📄 সন্তান কর্তৃক তাদের পিতা-মাতার’র জন্য সুপারিশ
৫৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ان الله عز ও جل ليرفع الدرجة للعبد الصالح في الجنة فيقول : يا رب أني لي هذه ؟ فيقول: باستغفار ولدك لك»। “আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি বা সুউচ্চ করে দিবেন। ফলে সে বলবে: হে আমার রব! আমার জন্য এটা কীভাবে হল? তখন তিনি বলবেন: তোমার সন্তান কর্তৃক তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে।”
৫৮. আবু হাসসান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: قُلْتُ لأَبِي هُرَيْرَةَ: إِنَّهُ قَدْ مَاتَ لِيَ ابْنَانِ, فَمَا أَنْتَ مُحَدِّثِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثٍ تُطَيِّبُ بِهِ أَنْفُسَنَا عَنْ مَوْتَانَا ؟ قَالَ: قَالَ نَعَمْ, « صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ - أَوْ قَالَ: أَبَوَيْهِ - فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ أَوْ قَالَ: بِيَدِهِ كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا فَلَا يَتَنَاهَى أَوْ قَالَ فَلا يَنْتَهِي حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الجنَّةَ »। "আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললাম: আমার দু'টি ছেলে মারা গেছে; আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা আমাদের মৃতদের ব্যাপারে আমাদের আত্মা আনন্দ বা প্রশান্তি অনুভব করবে? সে বলল: তিনি বলেন: হ্যাঁ, তাদের ছোট সন্তানগণ জান্নাতের অধিবাসী, তাদের কেউ তার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করবে অথবা তিনি বলেছেন: তার পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করবে, অতঃপর সে তার কাপড়ে ধরবে অথবা তিনি বলেছেন: তার হাতে ধরবে, যেমনিভাবে আমি তোমার এই কাপড়ের এক প্রান্তে ধরলাম; অতঃপর সে নিবৃত হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তাকে ও তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"
৫৯. মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ما من مسلمين يموت لهما ثلاثة أولاد لم يبلغوا الحنث الا أدخلهما الله وأباهم بفضل رحمته الجنة, وقال: يقال لهم: ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: حتى يجيء أبوانا. قال ثلاث مرات فيقولون مثل ذلك, فيقال لهم: ادخلوا الجنة أنتم وأبواكم»। "যে মুসলিমদ্বয়েরই তিনটি সন্তান অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মারা গিয়েছে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এবং তাদের পিতা-মাতাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তিনি বলেন: তাদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা আসবে। তিনি তিনবার বলেন, আর তারা ও অনুরূপভাবে তিনবার বলবে; অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।"
৬০. শুরাহবীল ইবন শোফ'আহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «يقال للولدان يوم القيامة: ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: يا رب حتى يدخل آباؤنا وأمهاتنا, قال: فيأتون, قال: فيقول الله عز ও جل: مالي أراهم محبنطئين, ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: يا رب آباؤنا وأمهاتنا قال فيقول ادخلوا الجنة أنتم وآباؤكم»। “কিয়ামতের দিনে (শিশু অবস্থায় মারা যাওয়া) সন্তানদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা ও মাতাগণ প্রবেশ করবেন; তিনি বলেন: অতঃপর তারা আসবে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন: আমার কী হলো, আমি তো তাদেরকে মোটা ও খাটোদেহী ক্রোধে পরিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাচ্ছি; তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! আমাদের পিতা ও মাতাগণ? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।"
৬১. যায়েদ ইবন সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালামকে বলতে শুনেছেন, আমার নিকট 'আমের ইবন যায়েদ আল-বাকালী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি 'উতবা ইবন আবদ আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছেন: جاء أعرابي إلى رسول الله عليه السلام, فقال : ما حوضك الذي تحدث عنه؟ قال: « هو كما بين البيضاء إلى بصرى, ثم يمدني الله عز ও جل بكراع فلا يدري بشر ممن خلق أين طرفاه, فكبر عمر بن الخطاب, فقال: « أما الحوض فيزدحم عليه فقراء المهاجرين الذين يقاتلون في سبيل الله ويموتون في سبيل الله »। وأرجو أن يوردني الله عز ও جل الكراع فأشرب منه, فقال رسول الله: « إن ربي وعدني أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا بغير حساب, ثم يشفع كل ألف بسبعين ألف ثم يحثي ربي تبارك وتعالى بكفيه ثلاث حثيات »। فكبر عمر, وقال: « إن السبعين الأولى ليشفعهم الله في آبائهم وأبنائهم وعشائرهم » وأرجو أن يجعلني الله في إحدى الحثيات الأواخ »। ... فقال النبي: نعم, وعامة عشيرتك »।
