📄 মানুষের অবস্থাসমূহ
মানুষের দুটি অবস্থা : জীবন আর মরণ। ফরায়েজ বিদ্যায় বেশির ভাগ বিধি-বিধান মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত। তাই ইহা জ্ঞানের অর্ধেক এবং প্রতিটি মানুষই এ জ্ঞানের মুখাপেক্ষী।
জাহিলি যুগের লোকেরা ছোটদেরকে বঞ্চিত করে শুধু বড়দেরকে মিরাস দিত। এভাবে মহিলাদের বঞ্চিত করে কেবল পুরুষদেরকে উত্তরাধিকার দিত। আর বর্তমানের জাহেলিয়াত নারীদেরকে তাদের অধিকারের উপরে পদ, কাজ ও সম্পদ দিয়েছে। এর ফলে অনিষ্ট বেড়েছে ও ফাসাদ-বিপর্যয় বিস্তার লাভ করেছে। পক্ষান্তরে, ইসলাম নারী জাতিকে ইনসাফের ভিত্তিতে অধিকার দিয়েছে, উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে এবং অন্যান্যদের মতো তার উপযুক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
📄 ফরায়েজ বিদ্যার পরিচয়
এটি এমন বিদ্যার নাম যা দ্বারা উত্তরাধিকার কোন্ ব্যক্তি পাবে, আর কে পাবে না এবং কে কী পরিমাণ পাবে তা জানা যায়। ইসলামি শাস্ত্র অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে নির্ধারিত অংশে ভাগ করে দেওয়াকে ফরায়েজ বলে।
এর বিষয়বস্তু : মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত (স্থাবর ও অস্থাবর) সমস্ত সম্পদ।
এর উপকারিতা : উত্তরাধিকারীদের প্রত্যেকের নিকট যার যার অধিকার পৌঁছে দেওয়া।
ফারীযা : (সম্পত্তির নির্ধারিত অংশ) ইহা হচ্ছে সেই নির্ধারিত অংশ যা শরিয়ত নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যেমন: তৃতীয়াংশ, চতুর্থাংশ ইত্যাদি।
📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ
পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকার মোট পাঁচটি। ইহা বিদ্যমান থাকলে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। অধিকার ৫টি নিম্নরূপ
১. পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন ইত্যাদির ব্যবস্থা করা।
২. ঐসব অধিকারসমূহ আদায় করা যা সরাসরি পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত যেমন: বন্ধক ইত্যাদির সাহায্যে সংঘটিত ঋণ।
৩. সাধারণ ঋণ, চাই তা আল্লাহর হোক যেমন: জাকাত, কাফ্ফারা ইত্যাদি অথবা মানুষের হোক।
৪. এরপর অসিয়ত।
৫. পরিশেষে উত্তরাধিকার।
📄 উত্তরাধিকারের ভিত্তিসমূহ
উত্তরাধিকারের ভিত্তি তিনটি
১. উত্তরাধিকারের মূল মালিক (মৃত ব্যক্তি)।
২. উত্তরাধিকারীগণ।
৩. মিরাস তথা পরিত্যক্ত সম্পদ।