📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রদ বলে

📄 রদ বলে


রদ্দ বলে: মাসয়ালার বাকি অংশ ফরজ অংশীদারদের মাঝে যারা হকদার তাদেরকে ফেরত দেওয়া। অর্থাৎ- পরিত্যক্ত সম্পত্তি ফরজ অংশীদারগণের মধ্যে বণ্টন করার সময় কিছু অংশ বাকি থেকে গেলে তা পুনর্বণ্টন করা।

রদ্দ-এর কারণ: অংশে কম ও হিস্সায় বেশি হওয়া। ইহা 'আওলের বিপরীত।

রদ্দ-এর প্রভাব: রদ্দ তথা ফেরত দেওয়ার ফলে অংশীদারগণের হিস্সা বেড়ে যাবে।

যাদের প্রতি রদ্দ-ফেরত দেওয়া হবে: স্বামী-স্ত্রী, বাবা ও দাদা ছাড়া সকল ফরজ অংশীদারগণের প্রতি রদ্দ-ফেরত দেওয়া হবে। এরা হলো আটজন: মেয়ে, ছেলের মেয়ে, সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন, মা, দাদী-নানী, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন।

রদ্দ-ফেরত দেওয়ার শর্তাবলি: রদ্দ-ফেরত দেওয়ার জন্য তিনটি শর্ত। যথা-
১. ফরজ অংশীদারগণ যেন মাসয়ালা সম্পূর্ণ পরিব্যপ্ত না করে ফেলে; কারণ পরিব্যপ্ত করলে বাকি কিছুই থাকবে না যা ফেরতযোগ্য হবে।
২. কোন আসাবা যেন না থাকে; কারণ আসাবা ব্যক্তি বাকি অংশ নিয়ে নেবে, যার ফলে বাকি থাকবে না যা রদ্দ-ফেরত দেওয়া হবে।
৩. ফরজ অংশীদারগণের উপস্থিত থাকা।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রদ্দ-ফেরতের মাসয়ালার অংক করার পদ্ধতি

📄 রদ্দ-ফেরতের মাসয়ালার অংক করার পদ্ধতি


যাদের প্রতি রদ্দ-ফেরত দেওয়া হবে তাদের সাথে স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন থাকবে অথবা থাকবে না।

১. যদি স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন না থাকে তাহলে তাদের তিন অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: তাদের মধ্যে শুধুমাত্র একজন থাকবে। যেমন: মেয়ে বা বোন। সে ফরজ ও রদ্দ-ফেরত হিসেবে সমস্ত সম্পত্তি গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: তাদের মধ্যে শুধুমাত্র এক শ্রেণীর অংশীদার থাকবে। যেমন: মেয়েরা বা বোনেরা। এদের সংখ্যা দ্বারা মাসয়ালা করতে হবে। যেমন যদি মৃত ব্যক্তি তিনজন মেয়ে রেখে মারা যায়, তাহলে তাদের সংখ্যা তিন দ্বারা মাসয়ালা করতে হবে।

তৃতীয় অবস্থা: তাদের মধ্যে একাধিক শ্রেণীর অংশীদার উপস্থিত থাকবে। এ অবস্থায় প্রত্যেক ফরজ অংশীদারকে তার ফরজ অংশ দিতে হবে। আর মাসয়ালা এমনভাবে করতে হবে যেন তাতে কোন রদ্দ-ফেরত না থাকে।

রদ্দ-ফেরতের সকল মাসয়ালার মূল (৬) দ্বারা হবে। অত:পর ফরজ অংশগুলো একত্র করতে হবে যা রদ্দের মূল দাঁড়াবে।

উদাহরণ: একজন মানুষ একজন মেয়ে ও একজন ছেলের মেয়ে রেখে মারা গেল। মাসয়ালা হবে (৬) দ্বারা যা রদ্দের মাধ্যমে দাঁড়াবে (৪)। সুতরাং মেয়ের জন্যে অর্ধেক (৩) আর ছেলের মেয়ের জন্যে ষষ্ঠাংশ (১) এবং বাকি (২)। তাই মূল মাসয়ালার ফরজ অংশগুলোর মোট (৪)-কে রদ্দের মূল মাসয়ালা করা হবে। অতএব, মেয়ে পাবে (৩) ফরজ ও রদ্দ হিসেবে এবং ছেলের মেয়ে পাবে (১) ফরজ ও রদ্দ হিসেবে। এভাবে রদ্দের মাসয়ালা করতে হবে।

২. যদি তাদের সাথে স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন থাকে: এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন তার ফরজ অংশ মূল সম্পত্তি থেকে নেবে। আর বাকি ফরজ অংশীদারগণ তাদের মাথাপিছু পাবে। চাই তারা একই শ্রেণীর হোক। যেমন: এক মেয়ে অথবা একাধিক যেমন: তিন মেয়ে অথবা একাধিক শ্রেণীর হোক যেমন: মা ও মেয়ে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px