“জনৈক আরব বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল, তারপর সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার হাউযটি কোনো ধরনের, যার ব্যাপারে আপনি আলোচনা করেন? জবাবে তিনি বলেন: তা হলো বায়দা থেকে বসরা পর্যন্ত দূরত্বের মত বিস্তৃত; অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য তার প্রান্তদেশকে সম্প্রসারিত করবেন, ফলে তাঁর সৃষ্ট কোনো মানুষ জানতে পারবে না তার দুই প্রান্তের সীমানা কোথায়; তিনি বলেন: অতঃপর উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দিলেন; অতঃপর তিনি বলেন: হাউযের কিনারে ঐসব মুহাজির ফকীরগণ ভিড় করবে, যারা আল্লাহ তা'আলার পথে লড়াই করে এবং আল্লাহ তা'আলার পথে মৃত্যুবরণ করে। আর আমি আশা করি আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার কোনো এক প্রান্তে অবতরণ করাবেন, অতঃপর আমি তার থেকে পান করব; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিনা হিসাবে আমার সত্তর হাজার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর প্রত্যেক হাজার আরও সত্তর হাজারের ব্যাপারে সুপারিশ করবে; অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাতের তালুর মাধ্যমে (আমার উম্মতের মধ্য থেকে) তিন অঞ্জলি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অতঃপর উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দিলেন; তারপর তিনি বলেন: প্রথম সত্তর হাজারকে আল্লাহ তা'আলা তাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততী ও আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিবেন। আর আমি আশা করি আল্লাহ তা'আলা আমাকে শেষ তিন অঞ্জলির কোনো একটার মধ্যে শামিল করবেন। ... নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, তোমার গোটা বংশধরকে পরিতৃপ্ত করবে।"
৬২. শো'বা থেকে বর্ণিত, তিনি মু'য়াবিয়া ইবন কুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «أن رجلا كان يأتي النبي صلى الله عليه وسلم ومعه ابن له, فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «أتحبه؟ فقال: يا رسول الله أحبك الله كما أحبه, ففقده النبي صلى الله عليه وسلم, فقال لي: ما فعل ابن فلان؟ قالوا: يا رسول الله مات فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبيه: «أما تحب أن لا تأتي بابا من أبواب الجنة إلا وجدته ينتظرك». فقال الرجل: يا رسول الله أله خاصة, أم لكلنا؟ قال: «بل لكلكم»। জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেসহ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: তুমি কি তাকে ভালোবাস? অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন, যেমনিভাবে আমি তাকে ভালোবাসি; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হারিয়ে ফেললেন, তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: অমুকের ছেলে কী করে? তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সে মারা গেছে; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তুমি কি পছন্দ করবে না যে, তুমি জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্য থেকে যে কোনো দরজার সামনে উপস্থিত হবে, আর তুমি তাকে দেখতে পাবে সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি তার জন্য নির্দিষ্ট, নাকি আমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য হবে? তখন তিনি বললেন: বরং তোমাদের সকলের জন্য।"
টিকাঃ
১১২. আহমদ (২/৫০৯); তার সনদ সহীহ।
১১৩. সহীহ মুসলিম (৪/২০২৯)।
১১৪. আহমদ (২/৫১০); নাসাঈ (৪/২২); বায়হাকী; আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।
১১৫. আহমদ (৪/১০৫); আল-ফাসাবী, আল-মা'রেফাতু ওয়াত তারিখ (২/৩৪৩); হাইছামী, আল-মাজমা' (৩/১১); ইমাম আহমদের বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
১১৬. আল-মুনযেরী, তার তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। [সম্পাদক]
১১৮. আল-মু'জামুল আওসাত ১য় খণ্ড, পৃ. ১৩৬; তাবারানী; আল-ফাসাবী, আল-মা'রেফাতু ওয়াত তারিখ (২/৩৪১); হাফেয আল-মাকদাসী বলেন, এই হাদীসের কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি আমার জানা নেই।
১১৯. আহমদ (৫/৩৫); আর হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
📄 শাফা‘আতের কারণ ও উপলক্ষসমূহ
আল-কুরআনের শাফা'আত:
৬৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «إن سورة من القرآن ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له وهي سورة تبارك الذي بيده الملك»। “আল-কুরআনের একটি সূরার ত্রিশটি আয়াত কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর তা হলো সূরা আল-মুলক ﴾تَبَرَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴿ (বরকতময় তিনিই, যাঁর হাতে রাজত্ব ও কর্তৃত্ব)।"
৬৪. 'আসেম ইবন আবি নাজুদ থেকে বর্ণিত, তিনি শা'বী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: يجيء القرآن يوم القيامة فيشفع لصاحبه فيكون له قائدا إلى الجنة ويشهد عليه ويكون سائقا به إلى النار»। "কিয়ামতের দিনে আল-কুরআন আগমন করবে, অতঃপর সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে; অতঃপর সে তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে, আর সে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।"
৬৫. 'জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «الْقُرْآنُ شَافِعٌ مُشَفَّعٌ، وَمَاحِلٌ مُصَدَّقٌ ، مَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ»। “আল-কুরআন হচ্ছে সুপারিশকারী, যার সুপারিশ গৃহীত হবে এবং এমন পক্ষ বা বিপক্ষ অবলম্বনকারী, যার পক্ষ ও বিপক্ষ সাক্ষীকে সত্যায়ণ করা হয়।"
৬৬. মু'য়াবিয়া ইবন সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ সালাম বলেন: আমাকে আবূ উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذُهَا بَرَكَةً وَتَرْكُهَا حَسْرَةً وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ»। “তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করবে। কেননা কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। তোমরা সুপারিশকারী দুই সমুজ্জ্বল সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত করবে। কারণ, এ দু'টি কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, মনে হবে যেন দু'টি মেঘখণ্ড বা বাদল, কিংবা দু'টি ডানা বিস্তারকারী পাখির ঝাঁক, যারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে প্রতিরোধকারী-সাহায্যকারী হবে। তোমরা সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবে। কারণ, তা তিলাওয়াত করাতে বরকত রয়েছে, আর তা বর্জন করা আফসোসের এবং বাতিলপন্থীরা তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।”
৬৭. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ يَقُولُ: يَا رَبِّ لِكُلِّ عَامِلٍ عُمَالَةٌ مِنْ عَمَلِهِ, وَإِنِّي كُنْتُ أَمْنَعُهُ اللَّذَّةَ وَالنَّوْمَ فَأَكْرِمْهُ, فَيَقَالُ: ابْسُطُ يَمِينَكَ, فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ, ثُمَّ يُقَالُ: ابْسُطْ شِمَالَكَ, فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ, وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ, وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ, وَيُحَلَّى بِحِلْيَةِ الْكَرَامَةِ, وَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ»। “আল-কুরআন আগমন করবে, সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে, সে বলবে: হে আমার রব! প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমলের মজুরীর ব্যবস্থা রয়েছে, আর আমি তাকে আমোদ-প্রমোদ ও নিদ্রা থেকে বাধা প্রদান করতাম। সুতরাং আপনি তাকে সম্মানিত করুন; অতঃপর তাকে বলা হবে: তুমি তোমার ডান হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে। অতঃপর বলা হবে: তুমি তোমার বাম হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে, আর তাকে সম্মানের পোষাক পরিধান করানো হবে এবং তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিধান করানো হবে, আর তাকে পরিধান করানো হবে সম্মানের মুকুট।"
৬৮. আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة, يقول الصيام: أي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفعني فيه, ويقول القرآن منعته النوم بالليل فشفعني فيه قال: فيشفعان»। "কিয়ামতের দিনে বান্দার জন্য সাওম (রোযা) ও আল-কুরআন সুপারিশ করবে; সাওম বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমি দিনের বেলায় তাকে খাবার গ্রহণ ও যৌন ক্ষুধা পূরণ থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন, আর আল-কুরআন বলবে: আমি রাতের বেলায় তাকে ঘুমাতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন; অতঃপর তারা উভয়ে সুপারিশ করবে।"
