📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত 📄 ঋণগ্রস্তকে তার ঋণ পরিশোধে সহযোগিতা করা

📄 ঋণগ্রস্তকে তার ঋণ পরিশোধে সহযোগিতা করা


আবু সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি কিছু ফসল খরিদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতঃপর তার উপর ঋণের বোঝা খুব বেড়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ، فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِغُرَمَائِهِ: «خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ، وَلَيْسَ لَكُمْ إِلَّا ذَلِكَ»
"তোমরা তাকে সদকা দাও। অতঃপর সবাই তাকে সদকা দিলো। কিন্তু তা তার ঋণ সমপরিমাণ হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঋণদাতাদেরকে বললেন, তোমরা যা পাচ্ছো তাই নিয়ে যাও। এর চাইতে বেশি আর তোমরা পাচ্ছো না"। ⁸⁸

টিকাঃ
⁸⁸ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৬৫৫

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত 📄 সুযোগ পেলেই কাউকে কিছু খানা খাওয়ানো

📄 সুযোগ পেলেই কাউকে কিছু খানা খাওয়ানো


আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীল বান্দাহদের গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينَا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا * إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا فَوَقَتَهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّتْهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا وَجَزَيْهُم بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا ﴾ [الانسان: ٧، ١٢]
"তারা মানত পুরা করে এবং সে দিনকে ভয় করে যে দিনের বিপদ হবে অত্যন্ত ব্যাপক। তারা খাবারের প্রতি নিজেদের প্রচন্ড আসক্তি থাকা সত্ত্বেও (তা নিজেরা না খেয়ে) অভাবী, এতিম ও বন্দীকে খাওয়ায়। তারা বলেঃ আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াচ্ছি একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য। আমরা তোমাদের নিকট থেকে এর কোনো প্রতিদান চাই না; না চাই কোনো ধরনের কৃতজ্ঞতা। আমরা তো আমাদের প্রভুর কাছ থেকে এক চরম ভয়ঙ্কর দিনের ভয় পাচ্ছি। তাই তো আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সে দিনের কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন অধিক আনন্দ ও উৎফুল্লতা। উপরন্তু তাদের ধৈর্যশীলতার দরুন তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী কাপড়”। [সূরা আল-ইনসান (দাহর), আয়াত: ৭-১২]
সাধারণত কাফির ও জাহান্নামীরাই কাউকে খানা খাওয়ায় না এবং খাওয়াতে উৎসাহও দেয় না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ * عَنِ الْمُجْرِمِينَ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ * وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ )) [المدثر: ٣٨، ৪৬]
"প্রতিটি ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। তবে ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নয়। তারা তো থাকবে জান্নাতে। বরং তারা অপরাধীদেরকে জিজ্ঞাসা করবেঃ তোমরা কেন সাক্কার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হলে? তখন তারা বলবে, আমরা তো সালাতীই ছিলাম না। অভাবীদেরকে খানাও খাওয়াতাম না। বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সাথেই (ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী) সমালোচনায় অংশ গ্রহণ করতাম। উপরন্তু আমরা ছিলাম কর্মফল দিবসে অবিশ্বাসী”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮-৪৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿أَرَمَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُ الْيَتِيمَ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ﴾ [الماعون: ١، ٣]
"তুমি কি দেখেছো তাকে যে কর্মফলকে মিথ্যা বলে। সেই তো ওই ব্যক্তি যে এতিমকে (ঘৃণাভরে) তাড়িয়ে দেয়। এমনকি সে কোনো অভাবীকে খানা খাওয়াতেও কাউকে উৎসাহ দেয় না”। [সূরা আল-মাউন, আয়াত: ১-৩]
আব্দুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوْا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ؛ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
"হে মানবসকল! তোমরা একে অপরকে সালাম দাও। মানুষকে খানা খাওয়াও। রাত্রিবেলায় তাহাজ্জুদের সালাত পড়ো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"। ⁸⁹
আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوا السَّلَامَ ؛ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
"তোমরা দয়াময় প্রভুর ইবাদাত করো। মানুষকে খানা খাওয়াও। একে অপরকে সালাম দাও তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"। ⁹⁰

টিকাঃ
⁸⁹ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৪৯
⁹⁰ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৫

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত 📄 বিশুদ্ধ ধর্মীয় বই-পুস্তক ও উপকরণ বিতরণ করা

📄 বিশুদ্ধ ধর্মীয় বই-পুস্তক ও উপকরণ বিতরণ করা


মানুষ মৃত্যুর পরও যে আমলগুলোর সর্বদা সাওয়াব পেতে থাকবে তার মধ্যে মানুষের মাঝে যে কোনো ধরনের বিশুদ্ধ ধর্মীয় বই-পুস্তক, কুরআন মাজীদ, তাফসীর, সহীহ হাদীস, ওয়ায-নসীহতের বিশুদ্ধ অডিও-ভিডিও কিংবা সিডি ক্যাসেট ও লিফলেট ইত্যাদি বিতরণ করা অন্যতম।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، وَعِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، وَوَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
"কোনো মানুষ মারা গেলে তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল তার মৃত্যুর পরও চালু থাকেঃ দীর্ঘস্থায়ী সদকা, এমন জ্ঞান যা দিয়ে মানুষ তার মৃত্যুর পরও লাভবান হয়, এমন নেককার সন্তান যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য দো'আ করে"। ⁹¹
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ المُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ، وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ، وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ، أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ، أَوْ بَيْتًا لَابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ، أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ، أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ تَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ
"একজন মু'মিন ব্যক্তি মৃত্যুর পরও যে আমলগুলোর সাওয়াব পেতে থাকবে তা হচ্ছে, এমন লাভজনক জ্ঞান যা সে কাউকে সরাসরি শিখিয়েছে এবং প্রচার করেছে (তা যেভাবেই হোক না কেন)। এমন নেককার সন্তান যা সে মৃত্যুর সময় রেখে গেছে। এমন কুরআন যা সে মিরাস রেখে গেছে। এমন মসজিদ যা সে বানিয়েছে। এমন ঘর যা সে মুসাফিরের জন্য বানিয়েছে। এমন খাল যা সে খনন করেছে। এমন সদকা যা সে সুস্থ ও জীবিত থাকাবস্থায় নিজ সম্পদ থেকে দিয়েছে এবং যার সাওয়াব তার মৃত্যুর পরও তার নিকট পৌঁছবে”। ⁹²

টিকাঃ
⁹¹ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৭৬
⁹² সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৪২; সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৪৯

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত 📄 ইসলামী পুস্তক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করা

📄 ইসলামী পুস্তক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করা


মানুষ মৃত্যুর পরও যে আমলগুলোর সর্বদা সাওয়াব পেতে থাকবে তার মধ্যে মানুষের মাঝে কুরআন মাজীদ, তাফসীর, সহীহ হাদীস কিংবা যে কোনো বিশুদ্ধ ধর্মীয় বই-পুস্তক, লিফলেট, দেওয়ালিকা ইত্যাদি ফ্রি বিতরণের জন্য দেশে দেশে অত্যাধুনিক প্রিন্টিং প্রেস অথবা আধুনিক রুচি ও উচ্চ মান সম্পন্ন ইসলামী পুস্তক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম। যা উপরোল্লিখিত হাদীসগুলো থেকে সহজেই বুঝা যায়।
প্রাচীন যুগে ইসলাম প্রচারের কাজগুলো একমাত্র আলিমগণই করতেন। কিন্তু বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষতার সুবাদে এ কাজ আর তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রইলো না। এখন যে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি উক্ত কাফেলায় খুব সহজেই শামিল হতে পারছেন। কেউ নিজে লিখতে বা বলতে না পারলেও কারোর লেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পান্ডুলিপি ছাপানোর কাজে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করে কিংবা কারোর লেখা বই বা ওয়াযের ক্যাসেট মানুষের মাঝে বিতরণ করে এ মহান প্রচার কাজে অংশগ্রহণ করা যায়। আশা করি কোনো বুদ্ধিমান মানুষ এ সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে অবহেলা করবেন না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية