📄 আপন বোনদের উত্তরাধিকার
সহোদর বোনদের মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. আপন বোন একজন হলে অর্ধেকের উত্তরাধিকারিণী হবে। যদি তার ভাই না থাকে এবং মৃতের মূল তথা পিতা বা দাদা ও ভাই-বোন না থাকে。
২. আপন বোন একের অধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশের উত্তরাধিকারিণী হবে। শর্ত হলো: তাদের কোন ভাই এবং মৃতের ছেলে-মেয়ে ও মূল তথা বাবা-দাদা না থাকা。
৩. এক বা একাধিক আপন বোন অনির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারিণী হবে, যদি তাদের সাথে তাদের ভাই থাকে। এমতাবস্থায় এক ভাই দুই বোনের সমান অংশ পাবে। এমনিভাবে তারা ভাই-বোন মৃতের মেয়েদের সাথে হলেও একইভাবে অংশ পাবে。
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-
يَسْتَفْتُونَكَ ، قُلِ اللَّهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلْلَةِ ، إِنِ امْرُو هَلَكَ ليسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَةٌ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ، وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّমْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ ، فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَنِ مِمَّا تَرَكَ .
তারা তোমাকে প্রশ্ন করে তুমি বল : আল্লাহ তোমাদেরকে 'কালালাহ' সম্বন্ধে উত্তর দিচ্ছেন: যদি কোন ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার বোন থাকে তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে অর্ধাংশ পাবে। আর যদি কোন নারীর সন্তান না থাকে তবে তার ভাইয়েরা উত্তরাধিকারী হবে। তবে যদি দুই বোন থাকে তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ তারা পাবে। [সূরা নিসা : আয়াত-১৭৬]
উদাহরণ
১. এক ব্যক্তি মা, সহোদর বোন ও দুইজন বৈমাত্রেয়া বোন রেখে মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। মার জন্য ষষ্ঠাংশ, সহদর বোনের জন্য অর্ধেক আর বৈমাত্রেয়া দুই বোনের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।
২. এক ব্যক্তি স্ত্রী, দুইজন সহোদর বোন ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে রেখে মারা গেল। অংক ১২ দ্বারা হবে। স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ, দুই বোনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ আর বাকি বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলের জন্য।
৩. এক ব্যক্তি স্ত্রী, একজন সহোদর বোন, একজন সহোদর ভাই রেখে মারা গেল। অংক ৪ দ্বারা হবে। স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ আর বাকি ভাই ও বোনের মাঝে পুরুষ নারীর দ্বিগুণ হিসেবে বণ্টন হবে।
৪. এক ব্যক্তি স্ত্রী, মেয়ে ও সহোদর বোন রেখে মারা গেল। অংক ৮ দ্বারা হবে। স্ত্রীর জন্য অষ্টমাংশ, মেয়ের জন্য অর্ধেক আর বাকি সহোদর বোনের জন্য।
📄 বৈমাত্রেয় বোনদের উত্তরাধিকার
বৈমাত্রেয় বোনদের মিয়াসের অবস্থাসমূহ:
১. বৈমাত্রেয় বোন একজন হলে অর্ধেকের উত্তরাধিকারিণী হবে। শর্ত হলো: সাথে তার কোন ভাই-বোন এবং মৃতের বাবা-দাদা ও আপন ভাই-বোন না থাকা。
২. বৈমাত্রেয় একাধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশের উত্তরাধিকারিণী হবে: শর্ত হলো: সাথে তার কোন ভাই এবং মৃতের বাবা-দাদা ও আপন ভাই-বোন না থাকা。
৩. এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় বোন মৃতের শুধু আপন এক বোনের সাথে এক ষষ্ঠমাংশের উত্তরাধিকারিণী হবে, যদি তাদের কোন ভাই এবং মৃতের আপন ভাই, মূল তথা বাবা-দাদা ও ছেলে-মেয়ে না থাকে。
৪. এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় বোন তাদের ভাইয়ের সাথে অনির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারিণী হবে। (এমতাবস্থায় এক পুরুষের জন্য দুই মহিলার সমান অংশ হবে।) মৃতের মেয়েদের সঙ্গেও তারা অনুরূপ অংশ পাবে。
উদাহরণ
১. এক ব্যক্তি মা, বৈমাত্রেয় বোন ও দুইজন বৈপিত্রেয় ভাই রেখে মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। মায়ের জন্য ষষ্ঠাংশ, বৈমাত্রেয় বোনের জন্য অর্ধেক আর বৈপিত্রেয় দুই ভাইয়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।
২. এক ব্যক্তি স্ত্রী, বৈমাত্রেয় দুই বোন ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে রেখে মারা গেল। অংক ১২ দ্বারা হবে। স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ, বৈমাত্রেয় দুই বোনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ আর বাকি বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলের জন্য।
৩. এক ব্যক্তি মা, বৈপিত্রেয় বোন, সহোদর বোন ও বৈমাত্রেয় দুই বোন রেখে মারা গেল। অংক হবে ৬ দ্বারা। মায়ের জন্য ষষ্ঠাংশ, বৈপিত্রেয় বোনের জন্য ষষ্ঠাংশ, বৈমাত্রেয় দুই-বোনের জন্য ষষ্ঠাংশ আর সহোদর বোনের জন্য অর্ধেক।
৪. এক ব্যক্তি মা, বৈমাত্রেয় দুই বোন ও বৈমাত্রেয় ভাই রেখে মারা গেল। অংক হবে ৬ দ্বারা। মায়ের জন্য ষষ্ঠাংশ আর বাকি দুই বোন ও তাদের ভাইয়ের মাঝে পুরুষ নারীর দ্বিগুণ হিসেবে বণ্টন হবে।
৫. একজন মহিলা স্বামী, মেয়ে ও বৈমাত্রেয় বোন রেখে মারা গেল। অংক হবে ৪ দ্বারা। স্বামীর জন্য এক চতুর্থাংশ, মেয়ের জন্যে অর্ধেক আর বাকি বোনের জন্যে।
📄 বৈপিত্রেয় ভাইদের উত্তরাধিকার
বৈপিত্রেয় ভাইদের ক্ষেত্রে মহিলাদের উপর পুরুষদের কোন প্রাধান্য নেই এবং তাদের মধ্যকার পুরুষ মহিলাদেরকে অনির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারিণী বানাতে পারবে না, ফলে ভাই-বোন সবাই সমান অংশের উত্তরাধিকারী হবে। এদের পুরুষকে নারীরা টেনে এনে ওয়ারিস বানায়। এরা মার দ্বারা বারণ হয়ে কম পায়。
📄 বৈপিত্রেয় ভাইদের মিরাসের অবস্থাসমূহ
১. বৈপিত্রেয় ভাই কিংবা বৈপিত্রেয় বোন একজন হলে এক-ষষ্ঠমাংশের উত্তরাধিকারী হবে। শর্ত হলো: মৃতের ছেলে-মেয়ে ও মূল বাবা কিংবা দাদা থাকবে না。
২. বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোনরা একাধিক হলে এক-তৃতীয়াংশের উত্তরাধিকারী হবে। শর্ত হলো: মৃতের ছেলে-মেয়ে ও মূল বাবা কিংবা দাদা থাকবে না。
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন- وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلْلَةٌ أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ ، فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْدَيْنِ لَا غَيْرَ مُضَار وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ، وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ . জ
যদি কোন মূল ও শাখাবিহীন পুরুষ বা মহিলা মারা যায় এবং তার এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে তারা প্রত্যেকেই এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি একাধিক হয় তবে তারা এক-তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে কৃত অসিয়ত পূরণের পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর কারও অনিষ্ট না করে। ইহা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। [সূরা নিসা: ১২]
উদাহরণ
১. এক ব্যক্তি স্ত্রী ও বৈপিত্রেয় ভাই এবং সহোদর চাচার ছেলে রেখে মারা গেল। এ অংক ১২ দ্বারা হবে। স্ত্রীর জন্যে এক চতুর্থাংশ, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের জন্যে ষষ্ঠাংশ আর বাকি সহোদর চাচার ছেলের জন্যে।
২. একজন মহিলা স্বামী, দুইজন বৈপিত্রেয় ভাই ও সহোদর চাচা রেখে মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। স্বামীর জন্য অর্ধেক, দুই বৈপিত্রেয় ভাইয়ের জন্য এক তৃতীয়াংশ আর বাকি চাচার জন্য।
৩. এক ব্যক্তি মা-বাবা ও দুইজন বৈপিত্রেয় ভাই রেখে মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। মায়ের জন্য ষষ্ঠাংশ এবং বাকি বাবার জন্যে। আর বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা বাবার কারণে বাদ পড়ে যাবে।