📄 শিশুর পরিচর্যার সর্বাধিকার যার
১. ইসলামী শরীয়তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিশুর পরিচর্যায় পূর্ণ গুরুত্ব প্রদান। যদি পিতা-মাতার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে তাহলে এ ছোট সন্তানের পরিচর্যার অধিকার হলো তার মাতার; কেননা ছোট বাচ্চার প্রতি মা-ই দয়াশীলা ও অধিক ধৈর্যধারিণী এবং তার লালন-পালন, পরিচর্যা ও ঘুম পাড়ানোর বিষয়ে অধিক বেশি অবগত。
২. শিশুর পরিচর্যা করা পরিচর্যাকারীর অধিকার তার প্রতি অপরিহার্য না। তাই যে তা থেকে বিরত থাকতে চাইবে তা করতে পারবে। আর এ দায়িত্ব পরবর্তী ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত হবে। আর পরিচর্যায় যে নিকটতম সে প্রথমে হকদার। যদি বরাবর হয় তাহলে মহিলা অগ্রাধিকার। যেমন: বাবা-মার মধ্যে মহিলা তথা মা অগ্রাধিকার হবে। আর যদি দু'জনেই পুরুষ বা মহিলা হয়, তাহলে একই দিকের হলে দু'জনের মাঝে লটারী করতে হবে। মা ও দাদা হলে মার অগ্রাধিকার; কারণ তিনি নিকটতম। আর বাবা ও দাদী হলে বাবা অগ্রাধিকার হবে; কারণ তিনি নিকটতম। আর মা ও বাবা হলে মার অগ্রাধিকার; কারণ নিকটতার দিক থেকে দুজনে বরাবর, তাই মা প্রাধান্য পাবে। আর দাদা-দাদী হলে দাদী এবং মামা ও খালা হলে খালা অগ্রাধিকার হবে। দাদী ও নানী হলে দাদী অগ্রাধিকার পাবে। আর যদি একই দিকের হয় তাহলে লটারী দ্বারা হবে।
📄 পরিচর্যার অধিকার বিলুপ্তকরণ
শিশু সন্তানের পরিচর্যাকারী যদি অক্ষম হয় অথবা শিশু বাচ্চার কল্যাণার্থে তাকে না দেয়া হয়, তখন পরবর্তী স্থান যার সে দায়িত্বশীল হবে। শিশু বাচ্চার মা যদি দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করেন তাহলে তার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে এবং পরবর্তীজন সে দায়িত্ব পাবে। তবে দ্বিতীয় স্বামীর সম্মতিসাপেক্ষ মা তার পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
📄 পার্থক্য জ্ঞান হাসিলের পর যেখানে পরিচর্যা হবে
১. যখন শিশু-বাচ্চার বয়স সাত বছর হবে তখন তাকে পিতা-মাতার দু'জনের একজনকে গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া হবে, সে যাকে গ্রহণ করবে সেই পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। যার নিকট শিশু বাচ্চার হেফাজত ও কল্যাণের ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে তার নিকট শিশুকে রাখা যাবে না। অনুরূপ কোন মুসলিম ব্যক্তির ওপর কাফির ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া যাবে না。
২. শিশু বাচ্চা কন্যা হলে মায়ের নিকট থাকবে যতক্ষণ স্বামী না গ্রহণ করে; কারণ মা অন্যান্যদের চেয়ে অধিক স্নেহশীলা এমনকি বাবা থেকেও। তা ছাড়া বাবা তার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাবে যখন কন্যা মা থেকে মাহরুম হয়ে বাড়িতে একাকী পড়ে থাকবে。
৩. শিশু বাচ্চা ছেলে হলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার এখতিয়ার থাকবে।
📄 পরিচর্যার খরচাদি
ছোট বাচ্চার পরিচর্যা খরচ বাবার প্রতি। যদি বাবা গরীব হয় তাহলে বাচ্চার নিজের সম্পদ থেকে খরচ করবে। কিন্তু যদি তার সম্পদ না থাকে তাহলে বাবার প্রতি খরচ বর্তাবে যা আদায় বা দায়মুক্ত হওয়া ব্যতীত রহিত হবে না।