📄 মেসওয়াক করা
এটি হলো মুখ পবিত্রকরণ ও পালনকর্তার সন্তুষ্টির কারণ।
মেসওয়াকের নিয়ম: ডান বা বাম হাতে মেসওয়াক বা ব্রাশ ধারণ করে দাঁত ও দাঁতের মাড়ির উপর ফিরানো। এটি মুখের ডান পার্শ্ব থেকে আরম্ভ করে বাম পার্শ্বের দিকে নিতে হয় এবং কোন কোন সময় তা জিহ্বার পার্শ্বেও নেয়া হয়। মেসওয়াক সাধারণত নরম কাঠি যথা: আরাক, যাইতুন বা উরজুনের ডাল বা শিকড় হয়ে থাকে।
মেসওয়াকের বিধান: মেসওয়াক সব সময়ের জন্যই সুন্নাত। তবে ওযু, সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, ঘরে প্রবেশ, নিদ্রা থেকে উঠার সময় এবং মুখের গন্ধ দূর করার জন্য মেসওয়াক করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম ﷺ বলেন: "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কঠিন মনে না করতাম বা আমি যদি মানুষের প্রতি কঠিন মনে না করতাম তবে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াকের নির্দেশ দিতাম।” (বুখারী, হাদীস নং ৮৮৭ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৫২)
📄 খাতনা করা
খাতনা করা: পুরুষাঙ্গের মাথা ঢেকে থাকা চামড়া কেটে ফেলা, যেন তাতে ময়লা ও পেশাব জমা না হয়ে থাকে।
খাতনা করার বিধান: খাতনা করা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব এবং প্রয়োজনে মহিলাদের জন্য সুন্নাত।
📄 গোঁফ-মোচ কাটা এবং দাড়ি ছেড়ে দেয়া ও লম্বা করা
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেন: "তোমরা দাড়ি বড় এবং গোঁফ ছোট করে মুশরিকদের বিপরীত কর।" (বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৫৯)
📄 নাভির নিচের অবাঞ্ছিত পশম পরিষ্কার করা, বগলের চুল তুলে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা
১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেন: “স্বভাবজাত সুন্নাত পাঁচটি: খাৎনা করা, নাভির নিচের লোম কামান, বগলের চুল উপড়ান, নখগুলো কাটা ও গোঁফ ছোট করা।" (বুখারী, হাদীস নং ৫৮৮৯ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৫৭)
২. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: “স্বভাবজাত সুন্নাত হলো দশটি: ১. গোঁফ কাটা ২. দাড়ি ছেড়ে দেয়া ৩. মেসওয়াক করা ৪. নাকের মধ্যে পানি প্রবেশ করানো ৫. নখসমূহ কাটা ৬. আঙ্গুলগুলোর গিরা ও জোড়া ধৌত করা ৭. বগলের চুল উপড়ান ৮. নাভির নিচের লোম কামানো ৯. ওযুর পর লজ্জাস্থানের উপর বরাবর পানি ছিটানো” (১০) মুস'আব বলেন: আমি দশমটি ভুলে গেছি তবে সম্ভবত তা কুলি করাই হবে। (মুসলিম: হাদীস নং ২৬১)
৩. আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: গোঁফ ছোট করা, নখসমূহ কাটা, বগলের চুল উপড়ানো প্রসঙ্গে আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা হলো আমরা যেন ৪০ রাতের অতিরিক্ত ছেড়ে না দেই। (মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮)