📄 নবী (সাঃ)-এর প্রতি দুরূদ পাঠ ও তাঁর জন্য ওসীলা প্রার্থনা করা
৭৫. আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনিল 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ»। “যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তোমরা সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ, যে আমার ওপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দো'আ করবে। ওসীলা হলো জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে দেওয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দো'আ করবে, তার জন্য আমার শাফা'আত হালাল হয়ে যাবে। "
৭৬. আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «سلوا الله لي الوسيلة فإنه لم يسألها لي عبد في الدنيا إلا كنت له شهيدا أو شفيعا يوم القيامة »। "তোমরা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ওসীলার প্রার্থনা কর। কারণ, যে বান্দাই দুনিয়াতে আমার জন্য তা প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিনে আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব।"
৭৭. রুয়াইফা ইবন সাবিত আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من صلى على محمد وقال اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة وجبت له شفاعتی»। “যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ওপর দুরূদ পাঠ করবে এবং বলবে: হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটবর্তী আসনে অবতরণ করুন, তার জন্য আমার শাফা'আত বা সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। "
৭৮. আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من صلى علي حين يصبح عشراً, وحين يمسى عشراً, أدركته شفاعتي يوم القيامة»। “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আমার ওপর দশবার দুরূদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে আমার শাফা'আত লাভ করবে।"
৭৯. জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: من قال حين يسمع النداء: اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة, آت محمد الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته, حلت له شفاعتي يوم القيامة»। “যে ব্যক্তি আযান শুনে দো'আ করবে: 'হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রভু, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান কর ওসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে 'মাকামে মাহমুদ' তথা প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন'- কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফা'আত হালাল হবে।"
৮০. তারেক ইবন শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ما من مسلم يقول إذا سمع النداء, فيكبر المنادى فيكبر, ثم يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله فيشهد على ذلك, ثم يقول: اللهم أعط محمدا الوسيلة, واجعل فى الأعلين درجته, وفى المصطفين محبته, وفى المقربين ذكره, إلا وجبت له شفاعتي يوم القيامة»। "যে মুসলিম ব্যক্তি বলবে যখন সে আযান শুনে- মুয়াজ্জিন যখন 'আল্লাহু আকবার' বলে, তখন সে 'আল্লাহু আকবার' বলে; অতঃপর সে যখন সাক্ষ্য দেয় যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তখন সে এই ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে; অতঃপর সে বলবে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওসীলা দান কর, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মর্যাদাকে শামিল কর, মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মহব্বত সৃষ্টি করে দাও এবং নৈকট্যবান বান্দাদের মধ্যে তাঁর আলোচনার ব্যবস্থা করে দাও- তখন সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনে আমার শাফা'আত জরুরী হয়ে যায়।"
দৃষ্টি আকর্ষণ:
নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত ও তা তাঁর শাফা'আত লাভের অন্যতম উপায় বলে উৎসাহ দান প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়; অচিরেই আমি তন্মধ্য থেকে কিছু বিষয় ও তথ্যসূত্র সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করছি।
১. উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «من زار قبري أو قال من زارني كنت له شفيعا أو شهيدا ومن مات في احد الحرمين بعثه الله في الامنين يوم القيامة »। যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে অথবা তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে যিয়ারত করবে, আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, আর যে ব্যক্তি হারামাইন তথা মক্কা ও মদীনার কোনো একটিতে মারা যাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে নিরাপদ ব্যক্তিদের মাঝে তার পুনরুত্থান ঘটাবেন।” (বায়হাকী, ৫/২৪৫) আর তিনি বলেন: এই হাদীসের সনদ অজ্ঞাত; দেখুন: ইবন আবদিল হাদী, 'আস-সারেমুল মুনাক্কী ফির রাদ্দি 'আলাস্ সাবাকী'
২. ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من زار قبري وجبت له شفاعتي»। “যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।” [হাদীসটি দারাকুতনী ও বায়হাকী রহ. বর্ণনা করেন] আর বায়হাকী রহ. বলেন: এই হাদীসটি 'মুনকার'। আর এই অর্থে সেখানে অনেক 'মাওযু' ও দুর্বল হাদীস বর্ণিত আছে।
তবে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাসজিদ যিয়ারত করা, তাতে সালাত আদায় করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাম পেশ করা অতি ফযিলতের কাজ, যা আল্লাহর জান্নাত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের দিকে নিয়ে যায়। আর আল্লাহই হলেন সাহায্য প্রার্থনার স্থল।
টিকাঃ
১৩৫. সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সালাত, পরিচ্ছেদ: আযানের জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলা মুস্তাহাব; এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্য ওসীলা'র দো'য়া করা হাদীস নং ৮৭৫।
১৩৬. তাবারানী; আর ইসমাঈল কাযী তার 'ফাদলুস সালাত 'আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম' -এর মধ্যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫০ এবং তার সনদটি হাসান, আর তার সমর্থনে অন্য বর্ণনাও রয়েছে।
১৩৭. ইসমাঈল কাযী তার 'ফাদলুস সালাত 'আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম' -এর মধ্যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫৩; তাবারানী, আল-কাবীর (৫/১৪); আহমদ (৪/১০৭); মুনযেরী তার 'আত-তারগীব' গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (২/৫০৫): হাইছামী, আল-মাজমা।
১৩৮. তাবারানী, আল-মু'জাম আল-কাবীর (৫/১৪); আবূ 'আসেম আস-সুন্নাহ্। শাইখ আলবানী তার 'সহীহ আল-জামে' -এর মধ্যে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, হাদীস নং ৬২৩৩।
১৩৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: আযান, পরিচ্ছেদ: আযানের সময়কালীন দো'আ, হাদীস নং ৫৮৯।
১৪০. ত্বাহাবী, 'শরহু মা'আনীল আসার' (১/১৪৫); তাবারানী, আল-কাবীর (১০/১৬); হাইছামী বলেন, হাদীসের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য; আর ইবনুস সুন্নী'র 'আমালুল ইয়াওমে ওয়াল লাইলাহ্ গ্রন্থে এর সমর্থনে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে, পৃ. ৪৭ এবং ৫৮।
📄 তাওহীদপন্থী মৃত ব্যক্তির সালাতুল জানাযায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগণ কর্তৃক তার জন্য সুপারিশ করা
৮১. আবু কিলাবা থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা'র দুধভাই আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন: مَا مِنْ مَيِّتٍ يُصَلَّى عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلَّا شُفَعُوا فِيهِ »। “কোনো মৃত ব্যক্তি, যার ওপর একদল মুসলিম ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, যাদের সংখ্যা একশ'তে পৌঁছবে এবং তাদের প্রত্যেকে তার জন্য সুপারিশ করবে, তবে তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে।"
৮২. শরীক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি নমর থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র মাওলা কুরাইব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর এক ছেলে কুদায়দ অথবা 'উসফান নামক স্থানে ইন্তিকাল করলেন; তখন তিনি বললেন, হে কুরায়ব! দেখ তো, তার জানাযার জন্য কি পরিমাণ মানুষ সমবেত হয়েছে? আমি দেখলাম, কিছু লোক সমবেত হয়েছে; আমি তাঁকে এ খবর দিলাম; তখন তিনি বললেন, তাদের সংখ্যা কি চল্লিশ হবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: মৃতদেহ বের কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا شَفَعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ»। "যখন কোনো মুসলিম মারা যায় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক অংশ নেয়, যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করে না, তখন তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হয়। "
৮৩. আবু সালেহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: من صلى عليه مائة من المسلمين غفر الله له»। “যে ব্যক্তির ওপর একশত মুসলিম জানাযার সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। "
