📄 নাফাকাত
নাফাকাত : অধীনস্থ লোকের ন্যায্যভাবে খাবার, বস্ত্র বাসস্থান ও নিজ প্রয়োজনীয় বিষয়াদির দায়িত্বভার গ্রহণের নাম হল নাফাকাত তথা ভরণ-পোষণ। ভরণ-পোষণ ওয়াজিবের কারণ তিনটি : বৈবাহিক, আত্মীয়তা ও মালিকানা।
📄 ভরণ-পোষণের দায়িত্বভার গ্রহণের মর্যাদা ও ফযীলত
১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন : "যারা স্বীয় ধন-সম্পদ খরচ করে রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্য তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের পালনকর্তার নিকট। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না-।" [সূরা বাকারা : আয়াত-২৭৪]
আবু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেন: “যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি নিজ পরিবারের জন্য খরচ করে এবং এতে প্রতিদানের আশা করে তখন তা সদকা বলে গণ্য হয়ে যায়।” (বুখারী, হাদীস নং ৫৩৫১; মুসলিম হাদীস নং ১০০০২)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন: "বিধবা ও মিসকীনদের সহযোগিতায় প্রচেষ্টাকারী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায়। অথবা রাতভর সালাত আদায়কারী ও দিনভর সিয়াম সাধনাকারীর ন্যায়।" (মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮)
📄 স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অবস্থাসমূহ
১. স্ত্রীর ভরণ-পোষণ তথা তার খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থান অনুরূপ যা প্রয়োজন ইত্যাদির খরচ বহন করা স্বামীর উপর ফরজ। অবশ্য তা স্থান, কাল-পাত্র ও উভয়ের অর্থনৈতিক সঙ্গতি অনুযায়ী হবে। জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেন- "তোমাদের জান ও মাল অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করা হারাম--, আলোচ্য হাদীসে আরো রয়েছে: "তোমরা মহিলাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর; কারণ তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ। তোমরা আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের যৌনাঙ্গকে হালাল করে নিয়েছ। কাজেই তাদেরকে ভালোভাবে ভরণ-পোষণ ও পোশাকাদি দেয়া তোমাদের কর্তব্য এবং এটা তাদের হক।" (বুখারী, হাদীস নং ৫২৫৩; মুসলিম হাদীস নং ২৯৮২)
২. রাজ'য়ী তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে তার ভরণ-পোষণ দেয়া স্বামীর কর্তব্য। এ ছাড়া তার আর কোন (যেমন রাত্রি যাপন ইত্যাদির) কোন অধিকার নেই。
৩. স্ত্রী তালাক অথবা অন্যভাবে (স্বামী থেকে) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গর্ভাবস্থায় ভরণ-পোষণ পাবে। আর যদি গর্ভবতী না হয় তাহলে ভরণ-পোষণ ও বাসস্থান কিছুই পাবে না。
৪. স্বামী মৃত্যুবরণ করায় স্ত্রী বিধবা হলে তার জন্য কোন ভরণ-পোষণ নেই। তবে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তাহলে গর্ভের সন্তানের উত্তরাধিকারের অংশ থেকে বিধবা স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দেয়া ফরজ। আর যদি গর্ভের সন্তানের কোন অংশ না থাকে তাহলে ওয়ারিসদের উত্তম ব্যবহার করা আবশ্যক。
৫. স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয় অথবা স্বামী থেকে আবদ্ধ হয়ে যায় তাহলে স্ত্রী কোন ভরণ-পোষণ পাবে না তবে গর্ভবতী হলে পাবে।
📄 অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রীর অধিকার
১. স্বামী যদি অনুপস্থিত থাকে এবং এ জন্য স্ত্রীর ভরণ-পোষণ না দেয় তাহলে পূর্ববর্তী দিনগুলোসহ স্বামীকে ভরণ-পোষণ দিতে হবে。
২. স্বামী যদি ভরণ-পোষণ দিতে অক্ষম হয় অথবা অনুপস্থিত থাকে এবং স্ত্রীর জন্য কোন ভরণ-পোষণ রেখে না যায়। আর স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীকে গ্রহণ করার সম্মতি না দেয়, তাহলে স্ত্রী ইচ্ছা করলে আইনের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করে নিতে পারে।