📄 নারী নেতৃত্ব অকল্যাণকর
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ (رضى) قَالَ لَقَدْ نَفَعَنِي اللَّهُ بِكَلِمَةٍ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَيَّامَ الْجَمَلِ بَعْدَمَا كِدْتُ أَنَّ الْحَقِّ بِأَصْحَابِ الْجَمَلِ فَأُقَاتِلُ مَعَهُمْ قَالَ بَلَغَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَّ أَهْلَ فَارِسَ قَدَ مَلَكُوا عَلَيْهِمْ بِنْتَ كِسْرَى قَالَ لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً .
আবু বাকরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কাছ থেকে আমি যে কথা শুনেছি, তা থেকে আল্লাহ আমাকে অনেক ফায়দা দান করেছেন। অর্থাৎ জামাল যুদ্ধের সময়, আমি মনে করতাম যে, হক জামাল ওয়ালাদের অর্থাৎ আয়েশা (রা)-এর পক্ষে রয়েছে। কাজেই আমি তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল রাসূলুল্লাহ এর সেই কথা, যা তিনি বলেছিলেন কিসরার কন্যার সিংহাসনে আরোহণের খবর শুনে। তিনি বলেছিলেন, সে জাতি কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না, যে তার (রাষ্ট্রীয়) গুরুদায়িত্ব কোনো মহিলার হাতে সোপর্দ করে।
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ (رضى) قَالَ لَقَدْ نَفَعَنِي اللَّهُ بِكَلِمَةٍ سَمِعْتُهَا মִنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَيَّامَ الْجَمَلِ بَعْدَمَا كِدْتُ أَنَّ الْحَقِّ بِأَصْحَابِ الْجَمَلِ فَأُقَاتِلُ মَعَهُمْ قَالَ بَلَغَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَّ أَهْلَ فَارِسَ قَدَ মَلَكُوا عَلَيْهِمْ بِنْتَ كِسْرَى قَالَ لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً .
আবু বাকরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কাছ থেকে আমি যে কথা শুনেছি, তা থেকে আল্লাহ আমাকে অনেক ফায়দা দান করেছেন। অর্থাৎ জামাল যুদ্ধের সময়, আমি মনে করতাম যে, হক জামাল ওয়ালাদের অর্থাৎ আয়েশা (রা)-এর পক্ষে রয়েছে। কাজেই আমি তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল রাসূলুল্লাহ এর সেই কথা, যা তিনি বলেছিলেন কিসরার কন্যার সিংহাসনে আরোহণের খবর শুনে। তিনি বলেছিলেন, সে জাতি কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না, যে তার (রাষ্ট্রীয়) গুরুদায়িত্ব কোনো মহিলার হাতে সোপর্দ করে। (বুখারী)
📄 চুরির অপরাধে পুরুষ-মহিলার হাত কর্তন
عَنْ عَائِশَةَ (رضى) قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رَبِّعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম বলেছেন, দীনারের (স্বর্ণমুদ্রা) এক-চতুর্থাংশ মূল্য পরিমাণ চুরির দায়ে হাত কাটা যাবে।
عَنْ عَائِশَةَ (رضى) قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رَبِّعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম বলেছেন, দীনারের (স্বর্ণমুদ্রা) এক-চতুর্থাংশ মূল্য পরিমাণ চুরির দায়ে হাত কাটা যাবে। (বুখারী)
📄 শুধু ঘরের ভেতরে নয়, প্রয়োজনে ঘরের বাইরেও মহিলাদের কর্মের অনুমতি
عنْ جَابِرٍ (رضى) قَالَ طُلِقَتْ خَالَتِي ثَلَاثًا فَخَرَجَتْ تَجُدُ نَخْلاً لَهَا فَلَقِيَهَا رَجُلٌ فَنَهَاهَا فَأَنَتِ النَّبِيِّ ﷺ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فقَالَ لَهَا أُخْرُجِي فَجُدِى نَخْلَكِ لَعَلَكِ أَنْ تَصَدِّقِي مِنْهُ أَوْ تَفْعَلِي خَيْرًا .
জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা তিন তালাক প্রাপ্ত হলেন। অতঃপর তিনি খেজুর গাছ কাটার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। তখন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ঘটলে সে তাকে এ কাজ করতে বারণ করলো। তারপর মহিলাটি রাসূল -এর কাছে এসে এ ব্যাপারটি (কাজটি) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে রাসূল তাকে বললেন, তুমি বাইরের বাগানে যাও এবং নিজের খেজুর গাছ কাট (আর বিক্রি কর)। এই টাকা দিয়ে সম্ভবত তুমি দান-খয়রাত অথবা জীবিকা নির্বাহের মতো কোন ভাল কাজ করতে পারবে।
عنْ جَابِرٍ (رضى) قَالَ طُلِقَتْ خَالَتِي ثَلَاثًا فَخَرَجَتْ تَجُدُ نَخْلاً لَهَا فَلَقِيَهَا رَجُلٌ فَنَهَاهَا فَأَنَتِ النَّبِيِّ ﷺ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فقَالَ لَهَا أُخْرُجِي فَجُدِى نَخْلَكِ لَعَلَكِ أَنْ تَصَدِّقِي মִنْهُ أَوْ تَفْعَلِي خَيْرًا .
জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা তিন তালাক প্রাপ্ত হলেন। অতঃপর তিনি খেজুর গাছ কাটার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। তখন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ঘটলে সে তাকে এ কাজ করতে বারণ করলো। তারপর মহিলাটি রাসূল -এর কাছে এসে এ ব্যাপারটি (কাজটি) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে রাসূল তাকে বললেন, তুমি বাইরের বাগানে যাও এবং নিজের খেজুর গাছ কাট (আর বিক্রি কর)। এই টাকা দিয়ে সম্ভবত তুমি দান-খয়রাত অথবা জীবিকা নির্বাহের মতো কোন ভাল কাজ করতে পারবে। (আবু দাউদ)
📄 আয়-উপার্জন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহিলা
(وَلِلنِّসَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ)
আর নারীরা যা উপার্জন করে, তাতে তাদের অংশ নির্দিষ্ট রয়েছে। (নিসা-৩২)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ إِنَّ لِي غُلَامًا نَجَّارًا ... وَفِي رِوَايَةٍ (قَالَ) فَأَمَرَتْ عَبْدَهَا فَقَطَعَ مِنَ الطَّرْفَاءِ فَصَنَعَ مِنْبَرًا .
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী মহিলা রাসূল -কে বলল, আমার একজন কাঠমিস্ত্রী ক্রীতদাস রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলা তার ক্রীতদাসকে আদেশ করল, অতঃপর সে তারাফা বন থেকে কাঠ কেটে এনে একটি মিম্বর তৈরি করে দিল (বিক্রির উদ্দেশ্যে)।
ব্যাখ্যা: একান্ত প্রয়োজনের তাকিদে মহিলাগণ দৈহিক পর্দা ও মানসিক পরিচ্ছন্নতার ভেতরে থেকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের যে কোন বিভাগে নিয়োজিত হতে পারে। জীবিকার জন্য হস্তশিল্প, কল-কারখানা স্থাপন, পরিচালনা বা তাতে কাজ করার মহিলাদের অধিকার রয়েছে। আবু বকরের কন্যা আসমা (রা) নিজ বাড়ি থেকে দু'মাইল দূরে জমি থেকে খেজুর বীজ তুলে আনতেন। যাতায়াতের সময় পথে রাসূলুল্লাহ -এর মুখোমুখি হয়ে যেতেন প্রায়ই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী নিজ ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। একদিন তিনি নবী কারীম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন- ‘আমি একজন কারিগর মহিলা। আমি তৈরি করা দ্রব্য বিক্রি করি। এছাড়া আমার, আমার স্বামী ও সন্তানদের জীবিকার জন্য অন্য কোন উপায় নেই।' রাসূল বললেন, 'এভাবে উপার্জন করে তুমি যে তোমার ঘর-সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ, তার বিনিময়ে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।' হাদীসের উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পর্দা রক্ষা করে আয়-উপার্জনের জন্য কাজ করা এবং সেজন্য ঘরের বাইরে যাওয়া মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ নয়, তবে সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলাদের জন্য আলাদা কর্মক্ষেত্র হলে ভাল হয়। যেন তাদের মধ্যে অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
(وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ মِّمَّا اكْتَسَبْنَ)
আর নারীরা যা উপার্জন করে, তাতে তাদের অংশ নির্দিষ্ট রয়েছে। (নিসা-৩২)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ امْرَأَةٌ মִنَ الْأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ إِنَّ لِي غُلَامًا نَجَّارًا ... وَفِي رِوَايَةٍ (قَالَ) فَأَمَرَتْ عَبْدَهَا فَقَطَعَ মִنَ الطَّرْفَاءِ فَصَنَعَ মִম্বরًا .
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী মহিলা রাসূল -কে বলল, আমার একজন কাঠমিস্ত্রী ক্রীতদাস রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলা তার ক্রীতদাসকে আদেশ করল, অতঃপর সে তারাফা বন থেকে কাঠ কেটে এনে একটি মিম্বর তৈরি করে দিল (বিক্রির উদ্দেশ্যে)। (বুখারী)
ব্যাখ্যা: একান্ত প্রয়োজনের তাকিদে মহিলাগণ দৈহিক পর্দা ও মানসিক পরিচ্ছন্নতার ভেতরে থেকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের যে কোন বিভাগে নিয়োজিত হতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার্জনে অংশ নিতে পারে, তেমনি কৃষি ও ব্যবসার কাজেও তারা নিয়োজিত হওয়ার অধিকারী। জীবিকার জন্য হস্তশিল্প, কল-কারখানা স্থাপন, পরিচালনা বা তাতে কাজ করার মহিলাদের অধিকার রয়েছে। আবু বকরের কন্যা আসমা (রা) নিজ বাড়ি থেকে দু'মাইল দূরে জমি থেকে খেজুর বীজ তুলে আনতেন। যাতায়াতের সময় পথে রাসূলুল্লাহ -এর মুখোমুখি হয়ে যেতেন প্রায়ই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী নিজ ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। একদিন তিনি নবী কারীম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন-
‘ইন্নী ইমরাআতুন যাতু সানআতিন আবীউ মিনহা ওয়া লাইসা লী ওয়া লা লিযাওজী ওয়া লা লিওয়ালাদী শাইয়ুন’
"আমি একজন কারিগর মহিলা। আমি তৈরি করা দ্রব্য বিক্রি করি। এছাড়া আমার, আমার স্বামী ও সন্তানদের জীবিকার জন্য অন্য কোন উপায় নেই।" রাসূল বললেন, 'এভাবে উপার্জন করে তুমি যে তোমার ঘর-সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ, তার বিনিময়ে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।' (তাবকাত ইবনে সা'আদ)
হাদীসের উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পর্দা রক্ষা করে আয়-উপার্জনের জন্য কাজ করা এবং সেজন্য ঘরের বাইরে যাওয়া মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ নয়, তবে সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলাদের জন্য আলাদা কর্মক্ষেত্র হলে ভাল হয়। যেন তাদের মধ্যে অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।