📄 গোসল
গোসল: পবিত্র পানি দ্বারা গোটা দেহ বিশেষভাবে ভিজানোকে গোসল বলে। এটি ইসলামের একটি সৌন্দর্য; কেননা ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দ্বীন।
📄 গোসল ফরজের কারণ ছয়টি
১. কোন পুরুষ বা নারী থেকে যৌন উত্তেজনার সাথে বীর্যপাত হওয়া। চাই হস্তমৈথুন করে হোক বা সহবাসে হোক বা স্বপ্নদোষ ইত্যাদির মাধ্যমে হোক।
২. পুরুষ লিঙ্গের সামনের অংশ স্ত্রীলিঙ্গের ভেতরে প্রবেশ হলে, যদিও কারো বীর্যপাত না হয়।
৩. আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে শহীদ ছাড়া, কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে।
৪. কাফের মুসলমান হলে।
৫. নারীদের হায়েয-মাসিক ঋতু হলে।
৬. নারীদের নেফাস-প্রসূতি অবস্থার রক্ত বের হলে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رضى) عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الْغَسْلُ.
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন : "যদি (পুরুষ) তার (স্ত্রীর) দুই পা ও দুই রানের মাঝে বসে চেষ্টা করে তাহলেই গোসল ফরজ হয়ে যাবে।” (বুখারী, হাদীস নং ২৯১ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩৪৮)
📄 সংক্ষেপে গোসলের বর্ণনা
গোসলের নিয়ত করে গোটা দেহে একবার পানি ঢেলে দেয়া।
পরিপূর্ণ গোসলের বর্ণনা: গোসলের নিয়ত করে দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। অতঃপর লজ্জাস্থান ও যে সকল স্থানে ময়লা লেগেছে তা ধৌত করে পূর্ণ ওযু করবে। এরপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে এবং হাত দিয়ে মাথার চুল খিলাল করবে। তারপর দেহের অবশিষ্ট অংশ একবার ধৌত করে ফেলবে এবং ডানে সরে দাঁড়িয়ে দেহ মুছে ফেলবে। তবে মোটেই পানির অপচয় করবে না।
📄 মহানবী ﷺ এর গোসলের বর্ণনা
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (رضى) قَالَ حَدَّثَتْنِي خَالَتِي مَيْمُونَةٌ قَالَتْ : ادنيتُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُسْلَهُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ أَفْرَغَ بِهِ عَلَى فَرْجِهِ وَغَسَلَهُ بِشِمَالِهِ ثُمَّ ضَرَبَ بِشِمَالِهِ الْأَرْضَ فَدَلَكَهَا دَلَكًا شَدِيدًا ثُمَّ تَوَضَّا وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ مِلْءَ كَفِّهِ ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى عَنْ মَقَامِهِ ذَلِكَ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِالْمِنْدِيلِ فَرَدَّهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার খালা মাইমূনা (রা) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য ফরজ গোসলের পানি হাজির করি। তিনি তাঁর দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত দুই বা তিনবার ধৌত করে হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন। তারপর হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থানে ঢাললেন এবং বাম হাতে তা ধৌত করলেন। এরপর মাটিতে বাম হাত মেরে উত্তমরূপে পানি ঢাললেন এবং সালাতের ওযুর অনুরূপ ওযু করলেন। অতঃপর তিনবার দুই হাত ভরে পানি নিয়ে মাথার উপর দিলেন এবং গোটা দেহ ধৌত করলেন। তারপর নিজ স্থান হতে সরে দাঁড়ালেন এবং দুই পা ধৌত করলেন। অতঃপর আমি [মাইমূনা (রা)] তাঁকে তোয়ালে দিলাম কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।” (বুখারী, হাদীস নং ২৭৬ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩১৭)
* ফরজ গোসলের আগেই ওযু করা সুন্নাত। যদি কেউ ওযু করে বা ওযু ব্যতীত গোসল করে নেয়, তাহলে তার জন্য গোসলের পর ওযু করা শরিয়ত সম্মত নয়।