📄 কবীরা গুনাহকারী'র জন্য শাফা‘আত
পূর্বে কতগুলো হাদীসের উদ্ধৃতি অতিবাহিত হয়েছে, যেগুলো কবীরা গুনাহে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য শাফা'আতের প্রমাণ বহন করে। যেমন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, আর তা হলো দ্বিতীয় হাদীস :
« يخرج من النار مَنْ قَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا الله... إلى آخره »।
“যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই ) বলবে, সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে।”
অনুরূপভাবে তৃতীয় হাদীস, আর ইবন 'আসেম 'আস-সুন্নাহ' নামক গ্রন্থে (২/৩৯৯) বলেন, আর ঐসব খবর বা হাদীসসমূহ, যা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি শাফা'আত ও তাঁকে সুপারিশকারী বানানো প্রসঙ্গে, তার দ্বারা আল্লাহ তাঁকে মর্যাদা দান করেছেন। আর তিনি যেসব ক্ষেত্রে সুপারিশ করবেন, সে ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে, যা প্রকৃত জ্ঞানকে আবশ্যক করে। আর মুতাওয়াতির পর্যায়ের জ্ঞানকে আবশ্যক করে, এমন খবর বা হাদীস অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির।
আল্লাহ আমাদেরকে এবং তাঁর ওপর ঈমানদার শাফা'আতের আশাকারী প্রত্যেক মুমিনকে সে শাফা'আত নসীব করুন।
২৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিয়ামতের দিন কোনো ব্যক্তি আপনার শাফা'আতের দ্বারা সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে ? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيث أَحَدٌ أَوَّلَ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا الله, فأدخله الجنة فأذهب فَمَنْ وَجَدْتُ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَلِكَ أَدْخَلْتُهُمْ الْجَنَّةَ وَفَرَغَ اللَّهُ مِنْ حِسَابِ النَّاسِ وَأَدْخَلَ مَنْ بَقِيَ مِنْ أُمَّتِي النَّارَ مَعَ أَهْلِ النَّارِ, فَيَقُولُ أَهْلُ النَّارِ مَا أَغْنَى عَنْكُمْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا تُشْرِكُونَ بِهِ شَيْئًا . فَيَقُولُ الْجَبَّارُ عَزَّ وَجَلَّ : فَبِعِزَّتِي لَأُعْتِقَنَّهُمْ مِنْ النَّارِ فَيُرْسِلُ إِلَيْهِمْ فَيَخْرُجُونَ وَقَدْ امْتَحَشُوا فَيَدْخُلُونَ فِي نَهَرِ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي غُثَاءِ السَّيْلِ. وَيُكْتَبُ بَيْنَ أَعْيُنِهِمْ: هَؤُلَاءِ عُتَقَاءُ الْجَبَّارِ عَزَّ وَجَلَّ»।
“হে আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারণ, আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা'আত লাভে সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি একান্ত আন্তরিকতার সাথে বলে: لَا إِلَهَ إِلَّا الله (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই); তাকে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব; অতঃপর আমি যাব এবং যার অন্তরের মধ্যে এই পরিমাণ (ঈমান) পাব, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মানুষের হিসাব নেওয়ার কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করবেন এবং আমার বাকি উম্মতকে জাহান্নামবাসীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ বলবে: তোমরা যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করতে এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করতে না, তা তোমাদের কোনো উপকারে আসল না; তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলবেন: আমার ইজ্জতের কসম! অবশ্যই আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করব। অতঃপর তিনি তাদের নিকট ফরমান পাঠাবেন, তারপর তার বের হয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে গেছে। অতঃপর তারা জীবন নদীতে প্রবেশ করবেন, তারপর তারা তাতে সজীব হয়ে উঠবে, যেমনিভাবে স্রোতের পলিতে শস্য অঙ্কুরিত হয় এবং তাদের কপালে লিখে দেওয়া হবে: 'এরা পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত।"
২৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لكل نبي دعوة مستজابة يدعو بها وأريد أن أختبئ دعوتي شفاعة لأمتي في الآخرة»।
"প্রত্যেক নবীর এমন একটি মাকবুল দো'আ রয়েছে, যার দ্বারা তিনি দো'আ করে থাকেন। আর আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দো'আর অধিকার আখিরাতে আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য মুলতবী রাখি।"
২৫. আবূ মূসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: خيرت بين الشفاعة وبين أن يدخل نصف أمتي الجنة, فاخترت الشفاعة لأنها أعم وأكفى, أترونها للمتقين؟ لا ولكنها للمذنبين الخطائين المتلوثين»।
"শাফা'আত এবং আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করা-এই দু'টির মধ্যে কোনো একটিকে গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, অতঃপর আমি শাফা'আতের বিষয়টিকে পছন্দ করেছি। কারণ, তা অনেক ব্যাপক ও পর্যাপ্ত। তোমরা কি তা মুত্তাকীদের জন্য মনে করেছ? না, বরং তা গুনাহগার অপরাধী পঙ্কিলদের জন্য।"
টিকাঃ
৬৭. আহমদ (৩/১৪৪ এবং ২৪৭) এবং তার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী; দারেমী (১/২৭-২৮)
৬৮. সহীহ বুখারী, দো'য়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক নবীর একটি মাকবুল দো'আ রয়েছে, হাদীস নং ৫৯৪৫।
৬৯. ইবন মাজাহ (২/১৪৪১); আল-বৃসীরী 'আয-যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলেন, তার সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।
📄 জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নবী (সাঃ)-এর শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৩০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أمر بقوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, قال: فيقولون: يا محمد! ننشدك الشفاعة, قال: فأمر الملائكة أن يعفوا بهم. قال: فأنطلق ও استأذن على الرب عز ও جل فيأذن لي فأسجد ও أقول: يا رب, قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, قال: فيقول لي: انطلق فأخرج منهم, قال: فانطلق ও أخرج منهم من شاء الله أن أخرج, ثم ينادي الباقون: يا محمد! ننشدك الشفاعة, فأرجع إلى الرب فاستأذن فيؤذن لي فأسجد فيقال لي: ارفع رأسك, وسل تعطه واشفع تشفع, فأثني على الله بثناء لم يثن عليه أحد, أقول: ثم قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, فيقول: انطلق فأخرج منهم, قال: فأقول يا رب, أخرج من قال: لا إله إلا الله, ومن كان في قلبه حبة من إيمان, قال: فيقول: يا محمد ! ليست تلك لك, تلك لي, قال: فانطلق ও أخرج من شاء الله أن أخرج, قال: ويبقى قوم فيدخلون النار, فيعيرهم أهل النار, فيقولون: أنتم كنتم تعبدون الله ও لا تشركون به أدخلكم النار, فيحزنون لذلك, قال: فيبعث الله ملكا بكف من ماء فينضح بها في النار, ও يعبطهم أهل النار, ثم يخرجون ও يدخلون الجنة فيقال: انطلقوا فتضيفوا الناس, فلو أنهم جميعهم نزلوا برجل واحد كان لهم عنده سعة ويسمون المحررين»।
"আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন, অতঃপর তারা বলবে: হে মুহাম্মাদ! আমরা আপনার নিকট শাফা'আতের সন্ধান চাচ্ছি; তিনি বলেন: অতঃপর আমি ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দিব, তারা যাতে তাদেরকে নিয়ে অবস্থান করে। তিনি বলেন: অতঃপর আমি ছুটে যাব এবং আমার রব আল্লাহ তা'আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দিবেন, তারপর আমি সাজদায় অবনত হব এবং আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; অতঃপর অবশিষ্টগণ ডাকবেন: হে মুহাম্মাদ! আমরা আপনার নিকট শাফা'আতের সন্ধান চাচ্ছি;
অতঃপর আমি পুনরায় আমার রবের নিকট নিকট ফিরে যাব, তারপর আমি তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দিবেন, তারপর আমি সাজদায় অবনত হব, তখন আমাকে বলা হবে: আপনি আপনার মাথা উঠান এবং চান, আপনাকে তা দেওয়া হবে; আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; অতঃপর আমি এমন প্রশংসার দ্বারা আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করব, এভাবে কোনো দিন কেউ তাঁর প্রশংসা করে নি। আমি বলব: অতঃপর আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তখন তিনি বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি বলব, হে আমার রব! আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব, যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই) বলেছে এবং যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে; তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন, হে মুহাম্মাদ! এটা আপনার জন্য নয়, এটা আমার জন্য; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; তিনি বলেন: একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তার সাথে শির্ক করতে না, তিনি তোমাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করালেন! তিনি বলেন: অতঃপর তারা এই জন্য দুঃখ পাবে ও চিন্তিত হয়ে পড়বে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এক অঞ্জলি পানিসহ একজন ফিরিশতা পাঠাবেন, অতঃপর সে তা দ্বারা জাহান্নামের আগুনকে সিক্ত করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ তাদের ব্যাপারে ঈর্ষা করবে; অতঃপর তারা বের হয়ে আসবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর বলা হবে: তোমরা যাও এবং জনগণের মেহমান হয়ে যাও; তারপর যদি তারা সকলেই এক লোকের নিকট অবতরণ করে, তাহলেও তার নিকট তাদেরকে ধারণ করার মত ক্ষমতা থাকবে। আর তাদেরকে 'মুক্তিপ্রাপ্ত' বলে আখ্যায়িত করা হবে।"
হাফেয ইবন কাসীর বলেন: এই হাদীসটি দাবি করে ঐসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই শাফা'আত তিনবার হওয়া, যাদের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, যাতে তারা তাতে প্রবেশ না করে, আর তাঁর কথা: أخرج মানে হলো: বাঁচাও; এর দলীল হলো তাঁর পরবর্তী কথা: ওيبقى (একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে) আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সঠিক বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন।
টিকাঃ
৭৪. আবূ বকর ইবন আবিদ্দুনিয়া, আল-আহওয়াল (الأهوال); আর এটি হাসান হাদীস, তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৩১. আবদুর রহমান ইবন আবি বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إن ربي أعطاني سبعين ألفا من أمتي يدخلون الجنة بغير حساب» فقال عمر: يا رسول الله فهلا استزدته ؟ قال: «قد استزدته فأعطاني مع كل رجل سبعين ألفا» قال عمر: فهلا استزدته ؟ قال: «قد استزدته فأعطاني هكذا»। وفرج عبد الله بن بكر بين يديه وقال عبد الله وبسط باعيه وحثا عبد الله وقال هشام وهذا من الله لا يدرى ما عدده»।
"নিশ্চয় আমার রব আমাকে আমার সত্তর হাজার উম্মতকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে আরও সত্তর হাজার প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে আরও অনুরূপ সংখ্যক প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর (হাদীসের একজন বর্ণনাকারী ইমাম আহমদের উস্তাদ) আবদুল্লাহ ইবন বকর তাঁর সম্মুখের জায়গা প্রশস্ত করে দেখান। আর আবদুল্লাহ বললেন: আর তিনি তাঁর দুই বাহু সম্প্রসারিত করলেন। আর তা আবদুল্লাহ তার হাত দিয়ে মাটি পূর্ণ করলেন। আর হিশাম বলেন: আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যার সংখ্যা সম্পর্কে জানা যায় না।"
৩২. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: وعدني ربي أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب, مع كل ألف سبعون ألفا, وثلاث حثيات من حثيات ربي»।
"আমার রব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে; প্রত্যেক হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং আমার প্রতিপালকের অঞ্জলিসমূহ থেকে পরিপূর্ণ তিন অঞ্জলি প্রবেশ করবে।"
৩৩. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ان الله عز ও جل وعدني ان يدخل من أمتي الجنة سبعين ألفا بغير حساب» فقال يزيد بن الأخنس السلمي: والله ما أولئك في أمتك الا كالذباب الأصهب في الذبان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كان ربي عزو جل قد وعدني سبعين ألفا مع كل ألف سبعون ألفا وزادني ثلاث حثيات قال: فما سعة حوضك يا نبي الله قال: «كما بين عدن إلى عمان وأوسع وأوسع يشير بيده قال فيه مثعبان من ذهب وفضة» قال: فما حوضك يا نبي الله قال: «أشد بياضا من اللبن وأحلى مذاقة من العسل وأطيب رائحة مِنَ الْمِسْكِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا وَلَمْ يَسْوَدُ وَجْهُهُ أَبَدًا»।
