতসম্মত নয়; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
﴿مَن يَشْفَعُ شَفَعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا وَمَن يَشْفَعُ شَفَعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيتًا﴾ [النساء: ৮৫]
"কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আর আল্লাহ সব কিছুর উপর নজর রাখেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৫]
হাফেয ইবন কাসীর রহ. বলেন: আর আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿مَن يَشْفَعْ شَفَعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا "কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে” অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে চেষ্টা-সাধনা করে, অতঃপর তার ওপর ভালো কিছু গড়ে উঠে, তাহলে তার জন্য এর থেকে অংশ থাকবে।
﴿وَمَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا "আর কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে।” অর্থাৎ ঐ কাজের দায়ভার তার ওপর চেপে বসবে, যা তার চেষ্টা-সাধনা ও পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত হয়েছে; যেমনটি সহীহ হাদীসের মধ্যে সাব্যস্ত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«اشفعوا تؤجروا ويقضي الله على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم ما شاء»।
"তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেওয়া হবে, আর আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে চূড়ান্ত করেন"।
আর শাফা'আতের মধ্য থেকে যা বৈধ এবং যা হারাম বা অবৈধ, পবিত্র সুন্নাহ তার বর্ণনা নিয়ে এসেছে।
৮৮. আবূ মূসা আল-আশ'আরী রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا جاءه السائل أو طلبت إليه حاجة قال: اشفعوا تؤجروا ويقضي الله على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم ما شاء»। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কেউ কিছু চাইলে বা প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেন: তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেওয়া হবে, আর আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে চূড়ান্ত করেন”।
৮৯. মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا، فَإِنَّى لأُرِيدُ الأَمْرَ فَأُؤَخِّرُهُ كَيْمَا تَشْفَعُوا فَتُؤْجَرُوا, فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا»। "তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেওয়া হবে। সুতরাং আমি কোনো বিষয়ে (ফয়সালা দিতে) বিলম্ব করি, যাতে তোমরা সুপারিশ কর এবং তোমাদেরকে সাওয়াব দেওয়া হয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেওয়া হবে'।"
৯০. 'আমর ইবন শো'আইব থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين, وجاءته وفود هوازن فقالوا: يا محمد انا أصل وعشيرة فمن علينا من الله عليك, فإنه قد نزل بنا من البلاء مالا يخفي عليك, فقال: «اختاروا بين نسائكم وأموالكم وأبنائكم»। তারা বলল: আপনি আমাদেরকে আমাদের বংশ ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বেছে নিচ্ছি। অতঃপর তিনি বললেন: তবে আমার এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমাদের জন্য। সুতরাং আমি যখন যোহরের সালাত আদায় করব, তখন তোমরা বলবে: আমরা আমাদের নারী ও সন্তানগণের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে মুমিনগণের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করব এবং মুমিনগণের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করব।
তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাই করল; তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমার এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমাদের জন্য। অতঃপর মুহাজিরগণ বলল: আমাদের জন্য যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য, আর আনসারগণও অনুরূপ বলল। আর 'উয়াইনা ইবন বদর বলেন: তবে আমার ও বনু ফাযারা'র জন্য যা রয়েছে, তা নয়। আর আকরা' ইবন হাবেস বলেন: আর আমার ও বনু তামীমের জন্য যা রয়েছে, তা নয়। আর আব্বাস ইবন মিরদাস বলেন: আর আমার ও বনু সুলাইমের জন্য যা রয়েছে, তা নয়। অতঃপর দু'গোত্রের লোকেরা বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে জনগণ! তোমরা তাদের নিকট তাদের নারী ও সন্তানদেরকে ফেরত দিয়ে দাও। সুতরাং এরপর এ 'ফায়' (যুদ্ধলব্ধ) সম্পদ যদি কারও কাছে থাকে তবে সে যেন তাও দিয়ে দেয়, অতঃপর প্রথম যে 'ফায়' সম্পদ আল্লাহ আমাদেরকে দান করবেন, তা থেকে আমি তাকে ছয়টি অংশ প্রদান করব।
অতঃপর তিনি তাঁর বাহনে আরোহন করলেন এবং মানুষ তাঁর সাথে লেগে গেল, তারা বলল: আপনি আমাদের মধ্যে আমাদের ফায়ের সম্পদ বন্টন করে দিন, এমনকি তারা তাঁকে 'সামুরা' নামক বৃক্ষের নিকট আশ্রয় নিতে বাধ্য করল, অতঃপর তারা তাঁর চাদরও ছিনতাই করে নিল। অতঃপর তিনি বলেন: হে মানুষ সকল! তোমরা আমাকে আমার চাদরটি ফেরত দাও। কারণ, আল্লাহর শপথ! যদি তোমাদের জন্য মক্কা নগরীর গাছপালার সংখ্যা পরিমাণ উট অর্জিত হয়, তবে তা আমি তোমাদের মাঝে বন্টন করে দিব; অতঃপর তোমরা আমাকে কৃপণ, কাপুরুষ ও মিথ্যাবাদী হিসেবে পাবে না।
অতঃপর তিনি তাঁর উটের নিকটবর্তী হলেন এবং তার কুঁজের পশম ধরলেন, তারপর তা তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের মাঝখানে রাখলেন; অতঃপর তিনি তা উঁচু করলেন এবং বললেনঃ হে মানুষ সকল! আমার জন্য এই ‘ফাই’ নামক সম্পদ ও এই (পশম) থেকে এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত আর কিছুই নেই, আর এক-পঞ্চমাংশও তোমাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং তোমরা সুই-সুতা মত তুচ্ছ জিনিসও ফেরত দিয়ে দাও। কারণ, আত্মসাৎকৃত সম্পদ কিয়ামতের দিনে তার পরিবার- পরিজনের জন্য অপমান অথবা আগুন অথবা কলঙ্কজনক হবে। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি দাঁড়ালেন, তাঁর সাথে ছিল এক গোছা চুল; তারপর সে বললঃ আমি এটা নিয়েছি এর দ্বারা আমার উটের গদি পরিষ্কার করব; তিনি বললেনঃ আমার এবং আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমার জন্য। অতঃপর লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্য যখন এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমি দেখছি, তখন তা আমার কোনো প্রয়োজন নেই।”
৯১. আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহu ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল, তাকে মুগীস বলে ডাকা হত। আমি যেন তাকে এখনও দেখছি, সে বারীরার পিছনে কেঁদে কেঁদে ঘুরছে, আর তার দাড়ি বেয়ে অশ্রু ঝরছে; তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ يا عباس ! ألا تعجب من حب مغيث بريرة ومن بغض بريرة مغيثا ؟. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لو راجعته. قالت يا رسول الله تأمرني ؟ قال: إنما أنا أشفع. قالت لا حاجة لي فيه»। “হে 'আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীসের ভালোবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার অনাসক্তি দেখে তুমি কি আশ্চর্যান্বিত হও না? এরপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (বারীরা) তুমি যদি তার কাছে আবার ফিরে যেতে! সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি সুপারিশ করছি মাত্র। সে বলল: আমার জন্য তার মধ্যে কোনো প্রয়োজন নেই।”
টিকাঃ
১৪৮. সহীহ বুখারী (৩/৩৯৯); সহীহ মুসলিম (৪/২০২৬)।
১৪৯. সহীহ বুখারী (৩/৩৯৯); সহীহ মুসলিম (৪/২০২৬)।
১৫০. আবু দাউদ (৫/৩৪৭); নাসায়ী (৫/৫৮); তার সনদ সহীহ।
১৫১. অনুরূপ রয়েছে 'আল-মুসনাদ' এর মধ্যে, ২য় খণ্ড, পৃ. ২১৮; সীরাতে ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৯২; আল-বিদায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৫৩।
১৫২. আহমদ (২/৫৮৪); ইবন ইসহাক, যেমন সীরাতে ইবন হিশামে (২/২/৪৮৯) রয়েছে; আর সনদে কোনো সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।
১৫৩. সহীহ বুখারী, তালাক অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বারীরার স্বামীর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ, হাদীস নং ৪৯৭৯।
📄 যে ব্যাপারে সুপারিশ করা বৈধ নয়
