📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যার ওপর যিনার শাস্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে

📄 যার ওপর যিনার শাস্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে


১. মুসলিম হোক বা কাফের হোক তার উপর যিনার শাস্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ এ দণ্ড যিনা করার জন্য তাই কাফেরের ওপরেও ফরজ। যেমন ফরজ কেসাসে হত্যা ও চুরিতে হাত কাটা।

২. যদি বিবাহিত পুরুষ কোন অবিবাহিত মহিলার সাথে যিনা করে তাহলে প্রত্যেকের নিজ নিজ শাস্তি তথা বিবাহিতের জন্য রজম আর অবিবাহিতর জন্য চাবুক ও নির্বাসন।

৩. যদি স্বাধীন ব্যক্তি দাসীর সাথে কিংবা এর বিপরীত কোন স্বাধীন মহিলা দাসের সাথে যিনা করে তাহলে প্রত্যেকের বিধান অনুযায়ী শাস্তি হবে।

৪. ব্যভিচারীর উপর শাস্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে যদি সে মুকাল্লাফ (শরিয়তের আজ্ঞাবহ) হয় এবং স্বেচ্ছায় ও হারাম জেনে করে। আর বিচারপতির নিকটে স্বীকার করে অথবা সাক্ষী প্রমাণ এবং আকাঙ্ক্ষা মুক্ত হয়।

* মহিলা হোক বা পুরুষ হোক রজম করার সময় গর্ত খনন করা লাগবে না। কিন্তু মহিলার উপর পোশাক শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে যাতে করে উলঙ্গ না হয়ে যায়।
* যে কোন নারী যিনার দ্বারা গর্ভবতী হলে অথবা নিজে স্বীকার করলে তাকে সর্বপ্রথম রজম করবেন রাষ্ট্রপতি। অত:পর সাধারণ জনগণ। আর যদি চারজন সাক্ষী দ্বারা যিনা সাব্যস্ত হয়, তাহলে সাক্ষীরাই প্রথমে রজম করবে। অত:পর রাষ্ট্রপতি ও এরপর জনগণ।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যে অজ্ঞতায় শাস্তি বাস্তবায়ন করা নিষেধ

📄 যে অজ্ঞতায় শাস্তি বাস্তবায়ন করা নিষেধ


এ বিষয়ে অজ্ঞতার অজুহাত অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু কাজটি হারাম কি না সে বিষয়ে অজ্ঞতা কৈফিয়ত যোগ্য। অতএব, যার যিনা হারাম এ জ্ঞান আছে কিন্তু তার শাস্তি রজম বা চাবুক জানে না তার এ অজ্ঞতার অজুহাত চলবে না। বরং তার ওপর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যিনার পরে স্বামী-স্ত্রীর বিধান

📄 যিনার পরে স্বামী-স্ত্রীর বিধান


কোন বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করলে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না। অনুরূপ কোন বিবাহিতা মহিলা যিনা করলে তার স্বামী তার জন্য হারাম হবে না। কিন্তু তারা দু'জনেই জঘন্য গুনাহের কাজ সম্পাদন করেছে তার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। তাদেরকে আল্লাহ তা'য়ালার নিকট তওবা ও ক্ষমা চাওয়া ওয়াজিব।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنِّي إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً ، وَسَاءَ سَبِيلًا.
"তোমরা যিনার নিকটেও যেও না; কারণ এটি অশ্লীল ও মন্দ পথ।" [সূরা-১৭ বনী ইসরাঈল: আয়াত-৩২]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী করীম ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহের কাজ কোনটি? তিনি বললেন: “তুমি আল্লাহর সাথে কোন অংশীদার স্থাপন করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" সাহাবী বলেন: আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয় এটি কঠিন বিষয়। আবার বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার সন্তানকে হত্যা করা এ ভয়ে যে সে তোমার সাথে ভক্ষণ করবে।" সাহাবী বললেন: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা।” (বুখারী, হাদীস নং ৬৮১১; মুসলিম, হাদীস নং ৮৬)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যে মুহারররামাত মহিলার সাথে যিনা করবে তার হুকুম

📄 যে মুহারররামাত মহিলার সাথে যিনা করবে তার হুকুম


যে ব্যক্তি কোন মুহাররামাত (যাদেরকে বিবাহ করা হারাম) যেমন: আপন বোন, কন্যা ও বাবার স্ত্রী ইত্যাদি-এর সাথে হারাম জানা সত্ত্বেও যিনা করবে তাকে হত্যা করা ফরজ।

বারা ইবনে আজেব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার চাচাকে ঝাণ্ডা উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখে বললাম: কোথায় চলেছেন? তিনি বললেন: আমাকে রাসূলে করীম ﷺ প্রেরণ করেছেন ঐ মানুষের নিকট যে তার বাবার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তিনি আমাকে নির্দেশ করেছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার জন্যে এবং তার সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্যে।” (হাদীসটি সহীহ, তিরমিযী হাদীস নং ১৩৬২; নাসাঈ হাদীস নং ৩৩৩২)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية