📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীর মিরাস

📄 স্ত্রীর মিরাস


স্ত্রীর মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. স্বামীর শাখাজাত উত্তরাধিকারী (সন্তান-সন্ততি) না থাকলে স্ত্রী তার স্বামীর এক চতুর্থাংশ উত্তরাধিকারের মালিক হবে।

২. যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিংবা অন্য কোন পক্ষের মাধ্যমে শাখাজাত উত্তরাধিকারী (ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনি) থাকে তবে স্ত্রী তার স্বামীর এক অষ্টমাংশ উত্তরাধিকারের মালিক হবে।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِّنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوْصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ . আর তোমাদের সন্তান না থাকলে তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে তবে তারা তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-অষ্টমাংশ পাবে। তোমাদের কৃত অসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে। [সূরা নিসা : আয়াত-১২]

একাধিক স্ত্রী হলে তারা সবাই এক চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশের অংশীদার হবে।

উদাহরণ
১. স্ত্রী, মা ও সহোদর একজন চাচা রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ১২ দ্বারা হবে। এর মধ্যে স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, মা এক-তৃতীয়াংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে চাচা পাবে।
২. স্ত্রী ও ছেলে রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ৮ দ্বারা হবে। স্ত্রী পাবে অষ্টমাংশ আর বাকি পাবে ছেলে।
৩. তিনজন স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ৮ দ্বারা হবে। তিনজন স্ত্রী পাবে অষ্টমাংশ আর বাকি ছেলে-মেয়ে-পুরুষের জন্য নারীর দ্বিগুণ হিসেবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মায়ের মিরাস

📄 মায়ের মিরাস


মায়ের মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. তিনটি শর্তে এক-তৃতীয়াংশ: ইহা তিনটি শর্তে উত্তরাধিকার পাবেন: শাখাজাত উত্তরাধিকারী (সন্তান-সন্ততি) না থাকা, ভাই-বোনদের সাথে অংশিদারিত্বে শামিল না হওয়া এবং বিষয়টি দুই উমারিয়ার মাসয়ালার কোন একটি না হয়। (ফরায়েজ শাস্ত্রে মৃত ব্যক্তির মাতা-পিতার সাথে স্বামী কিংবা স্ত্রী থাকলে, তাকে "উমারিয়াহ"-এর মাসয়ালা বলে; কারণ এ দ্বারা উমর ফারুক (রা) এ মাসয়ালার ফয়সালা করেছিলেন।)

২. অষ্টমাংশ: যদি মৃত ব্যক্তির শাখাজাত (সন্তান-সন্ততি) উত্তরাধিকারী থাকে কিংবা ভাই অথবা বোনদের কয়েকজন বিদ্যমান থাকে।

৩. অবশিষ্ট অংশের তিন ভাগের এক ভাগ: যদি দুই উমারিয়া যাকে 'গারাওয়াইন'ও বলা হয় এর মাসয়ালা হয়। উমারিয়ার মাসয়ালা দু'টি হলো:
ক. স্ত্রী, মা ও বাবা: অংকটি ৪ দ্বারা হবে: অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে ৪ ধরে নিলে স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ, মায়ের জন্য অবশিষ্ট (স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর) অংশের এক-তৃতীয়াংশ এবং অবশিষ্ট অর্ধেক পিতার জন্য।
খ. স্বামী, মা ও বাবা: অংকটি ৬ দ্বারা হবে, অর্থাৎ সর্বমোট অংশ ৬ ভাগ ধরে করতে হবে। স্বামীর জন্য অর্ধেক তথা ৩, মায়ের জন্য (স্বামীর অংশ বণ্টনের পরে) অবশিষ্ট অংশের এক-তৃতীয়াংশ তথা ১ এবং অবশিষ্ট ২ পিতার জন্য।

মাকে অবশিষ্ট অংশের এক-তৃতীয়াংশ এ জন্য দেয়া হবে যাতে করে ইহা পিতার অংশের চেয়ে বেশি না হয়ে যায়; কারণ উভয় জন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই পর্যায়ের। আর একজন পুরুষ দুজন মহিলার অংশের সমান অংশ যেন পায়।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-
وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدْج فَإِنْ لَّمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَ وَرِئَةٌ أَبَوهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلْتُ ، فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُসُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ .
আর মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকলে তার পিতামাতার প্রতিজন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি তার কোন সন্তান না থাকে এবং শুধু পিতামাতাই তার উত্তরাধিকারী হয় তবে তার মাতা এক-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তার ভাইয়েরা থাকে তবে তার কৃত অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধ করার পর তার মাতা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। [সূরা নিসা: আয়াত-১১]

উদাহরণ
১. একজন মানুষ মা ও চাচা রেখে মারা গেল। মার জন্য এক তৃতীয়াংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে চাচার জন্য।
২. একজন মানুষ মা ও ছেলে রেখে মারা গেল। অংক হবে ৬ দ্বারা। মার জন্য ষষ্ঠাংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে ছেলের জন্য।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 পিতার মিরাস