৬৯. আবু সালেহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছি: «اقرؤوا القرآن فإنه نعم الشفيع يوم القيامة, انه يقول يوم القيامة: يا رب حله حلية الكرامة, فيحلى حلية الكرامة, يا رب اكسه كسوة الكرامة, فيكسى كسوة الكرامة, يا رب البسه تاج الكرامة, يا رب أرض عنه, فليس بعد رضاك شيء»। "তোমরা আল-কুরআন পাঠ কর। কারণ, কিয়ামতের দিনে তা উত্তম সুপারিশকারী; কিয়ামতের দিনে সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিবেন; হে আমার রব! আপনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিবেন; হে আমার রব! আপনি তাকে সম্মানের মুকুট পরিয়ে দিন, হে আমার রব! আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, কেননা আপনার সন্তুষ্টির পরে আর কিছুই নেই।"
টিকাঃ
১২০. তিরমিযী (৪/২৩৮); আবু দাউদ (২/১১৯); ইবন মাজাহ (২/১২৪৪); আহমদ (২/৩২১); ইবন হিব্বান, পৃ. ৩২১; হাকেম (১/৫৬৫), আর এটা হাসান হাদীস।
১২১. দারেমী (২/৪৩৩); আবদুর রাজ্জাক, আল-মুসান্নাফ (৩/৩৭৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৯/১৪১); সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে 'মাওকুফ' হাদীস হিসেবে বর্ণিত।
১২২. হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে মাওকুফ সনদে বর্ণিত; আর জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে 'মারফু' সনদে হাদীসটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত। দেখুন, ইবন হিব্বান, ১০/১৯৮, হাদীস নং ১০৪৫০; আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ, হাদীস নং ২০১৯; সহীহুল জামি'উ, হাদীস নং ৪৪৪৩। [সম্পাদক]
১২৩. অথবা জাদুকরের জাদু এর পাঠকারীর উপর ক্রিয়া করে না। [সম্পাদক]
১২৪. মুসলিম (১/৫৫৩); আহমদ (৫/২৪৯)
১২৫. দারেমী (২/৪৩০); তার সনদ হাসান পর্যাযের।
১২৬. আহমদ (২/১৭৪); ইবন নসর, 'কিয়ামুল লাইল', পৃ. ২৫; হাকেম (১/৫৫৪) এবং তিনি বলেন, হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত। আলবানী তার 'সহীহ আল-জামে' -এর মধ্যে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদীস নং ৩৭৭৬।
১২৭. দারেমী (২/৪৩০); তিরমিযী (২/২৪৯) এবং তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; হাকেমের নিকট হাদীসটির অপর আরেকটি সনদ রয়েছে (১/৫৫২); আবু না'ঈম (৭/২০৬) এবং হাদীসটি হাসান।
📄 শাফা‘আত লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো মদীনায় বসবাস করা এবং সেখানে মারা যাবে
৭০. মাহরীর আযাদকৃত গোলাম আবূ সা'ঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «أَنَّهُ جَاءَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِي لَيَالِيَ الْحَرَّةِ فَاسْتَشَارَهُ فِي الْجَلَاءِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَشَكَا إِلَيْهِ أَسْعَارَهَا, وَكَثْرَةَ عِيَالِهِ, وَأَخْبَرَهُ أَنْ لَا صَبْرَ لَهُ عَلَى جَهْدِ الْمَدِينَةِ وَلَأْوَائِهَا. فَقَالَ لَهُ: وَيْحَكَ لَا آمُرُكَ بِذَلِكَ إِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأُوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا»। “তিনি হাররা ঘটনার সময় কোনো এক রাত্রে আবূ সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর নিকট আগমন করেন; তারপর তিনি মদীনা ত্যাগের ব্যাপারে তাঁর নিকট পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁর নিকট মদীনার দ্রব্যমূল্য ও তার পরিবারের লোকসংখ্যার আধিক্যের ব্যাপারে অনুযোগ করলেন, আর তাকে জানিয়ে দিলেন যে, মদীনার কষ্ট ও তার দুর্বিষহ জীবনযাপনে তার কোনো প্রকার ধৈর্য নেই। তখন সাহাবী তাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস! আমি তোমাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেই না, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, তারপর মারা যাবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যখন সে মুসলিম হবে"।
৭১. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: مَنْ صَبَرَ عَلَى لأُوَائِهَا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»। “যে ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।"
৭২. যোবায়েরের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নেস থেকে বর্ণিত, তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা'র নিকটে বিপর্যস্ত পরিস্থিতে বসা ছিলেন; অতঃপর তাঁর নিকট তাঁর আযাদ করা এক দাসী এসে তাঁকে সালাম পেশ করল, তারপর বলল: إِنِّي أَرَدْتُ الْخُرُوجَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ اشْتَدَّ عَلَيْنَا الزَّمَانُ. فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ: اقْعُدِى لَكَاعِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يَصْبِرُ عَلَى لأُوَائِهَا وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا أَوْ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»। “হে আবূ আবদির রহমান! আমি (মদীনা থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি, আমাদের ওপর যুগ-যামানা কঠোর হয়ে গেছে। অতঃপর আবদুল্লাহ তাকে বললেন: বোকা মেয়ে, তুমি বস। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ ও কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব”।
