📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যিনার হুকুম

📄 যিনার হুকুম


যিনা করা সম্পূর্ণভাবে হারাম। এটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। আর মহান আল্লাহর সাথে শিরক ও নিরাপরাধী কোন ব্যক্তিকে হত্যার পরের স্তরের কবিরা গুনাহ। এর ঘৃণ্যতা ও নোংরাপনার বিভিন্ন রূপ রয়েছে। বিবাহিত মহিলার সাথে যিনা, মুহাররামাতের (যাদের সাথে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম) সাথে যিনা এবং অন্যের স্ত্রীর সাথে যিনা সবচেয়ে জঘন্য যেনা।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যিনার ক্ষতি

📄 যিনার ক্ষতি


যিনার ক্ষতি সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এটি দুনিয়াতে বংশকুল ও লজ্জাস্থান এবং ইজ্জত-সম্মান সংরক্ষণের যে নীতিমালা রয়েছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ। যিনায় সকল ধরনের ক্ষতি কেন্দ্রিভূত হয়। এর দ্বারা বান্দার জন্য যাবতীয় পাপের দরজাগুলো খুলে যায়। এ ছাড়া জন্ম নেয় বহুবিধ মানসিক ও দৈহিক রোগ-বালাই। আর সৃষ্টি করে অভাব ও অনটনের উত্তরাধিকারী।

ব্যব্যিচারীরা মানুষের নিকট ঘৃণিত ও অসম্মানিত বলে বিবেচিত হয়। ব্যভিচারীর মুখমণ্ডলে ফুটে উঠে ফাসাদের চিহ্ন এবং হয়ে পড়ে মানুষ সমাজ থেকে নিঃসঙ্গ।

যেনার শাস্তি বড় কঠিন। পৃথিবীতে বিবাহিতকে পাথর নিক্ষেপ করে রজম করার মতো কঠোর সাজা এবং অবিবাহিতকে ১০০ চাবুক ও নির্বাসন। আর তওবা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে পরকালে কঠিন শাস্তি। সকল ব্যভিচারী নারী-পুরুষকে জাহান্নামের আগুনের চুলায় একত্রিত করা হবে।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ من ولا تَأْخُذَكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ .
"ব্যভিচারিণী মহিলা ও ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ' করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর-করণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।" [সূরা নূর: আয়াত-২]

২. জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। আসলাম গোত্রের একজন মানুষ রাসূলে করীম ﷺ-এর নিকট এসে যিনা করেছে স্বীকার করে নিজের ওপর চারটি সাক্ষ্য দেয়। অত:পর রাসূলে করীম ﷺ তাঁকে রজম করার নির্দেশ দিলে তাকে রজম করা হয়। আর সে বিবাহিত ছিল।" (বুখারী, হাদীস নং ৬৮১৪; মুসলিম, হাদীস নং ১৬৯১)

'মুহসিন' ও 'সাইয়েব' ঐ ব্যক্তিকে বলে যে সহীহ বিবাহ বন্ধন দ্বারা তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে। স্বামী-স্ত্রী উভয় স্বাধীন ও শরিয়তের মুকাল্লাফ তথা আজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। আর 'বিক্র' বলা হয় এর বিপরীত কুমারী মহিলাকে-যার সাথে বৈধভাবে সহবাস হয়নি।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যিনা-ব্যভিচার থেকে মুক্ত থাকার উপায়

📄 যিনা-ব্যভিচার থেকে মুক্ত থাকার উপায়


যৌন চাহিদা পূরণ ও বংশকুল সংরক্ষণের জন্য ইসলামী শরীয়ত বিবাহ ব্যবস্থাপনা করেছে যা নিরাপদের এক অনুপম নীতিমালা। ইসলাম এ শর'য়ী পথ ব্যতীত অন্য কোন কর্মকাণ্ড নিষেধ করত: পর্দা, চক্ষুকে সংযত করার নির্দেশ করেছে। আর নারীদেরকে তাদের পায়ের অলংকারাদির ঝঙ্কার ও বেপর্দায় চলতে নিষেধ করেছে। আরো নিষেধ করেছে অবাধ মেলামেশা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন এবং বেগানা পুরুষের সাথে একাকী মিলতে ও করমর্দন করতে। অনুরূপ নিষেধ করেছে মাহররাম পুরুষ ছাড়া সফর করতে। এ সমস্ত শুধুমাত্র যাতে করে নারী-পুরুষ যিনার মতো জঘন্য অশ্লীল কাজে লিপ্ত না হয়।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যিনা

📄 দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যিনা


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আদম সন্তানের ওপর তার যিনার অংশ লিখা হয়েছে যা সে অবশ্যই পাবে। অতএব, দু' চোখের যিনা হলো তাকানো। দু' কানের যিনা হলো শ্রবণ করা। জিহ্বার যিনা হচ্ছে কথা বলা। হাতের যিনা হলো ধরা। পায়ের যিনা হলো সে কাজের জন্য চলা। অন্তরের যিনা হলো সে দিকে ঝোঁকা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা করা। এরপর লজ্জাস্থান যিনাকে বাস্তবায়ন করে অথবা করে না।” (বুখারী, হাদীস নং ৬২৪৩ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৬৫৭)

ফন্ট সাইজ
15px
17px