📄 জনকল্যাণে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: سَقْيُ الْمَاءِ»
"জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ সদকাটি সবচাইতে উত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা"। ⁸²
সা'দ ইবন 'উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ : فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: سَقْيُ الْمَاءِ»
"একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি বললাম, কোন্ সদকাটি সবচাইতে উত্তম হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা"। ⁸³
সা'দ বলেন, তখন আমি একটি কুয়া খনন করে বললাম, এটি সা'দের মার জন্য।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَيْسَ صَدَقَةٌ أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ مَاءٍ»
"পানি সরবরাহের চাইতে আরো বেশি সাওয়াবের সদকা আর নেই"। ⁸⁴
জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبُ مِنْهُ كَبِدٌ حَرَّى مِنْ جِنِّ وَلَا إِنِّسٍ وَلَا طَائِرٍ إِلَّا آجَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
"কেউ কোনো কুয়া খনন করলে তা থেকে মানুষ, জিন, পাখি তথা যে কোনো পিপাসার্ত প্রাণীই পান করুক না কেন আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে এর সাওয়াব দিবেন"। ⁸⁵
জনৈক ব্যক্তি কোনো মানুষকে নয় বরং একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করলেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيق، اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ، فَوَجَدَ بِقُرًا فَنَزَلَ فِيْهَا، فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ، فَإِذَا كَلْبُ يَلْهَتُ ، يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَ بِي، فَنَزَلَ الْبِثْرَ فَمَلَأَ خُفَّهُ ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيْهِ فَسَقَى الْكَلْبَ، فَشَكَرَ اللهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ، وَفِي رِوَايَةٍ : فَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ أَجْرًا؟ فَقَالَ: فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرُ
"একদা জনৈক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো। এমতাবস্থায় হঠাৎ তার কঠিন পিপাসা লেগে গেলো। পথিমধ্যে সে একটি কুয়া দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করে বেরিয়ে আসলো। উপরে উঠে সে দেখতে পেলো একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে। পিপাসায় সে কাঁচা মাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বললো, আমার যেমন পিপাসা লেগেছিলো তেমনি তো এ কুকুরটিরও পিপাসা লেগেছে। তখন সে আবারো কুয়ায় নেমে নিজের (চামড়ার) মোজায় পানি ভর্তি করে উপরে উঠলো এবং কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তা'আলা এর প্রতিদানস্বরূপ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাকে জান্নাত দিয়ে দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুর পরিচর্যা করলেও কি আমরা সাওয়াব পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিটি প্রাণীর পরিচর্যায়ই সাওয়াব রয়েছে"। ⁸⁶
টিকাঃ
⁸² সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬১
⁸³ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬২
⁸⁴ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬০
⁸⁵ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬৩
⁸⁶ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪৪
📄 কাউকে কোনো দুর্বল পশু ধার দেওয়া
আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أَرْبَعُوْنَ خَصْلَةً أَعْلَاهُنَّ مَنِيْحَةُ الْعَنْزِ، مَا يَعْمَلُ رَجُلٌ بِخَصْلَةٍ مِنْهَا رَجَاءَ ثَوَابِهَا، وَتَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا، إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ
"চল্লিশটি কাজ এমন রয়েছে যার কোনো একটিও কেউ সাওয়াবের আশায় এবং পরকালের প্রাপ্তির উপর বিশ্বাস করে সম্পাদন করলে আল্লাহ তা'আলা এর বিপরীতে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তবে তার মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে কোনো দুধেল ছাগী কাউকে ধার দেওয়া"। ⁸⁷
টিকাঃ
⁸⁷ সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১৬৮৩
📄 ঋণগ্রস্তকে তার ঋণ পরিশোধে সহযোগিতা করা
আবু সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি কিছু ফসল খরিদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতঃপর তার উপর ঋণের বোঝা খুব বেড়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ، فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِغُرَمَائِهِ: «خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ، وَلَيْسَ لَكُمْ إِلَّا ذَلِكَ»
"তোমরা তাকে সদকা দাও। অতঃপর সবাই তাকে সদকা দিলো। কিন্তু তা তার ঋণ সমপরিমাণ হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঋণদাতাদেরকে বললেন, তোমরা যা পাচ্ছো তাই নিয়ে যাও। এর চাইতে বেশি আর তোমরা পাচ্ছো না"। ⁸⁸
টিকাঃ
⁸⁸ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৬৫৫
📄 সুযোগ পেলেই কাউকে কিছু খানা খাওয়ানো
আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীল বান্দাহদের গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينَا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا * إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا فَوَقَتَهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّتْهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا وَجَزَيْهُم بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا ﴾ [الانسان: ٧، ١٢]
"তারা মানত পুরা করে এবং সে দিনকে ভয় করে যে দিনের বিপদ হবে অত্যন্ত ব্যাপক। তারা খাবারের প্রতি নিজেদের প্রচন্ড আসক্তি থাকা সত্ত্বেও (তা নিজেরা না খেয়ে) অভাবী, এতিম ও বন্দীকে খাওয়ায়। তারা বলেঃ আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াচ্ছি একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য। আমরা তোমাদের নিকট থেকে এর কোনো প্রতিদান চাই না; না চাই কোনো ধরনের কৃতজ্ঞতা। আমরা তো আমাদের প্রভুর কাছ থেকে এক চরম ভয়ঙ্কর দিনের ভয় পাচ্ছি। তাই তো আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সে দিনের কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন অধিক আনন্দ ও উৎফুল্লতা। উপরন্তু তাদের ধৈর্যশীলতার দরুন তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী কাপড়”। [সূরা আল-ইনসান (দাহর), আয়াত: ৭-১২]
সাধারণত কাফির ও জাহান্নামীরাই কাউকে খানা খাওয়ায় না এবং খাওয়াতে উৎসাহও দেয় না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ * عَنِ الْمُجْرِمِينَ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ * وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ )) [المدثر: ٣٨، ৪৬]
"প্রতিটি ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। তবে ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নয়। তারা তো থাকবে জান্নাতে। বরং তারা অপরাধীদেরকে জিজ্ঞাসা করবেঃ তোমরা কেন সাক্কার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হলে? তখন তারা বলবে, আমরা তো সালাতীই ছিলাম না। অভাবীদেরকে খানাও খাওয়াতাম না। বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সাথেই (ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী) সমালোচনায় অংশ গ্রহণ করতাম। উপরন্তু আমরা ছিলাম কর্মফল দিবসে অবিশ্বাসী”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮-৪৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿أَرَمَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُ الْيَتِيمَ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ﴾ [الماعون: ١، ٣]
"তুমি কি দেখেছো তাকে যে কর্মফলকে মিথ্যা বলে। সেই তো ওই ব্যক্তি যে এতিমকে (ঘৃণাভরে) তাড়িয়ে দেয়। এমনকি সে কোনো অভাবীকে খানা খাওয়াতেও কাউকে উৎসাহ দেয় না”। [সূরা আল-মাউন, আয়াত: ১-৩]
আব্দুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوْا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ؛ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
"হে মানবসকল! তোমরা একে অপরকে সালাম দাও। মানুষকে খানা খাওয়াও। রাত্রিবেলায় তাহাজ্জুদের সালাত পড়ো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"। ⁸⁹
আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوا السَّلَامَ ؛ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
"তোমরা দয়াময় প্রভুর ইবাদাত করো। মানুষকে খানা খাওয়াও। একে অপরকে সালাম দাও তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"। ⁹⁰
টিকাঃ
⁸⁹ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৪৯
⁹⁰ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৫