📄 যা দ্বারা তায়াম্মুম করা বৈধ
মাটি বা মাটি জাতীয় যে কোন পবিত্র জিনিস দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েয। যেমন: সাধারণ মাটি, বালু, পাথর, ভিজা বা শুকনা মাটি।
📄 তায়াম্মুমের নিয়ম
পবিত্রতার নিয়ত করে দু' হাতের তালু মাটিতে একবার মারবে। অতঃপর তা দ্বারা চেহারা ও দু' হাতের পাঞ্জার উপরিভাগ মাসেহ করবে। প্রথমে বাম হাতের পেট দ্বারা ডান হাতের পাঞ্জার উপর এবং অনুরূপভাবে ডান হাতের পেট দ্বারা বাম হাতের পাঞ্জার উপরিভাগ মাসেহ করবে। (মাটিতে হাত দু'বার মারা ও কনুই পর্যন্ত মাসেহ করার হাদীস দুর্বল গ্রহণযোগ্য নয়।) আর কখনো দুই হাত প্রথমে ও চেহারা পরে মাসেহ করবে।
১, এক ব্যক্তি ওমর বিন খাত্তাব (রা)-এর নিকট এসে বললেন: আমার গোসল ফরজ হয়েছে কিন্তু আমি পানি পাইনি। অতঃপর (তা শ্রবণ করে) আম্মার বিন ইয়াসির (রা) ওমর বিন খাত্তাব (রা)-কে বললেন: আপনার মনে আছে যে, আমি আর আপনি সফরে ছিলাম (অতঃপর গোসল ফরজ হওয়ার পর পানি না পাওয়াতে) আপনি সালাত আদায় করলেন না, আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আপনি নবী করীম ﷺ-কে ঘটনা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: এ রকম তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি দু'হাতের তালু দিয়ে মাটিতে একবার মারলেন এবং তালুদ্বয়ে ফুঁ দিলেন। এরপর দু' তালু দিয়ে চেহারা ও দু' হাত মাসেহ করলেন।" (বুখারী, হাদীস নং ৩৩৮, মুসলিম, হাদীস নং ৩৬৮)
২. আম্মার বিন ইয়াসির (রা) থেকে তায়াম্মুমের বর্ণনায় এসেছে যে, নবী করীম ﷺ বললেন: "এ রকম করাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি দু'হাতের তালু দিয়ে মাটিতে একবার মারলেন এবং তা ঝাড়লেন। এরপর বাম হাত দিয়ে (ডান) হাতের পিঠ এবং (ডান) হাত দিয়ে বাম হাতের পিঠ মাসেহ করলেন। অতঃপর চেহারা মাসেহ করলেন।" (বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭, মুসলিম, হাদীস নং ৩৬৮)
📄 তায়াম্মুম দ্বারা যা দূর হবে
কয়েক প্রকার নাপাকী থেকে একই সাথে পাক হওয়ার নিয়ত করলে তাতে এক তায়াম্মুমই যথেষ্ট হবে। যেমন: পেশাব, পায়খানা, স্বপ্নদোষ (ইত্যাদি)।
* ওযু দ্বারা যে সকল কাজ বৈধ তা তায়াম্মুম দ্বারাও বৈধ। যেমন: সালাত আদায়, আল্লাহর ঘরের তওয়াফ করা, কুরআন শরীফ স্পর্শ করা ইত্যাদি।
📄 তায়াম্মুম নষ্টকারী জিনিসসমূহ
নিম্নের জিনিসগুলোর দ্বারা তায়াম্মুম নষ্ট হয়:
১. পানি পাওয়া গেলে।
২. অসুস্থতা বা বিশেষ প্রয়োজন ইত্যাদির ওজর দূর হয়ে গেলে।
৩. ওযু ভঙ্গের যে কোন কারণ পাওয়া গেলে।
যদি কেউ পানি ও মাটি কোনটাই না পায় অথবা এ দুটোর কোনটারই ব্যবহারের ক্ষমতা না থাকে তাহলে ওযু ও তায়াম্মুম ছাড়া ঐ অবস্থাতেই সালাত আদায় করবে এবং পরে তাকে এ সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না।