📘 কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত 📄 মহান শাফা‘আত

📄 মহান শাফা‘আত


১. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে গোশত এনে তাঁকে সামনের রান পরিবেশন করা হলো, যা তিনি পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি তার থেকে কামড় দিয়ে খেলেন এবং এরপর বললেন:

«أنا سيد الناس يوم القيامة وهل تدرون مم ذلك ؟ يجمع الله الناس الأولين والآخرين في صعيد واحد يسمعهم الداعي وينفذهم البصر, وتدنو الشمس فيبلغ الناس من الغم والكرب ما لا يطيقون ولا يحتملون, فيقول الناس: ألا ترون ما قد بلغكم ؟ ألا تنظرون من يشفع لكم إلى ربكم ؟ فيقول بعض الناس لبعض: عليكم بآدم, فيأتون آدم عليه السلام فيقولون له أنت أبو البشر خلقك الله بيده, ونفخ فيك من روحه, وأمر الملائكة فسجدوا لك, اشفع لنا إلى ربك, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ ألا ترى إلى ما قد بلغنا ؟ فيقول آدم: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله, وإنه نهاني عن الشجرة فعصيته, نفسي, نفسي, نفسي, اذهبوا إلى غيري, اذهبوا إلى نوح, فيأتون نوحا فيقولون: يا نوح إنك أنت أول الرسل إلى أهل الأرض, وقد سماك الله عبدا شكورا , اشفع لنا إلى ربك, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ فيقول: إن ربي عز و جل قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله, وإنه قد كانت لي دعوة , دعوتها على قومي, نفسي, نفسي, نفسي, اذهبوا إلى غيري, اذهبوا إلى إبراهيم , فيأتون إبراهيم, فيقولون : يا إبراهيم أنت نبي الله وخليله من أهل الأرض . اشفع لنا إلى ربك, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ فيقول لهم: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله, وإني قد كنت كذبت ثلاث كذبات فذكرهن أبو حيان في الحديث - نفسي, نفسي, نفسي, اذهبوا إلى غيري اذهبوا إلى موسى, فيأتون موسى فيقولون: يا موسى أنت رسول الله, فضلك الله برسالته وبكلامه على الناس اشفع لنا إلى ربك, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ فيقول: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله, وإني قد قتلت نفسا لم أومر بقتلها نفسي, نفسي, نفسي, اذهبوا إلى غيري, اذهبوا إلى عيسى, فيأتون عيسى فيقولون: يا عيسى أنت رسول الله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه, وكلمت الناس في المهد صبيا, اشفع لنا, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ فيقول عيسى: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله قط ولن يغضب بعده مثله ولم يذكر ذنবা - نفسي نفسي نفسي, اذهبوا إلى غيري , اذهبوا إلى محمد صلى الله عليه وسلم فيأتون محمدا صلى الله عليه وسلم, فيقولون: يا محمد أنت رسول الله وخاتম الأنبياء, وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر, اشفع لنا إلى ربক, ألا ترى إلى ما نحن فيه ؟ فأنطلق فآتي تحت العرش فأقع ساجدا لربي عز وجل, ثم يفتح الله علي من محامده, وحسن الثناء عليه شيئا لم يفتحه على أحد قبلي, ثم يقال: يا محمد ارفع رأسك سل تعطه, واشفع تشفع, فأرفع رأسي فأقول: أمتي يا رب أمتي يا رب, فيقال: يا محمد أدخل من أمتك من لا حساب عليهم من الباب الأيمن من أبواب الجنة وهم شركاء الناس فيما سوى ذلك من الأبواب, ثم قال: والذي نفسي بيده إن ما بين المصراعين من مصاريع الجنة كما بين مكة وحمير أو كما بين مكة وبصرى ».

“আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের সরদার। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারী'র আহ্বান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর হবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে, যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদম আলাইহিস সালামের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাকে বলবে, আপনি আবুল বাশার। আল্লাহ তা'আলা আপনাকে স্বীয় হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং তিনি ফিরিশতাদের নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সাজদাহ করেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি? তখন আদম আলাইহিস সালাম বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যে, যার আগেও কোনো দিন এত রাগান্বিত হন নি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নাফসী! নাফসী! নাফসী! তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তখন সকলে নূহ আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে, হে নূহ আলাইহিস সালাম! নিশ্চয় আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রেরিত প্রথম রাসূল। আর আল্লাহ তা'আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আজ আমার রব এত বেশি রাগান্বিত হয়েছেন যে... আমার একটি গ্রহণীয় দো'আ ছিল, যা আমি আমার কাওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, (এখন) নাফসী! নাফসী! নাফসী!। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তখন তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে, হে ইবরাহীম! আপনি আল্লাহর নবী এবং বিশেষভাবে অন্তরঙ্গ আল্লাহর বন্ধু। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি তাদের বলবেন, আজ আমার রব এত বেশি রাগান্বিত হয়েছেন যে... আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসা আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তারা মূসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে, হে মূসা আলাইহিস সালাম! আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দান করেছেন এবং আপনার সাথে কথা বলে সমগ্র মানব জাতির ওপর মর্যাদা দান করেছেন। তিনি তাদের বলবেন, আজ আমার রব এত বেশি রাগান্বিত হয়েছেন যে... আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয় নি। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও 'ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তখন তারা 'ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে, হে 'ঈসা আলাইহিস সালাম! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং কালেমা, যা তিনি মরিয়ম আলাইহিস সালামের উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি 'রূহ'। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। তখন 'ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন, আজ আমার রব এত বেশি রাগান্বিত হয়েছেন যে... নাফসী! নাফসী! নাফসী!। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে। তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আল্লাহর রাসূল ও শেষ নবী। আল্লাহ তা'আলা আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তখন আমি 'আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সাজদায় অবনত হয়ে যাব। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর পদ্ধতি আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে কাউকে খুলে দেন নি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার মাথা উঠান। আপনি যা চান, তা আপনাকে দেওয়া হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। বেহেশতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা হলো যেমন মক্কা ও হিমইয়ারের মধ্যবর্তী দূরত্ব অথবা মক্কা ও বসরার মাঝখানের দূরত্ব।”

টিকাঃ
৩৯. 'আবুল বাশার' অর্থ: মানব জাতির পিতা।
৪০. কারণ, তিনি শরী'য়তের হুকুম-আহকামের প্রথম রাসূল।
৪১. 'কালেমা' দ্বারা " كُن " শব্দকে বুঝানো হয়েছে।
৪২. 'রূহ' দ্বারা ফিরিশতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান ফিরিশতা জিবরীল আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে।
৪৩. সহীহ বুখারী, তাফসীর অধ্যায় (২/৩৮৫), হাদীস নং ৪৩৫৭; সহীহ মুসলিম (১/১৮৪); তিরমিযী; আহমদ (২/৪৩৫)।
৪৪. রূহ অর্থ: আত্মা, আদেশ; আর কালিমা অর্থ: কথা।
৪৫. সহীহ বুখারী, তাওহীদ অধ্যায়, হাদীস নং ৬৯৭৫; সহীহ মুসলিম (১/১৮০); আহমদ (৩/১১৬)
৪৬. সহীহ বুখারী, তাওহীদ অধ্যায়, হাদীস নং ৬৮৮৭; সহীহ মুসলিম: (১/১৮২)
৪৭. অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর সাথে আমার কথা হয় নি, যেমন মূসার হয়েছিল।
৪৮. ইবন খুযাইমা তার 'আস-সহীহ' গ্রন্থে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন, পৃ. ২৪৫; আবু 'আওয়ানা (১/১৭৪); সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায় (১/১৮৬)।
৪৯. আহমদ (১/৪); ইবন খুযাইমা হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, পৃ. ৩১০; আবু 'আওয়ানা (১/১৭৫); ইবন হিব্বান, পৃ. ৬৪২ (মাওয়ারেদ)।
৫০. ইমাম বুখারী রহ. হাদীসখানা তাঁর গ্রন্থের 'তাফসীর' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, সূরা আল-ইসরা।
৫১. সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ফযীলত, হাদীস নং: ৫০৯১।
৫২. তিরমিযী (৪/৩৬৫); আহমদ (২/৪৪১)।
৫৩. ইবন মাজাহ, জুহুদ অধ্যায়, হাদীস নং ৪৩০৮।
৫৪. আবূ না'ঈম, দালায়েল (১/১৩); আহমদ (৩/১৪৪)।
৫৫. দারেমী (১/২৬); দায়লামী (১/২/৩০৮)।
৫৬. সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: মুসাফিরের সালাত, হাদীস নং ১৯৪১।
৫৭. আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমদ, 'যাওয়ায়েদুল মুসনাদ' (৫/১৩৮); তিরমিযী (৫/২৪৭); হাকেম (১/৭১)।
৫৮. আহমদ, মুসনাদ, হাদীস নং ২১৭৩৭।
৫৯. আহমদ, মুসনাদ, হাদীস নং ২১৭৩৯।
৬০. দারেমী (১/২৬); তিরমিযী (৫/২৪৫)।
৬১. দারেমী (১/২৭); ইবন 'আসেম, আস-সুন্নাহ (২/৩৭০)।
৬২. সহীহ বুখারী, তায়াম্মুম অধ্যায়, হাদীস নং ৩২৮
৬৩. ইবন জারীর (১৫/১৪৬); হাকেম (২/৩৬৩)।