📄 পিতার মিরাস


পিতার মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. পিতা নির্ধারিত অংশ হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন: এর জন্য শর্ত হলো: পুরুষ জাতীয় শাখাজাত উত্তরাধিকারী থাকা যেমন : ছেলে কিংবা ছেলের ছেলে এভাবে যদিও আরো নিচের হয়。

২. শাখাজাত উত্তরাধিকারী কোন মেয়ে বা মেয়ের মেয়ে ইত্যাদি হলে, পিতা নির্ধারিত ও অনির্ধারিত উভয় অংশের মিরাস পাবেন। যেমন: মেয়ে কিংবা ছেলের মেয়ে থাকা অবস্থায় তিনি নির্ধারিত অংশ হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ অনির্ধারিতভাবে লাভ করবেন, যেমন ইতিপূর্বে উল্লেখ হয়েছে।

৩. মৃত ব্যক্তির শাখাজাত কোন উত্তরাধিকারী থাকলে, পিতা অনির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকার পাবেন।

আপন ভাইয়েরা কিংবা বৈমাত্রেয় অথবা বৈপিত্রেয় ভাইদের কেহই পিতা ও দাদা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় মিরাসের কোন অংশ পাবে না।

উদাহরণ
১. একজন মানুষ বাবা ও ছেলে রেখে মারা গেল। এ অবস্থায় বাবার জন্য ষষ্ঠাংশ আর বাকি ছেলের জন্য।
২. একজন মানুষ মা ও বাবা রেখে মারা গেল। মার জন্য এক-তৃতীয়াংশ আর বাকি বাবার জন্য।
৩. একজন মানুষ বাবা ও মেয়ে রেখে মারা গেল। মেয়ের জন্য অর্ধেক আর বাবার জন্য ষষ্ঠাংশ ফরজ হিসেবে এবং বাকি আসাবা হিসেবে।
৪. একজন মানুষ বাবা ও সহোদর ভাই কিংবা বৈমাত্রেয় অথবা বৈপিত্রেয় ভাই রেখে মারা গেল। এ অবস্থায় পূর্ণ সম্পত্তির ওয়ারিস হবেন বাবা এবং বাবার কারণে ভাইয়েরা বাদ পড়ে যাবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 দাদার উত্তরাধিকার

📄 দাদার উত্তরাধিকার


উত্তরাধিকারী দাদা তিনি যার মাঝে ও মৃত ব্যক্তির মাঝে কোন নারীর সম্পর্ক থাকবে না যেমন : পিতার পিতা। সুতরাং নানা উত্তরাধিকারী হবেন না; কারণ তার মাধ্যম মা নারী দ্বারা। দাদার উত্তরাধিকার পিতার মতোই কেবল উমারিয়ার দুটি প্রসঙ্গ ছাড়া; কেননা সে দুটিতে মা দাদার সাথে সম্পূর্ণ সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পাবেন। কিন্তু পিতার সাথে অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। এটি হবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নির্ধারিত অংশ পাওয়ার পরের ব্যাপার যেমন ইতিপূর্বে উল্লেখ হয়েছে。

দাদার মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. দাদা দুটি শর্তসাপেক্ষে এক-ষষ্ঠাংশের উত্তরাধিকারী হবেন যথা : মৃতব্যক্তির শাখাজাত উত্তরাধিকারী বিদ্যমান থাকা ও পিতা না থাকা。

২. দাদা উপরোক্ত অবস্থায় অনির্ধারিত অংশ পাবেন যখন মৃত ব্যক্তির কোন শাখাজাত উত্তরাধিকারী থাকবে না এবং যখন পিতাও থাকবেন না。

৩. দাদা নির্ধারিত ও অনির্ধারিত উভয় অংশ দ্বারা একই সাথে উত্তরাধিকার পাবেন। ইহা যখন মৃত ব্যক্তির মহিলা জাতীয় শাখাজাত উত্তরাধিকারী থাকবে যেমন : মেয়ে ও ছেলের মেয়ে ইত্যাদি。

উদাহরণ
১. একজন দাদা ও ছেলে রেখে মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। দাদার জন্য ষষ্ঠাংশ আর বাকি ছেলের জন্য।
২. একজন মা ও দাদা ছেড়ে মারা গেল। অংক ৩ দ্বারা হবে। মার জন্য এক তৃতীয়াংশ আর বাকি দাদার জন্য。
৩. একজন মারা গেল দাদা ও মেয়ে রেখে। অংক ৬ দ্বারা হবে। মেয়ের জন্য অর্ধেক ফরজ হিসেবে আর দাদার জন্যে ষষ্ঠাংশ ফরজ হিসেবে এবং বাকি আসাবা হিসেবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px