📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বংশ সূত্রে অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্তগণ মোট তিন প্রকার

📄 বংশ সূত্রে অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্তগণ মোট তিন প্রকার


১. অন্যের মাধ্যম ব্যতীত অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ: এরা পুরুষ জাতীয় উত্তরাধিকারী কিন্তু স্বামী, বৈপিত্রেয় ভাই, দাস মুক্তকারী ব্যতীত যথা: ছেলে, ছেলের ছেলে যদিও নিচে যায়, পিতা, দাদা যদিও উপরে যায়, আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলে যদিও নিচে যায়, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে যদিও নিচে যায়, আপন চাচা, বৈমাত্রেয় চাচা, আপন চাচার ছেলে যদিও নিচে যায়, বৈমাত্রেয় চাচার ছেলে যদিও নিচে যায়।

এদের মধ্যে যে একা থাকবে সে পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে। আর যখন নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের সাথে থাকবে তখন নির্ধারিত অংশের পরে যা অবশিষ্ট থাকবে তা গ্রহণ করবে, তবে নির্ধারিত অংশ পূর্ণ সম্পত্তি শামিল করে নিলে বাদ পড়ে যাবে।

অনির্ধারিত অংশে উত্তরাধিকারদানকারী পক্ষগুলোর একটি অপরটি অপেক্ষা নিকটবর্তী। পক্ষগুলো পর্যায়ক্রমে পাঁচটি: সন্তান পক্ষ, অত:পর পিতৃপক্ষ, এরপর ভাই ও ভাইয়ের সন্তান পক্ষ, অত:পর চাচারা ও তাদের সন্তান পক্ষ এবং সবশেষে দাস মুক্তকারী পক্ষ।

দু'জন অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত এক সাথে হলে তাদের বিভিন্ন অবস্থা হয়ে থাকে যেমন-

ক. প্রথম অবস্থা এই যে, তার পক্ষ, স্তর ও ক্ষমতা সমান হবে যেমন: দুই ছেলে অথবা দুই চাচা। এমতাবস্থায় উভয়জন সমানভাবে অংশীদার হবে।

খ. দ্বিতীয় অবস্থায় এই যে, তারা পক্ষ ও স্তরে সমান হবে কিন্তু ক্ষমতায় ভিন্ন থাকবে যেমন: আপন চাচা ও বৈমাত্রেয় চাচা, এক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রাধান্য দেওয়া হবে, ফলে আপন চাচা উত্তরাধিকারী হবেন এবং বৈমাত্রেয় চাচা হবেন না।

গ. তৃতীয় অবস্থা এই যে, তারা পক্ষগতভাবে এক হবে, তবে স্তরে ভিন্ন হবে যেমন: ছেলে ও ছেলের ছেলে, এক্ষেত্রে স্তরের প্রাধান্য দেওয়া হবে, ফলে পূর্ণ সম্পত্তি ছেলের জন্য হয়ে যাবে।

ঘ. চতুর্থ অবস্থা এই যে, তারা পক্ষগতভাবে ভিন্ন হবে, এমতাবস্থায় উত্তরাধিকারে পক্ষগতভাবে নিকটবর্তী ব্যক্তিকে দূরবর্তী ব্যক্তির উপর প্রাধান্য দেয়া হবে, যদিও সে স্তরের দিক থেকে দূরবর্তী হয় এবং পূর্বোক্ত ব্যক্তি নিকটবর্তী হয়, ফলে ছেলের ছেলে পিতার উপর প্রাধান্য পাবে।

২. অন্যের মধ্যস্থতায় অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ: এরা মোট চারজন নারী যথা-

ক. এক অথবা একাধিক ছেলের মধ্যস্থতায় এক অথবা ততোধিক মেয়ে, এক অথবা একাধিক ছেলের মধ্যস্থতায়।

খ. এক অথবা একাধিক মেয়ের মেয়ে, এক অথবা একাধিক আপন ভাইয়ের মধ্যস্থতায়।

গ. এক অথবা একাধিক আপন বোন, এক অথবা একাধিক বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মধ্যস্থতায়।

ঘ. এক অথবা একাধিক বৈমাত্রেয়ী বোন। এরা উত্তরাধিকারে একজন পুরুষ দুই মহিলার সমান অংশ হিসেবে পাবে এবং নির্ধারিত অংশের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি তারাই পাবে। কিন্তু যদি নির্ধারিত অংশ সবটুকু সম্পত্তি শেষ করে ফেলে তবে তারা বাদ পড়ে যাবে।

৩. অন্যের সাথে অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ: এরা দুই প্রকার মানুষ যথা:

ক. এক অথবা একাধিক মেয়ে কিংবা এক অথবা ততোধিক ছেলের মেয়ের সাথে অথবা উভয় প্রকারের সাথে এক অথবা একাধিক আপন বোন।

খ. এক অথবা ততোধিক মেয়ে কিংবা এক অথবা ততোধিক ছেলের মেয়ে অথবা উভয় প্রকারের সাথে এক অথবা ততোধিক বৈমাত্রেয় বোন। বস্তুত: বোনেরা সব সময়ই মেয়ে কিংবা ছেলের মেয়েদের সাথে তারা যতই নিচে যায় না কেন অনির্ধারিত অংশের অধিকারী হয়ে থাকে, তাই তারা নির্ধারিত অংশের পরের অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়, তবে নির্ধারিত অংশ পূর্ণ সম্পত্তি শেষ করে ফেললে তারা বাদ পড়ে যাবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 কারণসাপেক্ষে অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্তগণ

📄 কারণসাপেক্ষে অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্তগণ


এরা পুরুষ কিংবা মহিলা নির্বিশেষে দাস মুক্তকারী ও তারা সরাসরি অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্তগণ।

১. আল্লাহ তা'য়ালা বলেন- وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةٌ رِجَالاً وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأَنْثَيَيْنِ * يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا ، وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ .

আর যদি তারা পুরুষ ও নারী ভাই-বোন হয় তবে পুরুষ দুই মহিলার সমান অংশ পাবে। আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে এ জন্য বর্ণনা করেছেন, যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। [সূরা নিসা: আয়াত-১৭৬]

২. ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা উত্তরাধিকারীদেরকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দাও। অত:পর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটবর্তী পুরুষ লোকদের জন্য। (বুখারী হাদীস নং ৬৭৩২ মুসলিম হাদীস নং ১৬১৫)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মিরাসের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা

📄 মিরাসের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা


১. উসূল-মূল: প্রতিটি নিকটাত্মীয় যারা উপরের স্তরকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করে দেয় যদি একই শ্রেণীর হয়। যেমন: বাবা দাদাকে বাদ করে দেয়, মা দাদী-নানীকে বাদ করে। আর মা দাদাকে বাদ করে দেয় না এবং বাবা দাদীকে বাদ করে না; কারণ একই শ্রেণীর না।

২. ফরূ'-শাখা: প্রতিটি পুরুষ যারা তার নিচের স্তরকে বাদ করে দেয়। চাই একই শ্রেণীর হোক বা ভিন্ন শ্রেণীর হোক। যেমন: ছেলের ছেলে ও ছেলের মেয়েকে বাদ করে দেয়। আর নারীরা তাদের নিচের স্তরকে বাদ করে না। তাই ছেলের মেয়ে মেয়ের সাথে মিরাস পাবে।

৩. হাওয়াশী-পার্শ্ববর্তী আত্মীয়: এদেরকে উসূল ও ফরূ'র প্রতিটি পুরুষ মিরাস থেকে বঞ্চিত করে দেয়। যেমন বাবা ভাই ও বোনদেরকে বাদ করে দেয় এবং ছেলে ভাই ও বোনদেরকে বঞ্চিত করে দেয়। আর প্রতিটি নিকট পার্শ্ববর্তী আত্মীয় সর্বদা দূরবর্তীকে বঞ্চিত করে দেয়। তাই ভাই ভাইয়ের ছেলেকে বাদ করে দেয়। আর নারীদের পার্শ্ববর্তীর মধ্যে বোনরা ছাড়া আর কেউ মিরাস পায় না।

৪. ফরু'দের মিরাসের নীতিমালা হলো: কোন নারীর মাধ্যম দ্বারা যেন সম্পর্ক না হয়, চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক। সুতরাং ছেলের ছেলে ও ছেলের মেয়ে দুই জনেই মিরাস পাবে। কিন্তু মেয়ের ছেলে ও মেয়ের মেয়ে মিরাস পাবে না; কারণ এদের সম্পর্ক নারীর মাধ্যমে।

৫. উসূল-মূলের প্রত্যেকেই যারা ওয়ারিসের সাথে সম্পর্ক তারা মিরাস পাবে যেমন: দাদার মাগণ।

৬. দাদা সকল প্রকার ভাই-বোনদেরকে বাদ করে দেবে, চাই তারা সহোদর হোক বা বৈমাত্রেয় হোক কিংবা বৈপিত্রেয় হোক। আর চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক। দাদা সম্পূর্ণ বাবার মতোই।

৭. দাদী-নানীরা শাখা ওয়ারিস থাক বা না থাক অথবা ভাই-বোনরা থাক বা না থাক কিংবা আসাবার সাথে হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় শুধুমাত্র এক-ষষ্ঠাংশের অধিকারিণী হবেন।

৮. প্রতিটি দাদী-নানী যে ওয়ারিসের সাথে সম্পর্ক সে মিরাস পাবে যেমন: বাবার মা ও মার মা।

৯. স্ত্রীরা ও দাদী-নানীরা এক হোক বা একাধিক মিরাস একই হবে। তাই স্ত্রীগণ চতুর্থাংশে বা অষ্টমাংশে শরিক হবে এবং দাদী-নানীরা ষষ্ঠাংশে শরিক হবে।

১০. চারজনের ফরজ অংশ তাদের সংখ্যা বেশির কারণে বেড়ে যাবে না: তারা হলেন: স্ত্রীগণ, দাদী-নানীগণ, ছেলের মেয়েরা মেয়ের সাথে ও বৈমাত্রেয় বোনেরা সহোদর বোনের সাথে।

১১. যখন একই স্তরে নারী ও পুরুষ একত্রে জমা হবে তখন পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে। যেমন: ছেলে ও মেয়ে অথবা বাবা ও মা উমারিয়ার দুই অংকতে (স্বামী ও বাবা-মা) ছয় থেকে এবং (স্ত্রী ও বাবা-মা) চার থেকে মায়ের জন্য বাকিরা এক তৃতীয়াংশ।

১২. ফরায়েজের বিধানে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা ছাড়া আর কোন নারী-পুরুষ বরাবর হবে না। তাদের পুরুষ ও নারীরা মিরাসে সমান সমান।

১৩. বোনেরা সর্বদা মেয়েদের সাথে আসাবা হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px