📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৩১. আবদুর রহমান ইবন আবি বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إن ربي أعطاني سبعين ألفا من أمتي يدخلون الجنة بغير حساب» فقال عمر: يا رسول الله فهلا استزدته ؟ قال: «قد استزدته فأعطاني مع كل رجل سبعين ألفا» قال عمر: فهلا استزدته ؟ قال: «قد استزدته فأعطاني هكذا»। وفرج عبد الله بن بكر بين يديه وقال عبد الله وبسط باعيه وحثا عبد الله وقال هشام وهذا من الله لا يدرى ما عدده»।
"নিশ্চয় আমার রব আমাকে আমার সত্তর হাজার উম্মতকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে আরও সত্তর হাজার প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে আরও অনুরূপ সংখ্যক প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর (হাদীসের একজন বর্ণনাকারী ইমাম আহমদের উস্তাদ) আবদুল্লাহ ইবন বকর তাঁর সম্মুখের জায়গা প্রশস্ত করে দেখান। আর আবদুল্লাহ বললেন: আর তিনি তাঁর দুই বাহু সম্প্রসারিত করলেন। আর তা আবদুল্লাহ তার হাত দিয়ে মাটি পূর্ণ করলেন। আর হিশাম বলেন: আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যার সংখ্যা সম্পর্কে জানা যায় না।"
৩২. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: وعدني ربي أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب, مع كل ألف سبعون ألفا, وثلاث حثيات من حثيات ربي»।
"আমার রব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে; প্রত্যেক হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং আমার প্রতিপালকের অঞ্জলিসমূহ থেকে পরিপূর্ণ তিন অঞ্জলি প্রবেশ করবে।"
৩৩. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ان الله عز ও جل وعدني ان يدخل من أمتي الجنة سبعين ألفا بغير حساب» فقال يزيد بن الأخنس السلمي: والله ما أولئك في أمتك الا كالذباب الأصهب في الذبان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كان ربي عزو جل قد وعدني سبعين ألفا مع كل ألف سبعون ألفا وزادني ثلاث حثيات قال: فما سعة حوضك يا نبي الله قال: «كما بين عدن إلى عمان وأوسع وأوسع يشير بيده قال فيه مثعبان من ذهب وفضة» قال: فما حوضك يا نبي الله قال: «أشد بياضا من اللبن وأحلى مذاقة من العسل وأطيب رائحة مِنَ الْمِسْكِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا وَلَمْ يَسْوَدُ وَجْهُهُ أَبَدًا»।
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর ইয়াযিদ ইবনুল আখনাস আস-সুলামী বললেন: আল্লাহর কসম! আপনার উম্মতের মধ্যে তারা তো মাছির পালের মধ্যে লাল-হলুদ-সাদা মাছির মতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমার নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্তর হাজারের এবং প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজারের, আর তিনি আমার নিকট আরও তিন অঞ্জলি বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তিনি বলেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউযের প্রশস্ততা কতটুকু? জবাবে তিনি বলেন: 'আদন থেকে 'আম্মান পর্যন্ত মধ্যকার দূরত্বের মত, আরও বেশি প্রশস্ত, আরও বেশি প্রশস্ত -বলতে বলতে তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন, তিনি বলেন, তাতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ঝর্ণধারাসমূহ রয়েছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসার সুরে বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউয কোনো ধরনের? জবাবে তিনি বললেন: দুধের চেয়ে অনেক বেশি সাদা, মধুর চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি এবং মেশকের চেয়ে অনেক বেশি সুগন্ধময়; যে ব্যক্তি একবার তার থেকে পান করবে, সে ব্যক্তি পরবর্তীতে আর কোনো দিন পিপাসার্ত হবে না এবং কোনো দিন তার চেহারা মলিন হবে না।"
৩৪. রিফা'আ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «أقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا كنا بالكديد أو قال: بقديد فجعل رجال منا يستأذنون إلى أهليهم فيأذن لهم, فقام رسول الله صلى الله عليه ও سلم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: « ما بال رجال يكون شق الشجرة التي تلي رسول الله صلى الله عليه وسلم أبغض إليهم من الشق الآخر فلم نر عند ذلك من القوم الا باكيا, فقال رجل ان الذي يستأذنك بعد هذا لسفيه، فحمد الله وقال: حينئذ أشهد عند الله لا يموت عبد يشهد أن لا إله الا الله وإني رسول الله صدقا من قلبه, ثم يسدد الا سلك في الجنة. قال: وقد وعدني ربي عز ও جل أن يدخل من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب, وإني لأرجو أن لا يدخلوها حتى تبوؤا أنتم ومن صلح من آبائكم وأزواجكم وذرياتكم مساكن في الجنة وقال: إذا مضى نصف الليل أو قال: ثلثا الليل ينزل الله عز ও جل إلى السماء الدنيا، فيقول: لا أسأل عن عبادي أحدا غيري، من ذا يستغفرني فاغفر له, من الذي يدعوني أستجيب له من ذا الذي يسألني أعطيه حتى ينفجر الصبح»।
“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আগমন করতে লাগলাম, এমনকি যখন আমরা 'আল-কাদীদ' নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাদের পরিবার- পরিজনের নিকট যাওয়ার জন্য তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতে শুরু করল এবং তিনি তাদেরকে অনুমতি প্রদান করলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ভাষণ দেওয়ার জন্য) দাঁড়ালেন, তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: লোকজনের কী অবস্থা হল, গাছের যে অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত, অপর অংশের চেয়ে তাদের নিকট গাছের সেই অংশ অধিক অপছন্দনীয়, আর আমরা সেই সময় সম্প্রদায়ের সকল লোককে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। জনৈক ব্যক্তি বলল: এর পরেও যে ব্যক্তি আপনার নিকট অনুমতি চাইবে, সে তার বোকামীর জন্যই চাইবে; অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তিনি বললেন: যখন আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিব, তখন যে বান্দা মনে-প্রাণে এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, অতঃপর ঠিক সেই অনুযায়ী সে কাজ করে, তাহলে সে জান্নাতের পথেই চলে, আর তিনি বলেন: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর আমি অবশ্যই আশা করি যে, তারা তাতে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন ও সন্তান-সন্ততী'র মধ্য থেকে যারা সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের মধ্যে আবাসগৃহ তৈরি করবে, আর তিনি বললেন: যখন রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয় অথবা তিনি বলেছেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং তারপরে বলেন: আমি আমার বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করব না; কে আছ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব; কে আছ আমার নিকট দো'আ করবে, আমি তার দো'আ কবুল করব; কে আছ আমার নিকট কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব, এভাবে করে শেষ পর্যন্ত উষার আলো উদ্ভাসিত হয়ে সকাল হয়ে যাবে।"
টিকাঃ
৭৫. আহমদ (১/১৯৭); আর অন্য বর্ণনার সমর্থনের কারণে হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।
৭৬. তিরমিযী (৪/৪৫); ইবন মাজাহ (২/১৪৩৩); আহমদ (৫/২৬৮); হাফেয ইবন কাছীর তার তাফসীরে (১/৩৯৪) বলেন, এর সনদটি উত্তম।
৭৭. আহমদ (২/২৫০); হাফেয ইবন কাছীর তার তাফসীরের মধ্যে বলেন, তার সনদ হাসান।
৭৮. আহমদ (৪/১৬); আত-তায়ালাসী (১/২৭); ইবন খুযাইমা, পৃ. ১৩২; ইবন হিব্বান (১/২৫৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৫/৪৩)।
📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির জন্য তার আমলের চাহিদার চেয়ে উন্নত মর্যাদার জন্য সুপারিশ করা
৩৫. আবু বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «لما فرغ النبي صلى الله عليه وسلم من حنين بعث أبا عامر على جيش إلى أوطاس فلقي دريد بن الصمة, فقتل دريد وهزم الله أصحابه, قال أبو موسى: وبعثني مع أبي عامر فرمي أبو عامر في ركبته رماه جشمي بسهم فأثبته في ركبته فانتهيت إليه فقلت: يا عم من رماك ؟ فأشار إلى أبي موسى, فقال ذاك قاتلي الذي رماني, فقصدت له فلحقته, فلما رآني ولى فاتبعته, وجعلت أقول له: ألا تستحي, ألا تثبت فكف فاختلفنا ضربتين بالسيف فقتلته, ثم قلت لأبي عامر قتل الله صاحبك, قال: فانزع هذا السهم, فنزعته, فنزا منه الماء, قال: يا ابن أخي! أقرئ النبي صلى الله عليه ও سلم السلام وقل له استغفر لي واستخلفني أبو عامر على الناس فمكث يسيرا ثم مات, فرجعت فدخلت على النبي صلى الله عليه وسلم في بيته على سرير مرمل, وعليه فراش, قد أثر رمال السرير بظهره وجنبيه, فأخبرته بخبرنا وخبر أبي عامر وقال: قل له استغفر لي فদعا بماء فتوضأ ثم رفع يديه فقال: «اللهم اغفر لعبيد أبي عامر ». ورأيت بياض إبطيه ثم قال: « اللهم اجعله يوم القيامة فوق كثير من خلقك من الناس». فقلت: ولي فاستغفر فقال: «اللهم اغفر لعبد الله بن قيس ذنبه وأدخله يوم القيامة مدخلا كريما». قال أبو بردة: إحداهما لأبي عامر والأخرى لأبي موسى।
"যখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়েন যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন, তখন তিনি আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে একটি সৈন্যবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করে আওতাস গোত্রের প্রতি পাঠালেন। যুদ্ধে তিনি (আবূ 'আমির) দুরায়দ ইবন সিম্মার সাথে মুকাবিলা করলে দুরায়দ নিহত হয় এবং আল্লাহ তার সহযোগী যোদ্ধাদেরকেও পরাজিত করেন। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র সাথে আমাকেও পাঠিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র হাঁটুতে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। জু'শam গোত্রের এক লোক তীরটি তাঁর হাঁটুর মধ্যে বসিয়ে দিয়েছিল। তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, চাচাজান! কে আপনার ওপর তীর ছুঁড়েছে? তখন তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে ইশারার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে বললেন যে, ঐ যে, ঐ ব্যক্তি আমাকে তীর মেরেছে। আমাকে হত্যা করেছে। আমি লোকটিকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, আর সে আমাকে দেখামাত্র ভাগতে শুরু করল। আমি এ কথা বলতে বলতে তার পশ্চাদ্ধাবন করলাম, (পালাচ্ছ কেন) বেহায়া দাঁড়াও না, দাঁড়াও। লোকটি থেমে গেল। এবার আমরা দু'জনে তরবারি দিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি তাকে হত্যা করে ফেললাম। তারপর আমি আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললাম, আল্লাহ আপনার আঘাতকারীকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে, এবার তুমি আমার হাঁটু থেকে) তীরটি বের করে দাও। আমি তীরটি বের করে দিলাম। তখন ক্ষতস্থান থেকে কিছু পানিও বের হয়ে আসল। তিনি আমাকে বললেন, হে ভাতিজা! (আমি হয়ত বাঁচবো না) তুমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার সালাম জানাবে এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দো'আ করতে বলবে। আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাঁর স্থলে আমাকে সেনাবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বেঁচে ছিলেন, তারপর ইন্তিকাল করলেন।
(যুদ্ধ শেষে) আমি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ি প্রবেশ করলাম। তিনি তখন পাকানো দড়ির তৈরি একটি খাটিয়ায় শায়িত ছিলেন। খাটিয়ার ওপর (নামেমাত্র) একটি বিছানা ছিল। কাজেই তাঁর পিঠে এবং পার্শ্বদেশে পাকানো দড়ির দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে আমাদের এবং আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র সংবাদ জানালাম। (তাঁকে এ কথাও বললাম যে) তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) বলে গিয়েছেন, তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) আমার মাগফিরাতের জন্য দো'আ করতে বলবে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং ওযু করলেন। তারপর তিনি তাঁর দু'হাত উপরে তুলে দো'আ করে বললেন, হে আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দা আবু 'আমিরকে ক্ষমা কর। (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো'আর মুহূর্তে হাতদ্বয় এত উপরে তুললেন যে) আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রাংশ দেখতে পেয়েছি। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে তোমার অনেক মাখলুকের ওপর, অনেক মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান কর।
আমি বললাম: আমার জন্যও (দো'আ করুন) তিনি দো'আ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবন কায়েসের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করাও। বর্ণনাকারী আবূ বুরদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, দু'টি দো'আর একটি ছিল আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র জন্য, আর অপরটি ছিল আবূ মূসা (আশ'আরী) রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র জন্য।"
৩৬. উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন। তখন তাঁর চোখগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন: «إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ »। فَضَجَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ: «لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ»। ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ। وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ»।
"নিশ্চয় রূহ যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চোখ তার প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এ কথা শুনে তার পরিবারের লোকেরা উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের জন্য অমঙ্গলজনক কোনো দো'আ করো না। কেননা ফিরিশতাগণ তোমাদের কথার ওপর আমীন বলে থাকেন। তিনি তারপর বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আবূ সালামাকে মাফ করে দাও, হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে সুউচ্চ করে দাও এবং তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত কর। হে রাব্বুল আলামীন! আমাদেরকে এবং তাঁকে মাফ করে দাও, আর তাঁর জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দাও এবং তাঁর কবরকে আলোকময় করে দাও।"
টিকাঃ
৭৯. সহীহ বুখারী, মাগাযী অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আওতাস যুদ্ধ প্রসঙ্গে, হাদীস নং ৪০৬৮।
৮০. সহীহ মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলে তার চক্ষু বন্ধ করে দেওয়া ও তার জন্য দো'আ করা প্রসঙ্গে, হাদীস নং ২১৬৯।
📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক তাঁর চাচা আবু তালিবের শাস্তি হালকা করার জন্য সুপারিশ প্রসঙ্গে
৩৭. আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন: «ما أغنيت عن عمك فإنه كان يحوطك ويغضب لك ؟ قال: « هو في ضحضاح من نار ولولا أنا لكان في الدرك الأسفل من النار»।
"আপনি কি আপনার কর্মের দ্বারা (তার) কোনো উপকার করতে পেরেছেন, অথচ তিনি তো আপনাকে হিফাযত করতেন এবং আপনার জন্য (অন্যের প্রতি) ক্রোধান্বিত হতেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (হ্যাঁ), তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে থাকবেন, আর যদি আমি না হতাম, তবে জাহান্নামের অতল তলেই তাকে অবস্থান করতে হত।"
৩৮. আবু সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর চাচা (আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলোচনা করার সময় শুনেছেন; অতঃপর এক পর্যায়ে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة فيجعل في ضحضاح من نار يبلغ كعبيه يغلي منه دماغه»।
“আশা করা যায়, কিয়ামতের দিন তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কাজে আসবে। তাঁকে জাহান্নামের উপরিভাগে এমনভাবে রাখা হবে যে, আগুন তার পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌঁছবে; এতেই তার মগজ উথলাতে থাকবে।”
এই হাদীস দু'টি প্রমাণ করে যে, আবূ তালিব কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। কারণ, তিনি যদি মুসলিম হতেন, তাহলে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের সাথে তিনিও জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসতে পারতেন, যেমনিভাবে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলোর সংখ্যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর অচিরেই এই প্রসঙ্গে বর্ণিত কিছু সংখ্যক হাদীসের বিবরণ আসবে ইনশাআল্লাহ।
আর এই দু'টি হাদীসের মধ্যে আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণ না করার ব্যাপারে যে প্রমাণ বহন করে, তাকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে ইমাম বুখারী রহ. তাঁর 'আস-সহীহ' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন; ইবন শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ., তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: أنه لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل بن هشام وعبد الله بن أمية بن المغيرة قال رسول الله صلى الله عليه ও سلم لأبي طالب: « يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله »। فقال أبو جهل وعبد الله بن أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرضها عليه ويعودان بتلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله। فقال رسول أما والله لأستغفرن لك ما لم أنه عنك»। فأنزل الله الله صلى الله عليه وسلم: ( تعالى فيه : ﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾ [التوبة: ১১৩])।
“আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবু জাহল ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা ইবন মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালিবকে লক্ষ্য করে বললেন: চাচাজান! 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কালেমা পাঠ করুন, তাহলে এর ওসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবু জাহল ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা বলে উঠল: ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমূখ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কালেমা পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু'জনও তাদের কথা পুনারাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবু তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর অবিচল রয়েছে, সে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন: ﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾ [التوبة: ১১৩] “আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৩]।
