📄 দেহ ও আত্মার সুস্থতা
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আত্মা ও দেহ দুটির সমন্বয়ে। আর দেহের উপর পর্যায়ক্রমে দু'ভাবে অপরিচ্ছন্ন বা নোংরা প্রভাব ফেলে। অভ্যন্তর দিক দিয়ে যেমন: ঘাম এবং বহির্গত দিক দিয়ে যেমন: ধুলোবালি। তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য দরকার বারবার ধৌত করা।
📄 আত্মা প্রভাবিত হওয়ার প্রকারভেদ
আত্মাও প্রভাবিত হয় দু'ভাবে
১. অন্তরের নানা রকম রোগব্যাধির মাধ্যমে যেমন: হিংসা এবং গর্ব বা অহংকার।
২. মানুষ বাহ্যিক বিভিন্ন গুনাহের কাজ লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে। যেমন: অত্যাচার ও ব্যভিচার করা। আত্মার সুস্থতার জন্য অবশ্যই অধিক পরিমাণে তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
📄 সোনা ও রূপার বাসন-পাত্র ব্যবহারের হুকুম
নারী-পুরুষ সকলের ওপর স্বর্ণ ও রূপার বাসনে (পাত্রে) পানাহার করা হারাম এবং সকল ধরনের ব্যবহার হারাম। তবে নারীদের জন্য অলংকার হিসেবে ব্যবহার এবং পুরুষদের জন্য রূপার আংটি এবং যা অত্যন্ত প্রয়োজন যেমন: দাঁত এবং নাক বাঁধার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েয।
১. হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “তোমরা রেশমী পোশাক এবং রেশমীর বস্ত্র পরিধান করবে না এবং স্বর্ণ ও রূপার পাত্রে পান করবে না। আর স্বর্ণ ও রূপার বাসনে আহার করবে না; কেননা ঐগুলো তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জন্য পৃথিবীতে এবং আমাদের (মুসলিমদের) জন্য পরকালে।” (বুখারী, হাদীস নং ৫৪২৬ ও মুসলিম, হাদীস নং ২০৬৭)
২. নবী করীম ﷺ-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলে করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি রূপা নির্মিত পাত্রে পান করে নিশ্চয়ই সে তার পেটে টগবগ করে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়।” (বুখারী, হাদীস নং ৫৬৩৪ ও মুসলিম, হাদীস নং ২০৬৫)
📄 অপবিত্র বস্তুর আহকাম
অপবিত্র বস্তুসমূহ যেগুলো থেকে মুসলিম ব্যক্তিকে পবিত্র বা মুক্ত থাকা ওয়াজিব এবং ঐগুলো থেকে যদি কিছু (দেহ বা পোশাকে) লেগে যায় তাহলে এক বা একাধিক বার ধৌত করবে যাতে করে এর চিহ্ন (সম্পূর্ণভাবে) দূরীভূত হয়। সেগুলো হলো: মানুষের মলমূত্র ও প্রবাহিত রক্ত এবং নারীদের মাসিক ঋতু ও প্রসূতির প্রসবান্তর রক্ত, ওয়াদী (প্রস্রাব করার পর নির্গত পাতলা পুঁজের মতো তরল পদার্থ), মযী (কামরস যা তীব্র উত্তেজনার পর বীর্যপাতের পূর্বে পুরুষাঙ্গ বয়ে যে রস বের হয়), মাছ ও পঙ্গপাল ব্যতীত সকল মৃতপ্রাণী, শূকরের মাংস, যে সমস্ত প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা হারাম সেগুলোর পেশাব ও গোবর। যেমন: খচ্চর ও গাধা। কুকুরের লালা যা সাতবার ধৌত করতে হবে তন্মধ্যে প্রথমবার মাটি দ্বারা ভালোভাবে মাজতে হবে।
১. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন যাতে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তখন নবী করীম ﷺ বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের দু' জনকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, তবে তাদেরকে খুব বড় অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের মধ্যে একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। অপরজন পরনিন্দা করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিলেন এবং তা দু' ভাগে ভাগ করলেন। অতঃপর প্রত্যেক কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রা) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল এমনটি কেন করলেন? তার জবাবে তিনি বললেন: সম্ভবত তাদের শাস্তি হালকা করা হবে, যতদিন পর্যন্ত ঐগুলো শুকিয়ে না যাবে।” (বুখারী, হাদীস নং ১৩৬১ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৯২)
২. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: "যখন তোমাদের কোন পাত্রে কুকুর স্পর্শ করবে তখন সেটা পবিত্র (করার পদ্ধতি) হবে যে তাকে সাতবার ধৌত করা এবং তন্মধ্যে প্রথমবার মাটি দিয়ে (মেজে) ধৌত করতে হবে।” (বুখারী, হাদীস নং ১৭২ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৭৯)