📄 হায়েয ও ইসতিহাযার মধ্যে পার্থক্য
১. হায়েয: মহিলাদের জরায়ুর গভীরে ‘আযেল’ নামক একটি রগ হতে রক্ত বের হওয়াকে হায়েয বলা হয়। এ রক্তের রঙ কালো, ঘন-গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত হয় এবং বের হওয়ার পর জমাট বাঁধে না।
২. ইসতিহাযা: নারীদের জরায়ুর নিকটবর্তী ‘আযেল’ নামক একটি রগ থেকে রক্ত বের হওয়াকে ইসতিহাযা বলা হয়। এ রক্তের রঙ লাল, পাতলা, দুর্গন্ধযুক্ত নয় এবং বের হওয়ার পর জমে যায়; তা সাধারণ রগের রক্ত।
📄 মুসতাহাযা নারীর গোসলের বর্ণনা
মুসতাহাযা নারী তার মাসিকের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে মাত্র একবার গোসল করবে। প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ওযু করবে। লজ্জাস্থানে পরিষ্কার নেকড়া বা টিস্যু পেপার ইত্যাদি দিয়ে বন্ধ রাখবে।
📄 মুসতাহাযা নারীর চার অবস্থা
১. মুসতাহাযা যদি মাসিকের নির্দিষ্ট সময় জানা আছে এমন নারী হয়, তাহলে সে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে।
২. মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময় জানা না থাকলে ৬ বা ৭ দিন অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে; কেননা অধিকাংশ মাসিকের সময়কাল এমনই হয়ে থাকে।
৩. মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময় জানা নেই, তবে সে মাসিকের কালো ইত্যাদি রক্ত দেখে অন্য রক্ত থেকে পার্থক্য করতে পারে এমন নারী হয়, তাহলে তার চেনা অনুসারে মাসিকের রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।
৪. আর যদি এমন নারী হয় যার মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময়ও নেই এবং সে মাসিকের কালো ইত্যাদি রক্ত দেখে অন্য রক্ত থেকে পার্থক্য করতেও পারে না, তাহলে সে ৬ বা ৭ দিন অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে। এ প্রকারের নারীকে প্রারম্ভিক ঋতুবতী নারী বলা হয়।
📄 নারীদের যেসব জিনিস বের হয় তার হুকুম
এ জাতীয় ইস্তিহাযার রক্তের ফোটা কোন নারীর বের হলে তা মাসিক বা প্রসূতির রক্ত বলে গণ্য হবে না। চার মাস পূর্ণ হওয়ার পরে পেটের বাচ্চা গর্ভপাত হলে যে রক্ত বের হবে তা নিফাস তথা প্রসূতির রক্ত বলে গণ্য হবে। আকৃতি বিহীন রক্ত বা গোস্তের পিণ্ড গর্ভপাতের পরে রক্ত দেখা গেলেও তা নিফাস তথা প্রসূতি অন্তর্ভুক্ত হবে না। তিন মাস পরিপূর্ণ হওয়ার পর যদি আকৃতি ধারণকৃত গোস্ত পিণ্ড গর্ভপাত হয়, তাহলে নিশ্চিত করবে তা বাচ্চা কি-না এবং তা নিফাস বা প্রসূতি কি-না。
* মুসতাহাযা মহিলার জন্য সালাত, রোযা, ইতেকাফ এবং অন্যান্য সকল ধরনের ইবাদত করা জায়েয।
عَنْ عَائِشَةَ (رضى) أَنْ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشِ سَأَلَتِ النَّبِيُّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ إِنِّي أَسْتَحَاضُ فَلَا أَظْهُرُ أَفَادَعُ الصلاةَ فَقَالَ : لَا إِنْ ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَكِنْ دَعِي الصَّلَاةَ قَدْرَ الْأَيَّامِ الَّتِي كُنْتِ تَحِيْضِيْنَ فِيهَا ثُمَّ اغْتَسِلِي وَصَلَّى.
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ (রা) নবী করীম ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমি ইসতিহাযার রোগিণী কখনো পবিত্র হই না, আমি সালাত ছাড়তে পারি? তিনি বললেন : না; কারণ এটা রগ থেকে নির্গত রক্ত। কিন্তু তুমি তোমার মাসিকের নির্দিষ্ট দিনগুলোর পরিমাণের সময় সালাত ত্যাগ কর। অতঃপর গোসল করে সালাত আদায় কর।" (বুখারী, হাদীস নং ৩২৫ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৩)
* নারীদের মাসিক, প্রসূতি ও ছোট অপবিত্রতা অবস্থায় কুরআন স্পর্শ না করে তিলাওয়াত করা জায়েয আছে। তবে পবিত্র অবস্থায় তিলাওয়াত করাই উত্তম।