📄 ওযুর ফযীলত
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ﷺ বেলাল (রা)-কে ফজরের সালাতের সময় বলেন: “হে বেলাল! তুমি আমাকে তোমার ইসলামী জীবনের সর্বোত্তম আমলের বিবরণ দাও; কারণ জান্নাতে আমার সামনে তোমার উভয় জুতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বেলাল (রা) বলেন: আমি এমন কোন আমল করিনি যা আমার নিকট সর্বোত্তম বলে মনে হয়। তবে সকাল-সন্ধ্যায় আমি যখনই ওযু করি যথাসাধ্য আমি সে ওযু দ্বারা সালাত আদায় করি।" (বুখারী, হাদীস নং ১১৪৯ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৪৫৮)
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: "যখন মুসলিম বা ঈমানদার ব্যক্তি ওযু করার সময় তার চেহারা ধৌত করে তখন তার চেহারার যাবতীয় পাপ পানির সাথে বা শেষ বিন্দু পানির সাথে বের হয়ে যায় যা সে প্রত্যক্ষ করে। আর যখন তার হাতদ্বয় ধৌত করে তখন তার হাত দ্বারা যেসব আক্রমণ করেছে সে সব গুনাহ পানির সাথে বা শেষ বিন্দু পানির সাথে বের হয়ে যায়। এরপর যখন তার পাদ্বয় ধৌত করে তখন পা দ্বারা যে সকল স্থানে চলে গুনাহ করেছে সেগুলো পানির সাথে বা শেষ বিন্দু পানির সাথে বের হয়ে যায়। এমনকি সে পাপরাশি থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে বের হয়ে যায়।” (মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪)
📄 নিয়তের গুরুত্ব
নিয়ত আমল বিশুদ্ধ ও কবুল এবং যথেষ্ট হওয়ার জন্য একটি শর্ত। নিয়তের স্থান হলো অন্তর। এটি প্রত্যেক আমলের জন্য আবশ্যক। কেননা রাসূলে করীম ﷺ বলেন: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِي مَا نَوَى.
"নিশ্চয় আমলসমূহ নির্ভর করে নিয়তের উপর। অতএব, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই হবে যা সে নিয়ত করবে।” (বুখারী, হাদীস নং ১ ও মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭)
শরিয়তের পরিভাষায় নিয়ত: আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে ইবাদত পালনের দৃঢ় ইচ্ছাপোষণ করার নাম নিয়ত। নিয়ত হলো অন্তরের ইচ্ছার নাম। তাই মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা জরুরি নয়। নিয়ত পড়ার বিষয় নয় বরং নিয়ত করার বিষয়।
নিয়ত দুই প্রকার :
১. আমলের নিয়ত: যেমন ওযু করার নিয়ত বা গোসল বা সালাতের নিয়ত।
২. যার উদ্দেশ্যে আমল করা হয় তার নিয়ত: তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা। অর্থাৎ ওযু, গোসল, সালাত বা অন্য কিছুর দ্বারা একমাত্র আল্লাহরই নৈকট্য ও উদ্দেশ্য করা।
📄 এখলাসের তাৎপর্য
এখলাস হলো বান্দার জাহের (প্রকাশ্য) ও বাতেন (অপ্রকাশ্য) আমলকে এক রকম করে সকল আমলকে মানুষের দৃষ্টি থেকে আল্লাহরই জন্য পূত-পবিত্র করা। বাহ্যিকের চেয়ে ভিতরের আমলের উন্নয়নের মাধ্যমে এখলাসের মধ্যে সততা আনয়ন করা। বান্দা যদি এখলাস হাসিল করতে পারে তবে স্বীয় পালনকর্তা তাকে মনোনীত বান্দার অন্তর্ভুক্ত করেন, তার অন্তরকে জীবন্ত করেন। তাঁর দিকে টেনে নেন এবং তাকে যাবতীয় বদ আমল ত্যাগ করে সৎ আমলগুলো পালনের তৌফিক দান করেন। পক্ষান্তরে যে অন্তরে এখলাস নেই তা এর বিপরীত। কেননা তাতে শুধু রয়েছে চাওয়া-পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও লোভ-লালসা।
📄 ওযুর ফরজ ছয়টি
১. কুলি ও নাকে পানি নেয়াসহ চেহারা ধৌত করা।
২. কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা।
৩. উভয় কানসহ সমস্ত মাথা মাসেহ করা।
৪. টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা।
৫. উল্লেখিত অঙ্গগুলো ধৌত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
৬. ওযুর অঙ্গগুলো একের পর এক (কোন অঙ্গ ধৌত করে অপর অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করে) ধৌত করা।
ওযুর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হলো: মেসওয়াক করা, তিনবার কব্জি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা, চেহারা ধৌত করার পূর্বে কুলি করে তারপর নাকে পানি দেয়া, ঘন দাড়ি খেলাল করা, ডান অঙ্গ প্রথমে ধৌত করা, ওযুর অঙ্গগুলো দুবার ও তিনবার ধৌত করা, ওযুর পর দোয়া পাঠ করা এবং ওযুর পরে দুই রাকা'আত সালাত আদায় করা।