📘 কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত 📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে সুপারিশ করা এবং তাঁর প্রথম সুপারিশকারী হওয়া

📄 নবী (সাঃ) কর্তৃক তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে সুপারিশ করা এবং তাঁর প্রথম সুপারিশকারী হওয়া


প্রথম হাদীসের মধ্যে পূর্বে আলোচনা হয়েছে যে, তাঁকে বলা হবে: « يا محمد أدخل من أمتك من لا حساب عليهم من البাব الأيمن من أبواب الجنة وهم شركاء الناس فيما سوى ذلك من الأبواب »।

“হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজা দিয়েও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে।"

আর দ্বিতীয় হাদীসের মধ্যে আলোচনা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করবেন এবং তাঁর জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দিবেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

১৯. আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِي الْجَنَّةِ, وَأَنَا أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا »।

"আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা'আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি।"

২০. আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ, وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ »।

"কিয়ামতের দিনে নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি এবং আমিই সবার আগে জান্নাতের কড়া নাড়ব।"

২১. আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدُ, فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لَأَحَدٍ قَبْلَكَ»।

"কিয়ামত দিবসে আমি জান্নাতের গেইটে এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইব। তখন খাজাঞ্চি বলবেন, আপনি কে? আমি উত্তরে বলব, মুহাম্মাদ। খাজাঞ্চি বলবেন: 'আপনার জন্যই দরজা খুলতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আপনার পূর্বে অন্য কারোর জন্য দরজা খুলব না'।"

২২. আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: يُطَوَّلُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَلَى النَّاسِ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ : انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى آدَمَ أَبِي الْبَشَرِ فَيَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا, فَيَأْتُونَ آدَمَ ও آتي الجبار ও أسجد له فَيَقُولُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ يا محمد, ও تكلم يُسْمَعْ مِنْكَ, وَ قل يقبل قولك, وَ اشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَقُولُ: أُمَّتِي أُمَّتِي فَيَقُولُ: اذهب إلى أمتك فمَنْ وجدت فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ نصف حبة من شعير من الإيمان فأدخله الجنة, فأذهب, فَمَنْ وجدت فِي قَلْبِهِ مثقال ذلك فأدخله الجنة, قَالَ: فَآتي الجبار وأأسجد له فَيَقُولُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ يا محمد, ও تكلم يُسْمَعْ مِنْكَ, وَاشْفَعْ تُشَفَعْ। فأرفع رأسي, فَأَقُولُ: أُمَّتِي أُمَّتِي। أي رب। فَيَقُولُ: اذهب, فمَنْ وجدت في قَلْبِهِ مِثْقَال حبة من خردل مِنْ إِيمَان।

