📄 নিজের পছন্দনীয় বস্তু সদকা করা মানে সমূহ কল্যাণের নাগাল পাওয়া
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴾ [آل عمران: ٩٢]
"তোমরা কখনোই কল্যাণের নাগাল পাবে না যতক্ষণ না তোমরা নিজের পছন্দনীয় বস্তু সদকা করো। তোমরা যা কিছুই আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যয় করো তা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২]
📄 সদকা দেওয়ার আদেশের মধ্যেও মহা কল্যাণ রয়েছে
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لَّا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [النساء: ١١٤]
"তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই। তবে যে ব্যক্তি সদকা-খয়রাত, সৎ কাজ ও মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয় তাতে অবশ্যই কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় যে ব্যক্তি এমন করবে তাকে আমি অচিরেই মহা পুরস্কার দেবো”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৪]
📄 সদকা-খয়রাত ক্ষমা ও জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴾ [ال عمران: ١٣٣، ١٣٤]
"তোমরা নিজ প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের প্রতি দ্রুত ধাবিত হও। যার প্রসারতা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সদৃশ। যা তৈরি করা হয়েছে আল্লাহভীরুদের জন্য। যারা স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছলাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার পথে দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ءَاخِذِينَ مَا ءَاتَلَهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ الَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّابِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾ [الذاريات: ١٥، ١٩]
"সে দিন মুত্তাকীরা থাকবেন প্রস্রবণ বিশিষ্ট জান্নাতে। তাঁরা সেখানে উপভোগ করবেন যা তাঁদের প্রভু তখন তাঁদেরকে দিবেন। কারণ, তাঁরা ছিলেন ইতোপূর্বে দুনিয়ার বুকে সৎকর্মপরায়ণ। তাঁরা রাত্রি বেলায় কম ঘুমাতো এবং শেষ রাতে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো। তাদের সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের অধিকার”। [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৫-১৯]
📄 সদকা-খয়রাত প্রদানকারী প্রকৃত ঈমানদার
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ ءَايَتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ * الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ أُوْلَابِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ )) [الانفال: ٢، ٤]
"সত্যিকারের মু'মিন ওরাই যাদের সামনে আল্লাহ তা'আলার কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরগুলো ভয়ে কেঁপে উঠে, তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করা হলে তাদের ঈমান আরো বেড়ে যায়, উপরন্তু তারা সর্বদা নিজ প্রভুর উপর নির্ভরশীল থাকে। যারা সালাত কায়েম করে এবং তাঁর দেওয়া সম্পদ থেকে তাঁর পথে সদকা করে। তারাই হচ্ছে প্রকৃত ঈমানদার। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর নিকট সুউচ্চ আসন, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা"। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২-৪]