📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের সংখ্যা

📄 নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের সংখ্যা


নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের মোট সংখ্যা ১১ জন : স্বামী, এক বা একাধিক স্ত্রী, মাতা, পিতা, দাদা, এক বা একাধিক দাদী, মেয়েরা, ছেলের মেয়েরা, আপন বোনেরা, বৈমাত্রেও বোনেরা এবং বৈপিত্রীয় ভাই ও বৈপিত্রীয় বোনেরা। তাদের উত্তরাধিকার নিম্নরূপ।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্বামীর মিরাস

📄 স্বামীর মিরাস


স্বামীর মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. স্বামী তার স্ত্রীর অর্ধেক উত্তরাধিকার পাবে, যদি স্ত্রীর শাখাজাত কোন উত্তরাধিকারী না থাকে। আর শাখাজাত উত্তরাধিকারীরা হচ্ছে : ছেলে বা মেয়ে সন্তানরা এবং ছেলেদের সন্তানরা এবং তাদের পরবর্তী বংশধর। আর এখানে মেয়েদের সন্তানরা হলো যারা তাদের সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকারী না তারা।

২. স্বামী তার স্ত্রীর এক চতুর্থাংশের উত্তরাধিকারী হবে যদি স্ত্রীর কোন সন্তানাদি থাকে。

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَ لَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ، فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا اَوْ دَيْنِ -
তোমাদের স্ত্রীদের কোন সন্তান না থাকলে তোমরা তাদের পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর তাদের সন্তান থাকলে তোমরা তাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক চতুর্থাংশ পাবে। তাদের কৃত অসিয়ত কিংবা ঋণ আদায়ের পরে।
[সূরা নিসা : আয়াত-১২]

উদাহরণ
১. স্বামী, মা ও একজন সহোদর ভাই রেখে স্ত্রী মারা গেল। অংক ৬ দ্বারা হবে। স্বামী পাবে অর্ধেক, মা পাবে এক-তৃতীয়াংশ, আর ভাই আসাবা হিসেবে বাকিটুকু পাবে。
২. স্বামী ও ছেলে রেখে স্ত্রী মারা গেল। অংক ৪ দ্বারা হবে। স্বামী পাবে এক-চতুর্থাংশ আর বাকি পাবে ছেলে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীর মিরাস

📄 স্ত্রীর মিরাস


স্ত্রীর মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. স্বামীর শাখাজাত উত্তরাধিকারী (সন্তান-সন্ততি) না থাকলে স্ত্রী তার স্বামীর এক চতুর্থাংশ উত্তরাধিকারের মালিক হবে।

২. যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিংবা অন্য কোন পক্ষের মাধ্যমে শাখাজাত উত্তরাধিকারী (ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনি) থাকে তবে স্ত্রী তার স্বামীর এক অষ্টমাংশ উত্তরাধিকারের মালিক হবে।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِّنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوْصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ . আর তোমাদের সন্তান না থাকলে তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে তবে তারা তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-অষ্টমাংশ পাবে। তোমাদের কৃত অসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে। [সূরা নিসা : আয়াত-১২]

একাধিক স্ত্রী হলে তারা সবাই এক চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশের অংশীদার হবে।

উদাহরণ
১. স্ত্রী, মা ও সহোদর একজন চাচা রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ১২ দ্বারা হবে। এর মধ্যে স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, মা এক-তৃতীয়াংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে চাচা পাবে।
২. স্ত্রী ও ছেলে রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ৮ দ্বারা হবে। স্ত্রী পাবে অষ্টমাংশ আর বাকি পাবে ছেলে।
৩. তিনজন স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে রেখে স্বামী মারা গেল। অংক ৮ দ্বারা হবে। তিনজন স্ত্রী পাবে অষ্টমাংশ আর বাকি ছেলে-মেয়ে-পুরুষের জন্য নারীর দ্বিগুণ হিসেবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মায়ের মিরাস

📄 মায়ের মিরাস


মায়ের মিরাসের অবস্থাসমূহ:
১. তিনটি শর্তে এক-তৃতীয়াংশ: ইহা তিনটি শর্তে উত্তরাধিকার পাবেন: শাখাজাত উত্তরাধিকারী (সন্তান-সন্ততি) না থাকা, ভাই-বোনদের সাথে অংশিদারিত্বে শামিল না হওয়া এবং বিষয়টি দুই উমারিয়ার মাসয়ালার কোন একটি না হয়। (ফরায়েজ শাস্ত্রে মৃত ব্যক্তির মাতা-পিতার সাথে স্বামী কিংবা স্ত্রী থাকলে, তাকে "উমারিয়াহ"-এর মাসয়ালা বলে; কারণ এ দ্বারা উমর ফারুক (রা) এ মাসয়ালার ফয়সালা করেছিলেন।)

২. অষ্টমাংশ: যদি মৃত ব্যক্তির শাখাজাত (সন্তান-সন্ততি) উত্তরাধিকারী থাকে কিংবা ভাই অথবা বোনদের কয়েকজন বিদ্যমান থাকে।

৩. অবশিষ্ট অংশের তিন ভাগের এক ভাগ: যদি দুই উমারিয়া যাকে 'গারাওয়াইন'ও বলা হয় এর মাসয়ালা হয়। উমারিয়ার মাসয়ালা দু'টি হলো:
ক. স্ত্রী, মা ও বাবা: অংকটি ৪ দ্বারা হবে: অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে ৪ ধরে নিলে স্ত্রীর জন্য এক চতুর্থাংশ, মায়ের জন্য অবশিষ্ট (স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর) অংশের এক-তৃতীয়াংশ এবং অবশিষ্ট অর্ধেক পিতার জন্য।
খ. স্বামী, মা ও বাবা: অংকটি ৬ দ্বারা হবে, অর্থাৎ সর্বমোট অংশ ৬ ভাগ ধরে করতে হবে। স্বামীর জন্য অর্ধেক তথা ৩, মায়ের জন্য (স্বামীর অংশ বণ্টনের পরে) অবশিষ্ট অংশের এক-তৃতীয়াংশ তথা ১ এবং অবশিষ্ট ২ পিতার জন্য।

মাকে অবশিষ্ট অংশের এক-তৃতীয়াংশ এ জন্য দেয়া হবে যাতে করে ইহা পিতার অংশের চেয়ে বেশি না হয়ে যায়; কারণ উভয় জন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই পর্যায়ের। আর একজন পুরুষ দুজন মহিলার অংশের সমান অংশ যেন পায়।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-
وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدْج فَإِنْ لَّمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَ وَرِئَةٌ أَبَوهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلْتُ ، فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُসُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ .
আর মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকলে তার পিতামাতার প্রতিজন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি তার কোন সন্তান না থাকে এবং শুধু পিতামাতাই তার উত্তরাধিকারী হয় তবে তার মাতা এক-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তার ভাইয়েরা থাকে তবে তার কৃত অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধ করার পর তার মাতা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। [সূরা নিসা: আয়াত-১১]

উদাহরণ
১. একজন মানুষ মা ও চাচা রেখে মারা গেল। মার জন্য এক তৃতীয়াংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে চাচার জন্য।
২. একজন মানুষ মা ও ছেলে রেখে মারা গেল। অংক হবে ৬ দ্বারা। মার জন্য ষষ্ঠাংশ আর বাকি আসাবা হিসেবে ছেলের জন্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px