"মানুষের ওপর কিয়ামতের দিবসকে দীর্ঘায়িত করা হবে, তখন তাদের একদল অপরদলকে বলবে: তোমরা আমাদেরকে মানব জাতির পিতা আদম আলাইহিস সালামের নিকট নিয়ে যাও, ফলে তিনি আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার নিকট সুপারিশ করেন, যাতে তিনি আমাদের মাঝে বিচার ফয়সালার কাজটি সমাপ্ত করেন; অতঃপর তারা আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে;... আর আমি আসব পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সাজদাহ করব, অতঃপর তিনি বলবেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি তোমার মাথা উঠান এবং কথা বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; আপনি কথা বলুন, আপনার কথা গ্রহণ করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তখন আমি বলব: আমার উম্মত! আমার উম্মত!! তখন তিনি বলবেন: তুমি তোমার উম্মতের নিকট যাও, তারপর যার অন্তরের মধ্যে যবের অর্ধেক দানা পরিমাণ ঈমান পাবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও; অতঃপর আমি যাব এবং যার অন্তরের মধ্যে এই পরিমাণ (ঈমান) পাব, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব; তিনি বলেন: তারপর আমি আসব পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সাজদাহ করব, অতঃপর তিনি বলবেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি তোমার মাথা উঠান এবং কথা বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; আপনি কথা বলুন, আপনার কথা গ্রহণ করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তখন আমি বলব: আমার উম্মত! আমার উম্মত!! হে আমার রব! তখন তিনি বলবেন: যাও, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান পাবে, (তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও)

টিকাঃ
৬৪. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা'আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি” হাদীস নং ৪০৮১।
৬৫. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা'আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি” হাদীস নং ৪০৬১।
৬৬. সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা'আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি"
৪১. 'কালেমা' দ্বারা " كُن " শব্দকে বুঝানো হয়েছে। যেহেতু এই শব্দটি বলার সাথে সাথে 'ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কুদরতে মাতৃগর্ভে আসেন, সেহেতু তাকে 'তাঁর কালেমা' বলা হয়।
৪২. 'রূহ' দ্বারা ফিরিশতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান ফিরিশতা জিবরীল আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে অথবা রূহ দ্বারা আল্লাহর আদেশকে বুঝানো হয়েছে।

📘 কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত 📄 কবীরা গুনাহকারী'র জন্য শাফা‘আত

📄 কবীরা গুনাহকারী'র জন্য শাফা‘আত


পূর্বে কতগুলো হাদীসের উদ্ধৃতি অতিবাহিত হয়েছে, যেগুলো কবীরা গুনাহে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য শাফা'আতের প্রমাণ বহন করে। যেমন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, আর তা হলো দ্বিতীয় হাদীস :

« يخرج من النار مَنْ قَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا الله... إلى آخره »।

“যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই ) বলবে, সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে।”

অনুরূপভাবে তৃতীয় হাদীস, আর ইবন 'আসেম 'আস-সুন্নাহ' নামক গ্রন্থে (২/৩৯৯) বলেন, আর ঐসব খবর বা হাদীসসমূহ, যা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি শাফা'আত ও তাঁকে সুপারিশকারী বানানো প্রসঙ্গে, তার দ্বারা আল্লাহ তাঁকে মর্যাদা দান করেছেন। আর তিনি যেসব ক্ষেত্রে সুপারিশ করবেন, সে ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে, যা প্রকৃত জ্ঞানকে আবশ্যক করে। আর মুতাওয়াতির পর্যায়ের জ্ঞানকে আবশ্যক করে, এমন খবর বা হাদীস অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির।

আল্লাহ আমাদেরকে এবং তাঁর ওপর ঈমানদার শাফা'আতের আশাকারী প্রত্যেক মুমিনকে সে শাফা'আত নসীব করুন।

২৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিয়ামতের দিন কোনো ব্যক্তি আপনার শাফা'আতের দ্বারা সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে ? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيث أَحَدٌ أَوَّلَ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا الله, فأدخله الجنة فأذهب فَمَنْ وَجَدْتُ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَلِكَ أَدْخَلْتُهُمْ الْجَنَّةَ وَفَرَغَ اللَّهُ مِنْ حِسَابِ النَّاسِ وَأَدْخَلَ مَنْ بَقِيَ مِنْ أُمَّتِي النَّارَ مَعَ أَهْلِ النَّارِ, فَيَقُولُ أَهْلُ النَّارِ مَا أَغْنَى عَنْكُمْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا تُشْرِكُونَ بِهِ شَيْئًا . فَيَقُولُ الْجَبَّارُ عَزَّ وَجَلَّ : فَبِعِزَّتِي لَأُعْتِقَنَّهُمْ مِنْ النَّارِ فَيُرْسِلُ إِلَيْهِمْ فَيَخْرُجُونَ وَقَدْ امْتَحَشُوا فَيَدْخُلُونَ فِي نَهَرِ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي غُثَاءِ السَّيْلِ. وَيُكْتَبُ بَيْنَ أَعْيُنِهِمْ: هَؤُلَاءِ عُتَقَاءُ الْجَبَّارِ عَزَّ وَجَلَّ»।

“হে আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারণ, আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা'আত লাভে সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি একান্ত আন্তরিকতার সাথে বলে: لَا إِلَهَ إِلَّا الله (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই); তাকে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব; অতঃপর আমি যাব এবং যার অন্তরের মধ্যে এই পরিমাণ (ঈমান) পাব, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মানুষের হিসাব নেওয়ার কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করবেন এবং আমার বাকি উম্মতকে জাহান্নামবাসীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ বলবে: তোমরা যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করতে এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করতে না, তা তোমাদের কোনো উপকারে আসল না; তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলবেন: আমার ইজ্জতের কসম! অবশ্যই আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করব। অতঃপর তিনি তাদের নিকট ফরমান পাঠাবেন, তারপর তার বের হয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে গেছে। অতঃপর তারা জীবন নদীতে প্রবেশ করবেন, তারপর তারা তাতে সজীব হয়ে উঠবে, যেমনিভাবে স্রোতের পলিতে শস্য অঙ্কুরিত হয় এবং তাদের কপালে লিখে দেওয়া হবে: 'এরা পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত।"

২৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لكل نبي دعوة مستজابة يدعو بها وأريد أن أختبئ دعوتي شفاعة لأمتي في الآخرة»।

"প্রত্যেক নবীর এমন একটি মাকবুল দো'আ রয়েছে, যার দ্বারা তিনি দো'আ করে থাকেন। আর আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দো'আর অধিকার আখিরাতে আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য মুলতবী রাখি।"

২৫. আবূ মূসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: خيرت بين الشفاعة وبين أن يدخل نصف أمتي الجنة, فاخترت الشفاعة لأنها أعم وأكفى, أترونها للمتقين؟ لا ولكنها للمذنبين الخطائين المتلوثين»।

"শাফা'আত এবং আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করা-এই দু'টির মধ্যে কোনো একটিকে গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, অতঃপর আমি শাফা'আতের বিষয়টিকে পছন্দ করেছি। কারণ, তা অনেক ব্যাপক ও পর্যাপ্ত। তোমরা কি তা মুত্তাকীদের জন্য মনে করেছ? না, বরং তা গুনাহগার অপরাধী পঙ্কিলদের জন্য।"

টিকাঃ
৬৭. আহমদ (৩/১৪৪ এবং ২৪৭) এবং তার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী; দারেমী (১/২৭-২৮)
৬৮. সহীহ বুখারী, দো'য়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক নবীর একটি মাকবুল দো'আ রয়েছে, হাদীস নং ৫৯৪৫।
৬৯. ইবন মাজাহ (২/১৪৪১); আল-বৃসীরী 'আয-যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলেন, তার সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।

📘 কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত 📄 জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নবী (সাঃ)-এর শাফা‘আত প্রসঙ্গে

📄 জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নবী (সাঃ)-এর শাফা‘আত প্রসঙ্গে


