📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারীর সঠিক বিচার-বুদ্ধির পরিচয়
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا﴾
الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ الْمِيثَاقَ وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ ﴿ الْأَلْبَابِ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَzَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَابِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ ﴾ [الرعد: ١٩، ٢٤]
"তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে বিশ্বাস করে সে আর অন্ধ কি সমান? বস্তুতঃ সত্যিকার বিবেকবানরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। যারা আল্লাহ তা'আলাকে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং কোনো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। যারা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশিত সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখে এবং তাঁকে ভয় পায়। আরো ভয় পায় কিয়ামতের কঠিন হিসাবকে। যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, সালাত কায়েম করে, তাঁর দেওয়া সম্পদ তাঁরই পথে গোপনে ও প্রকাশ্যে অকাতরে ব্যয় করে এবং ভালো দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে। তাদের জন্যই রয়েছে শুভ পরিণাম স্থায়ী জান্নাত। যাতে তারা, তাদের সৎকর্মশীল পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততি প্রবেশ করবে। ফিরিশতাগণ হাজির হবে তাদের সম্মানার্থে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। তারা বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। কারণ, তোমরা (দুনিয়াতে বহু) ধৈর্য ধারণ করেছিলে। কতোই না চমৎকার এ শুভ পরিণাম”। [সূরা আর-রা'দ, আয়াত: ১৯-২৪]
📄 সদকা-খয়রাতকারী কুরআন ও আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِايَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبِّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴾ [السجدة: ١٥، ١٦]
“শুধুমাত্র তারাই আমার আয়াত ও নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে যাদেরকে এ ব্যাপারে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে। উপরন্তু তারা এ ব্যাপারে এতটুকুও অহংকার দেখায় না। তারা (রাত্রিবেলায়) আরামের শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রভুকে ডাকে আশা ও আশঙ্কায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে আমার পথে সদকা-খয়রাত করে”। [সূরা আস-সাজদা, আয়াত: ১৫-১৬]
📄 সদকা-খয়রাতকারী সত্যিকারার্থেই বিনয়ী
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَمُ فَإِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَلَهُ وَ أَسْلِمُوا وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ ﴾ [الحج: ٣٤]
“(হে রাসূল!) তুমি সুসংবাদ দাও বিনয়ীদেরকে। যাদের সামনে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে উঠে এবং যারা বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে ও সালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে আমি যা রিষ্ক দিয়েছি তা থেকে (তাঁর পথে) ব্যয় করে"। [সূরা আল-হজ, আয়াত: ৩৪-৩৫]
📄 সদকা-খয়রাত জান্নাতের পথকে সহজ করে দেয়
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى ۞ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى ۞ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَىٰ وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَىٰ ۞ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَىٰ ۞ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَىٰ ﴿الليل: ٥، ١٠﴾
"সুতরাং যে ব্যক্তি (একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য তাঁরই পথে) দান করলো, আল্লাহভীরু হলো এবং পুণ্যের প্রতিদান তথা জান্নাতকে সত্য বলে জ্ঞান করলো অচিরেই আমি তার জন্য পুণ্য তথা জান্নাতের পথকে সহজ করে দেবো। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কার্পণ্য করলো ও নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলো এবং পুণ্যের প্রতিদান তথা জান্নাতকে মিথ্যা বলে জ্ঞান করলো অচিরেই আমি তার জন্য কঠিন পরিণাম তথা জাহান্নামের পথকে সহজ করে দেবো”। [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-১০]