📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 ইদ্দতের আহকাম

📄 ইদ্দতের আহকাম


স্ত্রীর সাথে সহবাসের আগেই যদি তালাক দেয়া হয়, তাহলে তার কোন ইদ্দত নেই। আর যদি মিলনের পরে তালাক দেয়া হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। কিন্তু সহবাসের আগেই বা পরে যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সর্বাবস্থায় স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও সদাচরণের জন্য চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতেই হবে। আর এমতাবস্থায় স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাবে।

১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন ঈমানদার মহিলাদেরকে বিবাহ কর। অত:পর তাদেরকে স্পর্শ করার আগেই তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নেই, তোমরা তাদেরকে কিছু দিয়ে দাও এবং তাদেরকে উত্তম পন্থায় বিদায় দাও।” [সূরা আহযাব: আয়াত-৪৯]

২. আল্লাহ তা'আলা আরো ঘোষণা করেন- "আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তখন তাদের স্ত্রীদের দায়িত্ব হলো, নিজেকে চারমাস দশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা। অত:পর যখন ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন নিজেদের প্রসঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। আর তোমাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ ভালো করেই জানেন।" [সূরা বাকারা : ২৩৪]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রী না এমন যারা তাদের ইদ্দত

📄 স্ত্রী না এমন যারা তাদের ইদ্দত


১. কোন ব্যক্তি সহবাস হয়েছে এমন ক্রীতদাসীর মালিক হলে তার জরায়ুর সচ্ছতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করবে না। যদি গর্ভবতী হয় তাহলে প্রসব পর্যন্ত, হায়েয হলে এক হায়েয পর্যন্ত, বৃদ্ধা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কা হলে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।

২. যে মহিলার যেনা-ব্যভিচার, অশুদ্ধ বিবাহ বা অন্য কোন মাধ্যমে সহবাস হয়েছে, অথবা খোলা (তালাক) হয়েছে, তার ইদ্দত হলো এক হায়েয এর দ্বারা তার জরায়ুর সচ্ছতা জানা যায়। কোন মহিলা রাজ'য়ী তালাকের ইদ্দতে থাকা অবস্থায় তার স্বামী মৃত্যুবরণ করলে, উক্ত ইদ্দত বাতিল হয়ে স্বামী মৃত্যুর দিন থেকে (চার মাস দশ দিনের) ইদ্দত আরম্ভ হয়ে যাবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 শোক পালনের বিধান

📄 শোক পালনের বিধান


যে মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করে তার ইদ্দতের পূর্ণ সময়কাল শোক পালন করা আবশ্যক। শোক পালন হলো: চাকচিক্য বেশভূষণ, চাকচিক্য পোশাক পরিচ্ছেদ, অলংকার, মেহেদী, সুরমা, সুগন্ধি ইত্যাদি যা মহিলার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করে এ সব ত্যাগ করা। কোন স্ত্রী যদি এরূপ শোক পালন না করে, তাহলে সে পাপী হবে। আর এ জন্যে তাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা আবশ্যক।

মহিলা সাহাবী উম্মু আতীয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম ﷺ বলেন: "কোন মহিলা মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করতে পারবে না। কিন্তু মৃত স্বামী হলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। সাদা-সিধা পোশাক ব্যতীত কোন রঙ্গিন পোশাক পরিধান করবে না। আতর সুগন্ধি ও সুরমা ব্যবহার করবে না। তবে হায়েয থেকে পবিত্রতা হাসিলের সময় তুলা ইত্যাদি দ্বারা অল্প সুগন্ধি লাগিয়ে লজ্জাস্থানে রাখতে পারবে।" (বুখারী: হাদীস নং ৫৩৪২ মুসলিম তালাক পর্বে হাদীস নং ৯৩৮)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 শোক পালনের সময়সীমা

📄 শোক পালনের সময়সীমা


স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য তিনদিন শোক পালন করা জায়েয রয়েছে। আর স্বামী মৃত্যুবরণ করলে চারমাস দশদিন যে ইদ্দত পালন করতে হয় মূলত: এটিই শোক পালনের নির্ধারিত সময়। স্বামীর মৃত্যুর সময় স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে ইদ্দত ও শোক পালনের সময়ও শেষ হয়ে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px