৭৩. সুফিয়া বিনতে আবি 'উবাইদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: من استطاع منكم أن لا يموت إلا بالمدينة فليمت بها ، فإنه من يمت بها يشفع له ويشهد له »। "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মদীনাতেই মারা যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি সেখানে মারা যাবে, তার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন এবং তার পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিবেন"।
৭৪. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহu 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت بها, فإني أشفع لمن يموت بها»। “যে ব্যক্তির মদীনায় মারা যাওয়ার সামর্থ্য আছে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি তাতে মারা যাবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব। "
টিকাঃ
১২৮. ইয়াযিদের সেনাপতি কর্তৃক মদীনা আক্রান্ত হয়ে সেখানকার মানুষ অমানষিক কষ্টের মধ্যে পড়েন। সে ঘটনায় মদীনার হাররায় বহু লোক মারা যায়। ইতিহাসে সেটা 'হাররা'র ঘটনা নামে খ্যাত। [সম্পাদক]
১২৯. সহীহ মুসলিম (২/১০০২); আহমদ (৩/২৯)।
১৩০. সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)।
১৩১. আর তা হলো ইয়াযিদের যামানায় সংঘটিত উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
১৩২. সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)
১৩৩. ইবন হিব্বান, পৃ. ২৫৫; হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।
১৩৪. আহমদ (২/৭৪ এবং ১০৪); তিরমিযী (৫/২৭৭) এবং তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 নবী (সাঃ)-এর প্রতি দুরূদ পাঠ ও তাঁর জন্য ওসীলা প্রার্থনা করা
৭৫. আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনিল 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ»। “যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তোমরা সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ, যে আমার ওপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দো'আ করবে। ওসীলা হলো জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে দেওয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দো'আ করবে, তার জন্য আমার শাফা'আত হালাল হয়ে যাবে। "
৭৬. আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «سلوا الله لي الوسيلة فإنه لم يسألها لي عبد في الدنيا إلا كنت له شهيدا أو شفيعا يوم القيامة »। "তোমরা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ওসীলার প্রার্থনা কর। কারণ, যে বান্দাই দুনিয়াতে আমার জন্য তা প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিনে আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব।"
৭৭. রুয়াইফা ইবন সাবিত আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من صلى على محمد وقال اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة وجبت له شفاعتی»। “যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ওপর দুরূদ পাঠ করবে এবং বলবে: হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটবর্তী আসনে অবতরণ করুন, তার জন্য আমার শাফা'আত বা সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। "
৭৮. আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من صلى علي حين يصبح عشراً, وحين يمسى عشراً, أدركته شفاعتي يوم القيامة»। “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আমার ওপর দশবার দুরূদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে আমার শাফা'আত লাভ করবে।"
৭৯. জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: من قال حين يسمع النداء: اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة, آت محمد الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته, حلت له شفاعتي يوم القيامة»। “যে ব্যক্তি আযান শুনে দো'আ করবে: 'হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রভু, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান কর ওসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে 'মাকামে মাহমুদ' তথা প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন'- কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফা'আত হালাল হবে।"
৮০. তারেক ইবন শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ما من مسلم يقول إذا سمع النداء, فيكبر المنادى فيكبر, ثم يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله فيشهد على ذلك, ثم يقول: اللهم أعط محمدا الوسيلة, واجعل فى الأعلين درجته, وفى المصطفين محبته, وفى المقربين ذكره, إلا وجبت له شفاعتي يوم القيامة»। "যে মুসলিম ব্যক্তি বলবে যখন সে আযান শুনে- মুয়াজ্জিন যখন 'আল্লাহু আকবার' বলে, তখন সে 'আল্লাহু আকবার' বলে; অতঃপর সে যখন সাক্ষ্য দেয় যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তখন সে এই ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে; অতঃপর সে বলবে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওসীলা দান কর, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মর্যাদাকে শামিল কর, মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মহব্বত সৃষ্টি করে দাও এবং নৈকট্যবান বান্দাদের মধ্যে তাঁর আলোচনার ব্যবস্থা করে দাও- তখন সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনে আমার শাফা'আত জরুরী হয়ে যায়।"
দৃষ্টি আকর্ষণ:
নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত ও তা তাঁর শাফা'আত লাভের অন্যতম উপায় বলে উৎসাহ দান প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়; অচিরেই আমি তন্মধ্য থেকে কিছু বিষয় ও তথ্যসূত্র সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করছি।
১. উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «من زار قبري أو قال من زارني كنت له شفيعا أو شهيدا ومن مات في احد الحرمين بعثه الله في الامنين يوم القيامة »। যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে অথবা তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে যিয়ারত করবে, আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, আর যে ব্যক্তি হারামাইন তথা মক্কা ও মদীনার কোনো একটিতে মারা যাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে নিরাপদ ব্যক্তিদের মাঝে তার পুনরুত্থান ঘটাবেন।” (বায়হাকী, ৫/২৪৫) আর তিনি বলেন: এই হাদীসের সনদ অজ্ঞাত; দেখুন: ইবন আবদিল হাদী, 'আস-সারেমুল মুনাক্কী ফির রাদ্দি 'আলাস্ সাবাকী'
২. ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من زار قبري وجبت له شفاعتي»। “যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।” [হাদীসটি দারাকুতনী ও বায়হাকী রহ. বর্ণনা করেন] আর বায়হাকী রহ. বলেন: এই হাদীসটি 'মুনকার'। আর এই অর্থে সেখানে অনেক 'মাওযু' ও দুর্বল হাদীস বর্ণিত আছে।
তবে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাসজিদ যিয়ারত করা, তাতে সালাত আদায় করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাম পেশ করা অতি ফযিলতের কাজ, যা আল্লাহর জান্নাত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের দিকে নিয়ে যায়। আর আল্লাহই হলেন সাহায্য প্রার্থনার স্থল।
টিকাঃ
১৩৫. সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সালাত, পরিচ্ছেদ: আযানের জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলা মুস্তাহাব; এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্য ওসীলা'র দো'য়া করা হাদীস নং ৮৭৫।
১৩৬. তাবারানী; আর ইসমাঈল কাযী তার 'ফাদলুস সালাত 'আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম' -এর মধ্যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫০ এবং তার সনদটি হাসান, আর তার সমর্থনে অন্য বর্ণনাও রয়েছে।
১৩৭. ইসমাঈল কাযী তার 'ফাদলুস সালাত 'আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম' -এর মধ্যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫৩; তাবারানী, আল-কাবীর (৫/১৪); আহমদ (৪/১০৭); মুনযেরী তার 'আত-তারগীব' গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (২/৫০৫): হাইছামী, আল-মাজমা।
১৩৮. তাবারানী, আল-মু'জাম আল-কাবীর (৫/১৪); আবূ 'আসেম আস-সুন্নাহ্। শাইখ আলবানী তার 'সহীহ আল-জামে' -এর মধ্যে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, হাদীস নং ৬২৩৩।
১৩৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: আযান, পরিচ্ছেদ: আযানের সময়কালীন দো'আ, হাদীস নং ৫৮৯।
১৪০. ত্বাহাবী, 'শরহু মা'আনীল আসার' (১/১৪৫); তাবারানী, আল-কাবীর (১০/১৬); হাইছামী বলেন, হাদীসের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য; আর ইবনুস সুন্নী'র 'আমালুল ইয়াওমে ওয়াল লাইলাহ্ গ্রন্থে এর সমর্থনে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে, পৃ. ৪৭ এবং ৫৮।