📄 অপবাদের শাস্তি নির্ধারণের রহস্য
ইসলাম ইজ্জত-আব্রু সংরক্ষণের জন্য উৎসাহিত করেছে এবং যার দ্বারা কলঙ্কিত ও ধ্বংস হয়, তা থেকে নিষেধ করেছে। নেক ও সৎজনদের ইজ্জত-আব্রুকে কলঙ্কিত করা থেকে বিরত থাকার জন্য আদেশ দিয়েছে। আর অন্যায়ভাবে তাদের সম্মান নষ্ট করা হারাম করে দিয়েছে। এটি একমাত্র ইজ্জত-সম্মানকে কলঙ্কিত হতে হেফাজত করার জন্য।
এমন কতিপয় মানুষ আছে যারা আল্লাহ যা হারাম করে দিয়েছেন যেমন: অপবাদ দেয়া এ বিষয়ে অগ্রসর হয়। আর বিভিন্ন কুমতলবে মুসলমানদের ইজ্জত-সম্মানকে কলঙ্কিত করে। যখন নিয়তের বিষয়টি অপ্রকাশ্য তখন অপবাদদাতাকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। তাই যদি উপস্থিত করতে না পারে তবে তার উপর ৮০ চাবুক শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।
📄 অপবাদের বিধান
অপবাদ দেয়া হারাম। এটি কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তা'আলা অপবাদ দাতার উপর ইহকাল ও পরকালে কঠিন শাস্তি ফরজ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ করেন- وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ تَمْنِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ শَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَسِقُونَ.
"আর যারা সতী-সাধ্বী মহিলাদেরকে অপবাদ আরোপ করে, অত:পর স্বপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করতে না পারে তাদেরকে ৮০ বেত্রাঘাত করা এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। এরাই ফাসেক তথা নাফরমান।" [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-৪]
📄 আল্লাহ তা‘আলা আরো কিছু ঘোষণা
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ الْغَفِلَتِ الْمُؤْمِنَتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ.
"নিশ্চয় যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার মহিলাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি।” [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-২৩]
৩. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ইরশাদ করেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু থেকে মুক্ত থাক। সাহাবায়ে কেরাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা, যাদু' করা, কোন হক ব্যতীতই আল্লাহ যাদের হত্যা করা হারাম করেছেন তাদের হত্যা করা, ঘুষ গ্রহণ করা, এতিমের সম্পদ খাওয়া, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পশ্চাদ ফিরিয়ে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার মহিলাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা।" (বুখারী, হাদীস নং ২৭৬৬ ও মুসলিম, হাদীস নং ৮৯)
📄 অপবাদের শাস্তি
স্বাধীন নারী-পুরুষ হলে ৮০ বেত্রাঘাত। আর দাস-দাসী হলে ৪০ বেত্রাঘাত মারতে হবে।