📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত > 📄 সদকা-খয়রাত ক্ষমা ও জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম

📄 সদকা-খয়রাত ক্ষমা ও জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴾ [ال عمران: ١٣٣، ١٣٤]
"তোমরা নিজ প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের প্রতি দ্রুত ধাবিত হও। যার প্রসারতা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সদৃশ। যা তৈরি করা হয়েছে আল্লাহভীরুদের জন্য। যারা স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছলাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার পথে দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ءَاخِذِينَ مَا ءَاتَلَهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ الَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّابِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾ [الذاريات: ١٥، ١٩]
"সে দিন মুত্তাকীরা থাকবেন প্রস্রবণ বিশিষ্ট জান্নাতে। তাঁরা সেখানে উপভোগ করবেন যা তাঁদের প্রভু তখন তাঁদেরকে দিবেন। কারণ, তাঁরা ছিলেন ইতোপূর্বে দুনিয়ার বুকে সৎকর্মপরায়ণ। তাঁরা রাত্রি বেলায় কম ঘুমাতো এবং শেষ রাতে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো। তাদের সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের অধিকার”। [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৫-১৯]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত > 📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারী প্রকৃত ঈমানদার

📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারী প্রকৃত ঈমানদার


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ ءَايَتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ * الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ أُوْلَابِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ )) [الانفال: ٢، ٤]
"সত্যিকারের মু'মিন ওরাই যাদের সামনে আল্লাহ তা'আলার কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরগুলো ভয়ে কেঁপে উঠে, তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করা হলে তাদের ঈমান আরো বেড়ে যায়, উপরন্তু তারা সর্বদা নিজ প্রভুর উপর নির্ভরশীল থাকে। যারা সালাত কায়েম করে এবং তাঁর দেওয়া সম্পদ থেকে তাঁর পথে সদকা করে। তারাই হচ্ছে প্রকৃত ঈমানদার। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর নিকট সুউচ্চ আসন, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা"। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২-৪]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত > 📄 সদকা-খয়রাত গুনাহ থেকে পবিত্র করে

📄 সদকা-খয়রাত গুনাহ থেকে পবিত্র করে


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَوْتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ * أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ، وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴾ [التوبة: ١٠٣، ١٠٤]
“(হে নবী!) তুমি তাদের সম্পদ থেকে সদকা-খয়রাত নিয়ে তাদেরকে পাক ও পবিত্র করো এবং তাদের জন্য দো'আ করো। নিশ্চয় তোমার দো'আ তাদের জন্য শান্তিস্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা তো সবই শোনেন এবং সবই জানেন। তারা কি এ ব্যাপারে অবগত নয় যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদের দান-খয়রাত গ্রহণ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবা কবুলকারী অতীব দয়ালু"। [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১০৩-১০৪]
জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'ব ইবন 'উজরাহ রা. কে উদ্দেশ্য করে বলেন,
«وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النَّارَ»
"সদকা-খয়রাত গুনাহসমূহ মুছিয়ে দেয় যেমনিভাবে নিভিয়ে দেয় পানি আগুনকে"।¹

টিকাঃ
¹ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৪১৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২১০

📘 কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সদকা খয়রাত > 📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারীর সঠিক বিচার-বুদ্ধির পরিচয়

📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারীর সঠিক বিচার-বুদ্ধির পরিচয়


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا﴾
الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ الْمِيثَاقَ وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ ﴿ الْأَلْبَابِ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَzَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَابِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ ﴾ [الرعد: ١٩، ٢٤]
"তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে বিশ্বাস করে সে আর অন্ধ কি সমান? বস্তুতঃ সত্যিকার বিবেকবানরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। যারা আল্লাহ তা'আলাকে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং কোনো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। যারা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশিত সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখে এবং তাঁকে ভয় পায়। আরো ভয় পায় কিয়ামতের কঠিন হিসাবকে। যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, সালাত কায়েম করে, তাঁর দেওয়া সম্পদ তাঁরই পথে গোপনে ও প্রকাশ্যে অকাতরে ব্যয় করে এবং ভালো দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে। তাদের জন্যই রয়েছে শুভ পরিণাম স্থায়ী জান্নাত। যাতে তারা, তাদের সৎকর্মশীল পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততি প্রবেশ করবে। ফিরিশতাগণ হাজির হবে তাদের সম্মানার্থে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। তারা বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। কারণ, তোমরা (দুনিয়াতে বহু) ধৈর্য ধারণ করেছিলে। কতোই না চমৎকার এ শুভ পরিণাম”। [সূরা আর-রা'দ, আয়াত: ১৯-২৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00