📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করার বিধান

📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করার বিধান


ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- وَيَسْتَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ، قُلْ هُوَ اذَى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحَيْضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللهُ ، إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَّطَّهِّরِينَ.
"এবং তারা আপনাকে (নারীদের) মাসিক ঋতু প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি বলুন: এটা হচ্ছে অপবিত্র রক্ত; অতএব হায়েয অবস্থায় তোমরা স্ত্রীদের সহবাস থেকে দূরে থাক এবং ভালোভাবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটে গমন কর না (অর্থাৎ সহবাস করো না), তবে যখন উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে যাবে তখন তোমরা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে (বৈধ পন্থায়) তাদের নিকট যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী ও পরিছন্নতাপ্রিয় ব্যক্তিগণকে পছন্দ করেন।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২২]

* হায়েয বা মাসিকের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল না করা পর্যন্ত ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা না জায়েয। গোসলের পূর্বে সহবাস করলে পাপী হবে।

* জেনে শুনে নিজ ইচ্ছায় ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে স্বামী পাপী হবে এবং তাকে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। স্ত্রীর হুকুমও স্বামীর মতোই।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 হায়েয ও ইসতিহাযার মধ্যে পার্থক্য

📄 হায়েয ও ইসতিহাযার মধ্যে পার্থক্য


১. হায়েয: মহিলাদের জরায়ুর গভীরে ‘আযেল’ নামক একটি রগ হতে রক্ত বের হওয়াকে হায়েয বলা হয়। এ রক্তের রঙ কালো, ঘন-গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত হয় এবং বের হওয়ার পর জমাট বাঁধে না।
২. ইসতিহাযা: নারীদের জরায়ুর নিকটবর্তী ‘আযেল’ নামক একটি রগ থেকে রক্ত বের হওয়াকে ইসতিহাযা বলা হয়। এ রক্তের রঙ লাল, পাতলা, দুর্গন্ধযুক্ত নয় এবং বের হওয়ার পর জমে যায়; তা সাধারণ রগের রক্ত।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মুসতাহাযা নারীর গোসলের বর্ণনা

📄 মুসতাহাযা নারীর গোসলের বর্ণনা


মুসতাহাযা নারী তার মাসিকের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে মাত্র একবার গোসল করবে। প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ওযু করবে। লজ্জাস্থানে পরিষ্কার নেকড়া বা টিস্যু পেপার ইত্যাদি দিয়ে বন্ধ রাখবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মুসতাহাযা নারীর চার অবস্থা

📄 মুসতাহাযা নারীর চার অবস্থা


১. মুসতাহাযা যদি মাসিকের নির্দিষ্ট সময় জানা আছে এমন নারী হয়, তাহলে সে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে।
২. মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময় জানা না থাকলে ৬ বা ৭ দিন অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে; কেননা অধিকাংশ মাসিকের সময়কাল এমনই হয়ে থাকে।
৩. মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময় জানা নেই, তবে সে মাসিকের কালো ইত্যাদি রক্ত দেখে অন্য রক্ত থেকে পার্থক্য করতে পারে এমন নারী হয়, তাহলে তার চেনা অনুসারে মাসিকের রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।
৪. আর যদি এমন নারী হয় যার মাসিকের পূর্বনির্ধারিত সময়ও নেই এবং সে মাসিকের কালো ইত্যাদি রক্ত দেখে অন্য রক্ত থেকে পার্থক্য করতেও পারে না, তাহলে সে ৬ বা ৭ দিন অপেক্ষার পর গোসল করে সালাত আদায় করবে। এ প্রকারের নারীকে প্রারম্ভিক ঋতুবতী নারী বলা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px