📄 পরিপূর্ণ ওযুর বিবরণ
মনে মনে নিয়ত করা, বিসমিল্লাহ বলা, তিনবার উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা। অতঃপর এক অঞ্জলি পানির অর্ধেক মুখে ও অর্ধেক নাকে দিয়ে এভাবে তিনবার কুলি ও নাকে পানি গ্রহণ করা। অতঃপর তিনবার চেহারা ধৌত করা। এরপর তিনবার কনুইসহ ডান হাত এবং অনুরূপভাবে বাম হাত ধৌত করা। অতঃপর উভয় হাত দ্বারা সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা।
মাসেহের পদ্ধতি: মাথার শুরু থেকে পেছনের শেষ পর্যন্ত নিয়ে পুনরায় যেখান থেকে আরম্ভ করেছিল সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এরপর শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা কানের ভেতর এবং বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা উভয় কানের পিঠ মাসেহ করা। অতঃপর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা। এরপর অনুরূপভাবে বাম পা ধৌত করা। অতঃপর যেভাবে দোয়া বর্ণিত হয়েছে সে দোয়া পাঠ করা।
📄 রাসূল ﷺ-এর ওযুর পদ্ধতি
হুমরান থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রা)-কে দেখেন যে, তিনি এক পাত্র পানি নিয়ে আসতে বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাতে তিনবার পানি ঢালেন ও তা ধৌত করেন। এরপর তিনি তার ডান হাত পাত্রে প্রবেশ করিয়ে পানি নিয়ে কুলি করেন ও নাক পরিষ্কার করেন। অতঃপর তিনবার নিজ মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন। অতঃপর স্বীয় মাথা মাসেহ করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় উভয় পা টাখনুসহ তিনবার ধৌত করেন। এরপর তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর মতো ওযু করে দুই রাকাআত সালাত আদায় করবে যে সালাতে মনে তার কোন কিছুই উদয় হবে না, তার বিগত পাপরাশি ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (বুখারী, হাদীস নং ১৫৯ ও মুসলিম হাদীস নং ২২৬)
১. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ একবার একবার করে ওযু করেছেন। (বুখারী, হাদীস নং ১৫৭)
২. আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ দুবার দুবার করে ওযু করেছেন। (বুখারী, হাদীস নং ১৫৮)
📄 প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করার হুকুম
অপবিত্র ব্যক্তি যখন সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে তখন তার প্রতি ওযু করা ফরজ। আর প্রত্যেক ফরজ সালাতের জন্য ওযু করা সুন্নাত। তবে এক ওযু দ্বারা একাধিক সালাত আদায় করা জায়েয।
১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلُوةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ.
"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা সালাত আদায় করতে ইচ্ছা কর তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতদ্বয় কনুই পর্যন্ত ধৌত কর। আর মাথা মাসেহ কর এবং পাদ্বয় গিট পর্যন্ত ধৌত কর।” [সূরা-৫ মায়েদা : আয়াত-৬]
২. আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম ﷺ প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন। আনাস বললেন: অপবিত্র না হওয়া পর্যন্ত ওযু আমাদের যথেষ্ট হতো। (বুখারী, হাদীস নং ২১৪)
৩. বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত নবী করীম ﷺ মক্কা বিজয়ের দিন সমস্ত সালাত এক ওযু দ্বারা আদায় এবং মোজার উপর মাসেহ করেছেন। এ সময় তাঁকে ওমর (রা) বলেন: আজ যে কাজ করলেন এমনটা তো কখনো করেননি। নবী বললেন: "ওমর! আমি এটি ইচ্ছা করেই করেছি।” (বুখারী, হাদীস নং ২৭৭)
📄 যেসব স্থানে ডান ও বাম আগে করতে হয়
মানুষের কর্ম দুই ধরনের:
১. এমন কর্ম যা ডান ও বাম উভয় দ্বারা করা যায়, তবে এক্ষেত্রে যেগুলো সম্মানসূচক কর্ম তাতে ডানটিকে অগ্রসর করা ভালো। যেমন: ওযু, গোসল, কাপড় ও জুতা পরা, মসজিদ ও ঘরে প্রবেশ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে তার বিপরীত হলে বামটি অগ্রসর করা। যেমন: মসজিদ থেকে বের হওয়া, জুতা খোলা ও পায়খানায় প্রবেশ কালে।
২. ঐ সব কর্ম যা ডান বা বাম উভয়ের মধ্যে যে কোন একটির সাথে নির্ধারিত। কাজেই যদি সম্মানসূচক হয় তবে তা ডান দ্বারা হবে। যেমন: পানাহার, মুসাফাহা, আদান-প্রদান ইত্যাদি। পক্ষান্তরে যদি তার বিপরীত হয়, তবে তা বাম দ্বারা হবে। যেমন: ঢিলা ব্যবহার, লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ইত্যাদি।
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ জুতা পরা, চিরুনি করা, ওযু করা এবং প্রত্যেক সম্মানসূচক কর্মে ডান পছন্দ করতেন। (বুখারী, হাদীস নং ১৬৮ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৬৮)