📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পন্থাসমূহ
পরিত্যক্ত সম্পদ উত্তরাধিকারীদের মাঝে নিম্নের যে কোন একটি পদ্ধতি অনুযায়ী বণ্টন করা যাবে:
১. সম্বন্ধ করণের পদ্ধতি: ইহা হলো: প্রত্যেক অংশীদারের মূল অংক থেকে তার পাওনাকে তার প্রতি সম্বন্ধ করবে এবং সে অনুপাতে তাকে সম্পত্তি দেওয়া হবে। যদি কেউ মরণকালে (স্ত্রী, মা ও চাচা) রেখে যায়, আর পরিত্যক্ত সম্পত্তি ১২০ হয়, তবে ১২ দ্বারা অংক হবে, স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ হিসেবে তিন থাকবে, মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে চার থাকবে এবং চাচার জন্য অবশিষ্ট পাঁচ থাকবে। ফলে অংকের সাথে স্ত্রীর তিনের সম্বন্ধ হচ্ছে এক চতুর্থাংশের। অতএব, সে সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ হিসেবে ত্রিশ পাবে, মায়ের চারের সম্বন্ধ হচ্ছে এক-তৃতীয়াংশের। অতএব, তিনি সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে চল্লিশ পাবেন। চাচার পাঁচের সম্বন্ধ হচ্ছে এক-চতুর্থাংশ ও ষষ্ঠাংশের। অতএব, তিনি সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ ও ষষ্ঠাংশ হিসেবে পঞ্চাশ পাবেন।
২. ইচ্ছা করলে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশকে পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পূরণ বা গুন দিয়ে অত:পর গুনফলকে অংকের বিভাজ্য পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা ভাগ দিলে তার সম্পত্তির অংশ বেরিয়ে আসবে। অতএব, পূর্বোক্ত অংকে স্ত্রীর এক-চতুর্থাংশ হিসাবে প্রাপ্তিকে পূর্ণ সম্পত্তি (১২০) দ্বারা পূরণ বা গুন দিলে গুনফল (৩২০) কে মূল অংকের (১২) দ্বারা ভাগ করলে তার অংশ হবে (৩০)। অনুরূপ বাকিগুলোতেও।
৩. ইচ্ছা করলে সম্পত্তিকে অংকের বিভাজ্য পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা ভাগ দিয়ে ভাগ ফলকে অংকের প্রাপ্ত উত্তরাধিকারীর অংশ দ্বারা পূরণ করতে হবে। আর এ গুনফল হবে সম্পত্তি থেকে তার অংশ। অতএব, পূর্বোক্ত অংকে পূর্ণসম্পত্তি (১২০)-কে মূল অংকের (১২) দ্বারা ভাগ করে ভাগ ফল (১০)-কে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশের সাথে পূরণ দিতে হবে। ফলে পূর্বোক্ত অংকে মার অংশ এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে চারকে দশ দ্বারা গুণ দিলে (১০ x ৪=৪০) ইহা সম্পত্তিতে মায়ের পাওনা অংশ। অনুরূপ বাকিরাও।
📄 মিরাছ বণ্টনের সময় যারা হাজির হবে
মিরাছ বণ্টনের সময় যদি মৃতের যারা উত্তরাধিকারী নয় তারা বা এতিমরা কিংবা যাদের কোন সম্পদ নেই তারা হাজির হয়, তাহলে মিরাছ বণ্টনের পূর্বে তাদেরকে সম্পদ থেকে কিছু দেওয়া মুস্তাহাব।
আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَاِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ اُولُوا الْقُرْبٰى وَالْيٰতٰمٰى وَالْمَسٰكِيْنُ فَارْزُقُوْهُمْ مِّنْهُ وَقُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلاً مَّعْرُوْফًا .
"আর যখন মিরাছ বণ্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন ও এতিম এবং মিসকিনরা হাজির হয় তখন তাদেরকে তা থেকে কিছু দান কর। আর তাদেরকে উত্তম কথা বল।" [সূরা নিসা: আয়াত-৮]
📄 তাদের কিছু দেওয়ার বিধান
মিরাছ বণ্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মিসকিন উপস্থিত হলে তাদেরকে পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে কিছু দান করা এবং তাদের সাথে উত্তম কথা বলা মুস্তাহাব।
📄 উত্তরাধিকারীদের মাসয়ালাগুলোর প্রকার
উত্তরাধিকারীদের মাসয়ালাগুলো তিন প্রকার:
প্রথম: মাসয়ালা আদিলা এ হলো প্রত্যেকের অংশের যোগফল মূল অংকের সাথে সমান হওয়া। যেমন: স্বামী ও সহোদর বোন যার অংক হবে ২ দ্বারা। প্রত্যেকের জন্য অর্ধেক করে। সুতরাং দুই অংশ মূল অংকের সমান।
দ্বিতীয়: মাসয়ালা নাকিসা: এ হলো সবার অংশের যোগফল মূল অংক থেকে কম হওয়া। যেমন: স্ত্রী ও বৈপিত্রেয়া বোন যার অংক হবে ১২ দ্বারা। স্ত্রীর জন্যে এক-চতুর্থাংশ (৩) ও বৈপিত্রেয়া বোনের জন্যে ষষ্ঠাংশ (২)। অতএব, যোগফল (৩+২=৫) যা মূল অংক (১২)-এর চেয়ে কম।
তৃতীয়: মাসয়ালা 'আয়িলা এ হলো সবার অংশের যোগফল মূল অংকের চেয়ে বেশি হওয়া। যেমন: মা, বৈপিত্রেয় ভাই-বোন ও সহোদর বোন দুইজন। অংক ৬ দ্বারা এর মধ্যে মায়ের জন্যে ষষ্ঠাংশ (১), বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের জন্যে এক-তৃতীয়াংশ (২) এবং দুই সহোদর বোনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ (৪)। যোগফল (৭) যা মূল অংক (৬) হতে অধিক। তাই মাসয়ালা 'আয়িলা (৭) দিয়ে।