📄 আল্লাহর পথে সদকা-খয়রাত করলে তা বহুগুণে পাওয়া যায়
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ مَن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُو لَهُ وَ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْضُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴾ [البقرة: ٢٤٥]
"তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে আল্লাহ তা'আলাকে উত্তম ঋণ দিবে তথা আল্লাহ তা'আলার পথে সদকা করবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে তা বহু বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা'আলাই কাউকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল করেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত হতে হবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿ مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَلَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَعِفُ لِمَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ * الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنفَقُوا مَنَّا وَلَا أَذًى لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴾ [البقرة: ٢٦١، ٢٦২]
"যারা আল্লাহ তা'আলার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্য বীজ। যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে সাতটি শীষ। প্রত্যেক শীষে রয়েছে শত শস্য। আর আল্লাহ তা'আলা যার জন্য ইচ্ছে করবেন তাকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন মহান দাতা ও মহাজ্ঞানী। যারা আল্লাহ তা'আলার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে এবং সে জন্য কাউকে খোঁটাও দেয় না, না দেয় কষ্ট। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। বস্তুতঃ তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা কখনো চিন্তাগ্রস্তও হবে না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬১-২৬২]
তিনি আরো বলেন,
﴿ إِن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ ﴾ [التغابن: ١٧]
"তোমরা যদি আল্লাহ তা'আলাকে উত্তম ঋণ দান করো তথা তাঁর পথে সদকা-খয়রাত করো তা হলে তিনি তোমাদেরকে তা বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা'আলা মহা গুণগ্রাহী ও অত্যন্ত সহনশীল”। [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৭]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ ﴾ [الحديد: ١٨]
"নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারী এবং যারা আল্লাহ তা'আলাকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী সাওয়াব এবং তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত সম্মানজনক মহা পুরস্কার"। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৮]
তিনি আরো বলেন,
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَوا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ﴿ ﴾ [البقرة: ٢٧٦]
"আল্লাহ তা'আলা সুদের বরকত উঠিয়ে নেন এবং সদকা বর্ধিত করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা'আলা অতি কৃতঘ্ন তথা কাফির পাপাচারীদেরকে ভালোবাসেন না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৬]
কোনো সদকায় সাতটি গুণ পাওয়া গেলে তা বহুগুণে বেড়ে যায়। যা নিম্নরূপঃ
ক. সদকা হালাল হওয়া।
খ. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সদকা করা।
গ. দ্রুত সদকা করা।
ঘ. পছন্দনীয় বস্তু সদকা করা।
ঙ. লুকিয়ে সদকা করা।
চ. সদকা দিয়ে তুলনা না দেওয়া।
ছ. সদকাগ্রহীতাকে কোনোভাবে কষ্ট না দেওয়া।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَقْبَلُ اللَّهُ إِلَّا الطَّيِّبَ، وَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ، كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الجبل
"যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ সদকা করবে (আর আল্লাহ তা'আলা তো একমাত্র হালাল বস্তুই গ্রহণ করে থাকেন) আল্লাহ তা'আলা তা ডান হাতে গ্রহণ করবেন। অতঃপর তা তার কল্যাণেই বর্ধিত করবেন যেমনিভাবে তোমাদের কেউ একটি ঘোড়ার বাচ্চাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করে বর্ধিত করে। এমনকি আল্লাহ তা'আলা পরিশেষে সে খেজুর সমপরিমাণ বস্তুটিকে একটি পাহাড় সমপরিমাণ বানিয়ে দেন"।¹
টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১০
📄 আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সদকা-খয়রাত করলে তা বৃথা যায় না
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَتَثْبِيتًا مِنْ أَنفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِن لَّمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلُّ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴾ [البقرة: ٢٦٥]
