📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 আয়-উপার্জন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহিলা

📄 আয়-উপার্জন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহিলা


(وَلِلنِّসَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ)
আর নারীরা যা উপার্জন করে, তাতে তাদের অংশ নির্দিষ্ট রয়েছে। (নিসা-৩২)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ إِنَّ لِي غُلَامًا نَجَّارًا ... وَفِي رِوَايَةٍ (قَالَ) فَأَمَرَتْ عَبْدَهَا فَقَطَعَ مِنَ الطَّرْفَاءِ فَصَنَعَ مِنْبَرًا .

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী মহিলা রাসূল -কে বলল, আমার একজন কাঠমিস্ত্রী ক্রীতদাস রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলা তার ক্রীতদাসকে আদেশ করল, অতঃপর সে তারাফা বন থেকে কাঠ কেটে এনে একটি মিম্বর তৈরি করে দিল (বিক্রির উদ্দেশ্যে)।

ব্যাখ্যা: একান্ত প্রয়োজনের তাকিদে মহিলাগণ দৈহিক পর্দা ও মানসিক পরিচ্ছন্নতার ভেতরে থেকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের যে কোন বিভাগে নিয়োজিত হতে পারে। জীবিকার জন্য হস্তশিল্প, কল-কারখানা স্থাপন, পরিচালনা বা তাতে কাজ করার মহিলাদের অধিকার রয়েছে। আবু বকরের কন্যা আসমা (রা) নিজ বাড়ি থেকে দু'মাইল দূরে জমি থেকে খেজুর বীজ তুলে আনতেন। যাতায়াতের সময় পথে রাসূলুল্লাহ -এর মুখোমুখি হয়ে যেতেন প্রায়ই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী নিজ ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। একদিন তিনি নবী কারীম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন- ‘আমি একজন কারিগর মহিলা। আমি তৈরি করা দ্রব্য বিক্রি করি। এছাড়া আমার, আমার স্বামী ও সন্তানদের জীবিকার জন্য অন্য কোন উপায় নেই।' রাসূল বললেন, 'এভাবে উপার্জন করে তুমি যে তোমার ঘর-সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ, তার বিনিময়ে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।' হাদীসের উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পর্দা রক্ষা করে আয়-উপার্জনের জন্য কাজ করা এবং সেজন্য ঘরের বাইরে যাওয়া মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ নয়, তবে সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলাদের জন্য আলাদা কর্মক্ষেত্র হলে ভাল হয়। যেন তাদের মধ্যে অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

(وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ মِّمَّا اكْتَسَبْنَ)
আর নারীরা যা উপার্জন করে, তাতে তাদের অংশ নির্দিষ্ট রয়েছে। (নিসা-৩২)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ امْرَأَةٌ মִنَ الْأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ إِنَّ لِي غُلَامًا نَجَّارًا ... وَفِي رِوَايَةٍ (قَالَ) فَأَمَرَتْ عَبْدَهَا فَقَطَعَ মִنَ الطَّرْفَاءِ فَصَنَعَ মִম্বরًا .

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী মহিলা রাসূল -কে বলল, আমার একজন কাঠমিস্ত্রী ক্রীতদাস রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলা তার ক্রীতদাসকে আদেশ করল, অতঃপর সে তারাফা বন থেকে কাঠ কেটে এনে একটি মিম্বর তৈরি করে দিল (বিক্রির উদ্দেশ্যে)। (বুখারী)

ব্যাখ্যা: একান্ত প্রয়োজনের তাকিদে মহিলাগণ দৈহিক পর্দা ও মানসিক পরিচ্ছন্নতার ভেতরে থেকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের যে কোন বিভাগে নিয়োজিত হতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার্জনে অংশ নিতে পারে, তেমনি কৃষি ও ব্যবসার কাজেও তারা নিয়োজিত হওয়ার অধিকারী। জীবিকার জন্য হস্তশিল্প, কল-কারখানা স্থাপন, পরিচালনা বা তাতে কাজ করার মহিলাদের অধিকার রয়েছে। আবু বকরের কন্যা আসমা (রা) নিজ বাড়ি থেকে দু'মাইল দূরে জমি থেকে খেজুর বীজ তুলে আনতেন। যাতায়াতের সময় পথে রাসূলুল্লাহ -এর মুখোমুখি হয়ে যেতেন প্রায়ই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী নিজ ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। একদিন তিনি নবী কারীম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন-
‘ইন্নী ইমরাআতুন যাতু সানআতিন আবীউ মিনহা ওয়া লাইসা লী ওয়া লা লিযাওজী ওয়া লা লিওয়ালাদী শাইয়ুন’
"আমি একজন কারিগর মহিলা। আমি তৈরি করা দ্রব্য বিক্রি করি। এছাড়া আমার, আমার স্বামী ও সন্তানদের জীবিকার জন্য অন্য কোন উপায় নেই।" রাসূল বললেন, 'এভাবে উপার্জন করে তুমি যে তোমার ঘর-সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ, তার বিনিময়ে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।' (তাবকাত ইবনে সা'আদ)

হাদীসের উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পর্দা রক্ষা করে আয়-উপার্জনের জন্য কাজ করা এবং সেজন্য ঘরের বাইরে যাওয়া মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ নয়, তবে সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলাদের জন্য আলাদা কর্মক্ষেত্র হলে ভাল হয়। যেন তাদের মধ্যে অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়

📄 অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়


عَنْ عَائِশَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا فَإِنِ اسْتَجَرُوا فَالسَّلْطَانُ وَلِيٌّ مِّنْ لَا وَلِيُّ لَهُ .

