📄 সংক্ষেপে গোসলের বর্ণনা
গোসলের নিয়ত করে গোটা দেহে একবার পানি ঢেলে দেয়া।
পরিপূর্ণ গোসলের বর্ণনা: গোসলের নিয়ত করে দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। অতঃপর লজ্জাস্থান ও যে সকল স্থানে ময়লা লেগেছে তা ধৌত করে পূর্ণ ওযু করবে। এরপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে এবং হাত দিয়ে মাথার চুল খিলাল করবে। তারপর দেহের অবশিষ্ট অংশ একবার ধৌত করে ফেলবে এবং ডানে সরে দাঁড়িয়ে দেহ মুছে ফেলবে। তবে মোটেই পানির অপচয় করবে না।
📄 মহানবী ﷺ এর গোসলের বর্ণনা
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (رضى) قَالَ حَدَّثَتْنِي خَالَتِي مَيْمُونَةٌ قَالَتْ : ادنيتُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُسْلَهُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ أَفْرَغَ بِهِ عَلَى فَرْجِهِ وَغَسَلَهُ بِشِمَالِهِ ثُمَّ ضَرَبَ بِشِمَالِهِ الْأَرْضَ فَدَلَكَهَا دَلَكًا شَدِيدًا ثُمَّ تَوَضَّا وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ مِلْءَ كَفِّهِ ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى عَنْ মَقَامِهِ ذَلِكَ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِالْمِنْدِيلِ فَرَدَّهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার খালা মাইমূনা (রা) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য ফরজ গোসলের পানি হাজির করি। তিনি তাঁর দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত দুই বা তিনবার ধৌত করে হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন। তারপর হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থানে ঢাললেন এবং বাম হাতে তা ধৌত করলেন। এরপর মাটিতে বাম হাত মেরে উত্তমরূপে পানি ঢাললেন এবং সালাতের ওযুর অনুরূপ ওযু করলেন। অতঃপর তিনবার দুই হাত ভরে পানি নিয়ে মাথার উপর দিলেন এবং গোটা দেহ ধৌত করলেন। তারপর নিজ স্থান হতে সরে দাঁড়ালেন এবং দুই পা ধৌত করলেন। অতঃপর আমি [মাইমূনা (রা)] তাঁকে তোয়ালে দিলাম কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।” (বুখারী, হাদীস নং ২৭৬ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩১৭)
* ফরজ গোসলের আগেই ওযু করা সুন্নাত। যদি কেউ ওযু করে বা ওযু ব্যতীত গোসল করে নেয়, তাহলে তার জন্য গোসলের পর ওযু করা শরিয়ত সম্মত নয়।
📄 বীর্যপাত হলে নিম্নোক্ত কার্যাদি হারাম
সালাত আদায় করা এবং কা'বা ঘরের তওয়াফ করা। যার দেহে দুর্গন্ধ তার প্রতি জুমু'আর দিন গোসল করা ওয়াজিব আর অন্যদের প্রতি মুস্তাহাব (উত্তম)।
📄 সহবাসের পর ঘুমানোর পদ্ধতি
সহবাসের পর পরই গোসল করে নেয়া সুন্নাত। ফরজ গোসল না করেও ঘুমানো জায়েয। তবে লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং ওযু করে নিদ্রা যাওয়া ভালো।
عَنْ عَائِشَةَ রضی اللهُ عَنْهُمَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ غَسَلَ فَرَجَهُ وَتَوَضَّا للصلاة.
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ গোসল ফরজ অবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করলে লজ্জাস্থান ধৌত করে ওযু করে নিতেন। (বুখারী, হাদীস নং ২৮৮; মুসলিম, হাদীস নং ৩০৫)
একই (পানির) পাত্র থেকে স্বামী-স্ত্রী একত্রে ফরজ গোসল করা জায়েয আছে। যদিও তাতে পরস্পরের লজ্জাস্থান দৃষ্টিগোচর হয়।
عَنْ عَائِشَةَ রضی اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ مِنْ إِنَاءِ وَاحِدٍ مِنْ جَنَابَة .
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: "আমি নবী করীম ﷺ-এর সাথে একই (পানির) পাত্র থেকে একত্রে ফরজ গোসল করতাম।" (বুখারী, হাদীস নং ২৬৩ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩২১)