📄 এখলাসের তাৎপর্য
এখলাস হলো বান্দার জাহের (প্রকাশ্য) ও বাতেন (অপ্রকাশ্য) আমলকে এক রকম করে সকল আমলকে মানুষের দৃষ্টি থেকে আল্লাহরই জন্য পূত-পবিত্র করা। বাহ্যিকের চেয়ে ভিতরের আমলের উন্নয়নের মাধ্যমে এখলাসের মধ্যে সততা আনয়ন করা। বান্দা যদি এখলাস হাসিল করতে পারে তবে স্বীয় পালনকর্তা তাকে মনোনীত বান্দার অন্তর্ভুক্ত করেন, তার অন্তরকে জীবন্ত করেন। তাঁর দিকে টেনে নেন এবং তাকে যাবতীয় বদ আমল ত্যাগ করে সৎ আমলগুলো পালনের তৌফিক দান করেন। পক্ষান্তরে যে অন্তরে এখলাস নেই তা এর বিপরীত। কেননা তাতে শুধু রয়েছে চাওয়া-পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও লোভ-লালসা।
📄 ওযুর ফরজ ছয়টি
১. কুলি ও নাকে পানি নেয়াসহ চেহারা ধৌত করা।
২. কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা।
৩. উভয় কানসহ সমস্ত মাথা মাসেহ করা।
৪. টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা।
৫. উল্লেখিত অঙ্গগুলো ধৌত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
৬. ওযুর অঙ্গগুলো একের পর এক (কোন অঙ্গ ধৌত করে অপর অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করে) ধৌত করা।
ওযুর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হলো: মেসওয়াক করা, তিনবার কব্জি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা, চেহারা ধৌত করার পূর্বে কুলি করে তারপর নাকে পানি দেয়া, ঘন দাড়ি খেলাল করা, ডান অঙ্গ প্রথমে ধৌত করা, ওযুর অঙ্গগুলো দুবার ও তিনবার ধৌত করা, ওযুর পর দোয়া পাঠ করা এবং ওযুর পরে দুই রাকা'আত সালাত আদায় করা।
📄 ওযুর পানির পরিমাণ
ওযুর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হলো ওযুর অঙ্গগুলো তিনবারের অতিরিক্ত ধৌত না করা। এক মুদ (৬২৫ মি: লি:) পরিমাণ পানি দ্বারা ওযু করা। পানির অপচয় না করা। আর যে অতিরিক্ত করবে সে অবশ্যই অপরাধ করল এবং অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন করল। যে ব্যক্তি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে ওযু করতে চায়, সে যেন পাত্রে হাত ডুবানোর আগে উভয় হাত তিনবার ধৌত করে নেয়।
📄 ওযুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ
প্রথমত মনে মনে ওযুর নিয়ত করা, অতঃপর কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া এবং চেহারা ধৌত করা। আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে উভয় কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করা। উভয় কানসহ সমস্ত মাথা মাসেহ করা। উভয় টাখনুসহ পাদ্বয় ধৌত করা। প্রত্যেক অঙ্গগুলো কমপক্ষে একবার করে ধৌত করা। পরিপূর্ণভাবে ওযু করা এবং আঙ্গুলগুলোর মাঝে খেলাল করা।