📄 মুমিনগণ কর্তৃক শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৪৫. আবূ সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إن من أمتي من يشفع للفئام, ومنهم من يشفع للقبيلة, ومنهم من يشفع للعصبة, ومنهم من يشفع للرجل حتى يدخلوا الجنة »।
"আমার উম্মতের মধ্যে কেউ কেউ একদল লোকের জন্য সুপারিশ করবে; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক গোত্রের জন্য সুপারিশ করবে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ সগোত্রীয় লোকদের জন্য সুপারিশ করবে; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, শেষ পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
৪৬. আবদুল্লাহ ইবন কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হারেস ইবন আকইয়াশ রহ.-কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আবু বারযা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «ان من أمتي لمن يشفع لأكثر من ربيعة ও مضر, وان من أمتي لمن يعظم للنار حتى يكون ركنا من أركانها »।
"নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে, যে ব্যক্তি 'রবী'আ' ও 'মুদার' গোত্রের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের জন্য সুপারিশ করবে, আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে, যে জাহান্নামে এত বড় হবে যে, শেষ পর্যন্ত সে তার একটি বিশাল অংশ দখল করে থাকবে।"
৪৭. আবদুল্লাহ ইবন কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হারেস ইবন আকইয়াশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবূ বারযা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র নিকট কোনো এক রাতে উপস্থিত ছিলাম, সেই রাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: « ما من مسلمين يموت لهما أربعة أفراط الا ادخلهما الله الجنة بفضل رحمته »। قالوا يا رسول الله: وثلاثة ؟ قال: « ও ثلاثة » قالوا: واثنان ؟ « وان من أمتي لمن يدخل الجنة بشفاعته مثل مضر » قال: واثنان, قال: « وان من أمتي لمن يعظم للنار حتى يكون أحد زواياها »।
“যে দুই মুসলিমেরই চারটি সন্তান মারা যাবে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়ার বরকতে তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ রাসূল! তিনজন মারা গেলে? তিনি বললেন: তিনজন মারা গেলেও (তিনি তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন); সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ রাসূল! দুইজন মারা গেলে? আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার সুপারিশের দ্বারা 'মুদার' গোত্রের সমপরিমাণ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বললেন: দুইজন মারা গেলেও (তিনি তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন); তিনি বলেন: আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে, যে জাহান্নামের এত বড় ও প্রকাণ্ড হবে, শেষ পর্যন্ত সে সেটার একটি কোণ পূর্ণ করে রাখবে।”
৪৮. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ليدخلن الجنة بشفاعة رجل ليس بنبي مثل الحيين أو مثل أحد الحيين ربيعة ও مضر, فقال رجل: يا رسول الله أو ما ربيعة من مضر ؟ فقال: «إنما أقول ما أقول»।
“নবী নয় এমন এক ব্যক্তির সুপারিশে 'রবী'য়া' ও 'মুদার' গোত্রের সমপরিমাণ অথবা কোনো এক গোত্রের সামান সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! 'রবী'য়া' গোত্র কি 'মুদার' গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয় ? জবাবে তিনি বললেন: আমি যা বলার তা বলেছি”।
৪৯. আবদুল্লাহ ইবন শাকিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি 'ইলিয়া' নামক স্থানে একদল লোকের নিকট বসলাম, আর আমি হলাম তাদের চতুর্থ ব্যক্তি, সুতরাং তাদের মধ্যকার একজন বলল, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ليدخلن الجنة بشفاعة رجل من أمتي أكثر من بني تميم, قلنا: سواك يا رسول الله؟ قال: سواي»।
“আমার উম্মতের এক ব্যক্তির সুপারিশে বনী তামীম গোত্রের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে; আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ছাড়াই? তিনি বললেন: আমি ছাড়াই।”
৫০. যিয়াদ ইবন 'আলাকা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জারির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে মুগীরা ইবন শো'বা'র মৃত্যুর দিন (মিম্বরে) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে শুনেছি, ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন: عليكم باتقاء الله عز ও جل والوقار والسكينة حتى يأتيكم أمير, فإنما يأتيكم الآن, ثم قال: اشفعوا لأميركم فإنه كان يحب العفو, وقال: أما بعد فإني أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: أبايعك على الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم واشترط على النصح لكل مسلم, فبايعته على هذا, ورب هذا المسجد انى لكم لناصح جميعا, ثم استغفر ونزل»।
“তোমরা আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে সদা সচেতন থাক এবং নতুন কোনো আমীর না আসা পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখ; এখনই তোমাদের আমীর আসবেন। এরপর তিনি (জারীর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু) বললেন: তোমাদের আমীরের জন্য সুপারিশ কর (ক্ষমা প্রার্থনা কর)। কারণ, তিনি ক্ষমা করাকে ভালোবাসতেন। তারপর বললেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম: আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়'আত গ্রহণ করতে চাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন... এবং তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার ওপর শর্ত আরোপ করলেন: আর সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবে; অতঃপর আমি তাঁর কাছে এই শর্তের ওপর বায়'আত গ্রহণ করলাম। এই মাসজিদের রবের কসম! আমি তোমাদের সকলের কল্যাণকামী; অতঃপর তিনি (আল্লাহর কাছে) মাগফিরাত কামনা করলেন এবং (মিম্বর থেকে) নেমে গেলেন। "
৫১. আবু সা'ঈদ আল-আনমারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إن ربي وعدني أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا بغير حساب, ويشفع كل ألف لسبعين ألفا, ثم يحثي ربي ثلاث حثيات بكفيه »। كذا قال قيس: فقلت لأبي سعيد: أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ قال: نعم, بأذني ও وعاه قلبي, قال أبو سعيد : قال يعني رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وذلك إن شاء الله يستوعب مهاجري أمتي ويوفي الله عز ও جل بقيته من أعرابنا»।
"নিশ্চয় আমার রব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর প্রতি হাজার উম্মত সুপারিশ করবে আরও সত্তর হাজার উম্মতের জন্য; অতঃপর আমার প্রতিপালক তাঁর দুই হাতের তালু দ্বারা তিন অঞ্জলি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কায়েস অনুরূপ বলেছেন; অতঃপর আমি আবূ সা'ঈদকে বললাম: আপনি কি এই হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? জবাবে সে বলল: হ্যাঁ, আমি আমার নিজ কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে; আবূ সা'ঈদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আর এটা আল্লাহ চায় তো তিনি আমার উম্মতের (সকল) মুহাজিরকে শামিল করবেন এবং আল্লাহ তার বাকিটা পূর্ণ করবেন আমাদের বেদুঈনদের মধ্য থেকে। "
৫২. ইবন মুহাইরিয থেকে বর্ণিত, তিনি সুনাবিহী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি 'উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (সুনাবিহী রহ.) বলেন: دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ: مَهْلاً لِمَ تَبْكِي ؟ فَوَاللَّهِ لَئِنِ اسْتُشْهِدْتُ لأَشْهَدَنَّ لَكَ, وَلَئِنْ شُفَعْتُ لأَشْفَعَنَّ لَكَ, وَلَئِنِ اسْتَطَعْتُ لَأَنْفَعَنَّكَ , ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ مَا مِنْ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَكُمْ فِيهِ خَيْرٌ إِلَّا حَدَّثْتُكُمُوهُ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا, وَسَوْفَ أُحَدِّثُكُمُوهُ الْيَوْمَ وَقَدْ أُحِيطَ بِنَفْسِي . سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : ( مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ »।
“আমি উবাদার কাছে গেলাম, তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি আমাকে বললেন, চুপ থাক, কাঁদছ কেন? আল্লাহর শপথ! যদি আমাকে সাক্ষী বানানো হয়, তাহলে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেব; যদি আমাকে সুপারিশকারী বানানো হয়, তাহলে অবশ্যই আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব এবং যদি আমার সাধ্য থাকে, তবে আমি তোমার উপকার করব। তারপর উবাদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আল্লাহ শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত একটি ছাড়া সব হাদীসই তোমাদেরকে শুনিয়েছি, যাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। তোমাদের কাছে সে হাদীসটি আজ বর্ণনা করছি, কেননা আজ আমি মৃত্যুর দুয়ারে উপস্থিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সেই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। "
টিকাঃ
৯৬. তিরমিযী (৪/৪৬); আহমদ (৩/২০ এবং ৬৩); আর হাদীসটি অন্য হাদীসের সমর্থনের কারণে হাসান।
৯৭. আহমদ (৪/২১২)
৯৮. উদ্দেশ্য, মুসলিম স্বামী-স্ত্রী।
৯৯. আহমদ (৫/৩১২); ইবন খুযাইমা, পৃ. ৩১৩; ইবন মাজাহ (২/১৪৪৬); তাবারানী, আল-কাবীর (৩/৩০১); হাকেম (১/৭১); তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
১০০. আসলে রবী'আ কখনও মুদার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।
১০১. আহমদ (৫/২৫৬); ইবন খুযাইমা, পৃ. ৩১৩; তাবারানী (৮/১৬৯); আর হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।
১০২. আহমদ (৩/৪৬৯) এবং (৫/৩৬৬); তিরমিযী; ইবন মাজাহ (২/১৪৪৪); দারেমী (২/৩২৮); হাকেম হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন (১/৭০)।
১০৩. আহমদ (৪/৩৫৭); হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ।
১০৪. ইবন আবি 'আসেম, 'আস-সুন্নাহ' (২/৩৮৫); তাবারানী; আবু আহমদ হাকেম; আর হাফেয ইবন হাজার 'আল-ইসাবা' গ্রন্থের মধ্যে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
১০৫. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ঈমানসহ তার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ ব্যতীত আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম হয়ে যাবে হাদীস নং ১৫১; তিরমিযী (৪/১৩২); আহমদ (৬/৩১৮)।
📄 ইমাম ইবরাহীম আল-হারবী’র বিস্ময়কর কাহিনী
মুহাম্মাদ ইবন খালফ ওকী বলেন: ইবরাহীম আল-হারবী'র এক ছেলে ছিল, আর তার বয়স ছিল এগার বছর, সে আল-কুরআন হিফয (মুখস্থ) করেছে এবং তিনি তাকে ইলমুল ফিকহের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি (মুহাম্মাদ ইবন খালফ) বলেন: সে (ছেলেটি) মারা গেল, তারপর আমি তাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য আসলাম, তিনি বলেন: তারপর তিনি (ইবরাহীম আল-হারবী) আমাকে বললেন: আমি আমার এই ছেলের মৃত্যু কামনা করেছিলাম, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আবু ইসহাক! আপনি দুনিয়া শ্রেষ্ঠ আলেম, আপনি একটি সম্ভ্রান্ত উচ্চ বংশীয় শিশুর ব্যাপারে এই কথা বলছেন, অথচ আপনি তাকে হাদীস ও ফিকহ শিক্ষা দিয়েছেন!! তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, মনে হচ্ছে যেন কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে এবং কতগুলো শিশু, যাদের হাতে মূল্যবান পাত্র, তাতে রয়েছে পানি, যা তারা মানুষকে পান করাচ্ছে, আর দিনটি মনে হচ্ছিল প্রচণ্ড গরমের দিন; অতঃপর আমি তাদের একজনকে বললাম, এই পানি থেকে আমাকে পান করাও; তিনি বলেন: তখন সে আমার দিকে তাকাল এবং বলল: আপনি আমার পিতা নন; তখন আমি বললাম: তোমরা কারা? তখন সে বলল: আমরা ঐসব শিশু, যারা দুনিয়ার বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছি এবং আমাদের পিতাদেরকে পিছনে রেখে এসেছি, আমরা তাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জানাবো, তারপর তাদেরকে পানি পান করাব। তিনি বলেন: এ জন্যই আমি তার মৃত্যু কামনা করেছি। (ত্ববাকাতে হানাবেলা, ১/৮৯, ৯০)
৫৩. সাবেত আল-বুনানী থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إن الرجل يشفع للرجلين وللثلاثة, والرجل للرجل»। “নিশ্চয় এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তি ও তিন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, আর সুপারিশ করতে পারবে এক ব্যক্তি কমপক্ষে এক ব্যক্তির জন্য।"
৫৪. নিমরান ইবন 'উতবা আয-যিমারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: دَخَلْنَا عَلَى أُمَّ الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ أَيْتَامُ فَقَالَتْ : أَبْشِرُوا فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : ( يُشَقَّعُ الشَّهِيدُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ »। "আমরা ইয়াতীম অবস্থায় উম্মু দারদার নিকট হাযির হলাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ, আমি আবু দারদাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শহীদ ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের মধ্য থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।"
৫৫. মিকদাম ইবন মা'দিইয়াকরাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «للشهيد عند الله ست خصال: يغفر له في أول دفعة, ويرى مقعده من الجنة, ويجار من عذاب القبر, ويأمن من الفزع الأكبر, ويوضع على رأسه تاج الوقار, الياقوتة منها خير من الدنيا وما فيها, ويزوج اثنتين وسبعين زوجة من الحور العين , ويشفع في سبعين من أقاربه »। "আল্লাহর নিকট ছয়টি শহীদের বৈশিষ্ট্য রয়েছে: প্রথমেই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে; সে (দুনিয়াতেই) তার জান্নাতের আসনটি দেখতে পাবে; তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে; মহাভীতি থেকে নিরাপদে থাকবে; তার মাথায় মর্যাদার মুকুট পরানো হবে, যার একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম; তাকে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুরদের মধ্য থেকে বাহাত্তর জন স্ত্রী প্রদান করা হবে এবং সে তার নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।"
৫৬. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «كنت جالسا مع النبي صلى الله عليه وسلم ، فذكر الحديث في فضل الحج وفيه: إن الله يقول لهم عند وقوفهم بعرفة: أفيضوا عبادي مغفورا لكم، ولمن شفعتم»। “আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম; তারপর তিনি হাজ্জের ফযিলত প্রসঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাতে ছিল: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আরাফাতের ময়দানে তাদের অবস্থানের সময় তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবেন: আমার বান্দাদেরকে ক্ষমাকৃত অবস্থায় আরাফাত থেকে নিয়ে যাও, আর তাদের জন্যও যাদের জন্য তোমরা সুপারিশ করবে।”
টিকাঃ
১০৬. এটি একটি ব্যক্তিগত ইজতেহাদ। এর উপর ভিত্তি করে যেন কেউ তার সন্তানদের মৃত্যু কামনা না করে। কারণ, সন্তানরা আল্লাহর নে'আমত। তারা কোন অবস্থায় বেশি কাজে আসবে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। হয়ত: এমন হবে যে, সে সন্তান বড় হয়ে জগদ্বিখ্যাত আলেম হবে ও ভালো কাজ করবে এবং তার পিতা-মাতা তার কর্মকাণ্ডকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবরে বসে পেতে থাকবে। [সম্পাদক]
১০৭. ইবন খুযাইমা, পৃ. ৩১৫; তার সনদ সহীহ।
১০৮. আবূ দাউদ (৩/৩৪); ইবন হিব্বান, পৃ. ৩৮৮; বায়হাকী (৯/১৬৪); আলবানী তার 'সহীহ আল-জামে' -এর মধ্যে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদীস নং ৪৯৭৯।
১০৯. 'মহাভীতি' বলে শিঙ্গার ফুঁৎকার বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর]
১১০. তিরমিযী (৩/১০৬); ইবন মাযাহ (২/৯৩৫); আহমদ (৩/১৩১); আল-আজরী ফী আশ-শরীয়ত, পৃ. ৩৪৯; আর হাদীসটি হাসান।
১১১. আল-বাযযার, কাশফুল আসতার (২/৮); হাইছামী, আল-মাজমা (৪/২৭৫); আল- বাযযার বর্ণনা করেন যে, হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