৮৪. আবদুল্লাহ ইবন সালিত থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনের অন্যতম একজন মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ما من ميت يصلي عليه أمة من الناس إلا شفعوا فيه» فسألت أبا المليح عن الأمة قال أربعون»। “যে কোনো মৃত ব্যক্তির জানাযায় মানুষের মধ্য থেকে একদল অংশগ্রহণ করবে, তারা তার ব্যাপারে সুপারিশ করবে।" (অতঃপর আমি আবূল মালিহকে ‘উম্মত' বা দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? জবাবে তিনি বললেন: চল্লিশ। অপর এক বর্ণনায় আছে: ‘উম্মত' বা দল বলতে চল্লিশ থেকে একশ'র মধ্যকার যে কোনো পরিমাণ লোক সংখ্যাকে বুঝায়)।
টিকাঃ
১৪১. সহীহ মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তির ওপর একশত ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে হাদীস নং ২২৪১।
১৪২. সহীহ মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তির উপর চল্লিশ ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে হাদীস নং ২২২২।
১৪৩. ইবন মাজাহ (১/৪৭৭), তার সনদ সহীহ; আলবানী তাকে সহীহ বলেছেন।
১৪৪. নাসাঈ (৪/৬২); সহীহ বুখারী, আল-কাবীর (৫/১১২); আহমদ (৬/৩৩১); ইবন আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ (৩/৩২১)। অন্য বর্ণনার সমর্থনের কারণে এই হাদীসটি হাসান পর্যায়ের ইনশাআল্লাহ।
📄 বিভিন্ন প্রকার কর্মকাণ্ড শাফা‘আতের উপলক্ষসমূহের অন্তর্ভুক্ত
৮৫. বনী মাখযুমের আযাদকৃত গোলাম যিয়াদ ইবন আবি যিয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম কোনো পুরুষ অথবা নারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদেমকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: «أَلَكَ حَاجَةً؟ قَالَ: حَتَّى كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَاجَتِي أَنْ تَشْفَعَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، قَالَ: وَمَنْ دَلَّكَ عَلَى هَذَا ؟ قَالَ: رَبِّي عز وجل، قَالَ: أما لا فَأَعِنِّى بِكَثْرَةِ السجود»।
তোমার কি কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে? তিনি বলেন: শেষ পর্যন্ত সে কোনো একদিন বলে বসলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রয়োজন হলো আপনি কিয়ামতের দিনে আমার জন্য সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: এই ব্যাপারে তোমাকে কে নির্দেশনা দিয়েছে? সে বলল: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা; তিনি বললেন: কেন সুপারিশ করব না, তবে তুমি (আল্লাহকে) বেশি বেশি সাজদাহ করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।
৮৬. মুস'আব আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: انطلق غلام منا، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم ، فقال: أسألك أن تجعلني ممن تشفع له يوم القيامة ، قال: من أمرك أو علمك، أو دلك؟ قال : ما أمرني بها إلا نفسي، قال: إني أشفع لك، ثم رده فقال: أعني على نفسك بكثرة السجود»।
"আমাদের কাছ থেকে কোনো এক গোলাম চলে গেল; তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল, অতঃপর সে বলল: আমি আপনার নিকট চাই যে, আপনি আমাকে সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন, যার জন্য কিয়ামতের দিনে আপনি সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে অথবা কে তোমাকে শিখিয়ে দিয়েছে অথবা কে তোমাকে নির্দেশনা দিয়েছে? জবাবে সে বলল: আমার মনই আমাকে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বললেন: আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব, অতঃপর তিনি তার কথা প্রত্যাহার করে নিলেন এবং বললেন: তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে (আল্লাহকে) বেশি বেশি সাজদাহ করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।"
টিকাঃ
১৪৫. আহমদ (৩/৫০০); হাইছামী তার 'মাজমা'উয যাওয়ায়েদ' (مجمع الزوائد)-এর ২য় খণ্ডের ২৪৯ পৃষ্ঠায় বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদীসের বর্ণনাকারী।
১৪৬. তাবারানী, বাগবী ও আল-বাযার; হাইছামী বলেন, তাবারানী বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদীসের বর্ণনাকারী। পূর্ববর্তী হাদীসটি তার সমর্থক এবং ফাতিমা বিনতে হোসাইনের বর্ণিত মুরসাল হাদীসটিও তার সমর্থক; ইবনুল মুবারক, আয-যুহুদ (الزهد), পৃ. ৪৫৫।
📄 যে মুসলিম ব্যক্তির সুপারিশ (শাফা‘আত) গ্রহণ করা হবে না
৮৭. উম্মু দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহu 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «إِنَّ اللَّعَانِينَ لَا يَكُونُونَ شُهَدَاءَ وَلَا شُفَعَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»।
“নিশ্চয় কিয়ামতের দিন অভিশাপ দানকারীগণ সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবে না।”
টিকাঃ
১৪৭. সহীহ মুসলিম (৪/২০০৬)।