📄 সামনে লোকজন আসলে মুখ ঢেকে দেবে চলে গেলে মুখ খুলে রাখবে
عَنْ عَائِশَةَ (رضى) قَالَتْ كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّوْنَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ مُحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذُوا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزْنَا كَশَفْنَاهُ .
আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যানবাহন আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল আর আমরা রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। যখন লোকজন আমাদের সামনে আসত, তখন আমরা আমাদের চাদর মাথার উপর হতে মুখের উপর টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।
ব্যাখ্যা: মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার জন্যই বিশেষভাবে উল্লিখিত আয়াত ও হাদীসগুলো বিবৃত হয়েছে। আয়াতের جَلاَبِيْبُ শব্দটি جَلْبَابٌ শব্দের বহুবচন।
عَنْ عَائِশَةَ (رضى) قَالَتْ كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّوْنَ بِنَا وَنَحْنُ মَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ মُحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذُوا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا মِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزْنَا كَশَفْنَاهُ .
আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যানবাহন আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল আর আমরা রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। যখন লোকজন আমাদের সামনে আসত, তখন আমরা আমাদের চাদর মাথার উপর হতে মুখের উপর টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।
ব্যাখ্যা: মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার জন্যই বিশেষভাবে উল্লিখিত আয়াত ও হাদীসগুলো বিবৃত হয়েছে। আয়াতের جَلاَبِيْبُ শব্দটি جَلْبَابٌ শব্দের বহুবচন। (আবু দাউদ)
📄 মহিলাদের জিহাদে অংশগ্রহণ
عَنْ أَنَسٍ (رضى) قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَغْزُو بِامِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مَعَهَا مِنَ الْأَنْصَارِ يَسْقِيْنَ الْمَاءَ وَيُدَاوِيْنَ الْجَرْحَى .
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ উম্মে সুলাইম (রা) ও তার সাথের আনসার মহিলাদের নিয়ে যুদ্ধে যেতেন। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পান করাতেন এবং আহতদের জখমে ঔষধ প্রয়োগ করতেন।
عَنْ أَنَسٍ (رضى) قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَغْزُو بِامِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ মَعَهَا مِنَ الْأَنْصَارِ يَسْقِيْنَ الْمَاءَ وَيُدَاوِيْنَ الْجَرْحَى .
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ উম্মে সুলাইম (রা) ও তার সাথের আনসার মহিলাদের নিয়ে যুদ্ধে যেতেন। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পান করাতেন এবং আহতদের জখমে ঔষধ প্রয়োগ করতেন। (তিরমিযী)
📄 নৌযুদ্ধে মহিলাদের অংশগ্রহণ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيِّ (رضى) قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى بِنْتِ مِلْحَانَ فَاتِّكَا عِنْدَهَا ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَتْ لِمَ تَضْحَকْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي يَرْكَبُونَ الْبَحْرَ الْأَخْضَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَثَلُهُمْ مَثَلُ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَةِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِى مِنْهُمْ قَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا مِنْهُمْ ثُمَّ عَادَ فَضَحِكَ فَقَالَتْ لَهُ مَثْلَ أَوْ مِمَّا ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَتْ أَدْعُ اللهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ قَالَ أَنْتِ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَلَسْتِ مِنَ الْآخِرِينَ قَالَ قَالَ أَنَسٌ فَتَزَوجَتْ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ فَرَكِبَتِ الْبَحْرَ مَعَ بِنْتِ فَرَظَةً فَلَمَّا قَفَلَتْ رَكِبَتْ دَابَّتَهَا فَوَقَصَتْ بِهَا فَسَقَطَتْ عَنْهَا فَمَاتَتْ .