📄 সন্তান কর্তৃক তাদের পিতা-মাতার’র জন্য সুপারিশ
৫৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ان الله عز ও جل ليرفع الدرجة للعبد الصالح في الجنة فيقول : يا رب أني لي هذه ؟ فيقول: باستغفار ولدك لك»। “আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি বা সুউচ্চ করে দিবেন। ফলে সে বলবে: হে আমার রব! আমার জন্য এটা কীভাবে হল? তখন তিনি বলবেন: তোমার সন্তান কর্তৃক তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে।”
৫৮. আবু হাসসান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: قُلْتُ لأَبِي هُرَيْرَةَ: إِنَّهُ قَدْ مَاتَ لِيَ ابْنَانِ, فَمَا أَنْتَ مُحَدِّثِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثٍ تُطَيِّبُ بِهِ أَنْفُسَنَا عَنْ مَوْتَانَا ؟ قَالَ: قَالَ نَعَمْ, « صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ - أَوْ قَالَ: أَبَوَيْهِ - فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ أَوْ قَالَ: بِيَدِهِ كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا فَلَا يَتَنَاهَى أَوْ قَالَ فَلا يَنْتَهِي حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الجنَّةَ »। "আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললাম: আমার দু'টি ছেলে মারা গেছে; আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা আমাদের মৃতদের ব্যাপারে আমাদের আত্মা আনন্দ বা প্রশান্তি অনুভব করবে? সে বলল: তিনি বলেন: হ্যাঁ, তাদের ছোট সন্তানগণ জান্নাতের অধিবাসী, তাদের কেউ তার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করবে অথবা তিনি বলেছেন: তার পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করবে, অতঃপর সে তার কাপড়ে ধরবে অথবা তিনি বলেছেন: তার হাতে ধরবে, যেমনিভাবে আমি তোমার এই কাপড়ের এক প্রান্তে ধরলাম; অতঃপর সে নিবৃত হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তাকে ও তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"
৫৯. মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ما من مسلمين يموت لهما ثلاثة أولاد لم يبلغوا الحنث الا أدخلهما الله وأباهم بفضل رحمته الجنة, وقال: يقال لهم: ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: حتى يجيء أبوانا. قال ثلاث مرات فيقولون مثل ذلك, فيقال لهم: ادخلوا الجنة أنتم وأبواكم»। "যে মুসলিমদ্বয়েরই তিনটি সন্তান অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মারা গিয়েছে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এবং তাদের পিতা-মাতাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তিনি বলেন: তাদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা আসবে। তিনি তিনবার বলেন, আর তারা ও অনুরূপভাবে তিনবার বলবে; অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।"
৬০. শুরাহবীল ইবন শোফ'আহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «يقال للولدان يوم القيامة: ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: يا رب حتى يدخل آباؤنا وأمهاتنا, قال: فيأتون, قال: فيقول الله عز ও جل: مالي أراهم محبنطئين, ادخلوا الجنة, قال: فيقولون: يا رب آباؤنا وأمهاتنا قال فيقول ادخلوا الجنة أنتم وآباؤكم»। “কিয়ামতের দিনে (শিশু অবস্থায় মারা যাওয়া) সন্তানদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা ও মাতাগণ প্রবেশ করবেন; তিনি বলেন: অতঃপর তারা আসবে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন: আমার কী হলো, আমি তো তাদেরকে মোটা ও খাটোদেহী ক্রোধে পরিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাচ্ছি; তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! আমাদের পিতা ও মাতাগণ? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।"