৯২. 'উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহu 'আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: أن قريشا أهمهم شأن المرأة المخزومية التي سرقت, فقالوا: ومن يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ فقالوا: ومن يجترئ عليه إلا أسامة ابن زيد حب رسول الله صلى الله عليه وسلم, فكلمه أسامة, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أتشفع في حد من حدود الله »। ثم قام فاختطب ثم قال: « إنما أهلك الذين قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه, وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد, وايم الله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها»।
"মাখযোমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে (তার প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরাইশগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তাঁরা বলল, কে এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে উসামা রাদিয়াল্লাহu 'আনহু ব্যতীত আর কারও সাহস নেই। তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথোপকথন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের (শাস্তির) ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: 'হে লোকসকল! নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোনো দুর্বল লোক চুরি করত, তবে তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে নিশ্চয় আমি তার হাত কেটে দিতাম।"
৯৩. ইয়াহইয়া ইবন রাশেদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহu 'আনহু'র অপেক্ষায় বসেছিলাম, অতঃপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসলেন এবং বসলেন, তারপর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدَّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ وَمَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ, وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ»।
“যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত হদ্দ বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সে আল্লাহর বিরোধিতা করে, আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে বাতিলের পক্ষে বিতর্ক করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ না সে তা থেকে বিরত থাকে, আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ব্যাপারে এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ ধ্বংসের কাদা-পানিতে বসবাস করাবেন, যতক্ষণ না সে তার বলা কথা প্রত্যাহার করবে।"
৯৪. হিশাম ইবন 'উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «شفع الزبير في سارق، فقيل: حتى يبلغه الإمام، فقال: إذا بلغ الإمام فلعن الله الشافع والمشفع كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم»।
“যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু 'আনহু চোরের ব্যাপারে সুপারিশ করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো, সুপারিশ করতে পারবে বিষয়টি ইমামের নিকট পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: যখন ইমামের নিকট (বিষয়টি) পৌঁছাবে, তখন (সুপারিশ করলে) আল্লাহ তা'আলা সুপারিশকারী ও যার জন্য সুপারিশ করা হয় উভয়ের প্রতি লা'নত (অভিশাপ বর্ষণ) করেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।"
৯৫. 'উরওয়া ইবন যোবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা যুবায়ের ইবনুল 'আওয়াম রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: اشفعوا في الحدود ما لم تبلغ السلطان فإذا بلغت السلطان فلا تشفعوا»।
“তোমরা শরী'আত নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত সুপারিশ কর, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি বিচারক বা শাসকের দরবারে না পৌঁছায়। সুতরাং যখন বিষয়টি শাসক বা বিচারকের দরবারে পৌঁছাবে, তখন তোমরা আর সেই ব্যাপারে সুপারিশ করবে না।
টিকাঃ
১৫৪. সহীহ বুখারী (৬/৫১৩); সহীহ মুসলিম (৩/১৩১৫)।
১৫৫. আবূ দাউদ (৪/২৩); আহমদ (২/৭০); হাকেম (২/২৭); বায়হাকী (৮/২৩২); হাকেম বলেন, সনদটি বিশুদ্ধ এবং তাকে ইমাম যাহাবী স্বীকৃতি দিয়েছেন।
১৫৬. দারাকুতনী (৩/২০৫); হাইছামী, আল-মাজমা' (৬/২৫৯); তাবারানী, 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাত' এবং তাতে আবু গুযাইয়া নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে আবূ হাতেম ও অন্যান্যরা দুর্বল বলেছেন।
১৫৭. বায়হাকী (৮/৩৩৩), আর তার সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।