আব্দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (উম্মে হারাম) বিনতে মিলহানের কাছে গমন করলেন এবং সেখানে তিনি বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর (জাগ্রত হয়ে) হাসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি জবাব দিলেন, (আমি দেখতে পেলাম) আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) সবুজ সমুদ্রে (ভূমধ্য সাগর) (জাহাজে) আরোহণ করবে। তাদের দৃশ্য যেন সিংহাসনে অধিষ্ঠিত বাদশাহ্ মতো। তিনি (বিনতে মিলহান) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি তাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত কর। তিনি পুনরায় ঘুমালেন এবং (জাগ্রত হয়ে) হাসলেন। তিনি (বিনতে মিলহান) আবার তাঁকে আগের মতো হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি আগের মতোই জবাব দিলেন। তিনি বললেন, আপনি দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, তুমি পরবর্তী দলে না হয়ে বরং সর্বপ্রথম দলেরই অন্তর্ভূক্ত থাকবে। আনাস (রা) বলেছেন, অতঃপর তিনি উবাদাহ ইবনে সামেত (রা)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং কারাযার কন্যার সাথে (নৌযুদ্ধে) সমুদ্র যাত্রা করেন। অতঃপর ফিরে এসে যখন তিনি তাঁর (জন্য আনীত) সওয়ারীতে আরোহণ করেন, জন্তুটি তাঁকে ফেলে দিলে তাঁর ঘাড় মটকে যায় এবং ইন্তেকাল করেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيِّ (رضى) قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى بِنْتِ মِلْحَانَ فَاتِّكَا عِنْدَهَا ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَتْ لِمَ تَضْحَকْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ نَাসٌ মِّنْ أُمَّتِي يَرْكَبُونَ الْبَحْرَ الْأَখ্ضَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ মַثَلُهُمْ মַثَلُ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَةِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِى মִনْهُمْ قَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا মִনْهُمْ ثُمَّ عَادَ فَضَحِكَ فَقَالَتْ لَهُ মַثَلَ أَوْ মִমَّا ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ মִثْلَ ذَلِكَ فَقَالَتْ أَدْعُ اللهَ أَنْ يَجْعَلَنِي মִনْهُمْ قَالَ أَنْتِ মִنَ الْأَوَّلِينَ وَلَسْتِ মִنَ الْآخِرِينَ قَالَ قَالَ أَنَسٌ فَتَزَوجَتْ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ فَرَكِبَتِ الْبَحْرَ মَعَ بِنْتِ فَرَظَةً فَلَمَّا قَفَلَتْ رَكِبَتْ دَابَّتَهَا فَوَقَصَتْ بِهَا فَسَقَطَتْ عَنْهَا فَمَاتَتْ .
আব্দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (উম্মে হারাম) বিনতে মিলহানের কাছে গমন করলেন এবং সেখানে তিনি বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর (জাগ্রত হয়ে) হাসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি জবাব দিলেন, (আমি দেখতে পেলাম) আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) সবুজ সমুদ্রে (ভূমধ্য সাগর) (জাহাজে) আরোহণ করবে। তাদের দৃশ্য যেন সিংহাসনে অধিষ্ঠিত বাদশাহ্ মতো।
তিনি (বিনতে মিলহান) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি তাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত কর। তিনি পুনরায় ঘুমালেন এবং (জাগ্রত হয়ে) হাসলেন। তিনি (বিনতে মিলহান) আবার তাঁকে আগের মতো হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি আগের মতোই জবাব দিলেন। তিনি বললেন, আপনি দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, তুমি পরবর্তী দলে না হয়ে বরং সর্বপ্রথম দলেরই অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
আনাস (রা) বলেছেন, অতঃপর তিনি উবাদাহ ইবনে সামেত (রা)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং কারাযার কন্যার সাথে (নৌযুদ্ধে) সমুদ্র যাত্রা করেন। অতঃপর ফিরে এসে যখন তিনি তাঁর (জন্য আনীত) সওয়ারীতে আরোহণ করেন, জন্তুটি তাঁকে ফেলে দিলে তাঁর ঘাড় মটকে যায় এবং ইন্তেকাল করেন। (বুখারী)
📄 যুদ্ধে নারী ও শিশুদের হত্যা করা নিষেধ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ (رضى) أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ فِي بَعْضٍ مَغَازِي رَسُولِ الله ﷺ مَقْتُولَةٌ فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَتْلَ النِّسَاءِ والصَّبْيَانِ .
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল-এর কোনো এক যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূলুল্লাহ যুদ্ধে নারী ও শিশুদের হত্যায় ঘৃণা ও অসম্মতি প্রকাশ করেছেন।
ব্যাখ্যা: যদি নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে তখন সে নারীকে হত্যা করা জায়েয, অন্যথা সমস্ত আলেম একমত যে, ওদেরকে হত্যা করা হারাম। অথবা যে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তবে যুদ্ধ পরিচালনা করে কিংবা পরামর্শ দেয় তখন তাকে হত্যা করা জায়েয।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ (رضى) أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ فِي بَعْضٍ মַغَازِي رَسُولِ الله ﷺ মَقْتُولَةٌ فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَتْلَ النِّسَاءِ والصَّبْيَانِ .
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল-এর কোনো এক যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূলুল্লাহ যুদ্ধে নারী ও শিশুদের হত্যায় ঘৃণা ও অসম্মতি প্রকাশ করেছেন। (মুসলিম)
ব্যাখ্যা: যদি নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে তখন সে নারীকে হত্যা করা জায়েয, অন্যথা সমস্ত আলেম একমত যে, ওদেরকে হত্যা করা হারাম। অথবা যে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তবে যুদ্ধ পরিচালনা করে কিংবা পরামর্শ দেয় তখন তাকে হত্যা করা জায়েয।