📄 দুধ পান করানো
দুধ পান করানো: দুই বছর বয়সের ভেতরে কোন নারীর গর্ভাবস্থায় বা তার পরে স্তন থেকে দুধ পান করাকে রাজা'আত বলা হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম ﷺ হামযা (রা)-এর কন্যা প্রসঙ্গে বলেন: "সে আমার (বিবাহের) জন্য হালাল নয়; রক্তের কারণে যেরূপ হারাম হয় সেরূপ দুধ পানের দ্বারাও হারাম হয়। সে আমার দুধ ভাই (হামযা)-এর মেয়ে।” (বুখারী, হাদীস নং ২৬৪৫; মুসলিম, হাদীস নং ১৪৪৭)
📄 যে দুধ পান মাহরাম বানায়
দুই বছর বয়সের ভেতরে পাঁচবার দুধ পান করলে হারাম কার্যকর হয়: যখন কোন নারী কোন শিশুকে দুই বছরের ভেতরে পাঁচবার দুধ পান করাবে, তখন সে মহিলার সন্তান তার স্বামীর সন্তান এবং স্বামীর সকল মাহররাম (যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম) সে শিশুর জন্য হারাম হয়ে যাবে। অনুরূপ দুধ পানকারিণী নারীর মাহররাম ও দুধ পানকারী শিশুর মাহররাম বলে গণ্য হবে। দুধ পানকারিণী নারী ও তার স্বামীর সকল সন্তানরা উক্ত শিশুর ভাই ও বোন বলে গণ্য হবে। কিন্তু দুধ পানকারী শিশুর পিতা-মাতা ও তাদের দু'জনের শাখা-প্রশাখার মাঝে এ হারাম বিধান কার্যকর হবে না। কাজেই দুধ পানকারী শিশুর দুধ ভাই ও বোন এবং তার বংশীয় ভাই ও বোনদের মাঝে বিবাহ বন্ধন জায়েয হবে।
📄 একবার দুধ পানের পরিমাণ
সন্তান স্তন থেকে দুধ পান আরম্ভ করবে অত:পর স্বেচ্ছায় কোন কারণ ছাড়াই স্তন থেকে মুখ তুলে নিবে, এটাই হল একবার দুধ পান করা। অথবা এক স্তন থেকে দুধ পান করার পর অন্য স্তনে মুখ লাগালে একবার বলে গণ্য হবে। অপর স্তন থেকে দুধ পান করে পূর্বের স্তনে প্রত্যাবর্তন করলে দুবার দুধ পান করা গণ্য হবে। অবশ্য সমাজে প্রচলিত নিয়মেরও এক্ষেত্রে গুরুত্ব রয়েছে। আর দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে সুষ্ঠ সুন্দর এবং চরিত্র ও ধর্মীয় দিক থেকে উত্তম মহিলাকে দায়িত্ব দেয়াটাই উত্তম।
📄 যা দ্বারা দুধ পান কার্যকর হবে
দু'জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী অথবা একজন দ্বীনদার নারী দুধ পানকারিণী হোক বা অন্য কেউ হোক এর সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে দুধ পানের হুকুম কার্যকর হবে।