৬১. যায়েদ ইবন সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালামকে বলতে শুনেছেন, আমার নিকট 'আমের ইবন যায়েদ আল-বাকালী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি 'উতবা ইবন আবদ আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছেন: جاء أعرابي إلى رسول الله عليه السلام, فقال : ما حوضك الذي تحدث عنه؟ قال: « هو كما بين البيضاء إلى بصرى, ثم يمدني الله عز ও جل بكراع فلا يدري بشر ممن خلق أين طرفاه, فكبر عمر بن الخطاب, فقال: « أما الحوض فيزدحم عليه فقراء المهاجرين الذين يقاتلون في سبيل الله ويموتون في سبيل الله »। وأرجو أن يوردني الله عز ও جل الكراع فأشرب منه, فقال رسول الله: « إن ربي وعدني أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا بغير حساب, ثم يشفع كل ألف بسبعين ألف ثم يحثي ربي تبارك وتعالى بكفيه ثلاث حثيات »। فكبر عمر, وقال: « إن السبعين الأولى ليشفعهم الله في آبائهم وأبنائهم وعشائرهم » وأرجو أن يجعلني الله في إحدى الحثيات الأواخ »। ... فقال النبي: نعم, وعامة عشيرتك »।
“জনৈক আরব বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল, তারপর সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার হাউযটি কোনো ধরনের, যার ব্যাপারে আপনি আলোচনা করেন? জবাবে তিনি বলেন: তা হলো বায়দা থেকে বসরা পর্যন্ত দূরত্বের মত বিস্তৃত; অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য তার প্রান্তদেশকে সম্প্রসারিত করবেন, ফলে তাঁর সৃষ্ট কোনো মানুষ জানতে পারবে না তার দুই প্রান্তের সীমানা কোথায়; তিনি বলেন: অতঃপর উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দিলেন; অতঃপর তিনি বলেন: হাউযের কিনারে ঐসব মুহাজির ফকীরগণ ভিড় করবে, যারা আল্লাহ তা'আলার পথে লড়াই করে এবং আল্লাহ তা'আলার পথে মৃত্যুবরণ করে। আর আমি আশা করি আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার কোনো এক প্রান্তে অবতরণ করাবেন, অতঃপর আমি তার থেকে পান করব; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিনা হিসাবে আমার সত্তর হাজার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর প্রত্যেক হাজার আরও সত্তর হাজারের ব্যাপারে সুপারিশ করবে; অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাতের তালুর মাধ্যমে (আমার উম্মতের মধ্য থেকে) তিন অঞ্জলি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অতঃপর উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দিলেন; তারপর তিনি বলেন: প্রথম সত্তর হাজারকে আল্লাহ তা'আলা তাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততী ও আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিবেন। আর আমি আশা করি আল্লাহ তা'আলা আমাকে শেষ তিন অঞ্জলির কোনো একটার মধ্যে শামিল করবেন। ... নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, তোমার গোটা বংশধরকে পরিতৃপ্ত করবে।"
৬২. শো'বা থেকে বর্ণিত, তিনি মু'য়াবিয়া ইবন কুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «أن رجلا كان يأتي النبي صلى الله عليه وسلم ومعه ابن له, فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «أتحبه؟ فقال: يا رسول الله أحبك الله كما أحبه, ففقده النبي صلى الله عليه وسلم, فقال لي: ما فعل ابن فلان؟ قالوا: يا رسول الله مات فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبيه: «أما تحب أن لا تأتي بابا من أبواب الجنة إلا وجدته ينتظرك». فقال الرجل: يا رسول الله أله خاصة, أم لكلنا؟ قال: «بل لكلكم»। জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেসহ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: তুমি কি তাকে ভালোবাস? অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন, যেমনিভাবে আমি তাকে ভালোবাসি; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হারিয়ে ফেললেন, তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: অমুকের ছেলে কী করে? তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সে মারা গেছে; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তুমি কি পছন্দ করবে না যে, তুমি জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্য থেকে যে কোনো দরজার সামনে উপস্থিত হবে, আর তুমি তাকে দেখতে পাবে সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি তার জন্য নির্দিষ্ট, নাকি আমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য হবে? তখন তিনি বললেন: বরং তোমাদের সকলের জন্য।"
