📄 স্ত্রী না এমন যারা তাদের ইদ্দত
১. কোন ব্যক্তি সহবাস হয়েছে এমন ক্রীতদাসীর মালিক হলে তার জরায়ুর সচ্ছতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করবে না। যদি গর্ভবতী হয় তাহলে প্রসব পর্যন্ত, হায়েয হলে এক হায়েয পর্যন্ত, বৃদ্ধা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কা হলে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
২. যে মহিলার যেনা-ব্যভিচার, অশুদ্ধ বিবাহ বা অন্য কোন মাধ্যমে সহবাস হয়েছে, অথবা খোলা (তালাক) হয়েছে, তার ইদ্দত হলো এক হায়েয এর দ্বারা তার জরায়ুর সচ্ছতা জানা যায়। কোন মহিলা রাজ'য়ী তালাকের ইদ্দতে থাকা অবস্থায় তার স্বামী মৃত্যুবরণ করলে, উক্ত ইদ্দত বাতিল হয়ে স্বামী মৃত্যুর দিন থেকে (চার মাস দশ দিনের) ইদ্দত আরম্ভ হয়ে যাবে।
📄 শোক পালনের বিধান
যে মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করে তার ইদ্দতের পূর্ণ সময়কাল শোক পালন করা আবশ্যক। শোক পালন হলো: চাকচিক্য বেশভূষণ, চাকচিক্য পোশাক পরিচ্ছেদ, অলংকার, মেহেদী, সুরমা, সুগন্ধি ইত্যাদি যা মহিলার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করে এ সব ত্যাগ করা। কোন স্ত্রী যদি এরূপ শোক পালন না করে, তাহলে সে পাপী হবে। আর এ জন্যে তাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা আবশ্যক।
মহিলা সাহাবী উম্মু আতীয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম ﷺ বলেন: "কোন মহিলা মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করতে পারবে না। কিন্তু মৃত স্বামী হলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। সাদা-সিধা পোশাক ব্যতীত কোন রঙ্গিন পোশাক পরিধান করবে না। আতর সুগন্ধি ও সুরমা ব্যবহার করবে না। তবে হায়েয থেকে পবিত্রতা হাসিলের সময় তুলা ইত্যাদি দ্বারা অল্প সুগন্ধি লাগিয়ে লজ্জাস্থানে রাখতে পারবে।" (বুখারী: হাদীস নং ৫৩৪২ মুসলিম তালাক পর্বে হাদীস নং ৯৩৮)
📄 শোক পালনের সময়সীমা
স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য তিনদিন শোক পালন করা জায়েয রয়েছে। আর স্বামী মৃত্যুবরণ করলে চারমাস দশদিন যে ইদ্দত পালন করতে হয় মূলত: এটিই শোক পালনের নির্ধারিত সময়। স্বামীর মৃত্যুর সময় স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে ইদ্দত ও শোক পালনের সময়ও শেষ হয়ে যাবে।
📄 ইদ্দত পালনের স্থান
১. স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রী স্বামীর গৃহেই ইদ্দত পালন করবে। যদি কোন ভয়-ভীতি ও সমস্যা থাকে তাহলে যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারবে। ইদ্দত পালনকালে দরকারবশত: বাইরে বের হওয়া জায়েয রয়েছে। স্বামীর ঘরে বা অন্য যেখানেই থাকুক না কেন (চার মাস দশ দিন) সময় পার হওয়ার সাথে সাথে ইদ্দতের সময় শেষ হয়ে যাবে。
২. রাজ'য়ী তালাকের ইদ্দত পালনকারী মহিলা স্বামীর ঘরেই থাকবে এবং তাকে ভরণ-পোষণ দিতে হবে; কেননা সে এখনও তার স্ত্রী। তার কথা ও কাজে এবং প্রকাশ্য অশ্লীলতায় পরিবারের লোকেরা কষ্ট না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেয়া যাবে না。
৩. বায়েন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাকে খরচ দিতে হবে। আর যদি গর্ভবতী না হয় তাহলে ইদ্দতের সময় কোন খোরাকি দিতে হবে না। বায়েন তালাকপ্রাপ্তা, খোলা তালাক ও অন্যভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সে মহিলা তার পিত্রালয়ে ইদ্দত পালন করবে।