📄 পবিত্রতার প্রকারভেদ
পবিত্রতা দুই প্রকার :
১. বাহ্যিক পবিত্রতা হাসিল করা : আর তা অর্জিত হয় পানি দিয়ে ওযু ও গোসলের মাধ্যমে এবং পোশাক, দেহ ও স্থানকে পবিত্র করা যায় অপবিত্রতা থেকে পানি দিয়ে ধৌত করার মাধ্যমে।
২. আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা হাসিল করা : আর তা অর্জিত হয় বিভিন্ন নিকৃষ্ট ও খারাপ চরিত্র থেকে অন্তরকে কলুষমুক্ত করার মাধ্যমে। যেমন : শিরক, কুফরি, অহংকার, অহমিকা, হিংসা, বিদ্বেষ, কপটতা, লোক দেখানো ইবাদত। আর উত্তম ও উন্নত গুণাবলির দ্বারা পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে। যেমন : তাওহীদ, ঈমান, সততা, একনিষ্ঠতা, দৃঢ় বিশ্বাস ও আল্লাহতে পূর্ণ নির্ভরতা ইত্যাদি। এটি পরিপূর্ণতা লাভ করে অধিক পরিমাণে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহ তা'আলার জিকিরের মাধ্যমে।
📄 বান্দা তার পালনকর্তার নিকট একান্ত প্রার্থনায় তার প্রস্তুতি
মানুষ যখন পানি দ্বারা তার বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করে এবং তাওহীদ ও ঈমান দ্বারা তার অন্তরকে পবিত্র করে তখন তার আত্মা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় ও তার প্রাণ আনন্দিত হয়। এ ছাড়া তার অন্তর প্রাণবন্ত হয় তার রবের নিকট প্রার্থনার জন্য এবং বিশেষভাবে প্রস্তুত হয়। পবিত্র দেহ, পবিত্র অন্তর, পবিত্র কাপড়ে, পবিত্র স্থানে এটাই উচ্চসীমার শিষ্টাচার এবং রাব্বুল আলামীনের মর্যাদা ও সম্মানে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। আর এর বিপরীত অবস্থায় ইবাদাতে দাঁড়ানো এক ধরনের মূখতা। এ এজন্যেই পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধাংশ বলা হয়েছে।
১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ.
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীগণ এবং পবিত্রতা অর্জনকারীগণকে ভালোবাসেন।” [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২২]
২. আবু মালেক আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ বলেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ এবং আলহামদুলিল্লাহ মিযানের পাল্লাকে পূর্ণ করে। (মুসলিম, হাদীস নং ২২৩)
📄 দেহ ও আত্মার সুস্থতা
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আত্মা ও দেহ দুটির সমন্বয়ে। আর দেহের উপর পর্যায়ক্রমে দু'ভাবে অপরিচ্ছন্ন বা নোংরা প্রভাব ফেলে। অভ্যন্তর দিক দিয়ে যেমন: ঘাম এবং বহির্গত দিক দিয়ে যেমন: ধুলোবালি। তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য দরকার বারবার ধৌত করা।
📄 আত্মা প্রভাবিত হওয়ার প্রকারভেদ
আত্মাও প্রভাবিত হয় দু'ভাবে
১. অন্তরের নানা রকম রোগব্যাধির মাধ্যমে যেমন: হিংসা এবং গর্ব বা অহংকার।
২. মানুষ বাহ্যিক বিভিন্ন গুনাহের কাজ লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে। যেমন: অত্যাচার ও ব্যভিচার করা। আত্মার সুস্থতার জন্য অবশ্যই অধিক পরিমাণে তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।