টিকাঃ
১১২. আহমদ (২/৫০৯); তার সনদ সহীহ।
১১৩. সহীহ মুসলিম (৪/২০২৯)।
১১৪. আহমদ (২/৫১০); নাসাঈ (৪/২২); বায়হাকী; আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।
১১৫. আহমদ (৪/১০৫); আল-ফাসাবী, আল-মা'রেফাতু ওয়াত তারিখ (২/৩৪৩); হাইছামী, আল-মাজমা' (৩/১১); ইমাম আহমদের বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
১১৬. আল-মুনযেরী, তার তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। [সম্পাদক]
১১৮. আল-মু'জামুল আওসাত ১য় খণ্ড, পৃ. ১৩৬; তাবারানী; আল-ফাসাবী, আল-মা'রেফাতু ওয়াত তারিখ (২/৩৪১); হাফেয আল-মাকদাসী বলেন, এই হাদীসের কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি আমার জানা নেই।
১১৯. আহমদ (৫/৩৫); আর হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
📄 শাফা‘আতের কারণ ও উপলক্ষসমূহ
আল-কুরআনের শাফা'আত:
৬৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «إن سورة من القرآن ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له وهي سورة تبارك الذي بيده الملك»। “আল-কুরআনের একটি সূরার ত্রিশটি আয়াত কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর তা হলো সূরা আল-মুলক ﴾تَبَرَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴿ (বরকতময় তিনিই, যাঁর হাতে রাজত্ব ও কর্তৃত্ব)।"
৬৪. 'আসেম ইবন আবি নাজুদ থেকে বর্ণিত, তিনি শা'বী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: يجيء القرآن يوم القيامة فيشفع لصاحبه فيكون له قائدا إلى الجنة ويشهد عليه ويكون سائقا به إلى النار»। "কিয়ামতের দিনে আল-কুরআন আগমন করবে, অতঃপর সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে; অতঃপর সে তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে, আর সে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।"
৬৫. 'জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «الْقُرْآنُ شَافِعٌ مُشَفَّعٌ، وَمَاحِلٌ مُصَدَّقٌ ، مَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ»। “আল-কুরআন হচ্ছে সুপারিশকারী, যার সুপারিশ গৃহীত হবে এবং এমন পক্ষ বা বিপক্ষ অবলম্বনকারী, যার পক্ষ ও বিপক্ষ সাক্ষীকে সত্যায়ণ করা হয়।"
৬৬. মু'য়াবিয়া ইবন সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ সালাম বলেন: আমাকে আবূ উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذُهَا بَرَكَةً وَتَرْكُهَا حَسْرَةً وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ»। “তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করবে। কেননা কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। তোমরা সুপারিশকারী দুই সমুজ্জ্বল সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত করবে। কারণ, এ দু'টি কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, মনে হবে যেন দু'টি মেঘখণ্ড বা বাদল, কিংবা দু'টি ডানা বিস্তারকারী পাখির ঝাঁক, যারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে প্রতিরোধকারী-সাহায্যকারী হবে। তোমরা সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবে। কারণ, তা তিলাওয়াত করাতে বরকত রয়েছে, আর তা বর্জন করা আফসোসের এবং বাতিলপন্থীরা তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।”