তিনি (ইমাম বুখারী রহ.) হাদীসটি তার 'আস-সহীহ' গ্রন্থের ভিন্ন আরও কয়েক জায়াগায় বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: فنزلت: ﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾ [التوبة: ১১৩] ও نزلت : ﴿إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ... ﴾ [القصص: ৫৬] »।
“অতঃপর নাযিল হয়েছে: আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৩] এবং আরও নাযিল হয়েছে: আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না...।" [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬]
আর (আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণ না করার ব্যাপারে) সমর্থন করে, যা ইমাম মুসলিম রহ. তাঁর 'আস-সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা (আবূ তালিব)-এর অন্তিমকালে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ »। فَأَبَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ [القصص: ৫৬]।
"আপনি 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলুন, কিয়ামত দিবসে আমি আপনার জন্য সাক্ষ্য দিব। কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন: إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ... الآية ﴾ [القصص: ৫৬] "আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না...।” [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬]
আর তিনি এই হাদীসটি অপর আরেকটি সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি (আবূ তালিব) বলেন: لَوْلَا أَنْ تُعَيَّরَنِي قُرَيْشُ يَقُولُونَ إِنَّمَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجَزَعُ لَأَقْرَرْتُ بِهَا عَيْنَكَ, فَأَنْزَلَ اللَّهُ: «إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴾ [القصص: ৫৬] "কুরাইশ কর্তৃক এরূপ দোষারোপ করার আশঙ্কা যদি না থাকত, তাহলে আমি তা (কালেমা তাওহীদ) পাঠ করে তোমার চোখ জুড়াতাম; এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন: إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ) "আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না; বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছে সৎপথে আনয়ন করেন এবং সৎপথ অনুসারীদের সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন”। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬]
নাজিয়া ইবন কা'ব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম: إِنَّ عَمَّكَ الشَّيْخَ الضَّالَّ قَدْ مَاتَ। قَالَ: «اذْهَبْ فَوَارٍ أَبَاكَ ثُمَّ لَا تُحْدِثَنَّ شَيْئًا حَتَّى تَأْتِيَنِي»। فَذَهَبْتُ فَوَارَيْتُهُ وَجِئْتُهُ فَأَمَرَنِي فَاغْتَسَلْتُ وَدَعَا لِي»।
“আপনার বৃদ্ধ পথভ্রষ্ট চাচা মারা গিয়েছে; তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'যাও, তুমি তোমার পিতাকে (মাটি দ্বারা) ঢেকে রাখ, অতঃপর আমার নিকট না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই করবে না; অতঃপর আমি গেলাম, তারপর তাকে (মাটি দ্বারা) ঢেকে দিলাম এবং তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আসলাম; অতঃপর তিনি আমাকে (গোসল করার) নির্দেশ দিলেন; আমি গোসল করলাম, আর তিনি আমার জন্য দো'আ করলেন।"
আর যিনি আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে শি'য়াদের সন্দেহ-সংশয়সমূহের জবাবের ব্যাপারে আরও বেশি জানতে চান, তার জন্য আবশ্যক হল ইবন হাজার 'আসকালানী'র 'আল-ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা" [الإصابة في تمييز الصحابة] (৪/১১৫) এবং 'ফাতহুল বারী বিশরহে সহীহিল বুখারী' (ا (فتح الباري بشرح صحيح البخاري
টিকাঃ
৮১. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযিলত, পরিচ্ছেদ: আবু তালিবের কাহিনী, হাদীস নং ৩৬৭০; সহীহ মুসলিম (১/১৯৪)।
৮২. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: আবু তালিবের কাহিনী, হাদীস নং ৩৬৭২।
৮৩. সহীহ বুখারী, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মুশরিক ব্যক্তির মৃত্যুকালে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' উচ্চারণ প্রসঙ্গে, হাদীস নং ১২৯৪।
৮৪. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ঈমানের প্রথম বিষয় হল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, হাদীস নং ১৪৩; তিরমিযী (৪/১৫৯); আহমদ (২/৪৪১)।
৮৫. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ঈমানের প্রথম বিষয় হল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, হাদীস নং ১৪৪।
৮৬. আবূ দাউদ (৩/ ৫৪৭); নাসায়ী (১/৯২); আহমদ (১/৯৭); আর হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।
📄 একত্ববাদীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য সুপারিশ প্রসঙ্গে
একত্ববাদে বিশ্বাসীগণের জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণকারী হাদীসসমূহ 'মুতাওয়াতির' পর্যায়ের, আর এই ব্যাপারে প্রমাণকারী হাদীসসমূহের কিছু কিছু পূর্বে আলোচিত হয়েছে; যেমন- আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীস, (এই বইয়ে) হাদীস নং ২ ও ৩; আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস, ক্রমিক নং- ৫, আর এই ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করে নিম্নে বর্ণিত হাদীসসমূহ:
৩৯. যুহুরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট সা'ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও 'আতা ইবন ইয়াযিদ আল-লাইসী রহ. হাদীস বর্ণনা করেছেন; তাদের নিকট আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? জবাবে তিনি বলেন:
«هل تمارون في القمر ليلة بدر ليس دونه حجاب ؟. قالوا لا يا رسول الله, قال: فهل تمারون في الشمس ليس دونها سحاب ؟. قالوا لا, قال: فإنكم ترونه كذلك, يحشر الناس يوم القيامة فيقول: من كان يعبد شيئا فليتبع, فمنهم من يتبع الشمس, ومنهم من يتبع القمر, ومنهم من يتبع الطواغيت, وتبقى هذه الأمة فيها منافقوها, فيأتهم الله فيقول: أنا ربكم, فيقولون: هذا مكاننا حتى يأتينا ربنا, فإذا جاء ربنا عرفناه, فيأتيهم الله فيقول: أنا ربكم, فيقولون: أنت ربنا, فيدعوهم, فيضرب الصراط بين ظهراني جهنم, فأكون أول من يجوز من الرسل بأمته ولا يتكلم يومئذ أحد إلا الرسل, وكلام الرسل يومئذ: اللهم سلم سلم, وفي جهنم كلاليب مثل شوك السعدان, هل رأيتم شوك السعدان ؟ قالوا: نعم, قال: فإنها مثل شوك السعدان, غير أنه لا يعلم قدر عظمها إلا الله, تخطف الناس بأعمالهم فمنهم من يوبق بعمله, ومنهم من يخردل ثم ينجو, حتى إذا أرাদ الله رحمة من أراد من أهل النار أمر الله الملائكة أن يخرجوا من كان يعبد الله فيخرجونهم ويعرفونهم بآثار السجود, وحرم الله على النار أن تأكل أثر السجود, فيخرجون من النار, فكل ابن أدم تأكله النار إلا أثر السجود, فيخرجون من النار قد امتحشوا, فيصب عليهم ماء الحياة فينبتون كما تنبت الحبة في حميل السيل, ثم يفرغ الله من القضاء بين العباد, ويبقى رجل بين الجنة والنار وهو آخر أهل النار دخولا الجنة مقبل بوجهه قبل النار, فيقول: يا رب اصرف وجهي عن النار, قد قشبني ريحها وأحرقني ذكاؤها, فيقول: هل عسيت إن فعل ذلك بك أن تسأل غير ذلك ؟ فيقول: لا وعزتك, فيعطي الله ما يشاء من عهد وميثاق, فيصرف الله وجهه عن النار।
فإذا أقبل به على الجنة رأى بهجتها سكت ما شاء الله أن يسكت, ثم قال: يا رب قدمني عند باب الجنة, فيقول الله له: أليس قد أعطيت العهود والميثاق أن لا تسأل غير الذي كنت سألت ؟ فيقول: يا رب لا أكون أشقى خلقك, فيقول فما عسيت إن أعطيت ذلك أن لا تسأل غيره ؟ فيقول: لا وعزتك لا أسأل غير ذلك, فيعطي ربه ما شاء من عهد وميثاق فيقدمه إلى باب الجنة, فإذا بلغ بابها فرأى زهرتها وما فيها من النضرة والسرور, فيসکت ما شاء الله أن يسكت, فيقول: يارب أدخلني الجنة, فيقول الله: ويحك يا بن آدم ما أغدرك أليس قد أعطيت العهد والميثاق أن لا تسأل غير الذي أعطيت ؟ فيقول: يا رب لا تجعلني أشقى خلقك, فيضحك الله عز وجل منه, ثم يأذن له في دخول الجنة, فيقول: تمن, فيتمنى, حتى إذا انقطعت أمنيته, قال الله عز وجل: من كذا وكذا أقبل, يذكره ربه حتى إذا انتهت به الأماني, قال الله تعالى: لك ذلك ومثله معه»।
قال أبو سعيد الخدري لأبي هريرة رضي الله عنهما : إن رسول الله صلى الله عليه ও سلم قال: « قال الله: لك ذلك وعشرة أمثاله »। قال أبو هريرة: لم أحفظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا قوله: «لك ذلك ومثله معه »। قال أبو سعيد إني سمعته يقول: « ذلك لك وعشرة أمثاله »।
“মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তাঁরা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোনো সন্দেহ আছে? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে অনুরূপভাবে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন: যে যার উপাসনা করত, সে যেন তার অনুসরণ করে; তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর অবশিষ্ট থাকবে শুধু এ উম্মাহ, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা'আলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেন: আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের শুভাগমন হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব। আর তাঁর যখন শুভাগমন হবে, তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ আগমন করবেন এবং বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে, হ্যাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ তা'আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের ওপর একটি সেতুপথ (পুলসিরাত) স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবে: 'اللهُمَّ سلم سلم' (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম), অর্থাৎ হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সা'দান কাঁটার মত। তোমরা কি সা'দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলল, হ্যাঁ, দেখেছি। তিনি বললেন, সেগুলো দেখতে সা'দান কাঁটার মতই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে জখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, তারপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে ফিরিশতাগণকে নির্দেশ দিবেন যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করত, তাদের যেন জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হয়। ফিরিশতাগণ তাদের বের করে আনবেন এবং সাজদাহর চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জন্য সাজদাহ'র চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেওয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। কাজেই সাজদাহর চিহ্ন ছাড়া আগুন বনী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর 'আবে-হায়াত' ঢেলে দেওয়া হবে, ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার ওপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। এরপর আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন। কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফিরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম থেকে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন, এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এ ছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ তা'আলাকে অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিবেন। এরপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে।
যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। তারপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছিয়ে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাও নি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আমি হতে চাই না। আল্লাহ তাৎক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পুরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের কসম! এছাড়া আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে, তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য্য ও তার অভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। এরপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গিকার কর নি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য আমাকে করবেন না। এতে আল্লাহ হেসে দিবেন। এরপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। তখন সে চাইবে, এমনকি তার চাওয়ার আকাঙ্খা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন: এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্খা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: এ সবই তোমার, এর সাথে আরও সমপরিমাণ (তোমাকে দেওয়া হলো)।
আবূ সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন: এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ [তোমাকে দেওয়া হল] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং তারা সাথে সমপরিমাণ। আবূ সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।"
৪০. আবু সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? তখন তিনি বলেন: «هل تضارون في رؤية الشمس والقمر إذا كانت ضحوا ؟ قلنا: لا, قال: « فإنكم لا تضارون في رؤية ربكم يومئذ إلا كما تضارون في رؤيتهما »। ثم قال: « ينادي مناد ليذهب كل قوم إلى ما كانوا يعبدون, فيذهب أصحاب الصليب مع صليبهم, وأصحاب الأوثان مع أوثانهم, وأصحاب كل آلهة مع الهتهم حتى يبقى من كان يعبد الله من بر أو فاجر, وغبرات من أهل الكتاب, ثم يؤتى بجهنم تعرض كأنها سراب, فيقال لليهود ما كنتم تعبدون ؟ قالوا: كنا نعبد عزير ابن الله, فيقال: كذبتم, لم يكن الله صاحبة ولا ولد, فما تريدون ؟ قالوا: نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون في جهنم, ثم يقال للنصارى ما كنتم تعبدون ؟ فيقولون: كنا نعبد المسيح ابن الله, فيقال: كذبتم, لم يكن الله صاحبة ولا ولد, فما تريدون ؟ فيقولون: نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون حتى يبقى من كان يعبد الله من بر أو فاجر, فيقال لهم: ما يحبسكم وقد ذهب الناس ؟ فيقولون: فارقناهم ونحن أحوج منا إليه اليوم, وإنا سمعنا مناديا ينادي ليلحق كل قوم بما كانوا يعبدون, وإنما ننتظر ربنا, قال: فيأتيهم الجبار في صورة غير صورته التي رأوه فيها أول مرة, فيقول: أنا ربكم, فيقولون: أنت ربنا فلا يكلمه إلا الأنبياء, فيقول: هل بينكم وبينه آية تعرفونه ؟ فيقولون: الساق, فيكشف عن ساقه, فيسجد له كل مؤمن, ويبقى من كان يسجد لله رياء ও سمعة, فيذهب كيما يسجد فيعود ظهره طبقا واحدا, ثم يؤتى بالجسر فيجعل بين ظهري جهنم »। قلنا: يا رسول الله وما الجسر ؟ قال: « مدحضة مزلة عليه خطاطيف وكلاليب ও حسكة مفلطحة لها شوكة عقيفة تكون بنجد يقال لها السعدان, المؤمن عليها كالطرف وكالبرق وكالريح وكأجاويد الخيل والركاب فناج مسلم, وناج مخدوش, ومكدوس في نار جهنم, حتى يمر آخرهم يسحب سحبا, فما أنتم بأشد لي مناشدة في الحق قد تبين لكم من المؤمن يومئذ للجبار, وإذا رأوا أنهم قد نجوا في إخوانهم يقولون: ربنا ইخوانনা কানু ইুসাল্লুনা মায়ানা ও ইয়াসুমুনা মায়ানা, ও ইয়া’মালুনা মায়ানা, ফায়াকুলুল্লাহু তা’আলা: ইযহাবু। ফামান ওয়াজাদতুম ফি কালবিহি মিছকালা দিনারিন মিন ঈমানিন ফাআখরিজুহু, ও ইউহাররিমুল্লাহু সুওয়ারাহুম আলান্নার, ফায়াতুনাহুম ও বা’দুহুম কাদ গাবা ফিন্নার ইলা কাদামিহি, ও ইলা আনসাফি সাক্বায়িহি, ফাইয়াখরুজুনা মিন আরাফু, সুম্মা ইয়া’উদুনা ফায়াকুল: ইযহাবু ফামান ওয়াজাদতুম ফি কালবিহি মিছকালান নিসফি দিনারিন ফাআখরিজুহু ফাইয়াখরুজুনা মিন আরাফু, সুম্মা ইয়া’উদুন ফায়াকুল ইযহাবু ফামান ওয়াজাদতুম ফি কালবিহি মিছকালা জাররাতিন মিন ঈমানিন ফাআখরিজুহু ফাইয়াখরুজুনা মিন আরাফু। কালা আবু সাঈদ ফায়ান লাম তুসাদ্দিকুনি ফাক্বরাও: إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَعِفْهَا ﴾ [النساء: ৪০]।
ফায়াশফাউন্নাবিয়্যুনা ওয়াল মালায়িকাতু ওয়াল মু’মিনুন, ফায়াকুলুল জাব্বার: বাক্বিয়াত শাফা’আতি ফা ইয়াক্ববিজু ক্বিবযাতাম মিনান্নার ফাইয়াখরুজু আক্বওয়ামান্ কাদ ইমতাহাশু, ফালিয়ুক্বউ ফি নাহরিন বিআফওয়াহিল জান্নাতি, ইয়ুক্বালু লাহু: মাউল হায়াতি, ফাইয়্যাম্বুতুনা ফি হাফাতিহি কামা তাম্বুতুল হাব্বাতু ফি হুমাইলিস সাইল, কাদ রায়াইতুমুহা ইলা জানিবুস সাখরাতি, ও ইলা জানিবুশ শাজারতি, ফামা কানা ইলাশ শামসি মিনহা কানা আখদার, ওয়ামা কানা মিনহা ইলায যিল্লি কানা আবইয়াদ, ফাইয়াখরুজুনা কাআন্নাহুমুল লুলুউ ফাইজআলু ফি রিক্বাবিহিমুল খাওয়াতিম, ফাইয়াদখুলুনাল জান্নাহ, ফায়াকুলু আহলুল জান্নাতি হাউলায়ি উইতাক্বাউর রাহমান, আদখালাহুমুল জান্নাতা বিগাইরি আমালিন আ’মিলুহু, ওলা খায়রিন ক্বাদ্দামুহু ফায়ুক্বালু লাহুম: লাকুম মা রায়াইতুম ও মিসলুহু মায়াহ।
“মেঘমুক্ত আকাশে তোমরা সূর্য ও চন্দ্র দেখতে কোনো বাধাপ্রাপ্ত হও কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: সেদিন তোমরাও তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না এতটুকু ব্যতীত, যতটুকু সূর্য ও চন্দ্র দেখার সময় পেয়ে থাক। সেদিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যারা যে জিনিসের ইবাদত করতে, তারা সে জিনিসের কাছে গমন কর। এরপর যারা ক্রুশধারী ছিল, তারা যাবে তাদের ক্রুশের কাছে। মূর্তিপুজারীরা যাবে তাদের মূর্তির সাথে। সকলেই তাদের উপাস্যের সাথে যাবে। অবশিষ্ট থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারীরা; নেককার ও গুনাহগার সবাই এবং আহলে কিতাবের কিছু সংখ্যক লোকও থাকবে। অতঃপর জাহান্নামকে আনা হবে। সেটি তখন মরীচিকার মত থাকবে। ইয়াহুদীদেরকে সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কিসের ইবাদত করতে? উত্তরে তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র 'উযায়ের আলাইহিস সালামের ইবাদত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ কারণ, আল্লাহর কোনো স্ত্রীও নেই এবং নেই তাঁর কোনো সন্তান। এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমরা চাই, আপনি আমাদেরকে পানি পান করান। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। তারপর নাসারাদেরকে হবে, তোমরা কিসের ইবাদত করতে? উত্তরে তারা বলে উঠবে, আমরা আল্লাহর পুত্র 'মসীহের ইবাদত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ, আল্লাহর কোনো স্ত্রীও ছিল না, সন্তানও ছিল না। এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমাদের ইচ্ছা আপানি আমাদেরকে পানি পান করতে দিন। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। পরিশেষে অবশিষ্ট থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারীগণ; তাদের নেককার ও গুনাহগার সবাই। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, কোনো জিনিস তোমাদেরকে আটকে রেখেছে? অথচ অন্যরা তো চলে গিয়েছে। তারা বলবে, আমরা তো সেদিন তাদের থেকে পৃথক ছিলাম, যেদিন আজকের অপেক্ষা বেশি প্রয়োজন ছিল। আমরা একজন ঘোষণাকারীকে ঘোষণাটি দিতে শুনেছি যে, যারা যাদের ইবাদত করত, তারা যেন তাদের সাথে যায়। আমরা প্রতীক্ষা করছি আমাদের প্রতিপালকের জন্য। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের কাছে আগমন করবেন। এবার তিনি সে আকৃতিতে আগমন করবেন না, যে আকৃতিতে তাঁকে প্রথমবার ঈমানদারগণ দেখেছিলেন এসে তিনি ঘোষণা দিবেন-আমি তোমাদের প্রতিপালক, সবাই তখন বলে উঠবে, আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আর সেদিন নবীগণ ছাড়া তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলতে পারবে না। আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমাদের এবং তাঁর মাঝখানে পরিচায়ক কোনো আলামত আছে কি? তারা বলবেন, 'পায়ের নলা'। তখন পায়ের নলা খুলে দেওয়া হবে। তা দেখে ঈমানদারগণ সবাই সাজদায় পতিত হবে। বাকি থাকবে তারা, যারা লোক দেখানো এবং লোক শুনানো সাজদাহ করেছিল। তবে তারা সাজদাহর মনোবৃত্তি নিয়ে সাজদাহ করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদণ্ড একটি তক্তার ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে। এমন সময় পুল (পুলসিরাত) স্থাপন করা হবে জাহান্নামের ওপর। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে পুলটি কি ধরনের হবে? তিনি বললেন: দুর্গম পিচ্ছিল জায়গা হবে। এর ওপর আংটা ও হুক থাকবে, যা শক্ত ও চওড়া কাঁটা বিশিষ্ট হবে, যা নাজদ দেশের সা'দান বৃক্ষের কাঁটার মত হবে। সে পুলের ওপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ অতিক্রম করবে চোখের পলকের মতো, কেউ বিজলীর মতো, কেউ বা বাতাসের মতো, আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মতো। তবে মুক্তিপ্রাপ্তগণ কেউ নিরাপদে চলে আসবে, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। একেবারে শেষে পার হবে যে ব্যক্তিটি, সে হেঁচড়িয়ে কোনো রকমে পার হয়ে আসবে। এখন তোমরা হকের ব্যাপারে আমার অপেক্ষা বেশি কঠোর নও; মহাপরক্রমশালী আল্লাহর সমীপে মুমিনদের অবস্থাটি তোমাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে গেছে। যখন তারা (মুমিনগণ) দেখবে যে, তাদের ভাইদের মধ্যে তারা মুক্তি পেয়ে গেছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, সাওম (রোযা) পালন করত এবং আমাদের সাথে ভালো কাজ করত? তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস; আল্লাহ তা'আলা তাদের চেহারাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। এদের কারও কারও দু'পা ও দু'পায়ের নলার অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে হারিয়ে যাবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দিনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে, যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী আবূ সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এই বাণীটি পড়: আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলুম করেন না এবং অণু পরিমাণ পুণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪০]
তারপর নবীসাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ফিরিশতা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। তখন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, এখন একমাত্র আমার শাফা'আতই বাকি রয়েছে। তিনি জাহান্নাম থেকে একমুষ্টি ভরে এমন কতগুলো কাওম (সম্প্রদায়)-কে বের করবেন, যারা জ্বলে পুরে দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে জান্নাতের সামনে অবস্থিত ‘হায়াত’ নামক নহরে ঢালা হবে। তারা সে নহরের দু’পার্শ্বে এমনভাবে উদ্ভূত হবে, যেমন পাথর এবং গাছের কিনারে বহন করে আনা আবর্জনায় বীজ থেকে তৃণ উদ্ভূত হয়। তন্মধ্যে সূর্যের আলোর অংশের গাছগুলো সাধারণত সবুজ হয়, ছায়ার অংশেরগুলো সাদা হয়। তারা সেখান থেকে মুক্তার দানার মত বের হবে। তাদের গর্দানে মোহর লাগানো হবে। জান্নাতে যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন অপরাপর জান্নাতবাসীরা বলবেন, এরা হলেন রহমান কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা কোনো ভালো আমল কিংবা কল্যাণমূলক কাজ ছাড়া জান্নাতে দাখিল করেছেন। তখন তাদেরকে ঘোষণা দেওয়া হবে: তোমরা যা দেখেছ, সবই তো তোমাদের, এর সাথে আরও সমপরিমাণ দেওয়া হলো তোমাদেরকে।"
৪১. আবু সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ قَالَ بِخَطَايَاهُمْ فَأَمَاتَهُمْ إِمَاتَةً حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا أُذِنَ بِالشَّفَاعَةِ فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ ثُمَّ قِيلَ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أُفِيضُوا عَلَيْهِمْ. فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ»। فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ كَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَ بِالْبَادِيَةِ»।
“জাহান্নামীদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামী, তাদের মৃত্যুও ঘটবে না এবং তারা পুনর্জীবিতও হবে না। তবে তন্মধ্যে তোমাদের এমন কতিপয় লোকও থাকবে, যারা গুনাহের দায়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা (তাদের ওপর পতিত আযাবের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে) তাদেরকে কিছুকাল নির্জীব করে রেখে দিবেন। অবশেষে তারা পুড়ে সম্পূর্ণ অঙ্গার হয়ে যাবে। এ সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফা'আতের অনুমতি হবে। তখন এদেরকে দলে দলে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতের নহরগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পরে বলা হবে, হে জান্নাতীরা তোমরা এদের গায়ে পানি ঢেলে দাও! ফলে স্রোতবাহিত পলিতে গজিয়ে ওঠা শস্যদানার মতো তারা সজিব হয়ে উঠবে। উপস্থিতদের মধ্যে একজন বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন এককালে গাঁয়ে অবস্থান করেছিলেন।"
৪২. জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا ميز أهل الجنة وأهل النار, فدخل أهل الجنة الجنة, وأهل النار النار, قامت الرسل فشفعوا, فيقول: انطلقوا أو اذهبوا فمن عرفتم فأخرجوه فيخرجونهم قد امتحشوا فيلقونهم في نهر أو على نهر, يقال له: الحياة, قال: فتسقط محاشهم على حافة النهر, ويخرجون بيضا مثل الثعارير, ثم يشفعون فيقول: اذهبوا أو انطلقوا فمن وجدتم في قلبه مثقال قيراط من إيمان فأخرجوهم, قال فيخرجون بشرا ثم يشفعون فيقول اذهبوا أو انطلقوا فمن وجدتم في قلبه مثقال حبة من خردلة من إيمان فأخرجوه, ثم يقول الله عز و جل: أنا الآن أخرج بعلمي ورحمتي, قال: فيخرج أضعاف ما أخرجوا وأضعافه, فيكتب في رقابهم عتقاء الله عز ও جل ثم يدخلون الجنة فيسمون فيها الجهنميين »।
“যখন জান্নাতবাসীগণ ও জাহান্নামবাসীগণ পৃথক হয়ে যাবে, তখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নাম প্রবেশ করবে, আর রাসূলগণ দাঁড়িয়ে যাবে এবং সুপারিশ করবে; অতঃপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, অতঃপর তোমরা যাকে চিনতে পার, তাকে বের করে নিয়ে আস; অতঃপর তাঁরা তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে গেছে; অতঃপর তাঁরা তাদেরকে ঝর্ণা বা নদীতে নিক্ষেপ করবে, যাকে 'আবে হায়াত' বলা হয়; তিনি বলেন: নদীর কিনারে তাদের (দেহের) ভস্মীভূত বস্তু পতিত হবে এবং তারা রসুনের মত সাদা হয়ে বের হয়ে আসবে; অতঃপর তাঁরা আবার সুপারিশ করবে, তারপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, তারপর তোমরা যার অন্তরে এক কিরাত পরিমাণ ঈমান পাও, তাদেরকে বের করে নিয়ে আস; তিনি বলেন: অতঃপর তাঁরা কিছু লোককে বের করে আনবে; অতঃপর তাঁরা আবার সুপারিশ করবে, তারপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, তারপর তোমরা যার অন্তরের মধ্যে একটি সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান পাও, তাদেরকে বের করে নিয়ে আস। তারপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন: এখন আমি আমার ইলম (জ্ঞান) ও রহমতের দ্বারা বের করে আনব, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: অতঃপর তিনি তাঁরা যা বের করে আনবে, তার কয়েকগুণ পরিমাণ বের করে নিয়ে আসবেন; অতঃপর তাদের ঘাড়ে লিখে দেওয়া হবে 'আল্লাহ তা'আলার আযাদকৃত'; অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; তারপর তাতে তাদেরকে 'জাহান্নামী' বলে আখ্যায়িত করা হবে।"
* 'ইমরান ইবন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: يَخْرُجُ قَوْمٍ مِنْ النَّارِ بِشَفَاعَةِ مُحَمَّد فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ, وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ»।
"একদল লোককে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আতে (সুপারিশে) জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা হবে। "
৪৩. হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: يخرج الله قوما منتنين قد محشتهم النار بشفاعة الشافعين فيدخلهم الجنة فيسمون الجهنميون قال حجاج: الجهنميين »।
"আল্লাহ তা'আলা আগুনে পোড়ানো দুর্গন্ধপূর্ণ একদল মানুষকে সুপারিশকারীগণের সুপারিশের কারণে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন, তারপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; ফলে তাদেরকে 'জাহান্নামী' বলে আখ্যায়িত করা হবে; বর্ণনাকারী হাজ্জাজ الجهنميون এর পরিবর্তে الجهنميين বলেছেন"।
৪৪. হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: يقول إبراهيم يوم القيامة : يا رباه فيقول الرب جل وعلا : يا لبيكاه فيقول إبراهيم : يا رب حرقت بني فيقول: أخرجوا من النار من كان في قلبه ذرة أو شعيرة من إيمان »।
"ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কিয়ামতের দিনে বলবেন: হে রব! অতঃপর মহান রব বলবেন: হে আমি হাযির; তারপর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলবেন: হে আমার রব! আপনি আমার সন্তানদেরকে আগুনে পোড়াচ্ছেন; তারপর তিনি বলবেন: যার অন্তরে অণু অথবা যবের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস। "
টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সালাতের বিবরণ, পরিচ্ছেদ: সাজদার ফযীলত, হাদীস নং ৭৭৩।
৮৭. সহীহ মুসলিম (৪/২০০৬)।
৮৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়: আল্লাহর একত্ববাদ, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার বাণী: "সেদিন কোনো কোনো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।" হাদীস নং ৭০০১।
৯০. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ, হাদীস নং ৪৭৭।
৯১. কিরাত হলো ওজনবিশেষ, কোন বস্তুর এক-চব্বিশাংশ, কারো মতে দিরহামের এক-দ্বাদশাংশ, এক-দশমাংশ দিনারের অর্ধেক, আঙুলের প্রশস্ততা পরিমাণ।
৯২. আহমদ (৩/৩২৫); এটি হাসান হাদীস।
৯৩. সহীহ বুখারী, রিকাক অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা, হাদীস নং ৬১৯৮।
৯৪. আহমদ (৫/৪০২); ইবন খুযাইমা, পৃ. ২৭৫; তার সনদটি সহীহ।
৯৫. ইবন হিব্বান, 'আস-সহীহ, পৃ. ৬৪৫; তার সনদটি সহীহ।