📄 যা দ্বারা দুধ পান কার্যকর হবে
দু'জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী অথবা একজন দ্বীনদার নারী দুধ পানকারিণী হোক বা অন্য কেউ হোক এর সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে দুধ পানের হুকুম কার্যকর হবে।
📄 দুধ পানের প্রভাব
১. যে কোন নারী শিশুকে দুধ পান করালে উক্ত শিশু তার সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। উভয়ের মাঝে বিবাহ-বন্ধন হারাম হয়ে যাবে। পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ জায়েয হয়ে যাবে। অনুরূপ একজনের মাহররাম অপরজনের মাহররাম বলে গণ্য হবে। কিন্তু পরস্পরের ভরণ-পোষণ দেয়া বা অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকারিত্ব আবশ্যক হবে না。
২. গৃহপালিত পশুর দুধ পানের মাধ্যমে কন্যা মানুষের দুধ পানের মতো রাজা'আত কার্যকর হবে না। অতএব, যদি দুটি শিশু কোন এক পশুর দুধ পান করে এতে তারা দুধ ভাই বা বোন হবে না। কোন পুরুষ কোন নারীকে রক্তদান করলে এতেও কোন রাজা'আত কার্যকর হয় না এবং উভয়ের মাঝে এ কারণে হারামও কার্যকর হবে না。
৩. যদি কারো রাজা'আত কার্যকর করতে সন্দেহ হয় অথবা পাঁচবার সংখ্যায় সন্দেহ হয় এবং কোন দলিল প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে কার্যকর হবে না; কেননা রাজা'আত কার্যকর হারাম না হওয়াটাই হল আসল অবস্থা।
📄 বড়দের দুধ পানের হুকুম
দুই বছর বয়সের ভেতরে পাঁচবার বা ততোধিক দুধ পানের মাধ্যমে হারাম কার্যকর হয় এটিই হলো সাধারণ নিয়ম। কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির বাড়ির ভেতরে আসা যাওয়া একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে এবং তার সাথে পর্দা রক্ষা করে চলা কষ্টসাধ্য হলে বয়স্ক ব্যক্তিকে দুধ পানের মাধ্যমেও রাজা'আত কার্যকর করা জায়েয রয়েছে。
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন: "ঠিক আছে তাহলে তাকে দুধ পান করায়ে দুধ ছেলে বানিয়ে নাও।" সে বলল, সে তো বড় মানুষ তাকে কিভাবে দুধ পান করাব? নবী করীম হেসে বললেন: "আমি তো জানি সে বড় মানুষ।" আমর তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিল। (বুখারী: হাদীস নং ৪০০০; মুসলিম, হাদীস নং ১৪৫৩)