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর ইয়াযিদ ইবনুল আখনাস আস-সুলামী বললেন: আল্লাহর কসম! আপনার উম্মতের মধ্যে তারা তো মাছির পালের মধ্যে লাল-হলুদ-সাদা মাছির মতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমার নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্তর হাজারের এবং প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজারের, আর তিনি আমার নিকট আরও তিন অঞ্জলি বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তিনি বলেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউযের প্রশস্ততা কতটুকু? জবাবে তিনি বলেন: 'আদন থেকে 'আম্মান পর্যন্ত মধ্যকার দূরত্বের মত, আরও বেশি প্রশস্ত, আরও বেশি প্রশস্ত -বলতে বলতে তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন, তিনি বলেন, তাতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ঝর্ণধারাসমূহ রয়েছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসার সুরে বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউয কোনো ধরনের? জবাবে তিনি বললেন: দুধের চেয়ে অনেক বেশি সাদা, মধুর চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি এবং মেশকের চেয়ে অনেক বেশি সুগন্ধময়; যে ব্যক্তি একবার তার থেকে পান করবে, সে ব্যক্তি পরবর্তীতে আর কোনো দিন পিপাসার্ত হবে না এবং কোনো দিন তার চেহারা মলিন হবে না।"
৩৪. রিফা'আ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «أقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا كنا بالكديد أو قال: بقديد فجعل رجال منا يستأذنون إلى أهليهم فيأذن لهم, فقام رسول الله صلى الله عليه ও سلم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: « ما بال رجال يكون شق الشجرة التي تلي رسول الله صلى الله عليه وسلم أبغض إليهم من الشق الآخر فلم نر عند ذلك من القوم الا باكيا, فقال رجل ان الذي يستأذنك بعد هذا لسفيه، فحمد الله وقال: حينئذ أشهد عند الله لا يموت عبد يشهد أن لا إله الا الله وإني رسول الله صدقا من قلبه, ثم يسدد الا سلك في الجنة. قال: وقد وعدني ربي عز ও جل أن يدخل من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب, وإني لأرجو أن لا يدخلوها حتى تبوؤا أنتم ومن صلح من آبائكم وأزواجكم وذرياتكم مساكن في الجنة وقال: إذا مضى نصف الليل أو قال: ثلثا الليل ينزل الله عز ও جل إلى السماء الدنيا، فيقول: لا أسأل عن عبادي أحدا غيري، من ذا يستغفرني فاغفر له, من الذي يدعوني أستجيب له من ذا الذي يسألني أعطيه حتى ينفجر الصبح»।
“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আগমন করতে লাগলাম, এমনকি যখন আমরা 'আল-কাদীদ' নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাদের পরিবার- পরিজনের নিকট যাওয়ার জন্য তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতে শুরু করল এবং তিনি তাদেরকে অনুমতি প্রদান করলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ভাষণ দেওয়ার জন্য) দাঁড়ালেন, তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: লোকজনের কী অবস্থা হল, গাছের যে অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত, অপর অংশের চেয়ে তাদের নিকট গাছের সেই অংশ অধিক অপছন্দনীয়, আর আমরা সেই সময় সম্প্রদায়ের সকল লোককে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। জনৈক ব্যক্তি বলল: এর পরেও যে ব্যক্তি আপনার নিকট অনুমতি চাইবে, সে তার বোকামীর জন্যই চাইবে; অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তিনি বললেন: যখন আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিব, তখন যে বান্দা মনে-প্রাণে এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, অতঃপর ঠিক সেই অনুযায়ী সে কাজ করে, তাহলে সে জান্নাতের পথেই চলে, আর তিনি বলেন: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর আমি অবশ্যই আশা করি যে, তারা তাতে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন ও সন্তান-সন্ততী'র