"যারা পরকালের প্রতিদানে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্যই তাঁর পথে দান করে তাদের উপমা যেমন উঁচু জমিনে অবস্থিত একটি উদ্যান। তাতে প্রবল বৃষ্টি হলে ফসল হয় দ্বিগুণ। আর তা না হলে শিশিরই সে জমিনের জন্য যথেষ্ট। তোমরা যাই করছো আল্লাহ তা'আলা তা সবই দেখছেন”। [আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
لَّيْسَ عَلَيْكَ هُدَهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَاءُ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنفُسِكُمْ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴾ [البقرة: ٢৭২]
"তোমরা যে ধন-সম্পদগুলো আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যয় করো তা তো তোমাদের নিজেদের জন্যই। তবে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করো না। যা কিছুই তোমরা আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যয় করবে তা তোমাদেরকে পূর্ণভাবেই দেওয়া হবে। এতটুকুও তোমাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭২]
তিনি আরো বলেন,
وَلَا يُنفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً وَلَا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾ [التوبة: ١٢١]
"তেমনিভাবে তারা ছোট-বড় যা কিছুই (আল্লাহ তা'আলার পথে) ব্যয় করুক না কেন এবং যে প্রান্তরই তারা অতিক্রম করুক না কেন তা সবই তাদের নামে লেখা হবে যেন আল্লাহ তা'আলা তাদের কৃতকর্মসমূহের অতি উত্তম বিনিময় দিতে পারেন"। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২১]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿ وَمَا أَنفَقْتُم مِّن شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ، وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ﴾ [সাবা: ৩৯]
"তোমরা যা কিছু দান করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিদান অবশ্যই দিবেন। তিনি তো হলেন উত্তম রিযিকদাতা”। [সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ» ب: 4684، م: 399
"আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে বনী আদম! তুমি দান করো। আমিও তোমাকে দান করবো"। ²
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا اسْتُوْدِعَ شَيْئًا حَفِظَهُ»
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার নিকট কোনো কিছু আমানত রাখা হলে তিনি তা হিফাযত করেন"। ³
অনেকেই একটি টাকা সদকা করতে এক হাজার বার ভাবেন, এ টাকাটা কি কাজে লাগবে? এ টাকাটা কোথায় যাবে? এ লোকটার উপর তো আস্থা রাখা যায় না? মনে হয় সে খেয়ে ফেলবে। ইত্যাদি ইত্যাদি। আরে আপনাকে এতো কিছু চিন্তা করতে হবে না। আপনি শুধু এতটুকুই দেখবেন যে, যদি লোকটি নিজের জন্যেই আপনার কাছে সদকা চেয়ে থাকে তা হলে লোকটি কি ব্যক্তিগতভাবে সদকা খাওয়ার উপযুক্ত? না কি নয়? তবে এ ব্যাপারটা তার বাহ্যিক রূপ দেখলেই সাধারণত অনুমান করা যায়। তার সম্পর্কে প্রচুর খোঁজাখুঁজির কোনো প্রয়োজন নেই। বেশি খোঁজাখুঁজি করা মানে সদকা না দেওয়ারই ভান করা।
একদা দু' ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায়ী হজে তাঁর নিকট সদকা প্রার্থনা করে। তখন তিনি মানুষদের মাঝে সদকা বন্টন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার নিজ চক্ষু নিম্নগামী করে নেন। তাদেরকে সুঠাম ও শক্তিশালীই মনে হচ্ছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
«إِنَّ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا، وَلَا حَظَّ فِيهَا لِغَنِيَّ، وَلَا لِقَوِيٌّ مُكْتَسِبٍ»
"যদি তোমরা চাও তা হলে আমি তোমাদেরকে সদকা দিতে পারি। তবে মনে রাখবে, কোনো ধনী ও শক্তিশালী কর্মক্ষম ব্যক্তি সদকা খেতে পারে না তথা সদকায় তার কোনো অধিকার নেই"।⁴
আর যদি লোকটি নিজের জন্য সদকা না চেয়ে বরং তিনি অন্য কোনো ধর্মীয় কাজের জন্য সদকা চান তখন আপনার দেখার বিষয় হবে, লোকটি কি নিজেই কাজটি করতে যাচ্ছেন, না কি অন্য জন। যদি তিনি নিজেই কাজটি করতে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তা হলে দেখবেন, লোকটি কি উক্ত কাজ করার উপযুক্ততা রাখেন, না কি রাখেন না? যদি তিনি সত্যিই উক্ত কাজ সম্পাদনের উপযুক্ততা রেখে থাকেন এবং এ সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে আপনার ধারণা হয় তা হলে তাঁর দিকে সহযোগিতার হাত যথাসাধ্য বাড়াবেন। আর যদি তিনি অথবা তিনি যাঁর প্রতিনিধি কেউই উক্ত কাজের পূর্ণ অভিজ্ঞতা রাখেন না।
আর কাজটি উক্ত সমাজে সম্পাদিত হওয়া খুবই প্রয়োজন তা হলে আপনার কাজ হবে, তাঁকে সহযোগিতা না করে এ কাজের যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে তাঁর হাতে উক্ত কাজের দায়িত্ব অর্পণ করে তাঁর যথাসাধ্য সহযোগিতা করা। উপরন্তু তিনি টাকাটি কাজে লাগাবেন, না কি খেয়ে ফেলবেন এ জাতীয় চিন্তা অমূলক। কারণ, এ জাতীয় চিন্তা করা মানে কাজটি না করার ভান করা। তবে লোকটির অর্থ আত্মসাতের পূর্ব রেকর্ড থাকলে তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে এবং তাঁর বিকল্প খুঁজতে হবে।
এতটুকু বিশ্বাসের উপর আপনি যদি কাউকে কোনো সহযোগিতা করলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি উক্ত কাজের অনুপযুক্ত প্রমাণিত হলেন অথবা তাঁর দ্বারা আত্মসাতের ন্যায় ঘৃণ্য কাজটি সংঘটিত হলো অথবা তিনি নিজেই সদকা খাওয়ার অনুপযুক্ত প্রমাণিত হলো তা হলে আপনার দান এতটুকুও বৃtha যাবে না। বরং তা আপনি আল্লাহ তা'আলার নিকট পূর্ণভাবেই পেয়ে যাবেন।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
قَالَ رَجُلٌ : لَا تَصَدَّقَنَّ اللَّيْلَةَ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ، قَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ، لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِي، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُوْنَ: تُصُدِّقَ عَلَى غَنِي، قَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى غَنِي، لَا تَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُوْنَ: تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ وَعَلَى غَنِي وَعَلَى سَارِقٍ، فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ: أَمَّا صَدَقَتُكَ فَقَدْ قُبِلَتْ، أَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُ بِهَا عَنْ زِنَاهَا، وَلَعَلَّ الْغَنِيَّ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَعَلَّ السَّارِقَ يَسْتَعِفُ بِهَا عَنْ سَرِقَتِهِ»
"জনৈক ব্যক্তি মনে মনে বললো, আজ রাত আমি সদকা দেবো। যখন রাত হলো তখন সে সদকা নিয়ে বের হলো এবং জনৈকা ব্যভিচারিণীকে তা দিয়ে দিলো। সকাল বেলায় লোকেরা বলতে শুরু করলে, আজ রাত জনৈকা ব্যভিচারিণীকে সদকা দেওয়া হয়েছে। তখন সে বললো, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য। আমার সদকাটা তো পড়ে গেলো জনৈকা ব্যভিচারিণীর হাতে। আমি আবারো সদকা দেবো।
যখন রাত হলো তখন সে সদকা নিয়ে আবারো বের হলো এবং জনৈক ধনী ব্যক্তিকে তা দিয়ে দিলো। সকাল বেলায় লোকেরা বলতে শুরু করলে, আজ রাত জনৈক ধনীকে সদকা দেওয়া হয়েছে। তখন সে বললো, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য। আমার সদকাটা তো পড়ে গেলো জনৈক ধনীর হাতে। আমি আবারো সদকা দেবো। যখন রাত হলো তখন সে আবারো সদকা নিয়ে বের হলো এবং জনৈক চোরকে তা দিয়ে দিলো। সকাল বেলায় লোকেরা বলতে শুরু করলে, আজ রাত জনৈক চোরকে সদকা দেওয়া হয়েছে। তখন সে বললো, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য। আমার সদকাটা তো পড়ে গেলো জনৈকা ব্যভিচারিণী, জনৈক ধনী এবং জনৈক চোরের হাতে। তখন তাকে স্বপ্নযোগে বলা হলোঃ তোমার সকল সদকাই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। হয়তো বা তোমার সদকার কারণে ব্যভিচারিণী ব্যভিচার ছেড়ে দেবে, ধনী ব্যক্তি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সেও আল্লাহর পথে সদকা দেওয়া শুরু করবে এবং চোরটিও চুরি করা ছেড়ে দেবে"।⁵
টিকাঃ
² সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৯৩
³ সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৮৭৪
⁴ সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১৬৩৩
⁵ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২২
📄 সদকা-খয়রাত এমন এক ব্যবসা যার কোনো ক্ষয়-ক্ষতি নেই
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَّن تَبُورَ لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ [فاطر: ۲۹، ۳۰]
"নিশ্চয় যারা আল্লাহ তা'আলার কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে (একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁরই পথে) ব্যয় করে, বস্তুতঃ তারাই আশা করছে এমন এক ব্যবসার যার কোনো ক্ষয়-ক্ষতি নেই। যেন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে নিজ কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দিতে পারেন। এমনকি তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশী করে দিবেন। তিনি তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল সুকৃতজ্ঞ”। [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ২৯-৩০]
📄 কিয়ামতের দিন সদকা দানকারীর কোনো ভয়-ভীতি থাকবে না
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴾ [البقرة: ٢٧٤]
"যারা নিজেদের ধন-সম্পদগুলো আল্লাহ তা'আলার পথেই রাত-দিন প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে দান করবে তাদের প্রতিদান সমূহ তাদের প্রভুর নিকটই রক্ষিত থাকবে। কিয়ামতের দিন তাদের কোনো ভয়-ভীতি থাকবে না এবং তারা কখনো চিন্তাগ্রস্তও হবে না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৪)