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন: যে কোন নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার এ বিয়ে বাতিল, তার এ বিয়ে বাতিল, তার এ বিয়ে বাতিল। কিন্তু তার স্বামী যদি তার সাথে সহবাস করে, তবে সে তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করে সংগম করার কারণে তার কাছে মোহরের অধিকারী হবে। অভিভাবকরা যদি বিবাদ করে তবে যার অভিভাবক নেই তার ওলী হবে দেশের শাসক।

عَنْ عَائِশَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِמَا اسْتَحَلَّ মִنْ فَرْجِهَا فَإِنِ اسْتَجَرُوا فَالسَّلْطَانُ وَلِيٌّ মِّنْ لَا وَلِيُّ لَهُ .

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন: যে কোন নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার এ বিয়ে বাতিল, তার এ বিয়ে বাতিল, তার এ বিয়ে বাতিল। কিন্তু তার স্বামী যদি তার সাথে সহবাস করে, তবে সে তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করে সংগম করার কারণে তার কাছে মোহরের অধিকারী হবে। অভিভাবকরা যদি বিবাদ করে তবে যার অভিভাবক নেই তার ওলী হবে দেশের শাসক। (তিরমিযী)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 নারী নিজেকে বিয়ের জন্য পেশ করতে পারে

📄 নারী নিজেকে বিয়ের জন্য পেশ করতে পারে


عَنْ هِশَামٍ (رضى) عَنْ أَبِيهِ قَالَ কَانَتْ خَوْلَةٌ বِنْتُ حَকِيمٍ مِنَ الْآতِي وَহেবْنَ أَنْফুসেহুনَّ লِلনَّবِيِّ ﷺ ফেক্বালাত আ’ইশা আমা তাসতাহয়িল মার’আতু আন তাহাবা নাফসাহা লিররাজুলি ফলাম্মা নাজালাত তুরুজী মান তাশাউ মিনহুন্না কুলতু ইয়া রাসূলাল্লাহ মা আরা রাব্বাকা ইল্লা ইউসারিউ ফি হাওয়াকা।

হিশাম (রা) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাওলা বিনতে হাকীম (রা) ঐ মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নিজেদেরকে নবী কারীম ﷺ-এর সামনে বিয়ের জন্য হেবা করেছিলেন। আয়েশা (রা) বলেন, পুরুষের কাছে নিজেকে হেবা করতে কোন মহিলার কি লজ্জা হয় না? যখন কুরআনের আয়াত "তুরজী মানে তাশাউ মিনহুন্না" অবতীর্ণ হলো, তখন আয়েশা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আপনার রব আপনাকে খুশী করার জন্য আপনার মর্জি মাফিক (বিধান অবতীর্ণ করার ক্ষেত্রে) তাড়াতাড়ি করেছেন।

عَنْ هিশাম (রা) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাওলা বিনতে হাকীম (রা) ঐ মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নিজেদেরকে নবী কারীম -এর সামনে বিয়ের জন্য হেবা করেছিলেন। আয়েশা (রা) বলেন, পুরুষের কাছে নিজেকে হেবা করতে কোন মহিলার কি লজ্জা হয় না? যখন কুরআনের আয়াত "তুরজী মানে তাশাউ মিনহুন্না" অবতীর্ণ হলো, তখন আয়েশা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আপনার রব আপনাকে খুশী করার জন্য আপনার মর্জি মাফিক (বিধান অবতীর্ণ করার ক্ষেত্রে) তাড়াতাড়ি করেছেন। (বুখারী)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীদেরকে প্রহার করা ঘৃণিত কাজ

📄 স্ত্রীদেরকে প্রহার করা ঘৃণিত কাজ


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ (رضى) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ إِمْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ .

আবদুল্লাহ ইবনে যাময়া (রা) থেকে বর্ণিত। নবী কারীম বলেন, তোমাদের কেউ যেন নিজ স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার না করে, অত:পর দিনের শেষে তার সাথে সংগমে লিপ্ত হয় (এটা শোভনীয় নয়)।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ (رضى) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ إِمْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْমِ .

আবদুল্লাহ ইবনে যাময়া (রা) থেকে বর্ণিত। নবী কারীম বলেন, তোমাদের কেউ যেন নিজ স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার না করে, অত:পর দিনের শেষে তার সাথে সংগমে লিপ্ত হয় (এটা শোভনীয় নয়)। (বুখারী)

ফন্ট সাইজ
15px
17px