📄 হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করার হুকুম
মাসিকগ্রস্ত (ঋতুবতী) স্ত্রীর সাথে শয়ন বা তার পরিধানকৃত পোশাকের উপর দিয়ে দেহের সাথে দেহ ঘর্ষণ করা জায়েয।
عَنْ مَيْمُونَةَ রضی اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُ نِسَاءَهُ فَوْقَ الْإِزَارِ وَهُنَّ حُيْضِ.
মাইমূনা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীগণের সাথে মাসিক অবস্থাতে পরিধানকৃত পোশাকের উপর দিয়ে দেহের সাথে দেহকে ঘর্ষণ করতেন।” (বুখারী, হাদীস নং ৩০০ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৯৪)
📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করার বিধান
ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম।
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- وَيَسْتَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ، قُلْ هُوَ اذَى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحَيْضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللهُ ، إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَّطَّهِّরِينَ.
"এবং তারা আপনাকে (নারীদের) মাসিক ঋতু প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি বলুন: এটা হচ্ছে অপবিত্র রক্ত; অতএব হায়েয অবস্থায় তোমরা স্ত্রীদের সহবাস থেকে দূরে থাক এবং ভালোভাবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটে গমন কর না (অর্থাৎ সহবাস করো না), তবে যখন উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে যাবে তখন তোমরা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে (বৈধ পন্থায়) তাদের নিকট যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী ও পরিছন্নতাপ্রিয় ব্যক্তিগণকে পছন্দ করেন।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২২]
* হায়েয বা মাসিকের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল না করা পর্যন্ত ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা না জায়েয। গোসলের পূর্বে সহবাস করলে পাপী হবে।
* জেনে শুনে নিজ ইচ্ছায় ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে স্বামী পাপী হবে এবং তাকে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। স্ত্রীর হুকুমও স্বামীর মতোই।
📄 হায়েয ও ইসতিহাযার মধ্যে পার্থক্য
১. হায়েয: মহিলাদের জরায়ুর গভীরে ‘আযেল’ নামক একটি রগ হতে রক্ত বের হওয়াকে হায়েয বলা হয়। এ রক্তের রঙ কালো, ঘন-গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত হয় এবং বের হওয়ার পর জমাট বাঁধে না।
২. ইসতিহাযা: নারীদের জরায়ুর নিকটবর্তী ‘আযেল’ নামক একটি রগ থেকে রক্ত বের হওয়াকে ইসতিহাযা বলা হয়। এ রক্তের রঙ লাল, পাতলা, দুর্গন্ধযুক্ত নয় এবং বের হওয়ার পর জমে যায়; তা সাধারণ রগের রক্ত।
📄 মুসতাহাযা নারীর গোসলের বর্ণনা
মুসতাহাযা নারী তার মাসিকের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে মাত্র একবার গোসল করবে। প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ওযু করবে। লজ্জাস্থানে পরিষ্কার নেকড়া বা টিস্যু পেপার ইত্যাদি দিয়ে বন্ধ রাখবে।