📄 ওযু নষ্ট হওয়ার কারণ ছয়টি
১. পেশাব ও মলদ্বারের দু' রাস্তা দিয়ে যে কোন জিনিস বের হওয়া। যেমন: পেশাব, পায়খানা, বায়ু, বীর্য, মযী ও রক্ত ইত্যাদি।
২. জ্ঞান লোপ পেলে। যেমন: গভীর নিদ্রা অথবা বেহুশী কিংবা নেশা।
৩. কোন পর্দা ব্যতীত লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে।
৪. যা দ্বারা গোসল ফরজ হয়। যেমন বীর্যপাত, মাসিক ঋতু ও প্রসূতি অবস্থার রক্ত।
৫. ইসলাম থেকে মুরতাদ তথা দ্বীন ত্যাগ করে কাফের হলে।
৬. উটের গোশত ভক্ষণ করলে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ (رض) أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ؟ قَالَ : إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأَ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَوَضَّأ) قَالَ : أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبْلِ : انَعَمْ فَتَوَضَّا مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ.
জাবের ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। একজন মানুষ রাসূলে করীম ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করে বলল : ছাগলের গোশত ভক্ষণ করে ওযু করব কি? নবী করীম ﷺ বললেন: “যদি চাও তবে ওযু করবে। আর যদি না চাও তবে ওযু করবে না।” লোকটি আবার বলল: উটের গোশত ভক্ষণ করে ওযু করব কি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, উটের গোশত ভক্ষণ করে ওযু করবে।" (মুসলিম, হাদীস নং ৩৬০)
📄 পবিত্রতায় সন্দেহ হলে যখন ওযু করবে
পবিত্রতার বিষয়ে যে ব্যক্তির বিশ্বাস রয়েছে এবং অপবিত্র হয়েছে কি না সন্দেহ। সে তার বিশ্বাস তথা পবিত্রতার ওপর ভিত্তি করবে। আর যে তার অপবিত্রতার বিষয়ে বিশ্বাস রয়েছে এবং পবিত্রতার বিষয়ে সন্দেহ। সে তার একীন তথা অপবিত্রতার ওপর ভিত্তি করে পবিত্রতা হাসিল করবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رضى ) قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخْرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا.
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: "যখন তোমাদের কেউ তার পেটের কোন সমস্যা অনুভব করবে এবং তার সন্দেহ হবে যে, তার থেকে কিছু বের হয়েছে না বের হয়নি? তাহলে মসজিদ থেকে ততক্ষণ বের হবে না যতক্ষণ সে কোন আওয়াজ শুনতে না পাবে অথবা গন্ধ পাবে।” (মুসলিম, হাদীস নং ৩৬২)
* প্রতিবার ওযু নষ্ট হলে ও প্রতি সালাতের জন্য ওযু ভঙ্গ না হলেও নতুন করে ওযু করা মুস্তাহাব। তবে ওযু নষ্ট হয়ে গেলে ওযু করা ফরজ।
* কাম-বাসনার সাথে স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হবে না। তবে পেশাবের রাস্তা দ্বারা কিছু বের হলে ওযু নষ্ট হবে।
📄 রক্ত বের হলে তার হুকুম
মানুষের দেহ থেকে যা বের হয় তা দু' প্রকার
১. পবিত্র: এটি হচ্ছে চোখের অশ্রু, নাকের ময়লা, থুথু, লালা, ঘাম ও বীর্য।
২. অপবিত্র: এটি হচ্ছে পেশাব, পায়খানা, ওয়াদী, মযী, পেশাব-পায়খানার রাস্তা দ্বারা নির্গত রক্ত।
রক্ত বের হলে তার হুকুম মানুষের দেহ থেকে যে রক্ত বের হয় তা দু প্রকার:
১. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দ্বারা নির্গত রক্ত। এটি ওযু ভঙ্গকারী রক্ত।
২. দেহের অবশিষ্ট অন্য কোন স্থান দ্বারা নির্গত। যেমন: নাক, দাঁত, ক্ষতস্থান ইত্যাদি থেকে নির্গত রক্ত ওযু নষ্ট করবে না। রক্ত চাই কম হোক বা বেশি হোক। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ধুয়ে নেয়া উত্তম।
📄 অল্প ঘুমের হুকুম
দাঁড়িয়ে বা বসে কিংবা চিৎ হয়ে কম ঘুমালে ওযু নষ্ট হবে না।
১. عَنْ أَنَسِ بْنِ মَالِكٍ রضی الله عنه قَالَ : أَقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَجِي لِرَجُلٍ فَمَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ.
১. আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের একামত হয়ে যাওয়ার পরেও নবী করীম ﷺ একজন মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। এমনকি তিনি সালাতে দাঁড়াতে বিলম্ব করেন যে, মানুষ সব ঘুমিয়ে পড়ে। (বুখারী, হাদীস নং ৬৪২ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৬)
২. عَنْ أَنَسِ بْنِ মَالِكٍ রضی الله عنه قَالَ : أَقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ يُنَاجِي رَجُلاً فَلَمْ يَزَلْ يُنَاجِيْهِ حَتَّى نَامَ أَصْحَابُهُ ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى بِهِمْ.
২. আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের একামত হওয়ার পরেও নবী করীম ﷺ একজন মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে থাকেন। এমনকি তাঁর সাহাবাগণ (বসে বসে) ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত তিনি ঐ লোকটির সাথে কথা বলেই যাচ্ছেন। অতঃপর তিনি এসে সাহাবাগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন।” (বুখারী, হাদীস নং ৬৪২ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৬)