৩০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أمر بقوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, قال: فيقولون: يا محمد! ننشدك الشفاعة, قال: فأمر الملائكة أن يعفوا بهم. قال: فأنطلق ও استأذن على الرب عز ও جل فيأذن لي فأسجد ও أقول: يا رب, قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, قال: فيقول لي: انطلق فأخرج منهم, قال: فانطلق ও أخرج منهم من شاء الله أن أخرج, ثم ينادي الباقون: يا محمد! ننشدك الشفاعة, فأرجع إلى الرب فاستأذن فيؤذن لي فأسجد فيقال لي: ارفع رأسك, وسل تعطه واشفع تشفع, فأثني على الله بثناء لم يثن عليه أحد, أقول: ثم قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار, فيقول: انطلق فأخرج منهم, قال: فأقول يا رب, أخرج من قال: لا إله إلا الله, ومن كان في قلبه حبة من إيمان, قال: فيقول: يا محمد ! ليست تلك لك, تلك لي, قال: فانطلق ও أخرج من شاء الله أن أخرج, قال: ويبقى قوم فيدخلون النار, فيعيرهم أهل النار, فيقولون: أنتم كنتم تعبدون الله ও لا تشركون به أدخلكم النار, فيحزنون لذلك, قال: فيبعث الله ملكا بكف من ماء فينضح بها في النار, ও يعبطهم أهل النار, ثم يخرجون ও يدخلون الجنة فيقال: انطلقوا فتضيفوا الناس, فلو أنهم جميعهم نزلوا برجل واحد كان لهم عنده سعة ويسمون المحررين»।

"আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন, অতঃপর তারা বলবে: হে মুহাম্মাদ! আমরা আপনার নিকট শাফা'আতের সন্ধান চাচ্ছি; তিনি বলেন: অতঃপর আমি ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দিব, তারা যাতে তাদেরকে নিয়ে অবস্থান করে। তিনি বলেন: অতঃপর আমি ছুটে যাব এবং আমার রব আল্লাহ তা'আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দিবেন, তারপর আমি সাজদায় অবনত হব এবং আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; অতঃপর অবশিষ্টগণ ডাকবেন: হে মুহাম্মাদ! আমরা আপনার নিকট শাফা'আতের সন্ধান চাচ্ছি;

অতঃপর আমি পুনরায় আমার রবের নিকট নিকট ফিরে যাব, তারপর আমি তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দিবেন, তারপর আমি সাজদায় অবনত হব, তখন আমাকে বলা হবে: আপনি আপনার মাথা উঠান এবং চান, আপনাকে তা দেওয়া হবে; আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; অতঃপর আমি এমন প্রশংসার দ্বারা আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করব, এভাবে কোনো দিন কেউ তাঁর প্রশংসা করে নি। আমি বলব: অতঃপর আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তখন তিনি বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি বলব, হে আমার রব! আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব, যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই) বলেছে এবং যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে; তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন, হে মুহাম্মাদ! এটা আপনার জন্য নয়, এটা আমার জন্য; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; তিনি বলেন: একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তার সাথে শির্ক করতে না, তিনি তোমাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করালেন! তিনি বলেন: অতঃপর তারা এই জন্য দুঃখ পাবে ও চিন্তিত হয়ে পড়বে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এক অঞ্জলি পানিসহ একজন ফিরিশতা পাঠাবেন, অতঃপর সে তা দ্বারা জাহান্নামের আগুনকে সিক্ত করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ তাদের ব্যাপারে ঈর্ষা করবে; অতঃপর তারা বের হয়ে আসবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর বলা হবে: তোমরা যাও এবং জনগণের মেহমান হয়ে যাও; তারপর যদি তারা সকলেই এক লোকের নিকট অবতরণ করে, তাহলেও তার নিকট তাদেরকে ধারণ করার মত ক্ষমতা থাকবে। আর তাদেরকে 'মুক্তিপ্রাপ্ত' বলে আখ্যায়িত করা হবে।"

হাফেয ইবন কাসীর বলেন: এই হাদীসটি দাবি করে ঐসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই শাফা'আত তিনবার হওয়া, যাদের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, যাতে তারা তাতে প্রবেশ না করে, আর তাঁর কথা: أخرج মানে হলো: বাঁচাও; এর দলীল হলো তাঁর পরবর্তী কথা: ওيبقى (একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে) আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সঠিক বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন।

টিকাঃ
৭৪. আবূ বকর ইবন আবিদ্দুনিয়া, আল-আহওয়াল (الأهوال); আর এটি হাসান হাদীস, তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px