৬৭. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ يَقُولُ: يَا رَبِّ لِكُلِّ عَامِلٍ عُمَالَةٌ مِنْ عَمَلِهِ, وَإِنِّي كُنْتُ أَمْنَعُهُ اللَّذَّةَ وَالنَّوْمَ فَأَكْرِمْهُ, فَيَقَالُ: ابْسُطُ يَمِينَكَ, فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ, ثُمَّ يُقَالُ: ابْسُطْ شِمَالَكَ, فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ, وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ, وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ, وَيُحَلَّى بِحِلْيَةِ الْكَرَامَةِ, وَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ»। “আল-কুরআন আগমন করবে, সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে, সে বলবে: হে আমার রব! প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমলের মজুরীর ব্যবস্থা রয়েছে, আর আমি তাকে আমোদ-প্রমোদ ও নিদ্রা থেকে বাধা প্রদান করতাম। সুতরাং আপনি তাকে সম্মানিত করুন; অতঃপর তাকে বলা হবে: তুমি তোমার ডান হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে। অতঃপর বলা হবে: তুমি তোমার বাম হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে, আর তাকে সম্মানের পোষাক পরিধান করানো হবে এবং তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিধান করানো হবে, আর তাকে পরিধান করানো হবে সম্মানের মুকুট।"
৬৮. আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة, يقول الصيام: أي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفعني فيه, ويقول القرآن منعته النوم بالليل فشفعني فيه قال: فيشفعان»। "কিয়ামতের দিনে বান্দার জন্য সাওম (রোযা) ও আল-কুরআন সুপারিশ করবে; সাওম বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমি দিনের বেলায় তাকে খাবার গ্রহণ ও যৌন ক্ষুধা পূরণ থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন, আর আল-কুরআন বলবে: আমি রাতের বেলায় তাকে ঘুমাতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন; অতঃপর তারা উভয়ে সুপারিশ করবে।"
৬৯. আবু সালেহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছি: «اقرؤوا القرآن فإنه نعم الشفيع يوم القيامة, انه يقول يوم القيامة: يا رب حله حلية الكرامة, فيحلى حلية الكرامة, يا رب اكسه كسوة الكرامة, فيكسى كسوة الكرامة, يا رب البسه تاج الكرامة, يا رب أرض عنه, فليس بعد رضاك شيء»। "তোমরা আল-কুরআন পাঠ কর। কারণ, কিয়ামতের দিনে তা উত্তম সুপারিশকারী; কিয়ামতের দিনে সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিবেন; হে আমার রব! আপনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিবেন; হে আমার রব! আপনি তাকে সম্মানের মুকুট পরিয়ে দিন, হে আমার রব! আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, কেননা আপনার সন্তুষ্টির পরে আর কিছুই নেই।"
টিকাঃ
১২০. তিরমিযী (৪/২৩৮); আবু দাউদ (২/১১৯); ইবন মাজাহ (২/১২৪৪); আহমদ (২/৩২১); ইবন হিব্বান, পৃ. ৩২১; হাকেম (১/৫৬৫), আর এটা হাসান হাদীস।
১২১. দারেমী (২/৪৩৩); আবদুর রাজ্জাক, আল-মুসান্নাফ (৩/৩৭৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৯/১৪১); সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে 'মাওকুফ' হাদীস হিসেবে বর্ণিত।
১২২. হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে মাওকুফ সনদে বর্ণিত; আর জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে 'মারফু' সনদে হাদীসটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত। দেখুন, ইবন হিব্বান, ১০/১৯৮, হাদীস নং ১০৪৫০; আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ, হাদীস নং ২০১৯; সহীহুল জামি'উ, হাদীস নং ৪৪৪৩। [সম্পাদক]
১২৩. অথবা জাদুকরের জাদু এর পাঠকারীর উপর ক্রিয়া করে না। [সম্পাদক]
১২৪. মুসলিম (১/৫৫৩); আহমদ (৫/২৪৯)
১২৫. দারেমী (২/৪৩০); তার সনদ হাসান পর্যাযের।
১২৬. আহমদ (২/১৭৪); ইবন নসর, 'কিয়ামুল লাইল', পৃ. ২৫; হাকেম (১/৫৫৪) এবং তিনি বলেন, হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত। আলবানী তার 'সহীহ আল-জামে' -এর মধ্যে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদীস নং ৩৭৭৬।
১২৭. দারেমী (২/৪৩০); তিরমিযী (২/২৪৯) এবং তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; হাকেমের নিকট হাদীসটির অপর আরেকটি সনদ রয়েছে (১/৫৫২); আবু না'ঈম (৭/২০৬) এবং হাদীসটি হাসান।