মধ্য থেকে যারা সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের মধ্যে আবাসগৃহ তৈরি করবে, আর তিনি বললেন: যখন রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয় অথবা তিনি বলেছেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং তারপরে বলেন: আমি আমার বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করব না; কে আছ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব; কে আছ আমার নিকট দো'আ করবে, আমি তার দো'আ কবুল করব; কে আছ আমার নিকট কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব, এভাবে করে শেষ পর্যন্ত উষার আলো উদ্ভাসিত হয়ে সকাল হয়ে যাবে।"
টিকাঃ
৭৫. আহমদ (১/১৯৭); আর অন্য বর্ণনার সমর্থনের কারণে হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।
৭৬. তিরমিযী (৪/৪৫); ইবন মাজাহ (২/১৪৩৩); আহমদ (৫/২৬৮); হাফেয ইবন কাছীর তার তাফসীরে (১/৩৯৪) বলেন, এর সনদটি উত্তম।
৭৭. আহমদ (২/২৫০); হাফেয ইবন কাছীর তার তাফসীরের মধ্যে বলেন, তার সনদ হাসান।
৭৮. আহমদ (৪/১৬); আত-তায়ালাসী (১/২৭); ইবন খুযাইমা, পৃ. ১৩২; ইবন হিব্বান (১/২৫৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৫/৪৩)।
📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির জন্য তার আমলের চাহিদার চেয়ে উন্নত মর্যাদার জন্য সুপারিশ করা
৩৫. আবু বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «لما فرغ النبي صلى الله عليه وسلم من حنين بعث أبا عامر على جيش إلى أوطاس فلقي دريد بن الصمة, فقتل دريد وهزم الله أصحابه, قال أبو موسى: وبعثني مع أبي عامر فرمي أبو عامر في ركبته رماه جشمي بسهم فأثبته في ركبته فانتهيت إليه فقلت: يا عم من رماك ؟ فأشار إلى أبي موسى, فقال ذاك قاتلي الذي رماني, فقصدت له فلحقته, فلما رآني ولى فاتبعته, وجعلت أقول له: ألا تستحي, ألا تثبت فكف فاختلفنا ضربتين بالسيف فقتلته, ثم قلت لأبي عامر قتل الله صاحبك, قال: فانزع هذا السهم, فنزعته, فنزا منه الماء, قال: يا ابن أخي! أقرئ النبي صلى الله عليه ও سلم السلام وقل له استغفر لي واستخلفني أبو عامر على الناس فمكث يسيرا ثم مات, فرجعت فدخلت على النبي صلى الله عليه وسلم في بيته على سرير مرمل, وعليه فراش, قد أثر رمال السرير بظهره وجنبيه, فأخبرته بخبرنا وخبر أبي عامر وقال: قل له استغفر لي فদعا بماء فتوضأ ثم رفع يديه فقال: «اللهم اغفر لعبيد أبي عامر ». ورأيت بياض إبطيه ثم قال: « اللهم اجعله يوم القيامة فوق كثير من خلقك من الناس». فقلت: ولي فاستغفر فقال: «اللهم اغفر لعبد الله بن قيس ذنبه وأدخله يوم القيامة مدخلا كريما». قال أبو بردة: إحداهما لأبي عامر والأخرى لأبي موسى।
"যখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়েন যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন, তখন তিনি আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে একটি সৈন্যবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করে আওতাস গোত্রের প্রতি পাঠালেন। যুদ্ধে তিনি (আবূ 'আমির) দুরায়দ ইবন সিম্মার সাথে মুকাবিলা করলে দুরায়দ নিহত হয় এবং আল্লাহ তার সহযোগী যোদ্ধাদেরকেও পরাজিত করেন। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র সাথে আমাকেও পাঠিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র হাঁটুতে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। জু'শam গোত্রের এক লোক তীরটি তাঁর হাঁটুর মধ্যে বসিয়ে দিয়েছিল। তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, চাচাজান! কে আপনার ওপর তীর ছুঁড়েছে? তখন তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে ইশারার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে বললেন যে, ঐ যে, ঐ ব্যক্তি আমাকে তীর মেরেছে। আমাকে হত্যা করেছে। আমি লোকটিকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, আর সে আমাকে দেখামাত্র ভাগতে শুরু করল। আমি এ কথা বলতে বলতে তার পশ্চাদ্ধাবন করলাম, (পালাচ্ছ কেন) বেহায়া দাঁড়াও না, দাঁড়াও। লোকটি থেমে গেল। এবার আমরা দু'জনে তরবারি দিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি তাকে হত্যা করে ফেললাম। তারপর আমি আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললাম, আল্লাহ আপনার আঘাতকারীকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে, এবার তুমি আমার হাঁটু থেকে) তীরটি বের করে দাও। আমি তীরটি বের করে দিলাম। তখন ক্ষতস্থান থেকে কিছু পানিও বের হয়ে আসল। তিনি আমাকে বললেন, হে ভাতিজা! (আমি হয়ত বাঁচবো না) তুমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার সালাম জানাবে এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দো'আ করতে বলবে। আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাঁর স্থলে আমাকে সেনাবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বেঁচে ছিলেন, তারপর ইন্তিকাল করলেন।
(যুদ্ধ শেষে) আমি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ি প্রবেশ করলাম। তিনি তখন পাকানো দড়ির তৈরি একটি খাটিয়ায় শায়িত ছিলেন। খাটিয়ার ওপর (নামেমাত্র) একটি বিছানা ছিল। কাজেই তাঁর পিঠে এবং পার্শ্বদেশে পাকানো দড়ির দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে আমাদের এবং আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র সংবাদ জানালাম। (তাঁকে এ কথাও বললাম যে) তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) বলে গিয়েছেন, তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) আমার মাগফিরাতের জন্য দো'আ করতে বলবে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং ওযু করলেন। তারপর তিনি তাঁর দু'হাত উপরে তুলে দো'আ করে বললেন, হে আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দা আবু 'আমিরকে ক্ষমা কর। (নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো'আর মুহূর্তে হাতদ্বয় এত উপরে তুললেন যে) আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রাংশ দেখতে পেয়েছি। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে তোমার অনেক মাখলুকের ওপর, অনেক মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান কর।
আমি বললাম: আমার জন্যও (দো'আ করুন) তিনি দো'আ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবন কায়েসের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করাও। বর্ণনাকারী আবূ বুরদা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, দু'টি দো'আর একটি ছিল আবূ 'আমির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র জন্য, আর অপরটি ছিল আবূ মূসা (আশ'আরী) রাদিয়াল্লাহু 'আনহু'র জন্য।"
৩৬. উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন। তখন তাঁর চোখগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন: «إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ »। فَضَجَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ: «لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ»। ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ। وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ»।
"নিশ্চয় রূহ যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চোখ তার প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এ কথা শুনে তার পরিবারের লোকেরা উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের জন্য অমঙ্গলজনক কোনো দো'আ করো না। কেননা ফিরিশতাগণ তোমাদের কথার ওপর আমীন বলে থাকেন। তিনি তারপর বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আবূ সালামাকে মাফ করে দাও, হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে সুউচ্চ করে দাও এবং তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত কর। হে রাব্বুল আলামীন! আমাদেরকে এবং তাঁকে মাফ করে দাও, আর তাঁর জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দাও এবং তাঁর কবরকে আলোকময় করে দাও।"
টিকাঃ
৭৯. সহীহ বুখারী, মাগাযী অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আওতাস যুদ্ধ প্রসঙ্গে, হাদীস নং ৪০৬৮।
৮০. সহীহ মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলে তার চক্ষু বন্ধ করে দেওয়া ও তার জন্য দো'আ করা প্রসঙ্গে, হাদীস নং ২১৬৯।