📄 পিতা-মাতা, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার গ্রহণ করার বিধান
পিতা-মাতা ও যতই ঊর্ধ্বের (অর্থাৎ দাদা-দাদী, নানা-নানী) হোক না কেন তাদের ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মাতা পিতার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকার পাবেন। অনুরূপ সন্তান যতই নিম্নে (অর্থাৎ নাতি, পুতি) হোক না কেন তাদের ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ। এমনকি পরস্পর ওয়ারিসদের মধ্যে খরচদাতা যদি ধনী হয় এবং গ্রহীতা দরিদ্র হয় তাহলে পিতার ওপর সন্তানের ভরণ-পোষণ সুন্দর ও স্বতন্ত্রভাবে দেয়া অপরিহার্য。
১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: "আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু'বছর দুধ পান করাবে, যদি দুধ পানের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে চায়। আর সন্তানদের অধিকারী অর্থাৎ পিতার ওপর মহিলার যাবতীয় ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ প্রচলিত সুন্দর নিয়ম অনুযায়ী।" (সূরা বাকারা: ২৩৩)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার সদাচরণ পাওয়ার সবচেয়ে অধিক হকদার কে? জবাবে তিনি বললেন: "তোমার মা, তোমার মা, তোমার মা। অতঃপর তোমার বাবা এবং এরপর তোমার অধিক নিকটতম ব্যক্তি।" (বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭১; মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪৮)
📄 নিকট আত্মীয়ের ভরণ-পোষণের শর্ত
১. যাদের পরিত্যাক্ত সম্পদের ওয়ারিস হবে এমন সকলের জন্য ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ।
২. রক্তের সম্পর্কের অধীনে না হলে অন্য কোন অসচ্ছল ব্যক্তির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কোন সচ্ছল ব্যক্তির ওপর তখন ফরজ হবে যখন সে সচ্ছল ব্যক্তি অসচ্ছল ব্যক্তির ওয়ারিস হবে। অবশ্য সকলকে ইসলামের অনুসারী হতে হবে।
📄 কৃতদাসের অধিকার
কৃতদাসের ভরণ-পোষণ দেয়া তার মালিকের ওপর ওয়াজিব। কৃতদাস যদি মালিকের নিকট বিবাহের ব্যবস্থার দাবি করে তাহলে মালিক তাকে বিবাহ করাবে অথবা তাকে বিক্রি করে দিবে। আর কৃতদাসী যদি মালিকের নিকট বিবাহের ব্যবস্থার দাবি করে তাহলে মালিকের ইচ্ছাধীন তাকে ব্যবহার করতে পারে অথবা তার বিবাহের ব্যবস্থা করবে অথবা তাকে বিক্রি করে দিবে। (বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭১; মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪৮)
📄 জীবজন্তুর জন্য খরচের বিধান
যার মালিকানাধীন চতুষ্পদ জন্তু ও পশু-পাখি রয়েছে তার কর্তব্য হলো সেগুলোর খানাপিনা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেয়া এবং যা বহনে অপারগ এমন বোঝা না চাপানো। মালিক পশু-পাখির পরিচর্যায় অপারগ হলে তাকে তা বিক্রি করতে অথবা জবাই করতে (যদি গোশত খাওয়ার পশু হয়) অথবা ভাড়া দিতে বাধ্য করা হবে। আর রোগাক্রান্ত ও অচল হয়ে গেলে তা জবাই করা না জায়েয বরং তার ব্যবস্থা নিতে হবে。
ভরণ-পোষণ প্রদানকারীর অবস্থাভেদ: ভরণ-পোষণকারীর দুই অবস্থা
১. ভরণ-পোষণ প্রদানকারী যদি গরীব বা কম সম্পদের মালিক হয় তাহলে স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও কৃতদাস ইত্যাদি যাদের বিষয়টা অতি গুরুত্বপূর্ণ তাদের ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ। এমতাবস্থায় সে প্রথমে নিজেকে দিয়ে আরম্ভ করবে। অত:পর সচ্ছল-অসচ্ছল সর্বাবস্থায় যাদের ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ তাদের দিবে। যেমন: স্ত্রী, কৃত দাস-দাসী ও পশু-পাখি ইত্যাদি। অত:পর তাদের ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ যদিও তাদের কোন পরিত্যক্ত সম্পদ নাও পায়, তারা হল: পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে। অত:পর অন্যান্য যাদের উত্তরাধিকার হবে তাদের ভরণ-পোষণ দেয়া।
২. যদি ভরণ-পোষণ দানকারী ধনী ও সচ্ছল হয় তাহলে সকলের ভরণ-পোষণ করবে। আর প্রত্যেক অধিকারীর অধিকার প্রদান করবে।